বিউটি ফুল
ভুত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি ,রাম লক্ষন সাথে আছে করবে আমায় কি
লিচু চুরি করতে গাছে মগ ডালে উঠেছে বিউটি ও রীনা । ওদের মনে হচ্ছে লিচু গাছের ডালা গুলো যেন কাঁপছে , নড়ছে চড়ছে । এটা থানা এলাকার মজুমদার দের ছাড়া বাড়ি । মজুমদার দের পূর্ব পুরুষদের শশান ।সবাই সৎভাবে মৃত্যু ও সৎকার করেছে উত্তর পুরুষরা তারপর ও অনেকেই নাকি রাত বিরাতে কান্না শুনতে পান ,হাসির শব্দ পান অনেকেই ভয় ও পেয়েছেন । দিনের বেলায় কিছুটি নেই ।সারি সারি আম জাম লিচু কাঁঠাল তাল গাছ আছে ।গরু ছাগল চড়ে । পাশে বসেছে নতুন কোতয়ালী থানা সারা রাত আলো জ্বলে ।তার পর ও গা ছমছম বিষয়টি প্রচার থাকায় ফলফলাদি আনতে পারতপক্ষে কেউ ছাড়া বাড়ীতে যায় না ।
রীনা বিউটি ছাগল খুঁজতে এসে দেখতে পায় থোকা থোকা লিচু পেকে আছে গাছে । দুজনের জিভে টসটস করছে জল ,ব্যস দুজনে লিচু পারবে সাব্যসহ্য হলো ।
রীনা বলে এ বাড়িতে ভুত আছে ।আমগাছ জামগাছ লিচু কাঁঠাল জাম্বুরা তাল সব গাছে ভুত মশাইরা থাকেন ।
বিউটি বলে থাকলে থাক ,ভুত আমাদের কচু করবে ।ভুত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি রাম লক্ষন সাথে আছে করবে আমায় কি ।
ঝড়ো বাতাস ব ইবার মতো সা করে একটা নাকী স্বর চেঁচিয়ে উঠলো তাই নাকি রে ।
বিউটি গোঁ ধরে বললো লিচু না পেড়ে বাড়ি যাবো না ।
রীনা বলে লিচু চোর বলে পুলিশ থানায় আটকে রাখবে ।
বিউটি থানার দিকে হাত জোড় করে বলে ও পুলিশ কাকুরা আমরা চোর ন ই ছোট মানুষ । লিচু খেতে ইচ্ছে করছে তাই গাছে উঠে লিচু পাড়বো ।
রীনা তাড়া দিয়ে বলে গাছে উঠলে উঠ দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
দু বোন লিচু পাড়তে গাছে উঠে । লিচু ঝুলছে পাতা ডালায় । অনেক উপরে উঠার পর ও লিচু পারতে পারছে না বিউটি বা রীনা । লিচু থাকা ডালা গুলো রহস্য জনক ভাবে নড়ছে । রীনা এবার ভয়ে ভয়ে বলে ঐ দেখ লিচু গাছে ভুত ।
বিউটি ভুত কে দেখতে পায় না । গাইতে থাকে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ,হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।
রীনা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে চল নেমে যাই । লিচু খেতে হবে না ।
লিচু না পেড়ে গাছ থেকে নামবো না । সে একটু চেঁচিয়ে বলে এই যে ভুত মশাই আপনার নাম কি
লিচু গাছের ডালা আবার নড়েচড়ে উঠলো । কেউ যেন নাকি গলায় বললো বিউটি ফুল ভুত বিউটি ফুল ভুত ।
বিউটি তো আমার নাম তোমার নাম কি ।
ফুল ফুল ফুল ।হা হা হা ।
রীনা বলে আমাদের বিপদ ।গাছ থেকে লাফ দে ।
বিউটি বলে গাছ থেকে পড়ে হাত পা মাজা ভাঙ্গবে । সারা জীবন বিছানায় থাকতে হবে ।
রীনা বলে তাহলে উপায় ।
বিউটি বলে ভুত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি,রাম লক্ষন সাথে আছে করবে আমায় কি ।
এবার সারা গায়ে যেনো জোরে কম্পন । অট্টহাসি ।তাই নাকি রে, ভুতের আছড় এখনো তো খাওনি বাছাধন ।
রীনার চোখে জল ।সে শক্ত করে গাছের ডালা ধরে হরে কৃষ্ণ হরে রাম জপ করতে লাগলো ।
বিউটি বলে ও বিউটি ফুল ভুত মশাই আমরা তো ছোট মেয়ে । লিচু খেতে ইচ্ছে করছে তাই গাছে উঠেছি ।অন্যায় হয়েছে মাপ করে দাও ।এই কান মলছি আর কখনো লিচু পাড়তে আসবো না । জীবনে আর কোনদিন লিচু খাবো না । এবার বাড়ি যেতে দাও ।
ভুত কে ফেলা করিস অবজ্ঞা করিস তোদের শাস্তি হবে ।
বিউটি বলে আমরা তো ছোট কে ভুত কে ভবিষ্যত কিছু তো জানি না । আচ্ছা ভুত মশাই তুমি নাচতে পারো
তখনই লিচু গাছের ডালা গুলো একবার এদিকে আর একবার ওদিকে হেলতে দুলতে লাগলো রীনা ভয় পেয়ে বলে নাচ থামাও আমি পরে যাবো মরে যাবো ।
