Jul 31, 2023

মাধুরী লোধ

বিউটি ফুল 

ভুত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি ,রাম লক্ষন সাথে আছে করবে আমায় কি 

লিচু চুরি করতে গাছে মগ ডালে উঠেছে বিউটি ও রীনা । ওদের মনে হচ্ছে লিচু গাছের ডালা গুলো যেন কাঁপছে , নড়ছে চড়ছে । এটা থানা  এলাকার মজুমদার দের ছাড়া বাড়ি । মজুমদার দের পূর্ব পুরুষদের শশান ।সবাই সৎভাবে মৃত্যু ও সৎকার করেছে উত্তর পুরুষরা তারপর ও অনেকেই নাকি রাত বিরাতে কান্না শুনতে পান ,হাসির শব্দ পান অনেকেই ভয় ও পেয়েছেন । দিনের বেলায় কিছুটি নেই ।সারি সারি আম জাম লিচু কাঁঠাল তাল গাছ আছে ।গরু ছাগল চড়ে । পাশে বসেছে নতুন কোতয়ালী থানা সারা রাত আলো জ্বলে ।তার পর ও গা ছমছম বিষয়টি প্রচার থাকায় ফলফলাদি আনতে পারতপক্ষে কেউ ছাড়া বাড়ীতে যায় না ।

রীনা বিউটি ছাগল খুঁজতে এসে দেখতে পায় থোকা থোকা লিচু পেকে আছে গাছে । দুজনের জিভে টসটস করছে জল ,ব্যস দুজনে লিচু পারবে সাব্যসহ্য হলো ।

রীনা বলে এ বাড়িতে ভুত আছে ।আমগাছ জামগাছ লিচু কাঁঠাল জাম্বুরা তাল সব গাছে ভুত মশাইরা থাকেন ।

বিউটি বলে থাকলে থাক ,ভুত আমাদের কচু করবে ।ভুত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি রাম লক্ষন সাথে আছে করবে আমায় কি ।

ঝড়ো বাতাস ব ইবার মতো সা করে একটা নাকী স্বর চেঁচিয়ে উঠলো  তাই নাকি রে ।

বিউটি গোঁ ধরে বললো লিচু না পেড়ে বাড়ি যাবো না ।

রীনা বলে লিচু চোর বলে পুলিশ থানায় আটকে রাখবে ।

বিউটি থানার দিকে হাত জোড় করে বলে ও পুলিশ কাকুরা আমরা চোর ন ই ছোট মানুষ । লিচু খেতে ইচ্ছে করছে তাই গাছে উঠে লিচু পাড়বো ।

রীনা তাড়া দিয়ে বলে গাছে উঠলে উঠ দেরি হয়ে যাচ্ছে ।

দু বোন লিচু পাড়তে গাছে উঠে । লিচু ঝুলছে পাতা ডালায় । অনেক উপরে উঠার পর ও লিচু পারতে পারছে না বিউটি বা রীনা । লিচু থাকা ডালা গুলো রহস্য জনক ভাবে নড়ছে । রীনা এবার ভয়ে ভয়ে বলে ঐ দেখ লিচু গাছে ভুত ।

বিউটি ভুত কে দেখতে পায় না । গাইতে থাকে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ,হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।

রীনা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে চল নেমে যাই । লিচু খেতে হবে না ।

লিচু না পেড়ে গাছ থেকে নামবো না । সে একটু চেঁচিয়ে বলে এই যে ভুত মশাই আপনার নাম কি

লিচু গাছের ডালা আবার নড়েচড়ে উঠলো । কেউ যেন নাকি গলায় বললো বিউটি ফুল ভুত  বিউটি ফুল ভুত ।

