আর একটি প্রেমের কাহিনী
নিঝুম রাত,
শহরের ব্যস্ততা এখন স্তব্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছে সে। পাশে একটা বড় পার্ক, সন্ধ্যে পর্যন্ত যেখানে তরুণতরুণীদের ভিড় লেগে থাকত এখন সেই পার্কও যেন ঘুমিয়ে পড়েছে নিজের যৌবনের স্বপ্ন নিয়ে। পার্কের ভিতরে একটা ছোট্ট ল্যাম্প পোষ্ট, সেখানে এখন আলো জ্বলছে কিন্তু তাও যেন নিভু নিভু। সেই নিভু নিভু আলোর পাশে ছোট্ট বেঞ্চিতে গিয়ে সে বসে পড়ল।
“অরুণ”
একটু দূর থেকে একটা নারীকন্ঠের আওয়াজ ভেসে এল। বেঞ্চে বসা ব্যক্তিটি একটু ঘুরে তাকিয়ে দেখল ধীর পদক্ষেপে একজন মহিলা হেঁটে আসছে। মহিলাটি এসে লোকটির পাশে বসে পড়ল। অন্ধকারে মহিলার মুখ ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। লোকটি একটা টুপি পড়ে আছে। তার টুপি দিয়ে মুখটা ঢাকা।
“রমা”
লোকটি বলে উঠল।
“হ্যাঁ, আজ বহুকাল পরে আবার তোমার সাথে দেখা” রমা বলে ওঠে। এরপর খানিক্ষণ ওরা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে থাকে। এবার অরুণের কন্ঠ শোনা যায় “ রমা সেই কবে তোমাকে দেখেছিলাম। আমি যখন প্রথম দিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই তুমি তখন অন্য ফ্লোরে কাজ করছিলে। ফ্লোরে যাওয়ার সময় আমাকে দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখলে। সেদিন শুট্যিং করতে গিয়ে অন্য নায়িকা আমার সামনে থাকলেও আমি সংলাপ বলেছিলাম তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে।“ রমা মৃদু হেসে ওঠে। “সেই কবেকার কথা আজও তোমার মনে আছে?” রমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে। অরুণ বলে ওঠে “ আর সেই দার্জিলিং এর দৃশ্য তোমার মনে আছে রমা? নীল রঙের শাড়ি পরেছিলে তুমি, চা বাগানের পাশ দিয়ে যখন হেঁটে আসছিলে, তোমার চুলটা হাওয়ায় উড়ছিল।“ “তুমিও তো ব্রাউন কালারের কোট আর মাথায় হ্যাট চোখে গগলস পরেছিলে” লজ্জায় রমা বলে ওঠে।“প্রোডাকশনের লোকজন কিন্তু তোমার দিকে তাকিয়েছিল রমা” অরুণ বলে।“বেশ চলছিল আমাদের কিন্তু....” রমা বলে ওঠে। অরুণ বলে ওঠে “তোমার স্বামী মেনে নিতে পারেনি....”। “তোমারো তো স্ত্রী সন্তান ছিল” রমা বলে। “হয়তো আমার চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে কোন সামঞ্জস্য ছিল না....” অরুণের হতাশ ভরা উক্তি। “ না গো না আমরা সত্যি ভালো বেসেছিলাম কিন্তু আমাদের উচ্চাশা এর পরিণতি পেতে দেয়নি” রমার উক্তি। “রমা” অরুণ রমার হাত চেপে ধরে। “সেই নকল ক্যামেরার পৃথিবী থেকে আজ আমরা মুক্ত, স্বাধীন, এস রমা আমরা এবার বাস্তব পৃথিবীতে গড়ে তুলি আমাদের ভালোবাসার সংসার, যাতে কোন নকল কিছু থাকবেনা, থাকবে শুধু অনুরাগ”। রমা মৃদু হেসে ওঠে। এরপর নিজের মাথাটা সে অরুণের কোলে রাখে। রাতের নিস্তব্ধতা সাক্ষী হয়ে থাকে দুটি মুখোশহীন নটনটীর সত্যিকারের মিলনের, যে মিলন হয়তো তারা বেঁচে থাকতে হয় নি।