শিকার
প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই সকালবেলায় সাইকেল নিয়ে বাজারে বের হয়েছে সুমন ভোর পাঁচটায় পত্রিকা অফিসে গিয়ে খবরের কাগজ সংগ্রহ করে। নয়টার মধ্যেই প্রায় তিনশত বেশি পত্রিকা সে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেয়।তারপর বাড়িতে এসে প্রধান করে চলে যায় হরি বাবুর চট কলে।বহু শ্রমিক সেখানে কাজ করে।সকাল এগারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ডিউটি তার।হরি বাবুর সুমনকে খুব ভালোবাসেন।বি এ পাশ ছেলে। সম্পূর্ণ ভদ্র।কলেজে পড়ার সময়ই তার বাবা মারা যায়।বড় ভাই স্ত্রী -সন্তানদের নিয়ে গুজরাট থাকেন। সেখানেই চাকরি করেন।
দেশের বাড়িতে সুমন এর সঙ্গী বলতে গেলে তার এক বৃদ্ধা মা। দুজনের সংসার।প্রতিবছর বাবার বাৎসরিক কাজের সময় সুমনের দাদা বাড়িতে আসে।তখন খুব আনন্দ হয়।
হরি বাবুই বলতে গেলে সুমনের অভিভাবক।সুমনকে তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। সুমন ওনাকে কাকা বলেই ডাকেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সুমন খানিকটা ফ্রেস হয়ে চলে যায় টিউশনে। এমনটাই সুমনের রোজনামচা।
গত পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় সুমনের জীবনে একটা দারুণ ঘটনা ঘটল।তেমাথার মোড়ে হঠাৎ সুমনের সাথে দেখা হল সোহেলীর ।সোহেলী সুমনের কলেজ জীবনের বান্ধবী। শুধু বান্ধবী নয়,বলা যেতে পারে প্রেমিকা।এক সময় সুমন তাকে অন্ধের মতো ভালোবাসত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভুল ভাঙ্গে তার।সোহেলী বিত্তশালী ঘরের মেয়ে ছিল।তার বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের সাথে।সুমন ভেবেছিল হয়তোবা সোহেলী এই বিয়েতে আপত্তি করবে।অথচ সোহেলী ভালো বর পেয়ে,সুমনকে এড়িয়ে যায়।হয়তোবা নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সোহেলী সুমনের সাথে সবধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।সুমন নীরবে মুখ বুজে সব সহ্য করে। বুকে এক রাশি স্বপ্নকে আটকে রাখে।তবে সুমনের মনে একটা গভীর বিশ্বাস ছিল যে, একদিন না একদিন সোহেলী তার নিকট আবার ফিরে আসবে। নিজের দুঃখ ভুলতে গিয়ে সে স্বেচ্ছায় সোহেলীর সব স্মৃতিকে বিসর্জন দিয়ে দিয়েছে।তবু, জীবনের প্রথম প্রেমকে আর অস্বীকার করা যায় না।যদিও বিয়ের পর একটি বারের জন্যও সোহেলী সুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেনি।সুমন তো অনেক আগেই সোহেলীর মোবাইল নম্বর ডিলিট করে ফেলেছে।
সেদিন সোহেলী হঠাৎ সুমনকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসেছে। সুমন তাকে দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে।আচমকা ভীড়ের মাঝে সুমনের হাত জড়িয়ে ধরে সোহেলী। এখনো সেই স্পর্শ।সেই অনুভূতি। অনেকটা লজ্জায় পড়ে যায় সে। এ কি,তুই কি করছিস।
হাত ছাড়।এখানে অনেক পরিচিত মানুষ জন। সবাই কি বলবে?