বিউটি তো আমার নাম তোমার নাম কি ।

ফুল ফুল ফুল ।হা হা হা ।

রীনা বলে আমাদের বিপদ ।গাছ থেকে লাফ দে ।

বিউটি বলে গাছ থেকে পড়ে হাত পা মাজা ভাঙ্গবে । সারা জীবন বিছানায় থাকতে হবে ।

রীনা বলে তাহলে উপায় ।

বিউটি বলে ভুত আমার পুত পেত্নী আমার ঝি,রাম লক্ষন সাথে আছে করবে আমায় কি ।

এবার সারা গায়ে যেনো জোরে কম্পন । অট্টহাসি ।তাই নাকি রে, ভুতের আছড় এখনো তো খাওনি বাছাধন ।

রীনার চোখে জল ।সে শক্ত করে গাছের ডালা ধরে হরে কৃষ্ণ হরে রাম জপ করতে লাগলো ।

বিউটি বলে ও বিউটি ফুল ভুত মশাই আমরা তো ছোট মেয়ে । লিচু খেতে ইচ্ছে করছে তাই গাছে উঠেছি ।অন্যায় হয়েছে মাপ করে দাও ।এই কান মলছি আর কখনো লিচু পাড়তে আসবো না । জীবনে আর কোনদিন লিচু খাবো না । এবার বাড়ি যেতে দাও ।

ভুত কে ফেলা করিস অবজ্ঞা করিস তোদের শাস্তি হবে ।


বিউটি বলে আমরা তো ছোট কে ভুত কে ভবিষ্যত কিছু তো জানি না । আচ্ছা ভুত মশাই তুমি নাচতে পারো

তখনই লিচু গাছের ডালা গুলো একবার এদিকে আর একবার ওদিকে হেলতে দুলতে লাগলো রীনা ভয় পেয়ে বলে নাচ থামাও আমি পরে যাবো মরে যাবো ।

ভুত অট্টহাসি দিয়ে বলে রীনা ভুঁত রীনা ভুঁত ।

বিউটি বলে ভুত মশাই তোমরা এখানে থাকো কেন

ভুত বলে কেউ তো আমাদের গয়া কাশি সীতাকুণ্ডে দিয়ে আসে না । মজুমদার দের গুষ্টির ছেলে বুড়ো যে মরে সবাইকে এনে  রেখে যায় ।

তোমরা কতোজন থাকো এখানে বিউটি আবার প্রশ্ন করে ।

তিন পুরুষ চারপুরুষ বা তার আগের পুরুষ রা থাকেন । আমি অতশত বুঝি না বাপু ।

তাহলে তোমরা কি খাও ভুত মশাই 

ভুত বলে মাছ মাংস দ ই মিষ্টি পায়েস ।আরে বাবা বুঝ না কেন মজুমদার দের জ্ঞাতি গোষ্ঠী বড়ো । ওদের বিয় শ্রাদ্ধ অন্নপ্রাশন শুভ কাজে তো আমাদের ডাকে বাড়ান দেয় , পিন্ড দেয় । তাছাড়া এলাকার সকলের বাড়িতে নেমতন্ন হলে আমরা ডাক পাই ।যাই ।নাচ গান করি । পেটভরে খাই ।

তোমাদের কেউ তো দেখে না ।

ভুত বলে দেখবে কি করে আমাদের তো হাত পা মাথা শরীর সব পুড়িয়ে দিয়েছে শশানে তুলে । আমাদের আত্মা আছে । মানুষ আমাদের দেখে না আমরা এটা সেটায় ভর করে ঠিক চলে যাই ।

তোমরা মানুষ কে ভয় দেখাও কেন।

মোটেই ভয় দেখাই না ।ভুতকে ভয় পাওয়া মানুষের একজাতীয় বেরাম । ওরা হোঁচট খেলে ও বলে জিন ভুত আছড় করেছে ।ভুত তাড়াবার জন্য ওঝা বৈদ্য ডেকে টাকা ওড়ায় ।

