Apr 29, 2023

নিয়তি রায় বর্মন।

দোল বা বসন্ত – যা বহিবাংলায় ও বিশ্বে হোলি নামে পরিচিত

শীতের রুক্ষ শুষ্ক দিনের অবসান ঘাটিয়ে ঋতুরাজ বসন্ত আসে। ফাল্গুন-চৈত্র দুই মাস বসন্ত কাল। ক্যালেন্ডারে ফাল্গুন মাস শুরু হতেই যেন প্রকৃতি জগৎ বদলে যায়। গাছে গাছে কচি সবুজ পত্র, আম্রমুকুল, কোকিলের কুহুতান। পলাশ, শিমুল, রঙ্গন, কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দেয়। কাঁঠাল গাছে মুচির ঝাঁক— অদূর ভবিষ্যতে রসালো ফল যাবে ঘরে ঘরে ভোজন রসিকের রসনা তৃপ্ত করতে। দোলযাত্রা উৎসব শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব নামে পরিচিত। এই নামের প্রচলন করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ – ১৯৩২ সালে। প্রথমে ঘরোয়াভাবে হতো— ক্রমে এর বৈচিত্র বৃদ্ধি পায়। শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসবে প্রাক্তনীসহ বহু মানুষের ভিড় হয়। যে শৈল্পিক ও নান্দনিকতায় সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তা উপভোগ্য এবং শিক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে ধর্মের খুঁতমার্গ, সামাজিক বিধিনিষেধ বা লোকাচারের বাড়াবাড়ি কিছুই ঘেঁষতে পারেনি। বসন্ত উৎসব আন্তরিক, অমলিন এবং আনন্দের উৎস।

১৯০৭ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি, বসন্ত পঞ্চমীতে রবীন্দ্রনাথের কনিষ্ঠ পুত্র স্বল্পায়ু শমীন্দ্রনাথের উদ্যোগে শান্তিনিকেতনে ঋতু উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এরই পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত রূপ বর্তমানের বসন্ত উৎসব। এর সূচনা সরস্বতী পূজার দিন শুরু হলেও পরবর্তী সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিদেশ সফর ইত্যাদি কারণে দিনক্ষণ পরিবর্তন হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন হতো অত্যন্ত আনন্দ ঘটা করে। নববর্ষ ও বসন্ত উৎসবের মতো কোন ধর্মীয় আচার অনুমোদন পায়নি। নববর্ষের দিনে গণেশ পুজো হাল খাতা, আমপাতা, সিঁদুর, পঞ্জিকা ছাড়াও যে নববর্ষ আনন্দ উৎসবে পরিণত হতে পারে তা রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষা ও বাঙালি সমাজকে শিখিয়ে গেছেন। ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যতিরেকে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার বসন্ত উৎসব ও বর্ষবরণ এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে আজকের বাংলাদেশ। ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উৎসবে পরিণত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে যে বসন্ত উৎসব চালু করেছিলেন তাতে যে শিক্ষণীয় দিকটি রয়েছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ছাত্রছাত্রীদের দলগতভাবে যে নাচ, গান, নাটকের মহড়া দেওয়া এবং উপস্থাপন করা হয় তা এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সম্প্রীতির বাণী – ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৌভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। আনন্দ— যে আনন্দে কোন ক্লেদ নেই— অনাবিল। কোন ধর্মীয় আচার, সংস্কার বা কুসংস্কারের কোন বেড়াজাল নেই। “ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল”- এই গান দিয়ে সকালে শাইন্তনিকেতনে বসন্ত উৎসব শুরু হয়। ছাত্রছাত্রীদের সাজ পোশাক ও ফুলের ব্যবহার লক্ষ্য করার মতো। ছোট ছোট মেয়েদের বাসন্তী রঙা শাড়ি পড়ে সারা শরীরে ফুল দিয়ে সেজে গান ও নাচের ভঙ্গিমা মুগ্ধ করে। এ এক অপরূপ কলা প্রদর্শন।

