স্মৃতি
এমনি এক বৃষ্টির দিনে,
ঝোড়ো হাওয়ায় উথাল পাথাল করে,
দুটি মনে ছিলো জনসম্মুখে রাজ পথে,
ভিজে ছিলো সমস্ত বই খাতার সঙ্গে,
ভিজে ছিলো কেবল ঐ দুটি মনে।
সময়টি তখন উনিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে,
সে বোধ হয় সবে এসেছে একুশে,
দুজনেই চলেছে উদ্দাম স্রোতে ভেসে,
কত শত মুহূর্ত উকি মারে নিঃসঙ্গতার ঘরে,
আঁকড়ে থাকা শুধু তারই স্মৃতিতে।
মনে পড়ে সেই কলেজ ক্যান্টিনে,
জমিয়ে আড্ডায় গানের তালে নেচে,
সমস্ত দুপুরের কিছুটা সময় গেছে,
চোখাচোখিতে ভরা প্রিয় লাইব্রেরিতে বসে,
একই পেয়ালায় চুমুকের খোশ মেজাজে।
এমন অনেক রাত কেড়েছিল ঘুম নিঃশব্দে,
অন্ধকার ফাঁকা ঘরে পাইচারি করে,
টেবিল ল্যাম্পের সামনে ডাইরির পাতাগুলিকে,
ছিড়ে টুকরো টুকরো করে উড়ে ছিলো ঘরে,
জানা ছিলোনা কি ভাষা লিখবে।
আজো তারা ভাবে নতুন করে নতুনের খোঁজে,
ইতিহাস গোড়বে নতুন সূর্যের সম্মুখে,
আজো তারা পথ খোঁজে চুপিসারে,
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ঘর বাঁধে দুজনে,
আজো তারা কাতর ধর্মের বেড়াজালে।
কোনো এক সুবর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে,
হাতছানি পেয়ে ছিলো ঘরের বাহির হোতে,
সার্থক ছিলোনা উদ্দেশ্য সফলে,
আজ বোধহয় দুজনারই চুলে পাঁক ধরেছে,
জীবনের সব বসন্ত হারিয়েছে গোধূলিতে।
আজো তেমনি এক মুহূর্ত মনে পড়ে,
সব কিছুই হয়তো পূর্ণতা পেতো একটু সার্থপর হলে,
তখনো ছিলো বন্ধুর সেই পথে,
আজো আছে সমাজ ধর্মের তালে,
শুধু মিলছেনা জীবনের অঙ্ক হিসাবে।।