মায়া স্পর্শ
মা মাগো...উফফফ কি ব্যথা গো মা !!
কঁকিয়ে কেঁদে উঠলো উর্মি।
আষাঢ়ে মুখভার করা দুপুর , একটানা টিপটিপ বৃষ্টির জলতরঙ্গ আর তার সাথে কোরাসে রান্নাঘর থেকে মায়ের রান্নার মৃদু মধুর সুরভিত রান্নার সম্ভার দেয়া আর হাতা ছেনির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মা কাজ করে করেই বলছেন...দাঁড়া মাথাটা ধুইয়ে দিচ্ছি,মাথাটা বিছানার পাশে নিয়ে আয়।দেখিস ফুসমন্তরে কমে যাবে।
মা ঘটি হাতে কপালে চুলে জল ঢালছেন ধীরে ধীরে,আর বলছেন...ভীষণ অবাধ্য মেয়ে,কথা শুনিস?বলি যে বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে...কে কার কথা শোনে,
ব্রাহ্মণ মন্ত্র পড়ে আর...!!!
বুঝবে মা না থাকলে!!
আহা কি আরাম !!কি ভারী লাগছিল মাথাটা । উর্মি আওয়াজ পাচ্ছে মা এখন বাটনায় থেঁতলে আদা আর তুলসী পাতার রস আনছেন।
কপালে মায়ের মায়া স্পর্শে সব জ্বর উধাও হয়ে গেল!!
ঘুমের দেশে ডুবে যেতে যেতে মায়ের কথা কানে আসছিল... দুষ্টুমির তোর শেষ নেই,ছাতা রেখে বৃষ্টি ভেজার কষ্ট কে পাচ্ছে বল?
ওয়েটিং শেডে দাড়িয়ে ভিজে সপসপে উর্মি বৃষ্টির তীব্র ছাঁট অনুভব করতে করতে ভাবছিল...আজ ঘরে জ্বর শরীরে গেলে কপালে জলের ধারা আদাতুলসীর রস দেবার হাতটা যে আর কোথাও নেই!!
চোখের উষ্ণ প্রস্রবণ কখন মিশে গেল বৃষ্টির সাথে বুঝতেই পারল না উর্মি!!