হয় বসন্ত, নয় তালাক
বাঁকা চাঁদ যখন বেনু বনে ছুটে পালায় ,
বুড়ো বাপ'টারে বলি , তোর লতানো মেয়ে
পাতানো গাছের আড়ালে , লাল পেড়ে শাড়ী পড়ে নামে
আমাদের মৌচাক বনে ।
তেষ্টা তূরুপ তালিয়া বসন্তে, 'ফুল ফুটুক, না ফুটুক' ;
বুকের আগুনে পুড়ে যায় , রাতকানা কথার নূপুর।
প্রাণের প্রণয় প্রাণেই মরে , তবু এক গেলাস জল তেষ্টা মাপে ।
শুনেছি বুড়ো , তুই সোজা কথার বাঁকা মানুষ !
সর্ষক্ষেতে পেতে রাখিস , রং তূরুপের তাস ;
পাখীপ্রলাপের রত্ন মানিক , অক্ষরের চাষ ।
যদি পড়ে গো ধরা , পিন্ডি চট্ কানোর আগে
বলিস্ কেন তারে , দে তোর স্বাধীন দুটো ডানা।
নিয়ে যা, আমার আদুরি! চাঁদমেয়ে সোনা !
যারে জ্যোৎস্নাবেগম জড়িয়ে ধরে , সুখের সাগরে
দুঃখের নদী বায় ! কালচক্র সুতোর প্রতিপাদ্য ভুখা যায়
হায় বসন্ত ! আয় ! তোকে উজার করি ।
তোর বুকের ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে প্রকান্ড গাছ ;
ফুল-পাতাহীন মৃত শাখাদের অসংখ্য স্মারকগ্রন্থ ,
আচরের দীর্ঘ হতশ্বাস । তুই ছাড়া কে আছে আমার
আত্মদানের নিবাস !
মাটির সোঁদাগন্ধ মাখা , পরানের দু'কূল ছাপা
কোথাকার হেঁটে যাওয়া মানুষের বসবাস !
রক্ত তরুণ সৈনিকের অভিষেকে
ফুটিল মালতি ফুল, মরুদানবের দুঃসহ কারাগারে
আজ। হয় বসন্ত , নয় তালাক !
সর্ষক্ষেতে রক্ত চাবুক , অন্ধকারে উঠোনলিপি।
বুক চিরে মুখ লুকায় , চকিত চপলা মৃগয়ার
স্বর্ণ-কলিজা আভা ।
বলি শীলা ! কী প্রয়োজন আর
অযথা অগ্নুৎপাত , অন্ধকারে গলিত লাভা ?