স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও
স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে
বাপ মরা ওই মেয়ের ঘরে,
যে ভোরের ঊষার সাথে সাথে
বাসন মাজে উঠে পরে।
তার ছোটো ছোটো ভাই -বোন আছে
সে বেলা অব্দি ঘুমোবে কী করে?
তার অভাগিনী মা যে খাবার সন্ধানে
ভোর রাতে উঠে গেছে কাজের ঘরে।
যাদের শিশুকাল কাটছে রাস্তার মোড়ে
নানারঙা বেলুন বিক্রি করে,
স্বাধীনতার পতাকার রঙের মর্ম
সেই শিশুগুলি বুঝবে কী করে?
স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে
ফুটপাতের ওই অলি-গলিতে,
যেথা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার
সংঘর্ষ চলে দিনে রাতে।
যারা বোঝেনা A,B,C,D
যারা বোঝেনা অ, আ,
তারা কী বুঝবে স্বাধীনতার সংজ্ঞা!
স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে
রামপ্রসাদের চায়ের দোকানে,
যেথা ছোট্ট পল্টু রোজ সকালে
মাটির ভাঁড়ে চা আনে।
যে ছেলেটি দিনে রাতে পেট ভরাতে
খেটে ফেরে দোকান দোকান,
সেই ছেলেটি কী আর বুঝবে কভু
সুভাষ বোসের 'দিল্লী চলো' শ্লোগান!
স্বাধীনতা তুমি ঘুরে এসো একবার
ভুল করে কিছু রাস্তা ভুলে,
যেথা ছোটো ছোটো চম্পারা ফুল বেচে
রোজ সকালে মন্দিরের চাতালে।
যাদের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে
শিশু বয়সে বড়ো হতে হয়,
না , না তারা বোঝেনা
তারা বোঝেনা স্বাধীনতা কাকে কয়!
স্বাধীনতা তুমি পাড়ি দাও গিয়ে
শুধু একটি বার দাও পাড়ি,
শত শত অসহায় শিশুদের বাড়ি বাড়ি
তাদেরও চড়াও গিয়ে স্বাধীনতার গাড়ি।