এ পৃথিবী তোমার-আমার
এস পৃথিবীকে ভালবাসি--এ পৃথিবী তোমার- আমার।বিরবির করে চলেছেন কবি শরদ্বিন্দু সেন।পেটে ভাত নেই,অথচ পেটে আজ নল পড়েছে।চল সেন---।
- এই কোথায়?মাথায় আঘাত করল কেউ।কতক্ষণ কাটল কে জানে!
আমার মুখের চোখের কাপড় সরানো হল।সামনে একজন সিগার টানছে। --আমি ডন,মুন্না।লোক আমাকে মাথা মুন্না ডাকে।যারে ভাল লাগেনা,তার ঘাড়ে মাথা রাখিনা।মাগার,তোমাকে ভালবাসি বস্---তুমি সুধার যাও?
কবি বললেন,এটাই তোমাদের সমস্যা মুন্না।তোমরা ভালবাসা বিনিময় করতে পার না,সহ্যও করতে পার না।মুন্না বলল,দিব্যি বলছি মাইরি---এখনই একজনকে ভালবেসে এসেছি কবি!
- এটা শুধু টাকা আর শরীরের বিনিময় মুন্না,এটা ভালবাসা নয়!
- তুমি ছাইপাশ লিখে কি পেয়েছ?আমার টাকা আছে।দেশের প্রতিটি লোকের ভাগ্যলিপি আমার ল্যাপটপে!তুমি কি স্বাধীন?পিস্তলের সাইলেন্সার পাইপ মাথায় ঠেকিয়ে বলছে,তুমি কি মুক্ত সেন?
- আমি মুক্তির উৎসবের সূচনা দেখতে পাচ্ছি মুন্না!সবাই মুক্তির মঞ্চে হাত ধরাধরি করে নাচছে,গাইছে এস পৃথিবীকে ভালবাসি,এ পৃথিবী তোমার-আমার।
- হ্যা হ্যা হ্যা, হাসল মুন্না।এটা কি?
- এক ইঞ্চি লোহার টুকরো।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই এই টুকরো তোমার শরীরে বিঁধবে,যন্ত্রণায় ছটফট ছটফট করে তুমি মারা যাবে,তখন তোমার ভালবাসার কি হবে কবি?
- মৃত্যু সবার জন্য অবধারিত মূর্খ মুন্না!তুমি আমার শরীরকে মারতে পার,আমার উদ্দেশ্য আদর্শকে নয়?
- আচ্ছা! ধ্রুম---সবাই আনন্দ কর,নাচরে!কবি মরছে---নেচে নেচে ওর আদর্শকেও ভাসান দাও।আরেকবার পিস্তল গর্জে উঠল,ধ্রুম--
কবির মুখে রক্ত উঠে এল।ঠোঁটে বাঁকা হাসি রেখে বললেন,আমার সামনে কতগুলো কঙ্কাল নাচছে!
- মুন্না বলল,এই দেখ আমরা বেঁচে আছি,দিব্যি নাচছি।
- কঙ্কাল নৃত্যের আরেক নাম মৃত্যু মুন্না!অনেক কষ্টে কবি বললেন,তুমি এক মাস কাউকে টাকা না দিয়ে দেখ,তোমার মান,অহংকার, বিলাসী জীবন,সুখ,আশা,ক্ষুধা, প্রেম এগুলো কোথায় যায়।টাকা ছাড়া তোমার কিছুই নেই মুন্না!
- কালু - জ্বি বস্
-জিন্দা মানুষের চামড়া দিয়ে ডপলি বানিয়েছিস?- না বস্
- আর মাথা দিয়ে ঢোলক?- না বস্।
-তুই আনাড়ি,আজ বানিয়ে ফেল।
- তার প্রয়োজন হবে না মুন্না, তুমি আনাড়ি---তোমাদের এক পা কবরে!
আকাশে কালো মেঘের সাজ।তারই মধ্যে কবি সেঁজুতি দেখতে পেলেন।
চারিদিকে কবির হত্যার খবর দাবনলের মত ছড়িয়ে পড়েছে।হাজারো লাখো মানুষের ঢল,হাতে হাতে প্লে-কার্ড,মৌন মিছিল, মশাল মিছিল, কালো ব্যাজ পড়ে মানববন্ধন।সামরিক ফৌজ রাস্তায় নেমেছে,ধরপাকড় শুরু হয়েছে।সাধারণ লোকেরা মুন্নাদের মত লোকদের ধরে ধরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কেউ জানেনা।হিংস্র জীব-জন্তুর এক জঙ্গলে হাত পা ভাঙ্গা মুন্না মুখ বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।সে গুমরে গুমরে আর্তনাদ করছে,আমাকে মৃত্যু দাও---আমাকে মৃত্যু দাও!কতগুলো পাখিডাকা ভোর গেল,কেউ এল না বরং মুহুর্মূহু প্রকৃতি থেকে যেনো ভেসে এল,এস পৃথিবীকে ভালবাসি,এ পৃথিবী তোমার-আমার।