রঙিন বসন্তকে আরো রঙিন করে তোলে দোল খেলা। দোলযাত্রা বা হোলি উৎসবের পৌরাণিক উপাখ্যান রয়েছে। দোলযাত্রার আগেরদিন বহুৎসব হোলিকাদহন বা নেড়াপোড়া। ভাগবত পুরাণে আছে অসুর রাজা হিরণ্যকশিপুর অমর হবার সাধ জাগে। এই উদ্দেশ্যে তিনি ব্রহ্মার ধ্যানে বসেন এবং যথারীতি বর প্রাপ্ত হন। এই বর লাভ করে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত অহঙ্কারি ও উদ্ধৃত হয়ে ওঠেন। অমরত্ব পেয়ে তিনি ঘোষণা দেন কেবল তাকেই দেবতা হিসাবে পূজা করতে হবে – অন্য কোন দেবতাকে নয়। যদি কেউ তার আদেশ অমান্য করে তবে শাস্তি পাবে এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। কিন্তু হিরণাকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ পিতার সাথে সহমত হননি এবং পিতাকে পূজা করতে অস্বীকার করেন— কারণ প্রহ্লাদ বিশ্বভক্ত, বিষ্ণুপূজাই তিনি যথারীতি চালিয়ে যান।

এতে হিরণ্যকশিপু রাগান্বিত হয়ে পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। হিরণ্যকশিপু বোন হোলিকার কাছে এ বিষয়ে সাহায্যপ্রার্থী হন। হোলিকাও অমরত্ব লাভ করেছিল ব্রহ্মার নিকট থেকে। দেবহতাগণ রাক্ষসদের অমরত্ব বর সহজে দিতেন না—আর দিলেও এর মধ্যে নানা ফাঁকফোঁকর থেকে যেত। হোলিকা আগুন থেকে রক্ষা পাবার জন্য বর হিসাবে একটা বিশেষ পোশাক পেয়েছিলেন। এই সুযোগের সদব্যবহারের উদ্দেশ্যে হিরণ্যকশিপু পুত্র প্রহ্লাদকে বোন হোলিকার কোলে বসিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন যাতে প্রহ্লাদ আগুনে পুড়ে মারা যান আর হোলিকা বেঁচে যান।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল আগুন লাগানোর পর পোশাকটি হোলিকার গা থেকে প্রহ্লাদের শরীরে ওঠে যায়। এতে প্রহ্লাদ আমদানি বেঁচে যান আর হোলিকা দগ্ধ হয়ে মারা যান। এতে হিরণ্যকশিপু জব্দ হলেন। এদিকে বিষ্ণু শিষ্য প্রহ্লাদের জীবন রক্ষা পেয়েছে দেখে তিনি নৃসিংহ অবতার রূপে (অর্ধমানব- অর্ধসিংহ) গোধূলি লগ্নে (দিন ও রাতের মাঝামাঝি সময়ে) আবির্ভূত হন এবং ঘরের চৌকাঠে নিয়ে যান হিরণ্যকশিপুকে এবং নিজের কোলে বসিয়ে (না বায়ুতে না স্থলে) তার পেটের নাড়িভুড়ি বের করে হাতের থাবা বসিয়ে হত্যা করে। অর্থাৎ অস্ত্রশস্ত্র কিছুই ঐ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়নি। এভাবেই বিঘ্ন অবতার (নৃসিংহ) প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন এবং দৈত্য রাজ হিরণ্যকশিপুকে হত্যা করে মানবজাতির স্বস্তি বিধান করেন। অর্থাৎ অশুভের ওপর শুভের জয়। বর্তমানে হোলির পূর্বদিনে হোলিকা দহন বা নেড়াপোড়া উৎসব এ ঘটনারই ইঙ্গিতবাহী। অশুভের বিনাশ করে শুভের সূচনা।

দুষ্টের দমন এবং ভক্তদের রক্ষার জন্য শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় দোল উৎসবের সূচনা করেছিলেন। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে সকল বর্ণের মানুষকে আবির এবং রঙ খেলার মাধ্যমে এক করে নেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। শ্রীকৃষ্ণের প্রস্তাবে নন্দরাজা সানন্দে রাজি হন। যমুনা নদীর তীরে মাটি দিয়ে তিন ধাপ বিশিষ্ট দোলের বেদী বানানো হয়। দোলের বেদীর প্রথম ধাপে অর্থাৎ সর্বোচ্চে বসবেন শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকা। গোপ বালক বালিকারা আবির রঙ দিয়ে দোলের বেদী রাঙিয়ে দেবে এবং শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার পূজা করবে। সংকীর্তন করবে- “ রাধে কৃয়, রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ রাখে রাখে।” উপস্থিত সবাই নিজেদের মধ্যে রঙ খেলবে এবং গুরুজনদের রঙ দিয়ে প্রণাম করবে। দোল উৎসবটি হিন্দুদের একটি অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। হিন্দু শাস্ত্রে রঙের একটা বিশেষ গুরুত্ব আছে। বিভিন্ন পূজায় ঘটের নীচে আলপনা দেওয়া হয় পঞ্চ রাঙে। এই পঞ্চ রঙ্ হলো— চালের গুড়া দিয়ে সাদা রঙ, লাল জবা ফুল শুকিয়ে গুড়া করে লাল রঙ, বেলপাতা শুকিয়ে গুড়া করে সবুজ রঙ, শসাহীন ধান পুড়িয়ে গুড়া করে কালো রঙ। 

