রানী
আজ এই নির্জন ঘরে বসে মাতৃত্বের সুখে,
কাঁচা নাড়ির টানে ক্লান্ত শরীরে,
সাময়িক চলচ্ছক্তীহিনতার ফাঁকে,
সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া লাবণ্যময়ী ফুলটির
নাম করন করেছি রানী।
শৈশবে মরন ব্যাধির গ্রাসে
মাতৃহারা মেয়ের দুচোখে ছিলো
মাতৃ স্নেহের প্রতি এক আকাশ শূন্যতা।
পাড়া প্রতিবেশী থেকে বড় দের মুখে শোনা,
"এক মা গেছে নতুন আরো এক মা জুটবে তখন বুঝবি ঠেলা"
বর্তমানের অভিজ্ঞতা স্বপ্নেরও অধরা।
জীবনের অপরিণত বয়সের
প্রথম কুঁড়িটি ফুটে ছিলো,
রঙিন স্বপ্নের ওপর ভরসার হাত পেয়ে,
ভরসা চিরন্তন একে অপরের পরিপূরকের।
পরম শুভানুধ্যায়ী দের মতের বিরুদ্ধে
নতুন জীবনের স্বাদ খুব একটা তৃপ্তির হয়ে ওঠেনি।
অল্প কিছুদিনের মধ্যে ধোঁয়াশার অবসান ঘটলো,
প্রিয় মানুষটির পরিচয়ে পাওয়া গেলো,
সে এক উচ্চ বংশে জাত সন্তান।
তার কোনো কুলেই আমার মতো
অস্পৃশ্যের দেখা নেই,
আমার ছোঁয়ায় তাদের স্বর্বস্য অপবিত্র।
ধিরে ধিরে প্রিয় মানুষটির পরিবারের,,,
এক নগণ্য তাচ্ছিল্য তৃণ সম আচরণে
প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত।
পূর্বে জানা থাকলে এমন চাঁদ ছোঁয়ার
দুঃসাহস বোধ হয় হতনা।
যে চাঁদ স্বেচ্ছায় ধরা দিয়ে ছিলো,
আমার নিম্নবর্ণের কুটির দ্বারে,
সেই চাঁদই সুকৌশলে নিপুণ হাতে,
আমার গর্ভপাতের পরিকল্পনায়
সহমত একত্রিত সপরিবারে।
পরবর্তীতে বিকল্পের খোঁজে আমার
পরিণতি খাতা কলমে।
প্রথম মাতৃত্বের তৃষ্ণায়,
নিজের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে,
রাতের অন্ধকারে গন্তব্য আমার জন্ম কুটিরে।
সেই আত্মবিশ্বাসের ফসল আমার রানী,
আত্মবিশ্বাস বর্ণ বৈষম্যের আঁতুড় ঘর উপেক্ষার,
আত্মবিশ্বাস চুড়ির বদলে কলমের ধার করার,
আত্মবিশ্বাস নিজ অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার।।