Apr 29, 2023

মনচলি চক্রবর্তী

সবুজের স্পর্শ ও"ঊনকোটি শ্রীঙ্গেরী সারদা পিঠম" লোকমুখে  (তিরুপতি বালাজি মন্দির)

সৃষ্টিকর্তা নিজে সবুজের অমৃত স্পর্শে  শস্যশ্যামলা বসুন্ধরা সাজিয়েছেন।সবুজের পরশে ধন্য জীবকূল। সবুজ প্রকৃতি, সবুজ বনানী, সবুজ মাঠ,সবুজ পাহাড়।সবুজের মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রাণের স্পন্দন । সবুজ প্রকৃতিই  আমাদের প্রকৃত জীবন সঙ্গী।

ত্রিপুরার প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত  সবুজ শহর কৈলাশহর। শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  আর দর্শনীয় স্থান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 

কৈলাশহরের অনতিদূর , বিলাশপুরে(ডলুগাঁও)

অঞ্চলে অবস্থিত সুবিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে   নব নির্মিত দক্ষিন ভারতের মন্দিরের   আদলে গড়া অপূর্ব   "ঊনকোটি শ্রীঙ্গেরী সারদা পিঠম"মন্দির লোকমুখে  তিরুপতি বালাজি মন্দির। 

"ঊনকোটি শ্রীঙ্গেরী সারদা পিঠম" লোকমুখে 

বালাজি মন্দির  বা  বিষ্ণুমন্দির। যেখানে বিষ্ণুদেবের পূজার্চনা  হবে।

দক্ষিন ভারতের মন্দিরের স্থাপত্য ভাস্কর্যের সংমিশ্রণে সুসজ্জিত মন্দিরটি নিজ মহিমায় মহিমান্বিত। দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার ফলশ্রুতি নবনির্মিত এই  মন্দির। 

সবুজ পাহাড়, নদী, সবুজ ঘাস আর বনানীর  মাঝেই গড়ে উঠেছে  সুন্দর স্থাপত্য ভাস্কর্যের অপূর্ব নিদর্শন তিরুপতি মন্দির।সবুজে ঘেরা বনানী ঘেঁসে আঁকাবাকা পথ চলে গেছে মন্দিরের দিকে। চারিদিকে শুধু সবুজের সমারোহ আর পাখিদের কলতান। সবুজ ঘাসের মাঝে পাহাড়ি মাটির লাল পথ গেছে মিশে।প্রবেশ পথে বিশাল সবুজ এক আকাশচুম্বি  উচ্চ বৃক্ষ  আমন্ত্রণ করছে যেন দর্শনার্থীদের।এই সুউচ্চ সবুজ বনস্পতি মন্দিরের শোভা বর্ধন করছে। চারিদিকে সবুজের সমারোহ।সবুজের চাদরে মোড়া সুউচ্চ রং তুলির টানে সুসজ্জিত  পর্বতের ন্যায় মন্দির।মন্দিরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের নিপুণতা দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো। বিভিন্ন দেবদেবীর উজ্জ্বল  মূর্তিতে সুসজ্জিত মন্দির। মূর্তির রূপ আকৃষ্ট করে দর্শনার্থীদের।মূর্তি গুলো যেমন স্বাভাবিক তেমনি  সজীব। 

তিনটি ভাগে সুসজ্জিত এই মন্দির টি।দুধারের  দুটি   ক্ষুদ্রাকৃতির সুউচ্চ সুসজ্জিত  মন্দিরের মাঝে বিশাল আকাশচুম্বি তিরুপতি তথা বিষ্ণুর মন্দির।  পূজার্চনার  মূল স্থান।সুন্দর কারুকার্যে সুসজ্জিত  সেই মন্দিরের প্রবেশ দ্বার। প্রবেশ দ্বারের উপরে দেবদেবীর মূর্তি।প্রবেশ দ্বার উন্মোচিত হলেই বিশাল আকারের পাথরের বিষ্ণু মূর্তির অধিষ্ঠান।তিরুপতি তথা বিষ্ণু মূর্তির সৌন্দর্য  অপার।  দুদিকের মন্দির দুটিতে  অপরূপ বিভিন্ন দেবদেবীর  মূর্তি নির্মিত ।অত্যন্ত নিপুণতায় শিল্পী  রূপ দিয়েছেন, প্রান দিয়েছেন মূর্তিগুলোর মাঝে। 

দাক্ষিণাত্যের মন্দির গুলির শিল্প স্থাপত্য ভাস্কর্য চিত্রকলার ছাপ রয়েছে এই মন্দির টিতে।মন্দিরের শীর্ষ দেশ কারুকার্যে উজ্জ্বল। দেওয়ালের  ও মন্দির প্রাঙ্গনের চিত্র কলা অপূর্ব। নবনির্মিত এই মন্দিরটিকে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্নতা পেলে মন্দিরটি সমগ্র রাজ্যবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। সবুজ প্রকৃতির হাতছানি ও সুউচ্চ সুসজ্জিত মন্দির টি ভবিষ্যতে কৈলাশহর তথা  ত্রিপুরা রাজ্যর  পর্যটন মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।