শ্রাবণের এক দুপুর
ভরদুপুর। খেয়ে শুয়েছিলাম। আজকাল শুয়ে বসে দিন কাটছে। এইসবে একেবারেই অভস্ত্য নই, তবুও নিরুপায়।
ঠাম্মা ভাত মেখে দেয়। সাহিতা স্নানের জল তুলে রাখে। সকলে দেখেশোনে রাখছে।
কিছুক্ষণ পর পর দাদু এসে জিজ্ঞাসা করে— “সঙ্কা(ডাকনাম) শরিল ভালা লাগের না?”(আঞ্চলিক ভাষায় জিজ্ঞেস করছিল শরীর ভাল আছে কি-না।)
অন্যদিকে মুখ করে বলি— “আমি ঠিক আছি।”
দাদু আর কিছু বলেন না। চেয়ে থাকেন। এভাবে চেয়ে থাকেন বলেই আমার কষ্ট হয়। মনের মধ্যে জমাট বাঁধে পাহাড়। নির্জনতার সাথে সন্ধি আর একঘেয়েমি ভাব।
উদ্ভট সব ভাবনাচিন্তার মাঝে শোনা যাচ্ছে হইহুল্লা। ছেলেরা মাঠে খেলতে এসেছে। আমার ছোটবেলাও কেটেছে সেই মাঠে।
এরকম দুপুরে মা দরজা দিয়ে রাখতেন। আমি খেলতে চলে যেতাম বলে। খেলতাম না; খেলা দেখতাম। বল আসলে ছুটতাম বলের পেছনে।
গতিশীল জীবনে আমরা এগিয়ে গেছি। জড়িয়ে আছে শুধু মোহনীয় মুহুর্ত।
টিনের ছাদে সজোরে শব্দ হল। গেটের বাইরে দুয়েকজনের ফিসফাস কথা শুনা যাচ্ছিল। বাইরে গিয়ে দেখলাম একটি বল উঠোনে গড়াগড়ি খাচ্ছে। মনে হল আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে, পুচ্ছ তুলে নাচছে!
দাদু গেট খুলে দিল। ওরা বলটি নিয়ে চলে গেল।
মনে হল যেন ছোট্ট আমিটা তাদের মাঝেই আছি।