অদৃশ্য অস্তিত্ব
কে তুমি অদৃশ্য অস্তিত্ব মুখ লুকিয়ে
আমাদের কায়ায় নিয়েছো সমস্ত দায়
নিজের কাঁধে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত
দিনভর কাজে অবিচল থেকে
রাতেও আমাদের ঘুম পাড়িয়ে তুমি
নিশ্চন্তে ঘুমিয়ে থাক সারা রাত
সকালে ঘুম ভাঙলেই তুমি আবার
শুরু কর তোমার কাজ
দক্ষ কারিগর নিপুণ মুন্সিয়ানায়
তুমি হাসালে আমরা হাঁসি
কাঁদালে আমরা কাঁদি
ঠিক তোমার আজ্ঞাবহ বাঁদী
মানব কল্যাণে তুমি যখন যা চাও
তাই করিয়ে নাও আমাদের দিয়ে
তুমি ছাড়া মূল্যহীন আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়
তুমি শ্রমিকের শ্রমশক্তির উদ্গাতা
কৃষকের শানিত ফালের শক্তি
পড়ুয়ার প্রেরণা বিজ্ঞানীর ফসিল
তুমি কুমারীর অব্যক্ত প্রেমের মহাশক্তি
দেবালয়ে পুজারীর উপাসনার ভক্তি
প্রেমিক প্রেমিকার প্রেমের আর্তি
গরিবের কুঁড়ে ঘরে অন্ধকারের আলো
বেঁচে থাকার আত্ম অহঙ্কার
দ্বারে দ্বারে ভিখিরির এক মুঠো অন্ন
তুমি জাগতিক সৃষ্টির উৎস
লয় প্রলয় ধ্বংস
নিজেকে নিজে যাচাইয়ের কষ্টিপাথর
তুমি শোক তাপের কান্না
সুখ শান্তি আনন্দের অনর্গল হাসি
পরাজিত সৈনিকের নতুন উদ্যম
এত কাজে এত সাজে তুমি বিরাজ করছ
আমাদের মাঝে অনন্ত অদৃশ্য অস্তিত্ব
কি নামে ডাকলে তুমি সাড়া দেবে একবার।