Mar 29, 2022

খোকন সাহা

হয় বসন্ত, নয় তালাক

বাঁকা চাঁদ যখন   বেনু বনে ছুটে পালায় ,
বুড়ো বাপ'টারে বলি , তোর লতানো মেয়ে
পাতানো গাছের আড়ালে , লাল পেড়ে শাড়ী পড়ে নামে
আমাদের মৌচাক বনে ।

তেষ্টা তূরুপ তালিয়া বসন্তে,  'ফুল ফুটুক, না ফুটুক'  ;
বুকের আগুনে পুড়ে যায় , রাতকানা কথার নূপুর।
প্রাণের প্রণয় প্রাণেই মরে , তবু এক গেলাস জল তেষ্টা মাপে ।

শুনেছি বুড়ো ,  তুই সোজা কথার বাঁকা মানুষ !
সর্ষক্ষেতে পেতে রাখিস ,  রং তূরুপের তাস  ;
পাখীপ্রলাপের রত্ন মানিক ,  অক্ষরের চাষ ।

যদি পড়ে গো ধরা ,  পিন্ডি  চট্ কানোর   আগে
বলিস্  কেন তারে , দে তোর স্বাধীন দুটো ডানা।
নিয়ে যা,  আমার আদুরি! চাঁদমেয়ে সোনা !
যারে জ্যোৎস্নাবেগম জড়িয়ে ধরে , সুখের সাগরে
দুঃখের নদী বায় !  কালচক্র সুতোর প্রতিপাদ্য ভুখা যায় 


হায় বসন্ত ! আয় !  তোকে উজার করি ।
তোর বুকের ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে  প্রকান্ড গাছ  ;
ফুল-পাতাহীন মৃত শাখাদের অসংখ্য স্মারকগ্রন্থ ,
আচরের দীর্ঘ হতশ্বাস । তুই ছাড়া কে আছে আমার
আত্মদানের নিবাস !

মাটির সোঁদাগন্ধ মাখা ,  পরানের দু'কূল ছাপা
কোথাকার হেঁটে যাওয়া মানুষের বসবাস !
রক্ত তরুণ সৈনিকের অভিষেকে
ফুটিল মালতি ফুল, মরুদানবের দুঃসহ কারাগারে    

আজ।  হয় বসন্ত ,  নয় তালাক !
সর্ষক্ষেতে রক্ত চাবুক ,   অন্ধকারে উঠোনলিপি।
বুক চিরে মুখ লুকায় , চকিত চপলা মৃগয়ার
স্বর্ণ-কলিজা আভা ।
বলি শীলা !  কী প্রয়োজন আর
অযথা অগ্নুৎপাত ,  অন্ধকারে গলিত লাভা ?