স্বদেশের মুখ
শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কান্না কথা বলে
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে তোমার ছায়ায়।
তোমাকে নিয়ে ভাবা আমার প্রতিটি ভাবনা
ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বার থেকে টুঙ্গিপাড়া
হয়ে এক পলকে পৌঁছায় হাজার বর্গমাইল।
যেখানে ভেসে উঠে শিশুর কলতান
পদ্মা মেঘনা যমুনার সুর...
তোমার মুখ মনে পড়লেই জ্বলে উঠে বর্ণমালা
চোখের সামনে ভেসে উঠে
জেল জুলুমের কারাগার
বায়ান্ন- ছেষট্টি- উনসত্তরের উত্তাল সময়।
চোখের সামনে ভেসে উঠে
রেসকোর্স ময়দানের একটি তর্জনী।
পিতা, আমি তোমার চোখের ভাষা পড়তে গিয়ে
পৃষ্ঠা উলটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে
আমি থমকে থমকে চমকে গিয়ে দেখি
পঁচিশে মার্চের কাল রাত
চোখের সামনে ভেসে উঠে স্বাধীনতার ঘোষণা
যুদ্ধের ভয়াল রাত-দিন—
প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শেষে
অস্তিত্বে আলো ছড়ায়
লাল-সবুজ পতাকা
একটি স্বাধীন দেশ
আর একটি নিথর দেহ।
সিঁড়ি দিয়ে গড়াতে গড়াতে
দেহটি নেমে পড়ে দেশের একান্ত গভীরে।
'স্বাধীনতা' শব্দটি লিখতে গিয়ে
আমার কলম থেমে যায়—
থমকে যাওয়া চোখে দেখি
স্বাধীন দেশের ম্লান মুখ।
তবু উঠে দাঁড়াই দারুণ তেজে
তোমার শোক-ই হয়ে উঠে আমাদের ভীষণ শক্তি।