Jul 31, 2023

শুভ্ৰা সাহা

একুশে জানুয়ারি

আজ একুশে জানুয়ারি। এ দিনটির জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে কমল। ওদের বিবাহবার্ষিকী ।যদিও এই দিন ওর সম্পূর্ণ নিজস্ব। কারো সঙ্গেই মনের গোপন আকুতিকে শেয়ার করে না  ও । করলেও বুঝবে না  কেউ।কাউকে বোঝাতেও চায়না কমল।কারণ এত খুশিতে ভরা ছিল ওদের জীবন ! পৃথার ছোট ছোট আবদার গুলো যেন এই দিনের জন্য অপেক্ষা করতো। সেগুলির কোনোটাতেই   কমল না করত না ।  

  দিন কেমন পাল্টে যায় ,মানুষ কেমন বদলে যায় ,সবাই কেমন ঘটনা গুলিকে ভুলে যায়। কমলও. মাঝে মাঝে ভুলে যায় ,আবাৱ বসে বসে ভাবেও মানুষ কি করে ভুলে যায় ! কি করে ভুলে যাওয়া যায় ! নিজের একান্ত আপন জনকে ! যাকে ছাড়া একদিন মনে হত এক মুহূর্তও থাকা যাবে না। হয়তো এসব এই ব্যাপারগুলো সবার জীবনে আসে। 

পৌরাণিক কাহিনীতে পড়েছিল রাজা হরিশচন্দ্র একদিন ভুলে গিয়েছিলেন, উনার স্ত্রীকে ,উনার সন্তানকে ,আর আমরা তো মনুষ্য জাতি। স্বার্থের জন্য অনেক কিছুই ভুলে যাই। ব্রেন থেকে অনেক কিছুই অনেক সময় সরে যায়। আবার কোন এক সময় হঠাৎ করে মনেও পড়ে যায়। মনটা যে কি ভীষণ বস্তু তা বলে বোঝানো যাবে না।  মুহূর্তে মুহূর্তে চেঞ্জ হয়ে যায় ।এটাকে আয়ত্ত করাই যেন সবচেয়ে বেশি কঠিন ব্যাপার ।

 এভাবে কোমল হঠাৎ হঠাৎই ভাবনায় জড়িয়ে যায় ।এ ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সে।   আৱ নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চায় । কাজ বলতে সামাজিক কাজ। পাড়ার মানুষের খোঁজ খবর নেওয়া । যতটা সম্ভব গরিবদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। অবশ্য. এর জন্য রাজনৈতিক নেতারাও কম যান না । অনেক সময় তাদের তরফ থেকেও কমল এর ডাক পড়ে। যদিও কমল রাজনীতির ধার ধারে না। অসহায়দের সহায়তা করাই ওর কাজ।

কমলের একটি ছেলে । বিদেশে থাকে ,চাকরি করে । বাড়ির অন্যান্য ভাই দের সঙ্গে একান্নবর্তী পরিবারে রয়ে যায় কমল । 

কমল ২১ শে জানুয়ারি কে ভোলে না। এটি  তার সম্পূর্ণ নিজস্ব , এদিন পৃথার সঙ্গে আত্মিক মিলন অনুভব করে  ও। ওই দিনটিতে কোনো নির্জন জায়গায় নিজেকে বেঁধে রাখতে চায়, ২৫ বছর আগে আকাশে পাড়ি দেওয়া পৃথার  কাছে। এই দিনে নির্জন মুহূর্তে চোখ বোজা কমলকে ধরা দেয় একান্ত আপন করে পৃথা।