বসন্ত বিলাপ
তুমি কি জানো করোনার কষাঘাতে
পৃথিবী হাসতে ভুলে গেছে
কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়েছে চোখের দরিয়া
আত্মজনের সমাধিতে দুফোঁটা অশ্রুর বদলে
ফেলছে বিরহমেদুর হাপরের দীর্ঘ শ্বাস!
শীত গ্রীষ্ম হেমন্ত বর্ষারা বৈভবের গান ভুলে
নীরব অভিমানের মূর্ছনায় হয়েছে একাকার।
তবুও তুমি পৃথিবীর অবশ মন
পিচকারির বাসন্তীতে রাঙিয়ে দিতে
তুমি নেড়ে চলেছ উদ্দীপনার কড়া অহরহ
সকাল সন্ধ্যে রাত দুপুর প্রহর দ্বিপ্রহর।
পৃথিবীর বুকে আঘাত হানতে হানতে
করোনা আজ বড় শ্রান্ত ক্লান্ত
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সৈনিকের মত।
তাই বুঝি ভেবেছ তোমার পথ বড় সুগম,
রাঙিয়ে দিতে জীবকুলের উপোসি হৃদয়,
জ্বালিয়ে দিতে আগুন পলাশ শিমুলের ডালে!
দেখ ভাষা ভুলে পৃথিবী কুলুপ এঁটেছে মুখে,
বারুদ পোড়া মাংসের গন্ধে বিষাক্ত বাতাস,
কোথায় কেমন করে ফেলবে তোমার শ্বাস!
ইউক্রেনের সর্বাঙ্গে রাশিয়ার নির্মম বিভিষিকা,
তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সাইরেন শুনেও
তাবড় তাবড় রাষ্ট্রশক্তি কাঠের পুতুল,
মায়ের বুকে স্তন্যপায়ী শিশুর ভয়ার্ত চাহনি।
বসন্ত, তুমি থাক অন্তঃপুরে নিভৃতে একাকী
দুর্দম ইচ্ছার টুঁটি টিপে
নিগুঢ় শিশুর মত মুখ লুকিয়ে মায়ের বুকে।
পরিযায়ী পাখিরা বাঁধবে না বাসা শাখে শাখে,
ফাগুন আগুনে পুড়বে না পলাশ শিমুলের ডাল,
তুমি এলে পুড়ে খাক হবে যত বাসন্তী বাহার
নিরন্তর গোলাগুলির বিধ্বংসী তান্ডবে।