মনুষত্ব
শহর জুড়ে হিমেল পরশ, রাতের উষ্ণতার পারদ ক্রমাগত নিম্মমুখী।বাইরে ঠান্ডা থাকলেও অফিসের ফোনের জন্য বারান্দাতে এসে দাঁড়িয়েছি। গলির মুখে মধু পাগলি আজকেও রাস্তায় রাস্তায় কীসের সন্ধানে যেনো ঘুরে বেড়াচ্ছে? গায়ে জড়ানো একটা চিটচিটে তুলোর কম্বল, মুখে বিড় বিড় করছে। একদিন ভালো করে শুনেছিলাম আমি বিড় বিড় করছিল সে, " আমার মেয়ে, আমার মেয়েকে দেখেছো কোথায়?" হঠাৎ দেখি তিনটে ছেলে মেয়ে এসে মধু পাগলি কে একটা গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। আমি শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। ওদের যাওয়ার পথে মনে একটা ভয়ের সঞ্চয় ও হয়।যতই পাগল হোক না কেন, এতোদিন ধরে আমাদের পাড়াতে রয়েছে, তাকে এইভাবে নিয়ে চলে গেল কয়েকজন! যদি কিছু বাজে হয় তার সাথে! কিন্তু আমি বা কী করবো একা এক রাতে? একরাশ চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে এলাম । এরপর কাজের চাপে ধীরে ধীরে ঘটনাটা ভুলে ও যাই।
কয়েক মাস পরে একটা কাজে বেনিয়া পুকুরের দিকে গিয়েছিলাম। হঠাৎ নজরে এল একটা অ্যাসাইলামে আমাদের পাড়ার সেই মধু পাগলি ও এখন সুস্থের দিকে । খানিকটা কৌতুহল বশত রিসেপশনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি মধুকে এখানে কে নিয়ে আসে? ওরা যা বর্ননা দেয় ,তাতে বুঝি ওই ছেলে মেয়ে গুলোই ওকে এখানে দিয়ে যায়। এতদিন পাড়াতে থাকার সত্ত্বেও আমরা কিছু করিনি,অথচ অচেনা কয়েকটা ছেলে মেয়ে প্রায় অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে দেখিয়ে দিল।দেখে খানিকটা লজ্জার সাথে গর্ব ও হল।লজ্জাটা ছিল নিজের মানবিকতা কে বিসর্জন দিয়েছিলাম বলে। গর্বটা ছিল এখনও মনুষ্যত্ব বেঁচে আছে ।খুঁজলে হয়তো এই শহরের বুকে আরও অনেক মধু আর ওই ছেলে মেয়ে গুলোর মতো মানুষের গল্প পাওয়া যাবে,যাদের জন্য মানুষ এবং মনুষ্যত্বের গান আমরা দিনের শেষে গর্ব করে গাইতে পারি। বৈদ্য
শহর জুড়ে হিমেল পরশ, রাতের উষ্ণতার পারদ ক্রমাগত নিম্মমুখী।বাইরে ঠান্ডা থাকলেও অফিসের ফোনের জন্য বারান্দাতে এসে দাঁড়িয়েছি। গলির মুখে মধু পাগলি আজকেও রাস্তায় রাস্তায় কীসের সন্ধানে যেনো ঘুরে বেড়াচ্ছে? গায়ে জড়ানো একটা চিটচিটে তুলোর কম্বল, মুখে বিড় বিড় করছে। একদিন ভালো করে শুনেছিলাম আমি বিড় বিড় করছিল সে, " আমার মেয়ে, আমার মেয়েকে দেখেছো কোথায়?" হঠাৎ দেখি তিনটে ছেলে মেয়ে এসে মধু পাগলি কে একটা গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। আমি শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। ওদের যাওয়ার পথে মনে একটা ভয়ের সঞ্চয় ও হয়।যতই পাগল হোক না কেন, এতোদিন ধরে আমাদের পাড়াতে রয়েছে, তাকে এইভাবে নিয়ে চলে গেল কয়েকজন! যদি কিছু বাজে হয় তার সাথে! কিন্তু আমি বা কী করবো একা এক রাতে? একরাশ চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে এলাম । এরপর কাজের চাপে ধীরে ধীরে ঘটনাটা ভুলে ও যাই।
কয়েক মাস পরে একটা কাজে বেনিয়া পুকুরের দিকে গিয়েছিলাম। হঠাৎ নজরে এল একটা অ্যাসাইলামে আমাদের পাড়ার সেই মধু পাগলি ও এখন সুস্থের দিকে । খানিকটা কৌতুহল বশত রিসেপশনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি মধুকে এখানে কে নিয়ে আসে? ওরা যা বর্ননা দেয় ,তাতে বুঝি ওই ছেলে মেয়ে গুলোই ওকে এখানে দিয়ে যায়। এতদিন পাড়াতে থাকার সত্ত্বেও আমরা কিছু করিনি,অথচ অচেনা কয়েকটা ছেলে মেয়ে প্রায় অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে দেখিয়ে দিল।দেখে খানিকটা লজ্জার সাথে গর্ব ও হল।লজ্জাটা ছিল নিজের মানবিকতা কে বিসর্জন দিয়েছিলাম বলে। গর্বটা ছিল এখনও মনুষ্যত্ব বেঁচে আছে ।খুঁজলে হয়তো এই শহরের বুকে আরও অনেক মধু আর ওই ছেলে মেয়ে গুলোর মতো মানুষের গল্প পাওয়া যাবে,যাদের জন্য মানুষ এবং মনুষ্যত্বের গান আমরা দিনের শেষে গর্ব করে গাইতে পারি।