বর্তমানে অসাধু ব্যবসায়ীগণ নানা রাসায়নিক উপাদান দিয়ে রঙ তৈরি করে— যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব কৃত্রিম রঙ থেকে চর্মরোগ, চোখ জ্বালা এমনকি অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। দোলযাত্রা একটি হিন্দু বৈয়ব উৎসব। এটিই বহির্বঙ্গে হোলি নামে পরিচিত। বৈপ্লব বিশ্বাস অনুযায়ী ফাল্গুনি পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকুয় আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপিনীর সঙ্গে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। ঐ পরম্পরা থেকে দোল পূর্ণিমা দিন রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে নগরকীর্তনে ভক্তরা বের হয়। নারীপুরুষ সকলে এতে অংশ নেয়। দোল পূর্ণিমার আগের দিন বাৎসব বা হোলিকাদহন হয়। বাংলা অঞ্চলে দোল উৎসবটি দোল পূর্ণিমার পরদিন অনুষ্ঠিত হয়। আর 'হোলিকা' থেকে 'হোলি' নামটি এসেছে। বাংলার দোল উৎসবটি সারা বিশ্বে 'হোলি' নামে পরিচিত।

দেশ বরেণ্য দেশজয়ী পন্ডিত "নদের নিমাই' জন্মেছিলেন মায়াপুরে ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনি পূর্ণিমাতে। পিতা বৈদিক ব্রাহ্মণ জগন্নাথ মিশ্র নাম রাখেন 'বিশ্বন্তর'। মাতা শচীরানি আদর করে নাম দেন 'নিমাই'। এ নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। গায়ের রড় অত্যন্ত ফর্সা বলে তাঁকে 'গৌর নামেও অভিহিত করা হত। মাত্র ষোল বৎসর বয়সে তার্কিক পণ্ডিত নিমাই গয়া যান পিতার পিণ্ডদান করতে। সেখানে বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ ঈশ্বর পুরী মহারাজের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। মহারাজ নিমাই এর মধ্যে স্বয়ং কৃষ্ণের রূপ দর্শন করেন এবং তাকে দীক্ষা দেন। দীক্ষান্তে নিমাই এর মধ্যে কৃয়প্রেম জাগ্রত হয়। নদীয়ায় ফিরে এসে সকল বৈয়বদের সাথে নিয়ে সংকীর্তন শুরু করলেন। এই আচরণে কোন উচ্চ-নীচু ভেদ ছিল না। পাণ্ডিত্বের লড়াই, পাঠশালা ত্যাগ করে হরিনামে সবাইকে এক সারিতে নিয়ে এলেন। নিত্যানন্দ প্রভুর সঙ্গে পরিচয় হলে “গৌর-নিতাই” এই দুজন সমস্ত সংকীর্তনের পুরোধা হয়ে যান। বৈদিক ব্রাহ্মণকুলে জন্ম গ্রহণ করে এভাবে নীচ জাতের সঙ্গে সংকীর্তন করা ব্রাহ্মণরা মেনে নেননি।