বিউটি বলে আমি ভুত কে ভয় পাই না ।

ভুত বলে সাহসী মেয়ে বিউটি । কোন কাজে ভয় পেলে তুমি ফাস্ট হতে পারবে না ।এই রীনা ভুত একটা লিচু ও পাড়তে পারেনি , ভুতের ভয়ে কাঁপছে । ওকে সারাজীবন ঠকাবে নিজের লোকরা ।

বিউটি বলে তোমা কি বলে ডাকবো বিউটি ফুল ভুত মশাই ।

ভুত বলে দাদু কাকু মামা মেসো পিসু জেঠু যা খুশি ।

বিউটি বলে আমি বলবো ভুত দাদু । আমার দাদুকে দেখিনি । জম্মের আগেই মারা গেছেন ।

ভুত বলে সে না হয় ডাকবে । অনেক ক্ষন তো গাছের ডালায় বসে আছো মা বাবা চিন্তা করছে ।

আমরা তো ছাগল খুঁজতে এসেছি ।

ভুত বলে ছাগল তো অনেক আগেই বাড়িতে চলে গেছে ।

তুমি কি করে জানো ।

ভুত বলে আমি দেখেছি ।

এই এলাকার সবাইকে তোমরা চেনো ।

ভুত বলে চিনি ।তুই হলি মনির নাতিন , রীনা হলো ফণির নাতিন ।

বিউটি বলে আজ থেকে তুমি আমাদের বন্ধু ভুত মশাই ।

ঠিক আছে ঠিক আছে । পড়ালেখা করে বড় মানুষ হতে হবে । ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে । তবেই তো ব্্শের নাম উজ্জ্বল হবে ।

রীনা বলে আমার ক্ষিধা লেগেছে । মাথা ধরেছে ‌বমি বমি লাগছে ।ভুয দাদু তোমার পায়ে পড়ি । এবার বাড়ি যেতে দাও ।

ভুত নাকি স্বরে বলে গাছ থেকে নামতে কে মানা করেছে । নেমে যাও নেমে যাও ।

বিউটি বলে  লিচু খেতে গায়ে উঠলাম লিচু না পেড়ে চলে যাবো ।

ভুত বলে লিচু পাড়তে কে মানা করেছে আমি তো কিছু করিনি ।

বিউটি বলে তোমার সাথে বকবক করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি এখন তুমি লিচু পেড়ে দাও ।

ভুত বলে তোমরা নেমে যাও । আমি লিচু পেড়ে দেবো ।

রীনা বিউটি লিচু গাছ থেকে নেমে এসে গামছা দিয়ে গা হাত মাথা ঝাড়তে লাগলো ।আর দেখলো আশ্চর্য জনক ঘটনা । লিচুর ভাল গুলো নেমে আসছে ওদের কাছাকাছি ।

ডুত বলে যতোখুশি নিয়ে যা ,পেট ভরে খাস । বাড়ির সবাই কে বলবি বিউটি ফুল ভুত দাদু দিয়েছে ।

বিউটি বলে থাঙক ইউ ভুত দাদু ।

বিউটি ফুল ভুত বলে আবার আসিস ।আম জাম লিচু কাঁঠাল জাম্বুরা তাল বেল আতা আনারস কাউ করমচা তেঁতুল বড় ই আমলকী সব আছে এখানে নিয়ে যাস ।

রীনা বলে আসবো ভুত দাদু ।

ভুত বলে আমাদের কথা কাউকে জানাস না , জানতে পারলে ওঝারা এসে আমাদের তাড়িয়ে দেবে ।

বিউটি বলে বলবো না ভুত দাদু । কিচ্ছু টি বলবো না কাউকে ।

বিউটি রীনা র হাতে অনেক গুলো পাকা লিচু । ওদের খুঁজতে এসেছে মা বাবা দিদি দাদারা ।একের পর এক প্রশ্ন বাণ এ জজরিত বিউটি রীনা ।সবার সব প্রশ্নের উত্তর এ দুজনে হাসে রহস্যময় হাসি ।