বিধাতার পরিহাস
মা বাবার আকাঙ্খিত বাসনা পূর্ণ করতে মায়ের কোল আলো করে যখন নবজাত শিশু জন্ম নেয় তখন মা গর্ভধারণ ও প্রসব যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে শিশুকে সস্নেহে কোলে তুলে নেন। এবং অতি সোহাগে বড় করতে থাকেন। শিশু সন্তান, ছেলে হোক বা মেয়েই হোক মা বাবার নয়নমণি। সন্তানকে মা বাবা অতি সোহাগ ও আদর যত্নে বড় করে তোলেন।
মেয়ে সন্তান জন্ম নেয় পরের ঘরে বধূ সেজে গিয়ে ঐ ঘর আলোকিত করার জন্য। বধূ সেজে গিয়ে আনন্দে মাতিয়ে রাখে পুরো বাড়িটাকে।
আপনকে করে পর,
বাহিরের বাঁশির টানে
ছেড়ে যায় ঘর।"
মা বাবার ঘরে অতি আদরে বড় হয়ে মেয়েরা স্বামীর ঘরে গিয়ে পুরো সংসারের দায়িত্ব বুঝে নেয়। স্বামীর সোহাগে প্রতিটি স্ত্রী নতুন জীবন পেয়ে, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। স্ত্রীও আপন করে নেয়, স্বামী, স্বামীর মা, বাবা, ভাই, বোন,এবং আত্মীয়-স্বজনদের।
একটা ছোট্ট লাল টিপ, শাঁখা, সিঁদুর ও লাল পেড়ে শাড়িতে বধূকে অপরূপ লাগে। ভাগ্যের পরিহাসে কোন কোন নারী সংসার জীবনে এই সুখ থেকে বঞ্চিত হয়ে আবার আর একটা নতুন রূপ ধারণ করে।
স্বামীর বিয়োগান্তে স্ত্রী'রা শাঁখা, সিঁদুর ও লাল শাড়ি থেকে বঞ্চিত হয়। ইহাই সমাজের নিয়ম। সমাজের নিয়মে জীবন সঙ্গীকে হারিয়ে সাদা শাড়ি পরে একাকী বৈধব্য জীবন কাটাতে হয়। এই একাকিত্ব জীবন যে কত দুর্বিসহ, ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝে না। কারণ, ব্যথা না পেলে কেউ ব্যথার যন্ত্রণা বুঝবে কি করে ?
সাদা শাড়িতে বৈধব্য-বেশে রাত্রি বেলায় হারিকেনের আলোতে যখন আরশিতে মুখ দেখে, তখন আয়নাতে ভেসে উঠে নিজের সধবা থাকাকালীন সেই ছবি। মনের আয়নাতে এই ছবি ভেসে থাকে মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত।
দুঃখে, মনোকষ্টে বুক ফেটে যায়, তবুও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। এই হলো নারীর জীবন। বিধাতার পরিহাস বুঝা বড় দায়। বিধির নিয়ম লঙ্ঘন করা যে দুঃসাধ্য।