Mar 28, 2022

রুনা নন্দী

লোটাস

আশ্বিন মাসের ভ্যাপসা গুমোট, সন্ধ্যে তখন ও হয়নি হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হোলো তার সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও পশ্চিম দিকের জানালাটা হাট করে খোলা। সেই জানালার এক কোণে দাঁড়িয়ে লোটাস। তাকে দেখলে মনে হবে যেন এক নিশ্চল প্রতিমা। 
বৃষ্টির ঝাপটায় ভিজে গেছে ঘরের জিনিসপত্র ভিজে গেছে লোটাস। আজ সে যেন এক অন্য জগতের বাসিন্দা। দুপুর থেকে কেন যে বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে ফেলে আসা কুসুম পুরের কথা সে বুঝতে পারছেনা। আজ তার বড়ো ইচ্ছা করছে ফিরে যেতে সেখানে। 
এমন সময় হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। কিন্তু এখন তো তার ঘরে কারো আসার কথা নয়। সে বারবার বারণ করেছে আজ যেন তার ঘরে কাউকে না পাঠায়। এমনিতে ই আজ সকালেই লোটাস বেশ মাল্লু কামিয়েছে তাই রতন বেজায় খুশী। 
যদিও এই লাইনের ভাষা ও কায়দা কানুন এখন ও পুরোপুরি রপ্ত করে উঠতে পারেনি লোটাস। তবুও তার আগুন ঝরা রুপের জন্য মালদার কাস্টমার রা সব তার ঘরেই আসে। খুশী হয়ে কখনও সখনও টাকা ঢেলে যায় দুহাত উপুড় করে। আজ সেই রকম ই একটা দিন
খুলবোনা খুলবোনা করেও দরজা খুললো সে।লোটাস দরজা খোলারসাথে সাথেই তার ঘরে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো একটা মেয়ে। বয়স হয়তো  মেয়েটিরপনেরো কি ষোলো
অসম্ভব সুন্দর দেখতে। লাল টুকটুকে ঠোঁট কাজল কালো চোখ অসম্ভব একটা স্নিগ্ধতা মেয়েটার সারা মুখে। 
কিছুক্ষণের মধ্যেই লোটাস বেশ বুঝতে পারল তাদের এই লাইনে মেয়েটি নতুন। কিভাবে যেন আজ এসে পড়েছে। লছমীর হাঁকডাক রতনের হম্বি তম্বী শোনা যাচ্ছে দুর থেকেই কিন্তু না কিছুতেই  এই মেয়েটা কে তাদের হাতে তুলে দেবে না লোটাস। 
কি করি--কি করি ভাবতে ভাবতে তার মনে পড়ে গেল এন জি ওর দিদি বিজয়া এবং লোকাল থানার অফিসার ইনচার্জের কথা। 
খানিকক্ষণ আগে থেমে গেছে ঝড় বৃষ্টি পথ ঘাট এখন শান্ত ভীষণ
আজ ভীষণ রকম শান্ত তাদের গলিটাও। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে  রূপ কি রানী লোটাস তুলে নিল তার মুখের চড়া মেকাপ। খুলে ফেললো দামি ডায়মন্ড সেট। বাথরুমে ঢুকে মাথার ওপর শাওয়ার টা দিলো খুলে। আজ ভীষণ নিজেকে ভারহীন লাগছে তার, মনে হচ্ছে লোটাস থেকে আবার তার পদ্ম রূপে নতুন জন্ম হোলো। মনে পড়ে যাচ্ছে ফেলে আসা তার শৈশব কৈশোর। 
মনে পড়ে যাচ্ছে এক্কাদোক্কা খেলা বুড়ির মাঠ। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো সেই সব দিন। বৈশাখে আম কুড়োনো দোলে আবির খেলা আর দুর্গা দালানের মায়ের বোধন।