একটি ছেলের আত্মকথা
তখন আমি বছর তিনেক মায়ের আঁচল ছেড়ে পা রাখলাম নূতন অধ্যায়ে ৷ ২০০৯ এর এপ্রিল প্রথম স্কুলে পদার্পন | আমি আর মা অজানা এক রাজ্যে প্রবেশ করলাম মনে কি রকম হচ্ছিল কিছুই বুঝতে পারছিলাম না ৷ প্রথম পাড়ি অদেখা কত দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম স্কুলের সামনে ৷ গেটের সামনে মেলার মতো মনে হল কি হচ্ছে কিহবে ৷ কেউ কাঁদছে কেউ মায়ের কোলে কেউ বাবার হাত ধরে নানা রকমের উৎকণ্ঠা মায়েদের মুখে ৷
সাহসী ছেলের মতো ঢুকে গেলাম স্কুলের মধ্যে তারপর সকলকে দেখে আস্তে আস্তে ভালো লাগতে লাগলো ৷ মা গাছের তলায় বসে থাকলো ছুটির পর আমাকে নিয়ে বাড়ি আসবে ৷
এরপর শুরু হল নিত্যদিনের অভ্যাস ।
রাজেশ কাকুর গাড়িতে প্রথম কিছু দিন যেতে লাগলাম মা বসে থাকতো৷ তারপর আস্তে আস্তে ভয়টা কাটতে লাগলো ৷ এমনি করে আমি একটু একটু করে বড় হতে লাগলাম ৷ লেখাপড়া শুরু হল ম্যাডাম স্যারদের সাথে কখনএকটা সুইট রিলেশন গড়ে উঠেছিল বুঝতে পারিনি ৷ একটা দিন স্কুল ছুটি থাকলে বন্ধুদের জন্য মন কেমন করতো৷ এই ভাবে একটার পর একটা জীবনেব সিঁড়িতে উঠতে লাগলাম ৷ ভালমন্দ অনেক সুখ স্মৃতি নিয়ে বড় হতে লাগলাম যতবড় ততচাপ তত নিজেকে বুঝতে শেখা ৷
বুঝতে বুঝতে এখন অনেকটায় আগালাম এখন শুধু সামনের দিকে তাকানো, পিছন ফিরে দেখার নেই অবসর ৷ রেজাল্ট বেরোনোর পর প্রাইজ গুলো যখন হাতে পেতাম মনটা আনন্দে ভরে যেত ৷ অ্যানুয়াল প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন সেরিমনির দিনটার আনন্দ ই আলাদা স্বাদের ৷ সারা বছর চেয়ে থাকতাম ঐ দিনটার জন্য ৷ এভাবেই ওয়ান টু থ্রি ফোর এর দরজার দিকে এগোতে লাগলাম ৷
একদিন স্কুল থেকে কৃষ্ণ সাজলাম মা বাবা দিদি দাদা বড়রা সাজিয়ে দিলেন খুব মজা পাচ্ছিলাম ৷ স্কুল সব কম্পিটিশনে নাম নিয়ে নিত ৷ সব গুলোতে পার্টিসিপেট করতে পেতমনা সময়ের অভাবে ৷ তবে ডিভোশনাল ব্যাপারটা মনে খুব নাড়া দিত ৷ স্পিরিচুয়াল পরীক্ষযায় প্রথম স্থান পাওয়াই মা বাবা স্যারদের সাথে প্রাইজ আনতে নরেন্দ্রপুরে গিয়েছিলাম ৷ ২০১৭ সেদিনের আনন্দ টা ছিল একেবারেই অন্য রকমের ৷ মনটা উদার আদর্শ জ্ঞানে ভরপুর হয়ে গিয়েছিল ৷
তারপর নিয়মিত চলতো নানা রকমের পরীক্ষা কম্পিটিশন, অংশগ্রহণ করে বেশ ভালো লাগতো ৷ এভাবে কখন যে এতগুলো বছর পার হয়েগেল কিছুই বুঝতে পারলাম না ৷ আর মাত্র কয়েকটা মাস তারপর স্কুল লাইফের শেষ অধ্যায় একটা নস্টালজিক এ্যালবাম হয়ে স্মৃতির পাতায় উজ্বল হয়ে রয়ে যাবে ৷ এতগুলো বছর বন্ধুদের সাথে উঠাবসা দুঃখ সুখের মুহুর্তগুলো কাটানো ৷ ম্যাডাম স্যারদের নিয়ম শাসন ভালবাসা সব মনের আকাশে বন্দী হয়ে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করে থেকে যাবে সারা জীবন ৷ যখন খুশি এগুলোর স্বাদ আর ফিরে পাবনা কোনোদিন ৷ ছোটো ভাই বোনদের প্রতিদিনের দেখা আর দেখাতে পাওয়া যাবেনা ৷ স্কুলের অ্যাঙ্কেল অ্যান্টিদের ও খুব মিস করবো , বিশেষ করে স্কুলের ঘন্টা কে খুব মিস করবো ৷ ছুটির পর স্কুলের গেটের সামনে আলুকাটা ফুচকা আইসক্রিম চটপটি মামার চাটনি এগুলোর স্বাদ তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াবে অনুক্ষণ ৷ আর বাসের আঙ্কেলদের খুব মিস করবো ৷ প্রীন্সিপাল স্যার কে সেই রূপে তো আর দেখতে পাবোনা ৷ দেখতে পাবোনা নানা রঙের স্কুলটাকে খুব মিস করবো মিস করবো সবকিছুকে ৷ বাথরুম যাওয়ার আছিলায় বন্ধুদের সাথে গল্পের বাহানা ও আর পাবোনা ৷ এখন মনে হচ্ছে বড় তাড়া তাড়ি বড় হয়ে গেল ৷ যদি ছোটো হয়ে থেকে যেতাম তাহলে খুব ভালো হতো৷ এখন আমি এমন জায়গায় দাঁডিয়ে আছি যার সামনে খোলা হাজার দুয়ার কোনটা দিয়ে বেরোনো যায় সেটার অপেক্ষায় ৷