ভুত অট্টহাসি দিয়ে বলে রীনা ভুঁত রীনা ভুঁত ।
বিউটি বলে ভুত মশাই তোমরা এখানে থাকো কেন
ভুত বলে কেউ তো আমাদের গয়া কাশি সীতাকুণ্ডে দিয়ে আসে না । মজুমদার দের গুষ্টির ছেলে বুড়ো যে মরে সবাইকে এনে রেখে যায় ।
তোমরা কতোজন থাকো এখানে বিউটি আবার প্রশ্ন করে ।
তিন পুরুষ চারপুরুষ বা তার আগের পুরুষ রা থাকেন । আমি অতশত বুঝি না বাপু ।
তাহলে তোমরা কি খাও ভুত মশাই
ভুত বলে মাছ মাংস দ ই মিষ্টি পায়েস ।আরে বাবা বুঝ না কেন মজুমদার দের জ্ঞাতি গোষ্ঠী বড়ো । ওদের বিয় শ্রাদ্ধ অন্নপ্রাশন শুভ কাজে তো আমাদের ডাকে বাড়ান দেয় , পিন্ড দেয় । তাছাড়া এলাকার সকলের বাড়িতে নেমতন্ন হলে আমরা ডাক পাই ।যাই ।নাচ গান করি । পেটভরে খাই ।
তোমাদের কেউ তো দেখে না ।
ভুত বলে দেখবে কি করে আমাদের তো হাত পা মাথা শরীর সব পুড়িয়ে দিয়েছে শশানে তুলে । আমাদের আত্মা আছে । মানুষ আমাদের দেখে না আমরা এটা সেটায় ভর করে ঠিক চলে যাই ।
তোমরা মানুষ কে ভয় দেখাও কেন।
মোটেই ভয় দেখাই না ।ভুতকে ভয় পাওয়া মানুষের একজাতীয় বেরাম । ওরা হোঁচট খেলে ও বলে জিন ভুত আছড় করেছে ।ভুত তাড়াবার জন্য ওঝা বৈদ্য ডেকে টাকা ওড়ায় ।
বিউটি বলে আমি ভুত কে ভয় পাই না ।
ভুত বলে সাহসী মেয়ে বিউটি । কোন কাজে ভয় পেলে তুমি ফাস্ট হতে পারবে না ।এই রীনা ভুত একটা লিচু ও পাড়তে পারেনি , ভুতের ভয়ে কাঁপছে । ওকে সারাজীবন ঠকাবে নিজের লোকরা ।
বিউটি বলে তোমা কি বলে ডাকবো বিউটি ফুল ভুত মশাই ।
ভুত বলে দাদু কাকু মামা মেসো পিসু জেঠু যা খুশি ।
বিউটি বলে আমি বলবো ভুত দাদু । আমার দাদুকে দেখিনি । জম্মের আগেই মারা গেছেন ।
ভুত বলে সে না হয় ডাকবে । অনেক ক্ষন তো গাছের ডালায় বসে আছো মা বাবা চিন্তা করছে ।
আমরা তো ছাগল খুঁজতে এসেছি ।
ভুত বলে ছাগল তো অনেক আগেই বাড়িতে চলে গেছে ।
তুমি কি করে জানো ।
ভুত বলে আমি দেখেছি ।
এই এলাকার সবাইকে তোমরা চেনো ।
ভুত বলে চিনি ।তুই হলি মনির নাতিন , রীনা হলো ফণির নাতিন ।
বিউটি বলে আজ থেকে তুমি আমাদের বন্ধু ভুত মশাই ।
ঠিক আছে ঠিক আছে । পড়ালেখা করে বড় মানুষ হতে হবে । ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে । তবেই তো ব্্শের নাম উজ্জ্বল হবে ।
রীনা বলে আমার ক্ষিধা লেগেছে । মাথা ধরেছে বমি বমি লাগছে ।ভুয দাদু তোমার পায়ে পড়ি । এবার বাড়ি যেতে দাও ।
ভুত নাকি স্বরে বলে গাছ থেকে নামতে কে মানা করেছে । নেমে যাও নেমে যাও ।
বিউটি বলে লিচু খেতে গায়ে উঠলাম লিচু না পেড়ে চলে যাবো ।
ভুত বলে লিচু পাড়তে কে মানা করেছে আমি তো কিছু করিনি ।
বিউটি বলে তোমার সাথে বকবক করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি এখন তুমি লিচু পেড়ে দাও ।
ভুত বলে তোমরা নেমে যাও । আমি লিচু পেড়ে দেবো ।
রীনা বিউটি লিচু গাছ থেকে নেমে এসে গামছা দিয়ে গা হাত মাথা ঝাড়তে লাগলো ।আর দেখলো আশ্চর্য জনক ঘটনা । লিচুর ভাল গুলো নেমে আসছে ওদের কাছাকাছি ।
ডুত বলে যতোখুশি নিয়ে যা ,পেট ভরে খাস । বাড়ির সবাই কে বলবি বিউটি ফুল ভুত দাদু দিয়েছে ।
বিউটি বলে থাঙক ইউ ভুত দাদু ।
বিউটি ফুল ভুত বলে আবার আসিস ।আম জাম লিচু কাঁঠাল জাম্বুরা তাল বেল আতা আনারস কাউ করমচা তেঁতুল বড় ই আমলকী সব আছে এখানে নিয়ে যাস ।
রীনা বলে আসবো ভুত দাদু ।
ভুত বলে আমাদের কথা কাউকে জানাস না , জানতে পারলে ওঝারা এসে আমাদের তাড়িয়ে দেবে ।
বিউটি বলে বলবো না ভুত দাদু । কিচ্ছু টি বলবো না কাউকে ।
বিউটি রীনা র হাতে অনেক গুলো পাকা লিচু । ওদের খুঁজতে এসেছে মা বাবা দিদি দাদারা ।একের পর এক প্রশ্ন বাণ এ জজরিত বিউটি রীনা ।সবার সব প্রশ্নের উত্তর এ দুজনে হাসে রহস্যময় হাসি ।