বাইশ বছর
একটি কবিতা লিখ কবি অগ্নির নীলাভ শিখার মত
কষ্টে কষ্টে আক্ষেপের নোনাজল জমেছে বরফ পাহাড় সমান
স্বপ্নভঙ্গ, অপূর্ন ইচ্ছা, না পাওয়ার গল্পে গল্পে
ভীষন ভারী এক কাব্য হয়ে যাক
রঙিন পৃথিবীর বিলাসী মানুষের ভীড়ে
স্বচ্ছল মানুষের যাপিত জীবনের গল্প শুনে শুনে
সফল হাজারো প্রেমিক প্রেমিকার
বৃষ্টিবিলাস জ্যোৎস্নাবিলাসের গল্প লিখে লিখে
সংশোধিত হয় বাদ পড়ে যায় তোমার কলমযুদ্ধ হতে -
এক অনবদ্য জীবনের গল্প
মধ্যবিত্ত বাবার বাইশ বছরের এক তরুনীর গল্প।
যে জীবন তুষের আগুন নিভৃতে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়
যে জীবন ফল্গু নদী নিরবে বয়ে বয়ে যায়
এ সমাজ শিক্ষা চায়, অর্থ চায়, সম্মান চায়
তাই সে থেমে যেতে পারে না।
থাকেনা কোন পিছুটান এগিয়ে চলে মরুপথ
লড়াই করে যায় টিকে থাকার জন্য
গতিশীল পৃথিবীর পথে পথে
স্রোতের উপর গা ভাসিয়ে ভাসিয়ে
হাজার ইচ্ছের অপমৃত্যু ঘটে
অঙ্কুরে বিনিষ্ট হয় লালিত স্বপ্ন
পোশাকী প্রেম আবেগের রংমহল
ঠাই পায় না সেই বিদ্রোহী জীবনে
ওহে কবি, রঙিন চশমা খুলে ফেলো
চর্মচক্ষু দিয়ে দেখো বিবেক দিয়ে ভাবো
ভালবাসতেও এযুগে অর্থ লাগে
স্বপ্নের পুরুষকেও ফিরিয়ে দিতে হয়
বাইশ বছর এক জ্বলন্ত অগ্নি
যে আগুন ভস্মীভূত করে সমস্ত শখ, ইচ্ছে, স্বপ্ন
ওহে কবি, জেনে রাখো
পৃথিবী যখন ঘুমে আচ্ছন্ন হয়
মোমবাতির আলোয় রচিত হয়
কিছু অনবদ্য জীবনের গল্প
বাবার ভারী বোঝা টানার
আত্মনির্ভরশীল উপার্জনক্ষম হবার পান্ডুলিপি।।