সোহেলী নিজেও যেন সুমনের কথায় সংকোচ বোধ করল। সত্যিই তো। সুমনের হাত ছেড়ে বলে উঠল,তোর সাথে যে আমার অনেক কথা বলার আছে।
সুমন তাকিয়ে দেখল ,এখন যেন সোহেলী র মুখে একটা অস্পষ্টতার ছাপ বিরাজ করছে।কলেজ জীবনের হাসি খুশী সোহেলী যেন খানিকটা বদলে গেছে। আচ্ছা, তাড়াতাড়ি বল-আমাকে আবার কাজে যেতে হবে।বলে উঠল সুমন।না,চল না-একটু পাশে বসে কথা বলি।এখানে কোথায় বসব।
সোহেলী বলে উঠল,একটু এগিয়ে গেলেই আমার বান্ধবী আয়েশার ফ্ল্যাট আছে। সেখানে বসে নীরবে কথা বলতে পারি।
হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সুমন বলে উঠল,বেশ তবে তোমাকে ত্রিশ মিনিটের বেশি সময় দিতে পারব না।
ঠিক আছে। যথেষ্ট সময়।
সোহেলী সুমনকে নিয়ে গেল আয়েশার ফ্ল্যাটে।আয়েশা তাদেরকে বসিয়ে রেখে চলে গেল স্কুল থেকে নিজের বাচ্চা আনতে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সোহেলী,সুমনকে বলে উঠল-আমাদের কলেজ জীবনের কথা তোর মনে আছে?সুমন হতচকিত হয়ে পড়ল।কেন,আবার এই পুরোনো কথা।সোহেলী বলে উঠল,আমি যে তোকে এখনো ভালোবাসি।এই কথাটা বলেই সোহেলী নিজের কামিজটা খুলে ফেলেছে।সুমন,চায়ের কাপটা টেবিলের উপর রেখে ,উঠে দাঁড়িয়েছে।তবে আমি আসি। পথ আগলে দাঁড়ালো সোহেলী।আমিতো তোমাকে যেতে দেব না।এখনো ত্রিশ মিনিট হয় নি। অনেক সময় বাকি আছে।
তবে এসব কি নোংরামি। সোহেলী জড়িয়ে ধরল সুমনকে। আমার শরীরের চাহিদা তুমি পূর্ণ কর।আমার স্বামী আমাকে শারীরিক সুখ দিতে অক্ষম। সোহেলী আমাকে ছাড়।আমি ভদ্র ঘরের সন্তান। আমার এই সমাজে যথেষ্ট সম্মান আছে। তোমার সাথে এখানে আসাটাই আমার ঠিক হয় নি।তুমি পরিকল্পনা করে আমাকে তোমার ফাঁদে জড়িয়েছ। সোহেলী বলে উঠল, আমার শারীরিক চাহিদা তোমাকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে, নতুবা এই মুহূর্তে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। সুমনের দুচোখ দিয়ে তখন মন্দাকিনীর ধারা পড়ছে।সে বুঝতে পেরেছে, সোহেলী তাকে এখানে নিয়ে এসেছে নিজের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। উদ্দেশ্য পূরণ না হলে,সে চিৎকার করে লোক জমায়েত করবে। প্রয়োজনে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতেও সে দ্বিধাবোধ করবে না।
অগত্যা,সুমন বাধ্য হয়ে নিজেকে সঁপে দিল সোহেলী র হাতে। সোহেলীর শারীরিক চাহিদা পূরণ হলে ছুটে আসে আয়েশা।আয়েশাও তাকে ভোগ করে।সুমন যে আজ তাদের বাসনার শিকার হয়ে গেছে,তা বিলম্বে হলেও সে বুঝতে পেরেছে।
বেলা গড়িয়ে গেছে।সুমন বাড়ি ফিরে দেখে বৃদ্ধা মা ভাতের থালা সাজিয়ে বসে আছে সন্তানের জন্য পথ চেয়ে। মায়ের গলায় জড়িয়ে ধরে সে কেঁদে উঠল।কেননা,এ জগতে একমাত্র মা ছাড়া যে আর কেউ সন্তানকে নি:স্বাথ ভাবে ভালবাসেনা।