নিমাই পণ্ডিত বুঝেছিলেন মানুষে মানুষে ভেদ থাকলে মানুষের বা সমাজের উন্নতি হতে পারে না। মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি প্রেম ভালোবাসা জাগানো দরকার। পরস্পরের জীবনের সমস্যা পরস্পরকেই জানতে হবে— তবেই সমাধানের রাস্তা পাওয়া যাবে। শান্তি বজায় থাকবে। একমাত্র ভালোবাসা দিয়েই মানুষকে বাধা যায়। অসহায়কে দান করলে তা সম্মানের সঙ্গেই করা বাঞ্ছনীয়। মাত্র চব্বিশ বৎসর বয়সে কেশব ভারতীর নিকট থেকে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। তারপর তিনি গৃহ ভাগ করে বৃন্দাবন যাবার জন্য মনস্থির করলে মাতা শচিরানির আদেশে জগন্নাথ ধাম পুরীতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি হরিনাম সংকীর্তনে উঁচু-নীচু সকল মানুষকে এক সূত্রে গাঁথার কাজ শুরু করেন। মানব প্রেম ছড়িয়ে দেন। কিন্তু তথাকথিত ব্রাহ্মণদের তা পছন্দ হয়নি বলে তাঁকে রুষ্ট রোষে পড়তে হয়। তাঁর মৃত্যুটা রহস্যময়। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু পুরীতে থাকার সময় প্রতি বছর বসন্ত পূর্ণিমায় ভক্তদের নিয়ে নগর কীর্তনে বেরিয়ে পড়তেন।

ভক্তদের আন্তরিক প্রয়াসেই দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্তত শতাধিক দেশে দোল উৎসব বা বসন্ত উৎসব বর্তমানে উদযাপিত হচ্ছে। দেশ বিদেশের মানুষ স্বীকার করে নিয়েছে এই উৎসব প্রেমের, হৃদয়ের এবং ভালোবাসার। মানব বৃত্তির জাগরণ, রাক্ষস বৃত্তির নাশ। এই বিশ্বাস নিয়েই বসন্ত উৎসব বা দোল খেলা বা হোলি অদ্যাবধি উদযাপিত হচ্ছে। এর প্রচার ও প্রসার বেড়েই চলেছে।

মধুরা বৃন্দাবনে পালিত হয় লাঠমার হোলি। পুরাণ কাহিনি অনুযায়ী রাধাকৃষ্ণের আমল থেকে সেখানে হোলি খেলায় গোপিনীরা লাঠি ব্যবহার করত। কৃষ্ণ ছোট বেলায় যশোদা মাকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি কেন শ্যামলা আর রাধা কেন ফর্সা। বালক কৃষ্ণকে শান্ত করার জন্য যশোদা মা মজা করে বললেন রাধার গায়ে রঙ মাখিয়ে দিতে। তাইলে আর রাধার গায়ের রঙ যে ফর্সা তা বুঝা যাবে না। কৃষ্ণ তখন বন্ধুদের নিয়ে রাধা ও গোপিনীদের রঙ মাখাতে গেলে ওরা লাঠি দিয়ে কৃষ্ণ ও তাঁর বন্ধুদের পেটায়। এই সূত্র থেকেই এখনও মথুরা বৃন্দাবনে মহিলাগণ হোলির সময় পুরুষদের মারে। এই মজার হোলি খেলা দেখার জন্য বহু লোক সমাগম হয়। দেশ বিদেশের লোক আসে এই ঐতিহ্যবাহী হোলি খেলা দেখার জন্য।

উৎসঃ বসন্ত উৎসব বা দোল পূর্ণিমার উদযাপন খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩০০ (তিনশত) বৎসর পূর্বে প্রাচীন আর্যজাতি ভারতের পূর্বাঞ্চলে সূচনা করেন। মধ্যপ্রদেশের রামগড়ে পাথরে খোদাই করা গুহালিপিতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। আবার খ্রিস্টিয় তৃতীয় শতকে বাৎসায়ন রচিত 'কামসূত্র'-তে রঙ খেলার উল্লেখ রয়েছে। ৭ম শতকে হর্ষবর্ধন রচিত ‘রত্নাবলী' এবং ৮ম শতকে 'মালতী মাধব' নাটাকে দোল উৎসবের বর্ণনা পাওয়া যায়। জীমূতবাহনের 'কাল বিবেক' ও ষোড়শ শতকে রঘুনন্দন এর রচনায় হোলি উৎসবের উল্লেখ রয়েছে। আরো নানা পৌরাণিক সাহিত্যে দোল পূর্ণিমা ও রঙ খেলার কথার উল্লেখ আছে।

ঋতুরাজ বসন্তের প্রাকৃতির বৈশিষ্ট্যও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এ ঋতু নিয়ে কাব্য সাহিত্যেরও অন্ত নেই। তবে দোল উৎসব বা রঙ খেলা যখনই যেখানে চালু হয়েছে তা সমাজের মঙ্গলের জন্যই হয়েছে। অর্থাৎ ভেদবুদ্ধি বাদ দিয়ে পরস্পরকে আলিঙ্গন করা। ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ ভেদে উৎসবে মেতে ওঠা।