Mar 28, 2022

সুপ্রতিম ভৌমিক

ভারত জননী, জাগো

বিষাইছে তব
আলো-বায়ু-জল,
তোমার বক্ষে
সন্তান তোমারই,
মানব তোমার সনে অহরহ
করিছে ছল ;

ভারত জননী তুমি
কি তা' কখনো বুঝিতে পাও নি ?
তোমার অন্ন করিয়া গ্রহণ
করে যারা জীবন ধারণ,
তারা তো এখনো হীনাত্ম, কৃতঘ্ন,
কী দিয়েছে তা'র প্রতিদান ?
ন্যূনতম কৃতজ্ঞতা বোধ রহিত ।

অসহায় সন্তানে তব,
নিষ্ঠুর বলবান মানব সব,
গলা টিপে সতত মারিতে প্রস্তুত,
কোথা প্রকৃত দেশপ্রেম ভাবনা !
তুমি কি তা' দেখিতে পাও না ?
মায়ের সকাশে তো সন্তান সকলি,সমান,
উচ্চ-নীচ,দীন-হীন,নাহি ব্যবধান ;
তবে কি দূর্নীতিপরায়ন,
হিংস্র বিবেকহীন,
জয় করে নিল তব কলুষমুক্ত মন,
মেকি দেশভক্তি, মুখোশ জড়ানো
মিথ্যে ভালোবাসার বিনিময়ে, ভয় দেখিয়ে ?
জাগো মাগো,
এবার জাগো,
আঁধার কালো অভিনয় গহরে,ঘুমঘোরে,
অরাজকতার  অমানবিক ফাঁসে,
আর ঘুমায়ে থেকো না ।
রুখে দাঁড়াও একটিবার জননী,
প্রহরণ হস্তে কল্যাণকারিনী,
অশুভ নাশিতে,
অসহায় সন্তানে জীবন দানিতে ;
নহিলে যে তোমার অস্তিত্ব,
অবিলম্বে হবে বিলুপ্ত,
তোমার সততা হবে বিনষ্ট চিরতরে,
দুর্মদ,দুরাত্মা, দুর্ধর্ষ, কৃতজ্ঞতাহীন
মানবেরই তরে ।

প্রিতম দাশ

ঋতুরাজ

ঋতুরাজ বসন্তের আগমন মানে,,
বিশ্ববাসী মেতে উঠবে;
আবারও এক আনন্দঘন উৎসবে।
ঋতুরাজ বসন্তের আগমন মানে,,
ধর্ম-বর্ণ বিভেদ ভুলে;
আবির মাখবে সকলের কপোলে।
ঋতুরাজ বসন্তের আগমন মানে,,
গ্রাম থেকে শহরতলী;
রাঙ্গিয়ে তুলবে হোলি।
ঋতুরাজ বসন্তের আগমন মানে,,
বাতাসে সোনালী প্রেমের গুঞ্জন;
আর পাখিগুলোর কিচিরমিচির কূজন।
ঋতুরাজ বসন্তের আগমন মানে,,
রবি ঠাকুরের ফাগুন হাওয়ায় বাঙালির কুলের টক;
চৈত্রে থাকে নাড়ু, পাঁচন শেষে দেখা চড়ক।
ঋতুরাজ বসন্তের আগমন মানে,,
চির তৃপ্তিদায়ী মনোরম সমাবেশ;
যেন এক অপরূপ, মায়াবী পরিবেশ।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য

একটি না পাওয়া বসন্ত

তবু একটি বসন্ত দিলেনা, দিলেনা পলাশ মালা।
কথা ছিলো বসন্তের আবির মেখে আবার হেসে উঠবো দুজনে পাখিদের চমকে দিয়ে।
একটি বসন্ত, একটি কবিতার জন্য
নির্ঘুম , তৃষার্ত কাটিয়েছি অসংখ্য দিন, হাজার রাত।

অশোক পলাশে রাঙা হবো বলে পরিনি 
লক্ষ্মী শ্রী সিঁদুর, পায়ে  মাখিনি আলতা।
একটি বসন্ত, একটি রঙিন দিনের আশায়
পার করেছি কত সাল, মাস, দিন..গুনিনি কখনো।
বসন্তরা আমায় টিটকিরি মেরে চলে যায়
অন্য কোনো দিকে, অন্য কারো মনে।
তবু একটি বসন্তের হিসেব আজও বাকি থেকে যায়
আমার কাল জুড়ে, আমার না পাওয়ার খাতা জুড়ে।
একটি, শুধু একটি আবির লাল বসন্ত।

রুপালী রায়

বসন্ত

যদিও সেপথে তোমার  ভীষণ রদবদল 
তবুও আমি একচিত্তে ডুবে আছি 
কালের তেপান্তরে ।
বসন্তের আয়োজনে উপেক্ষিতা আমি 
কবিদের দলে আমার নামটাই শুধু সার ।
প্রাণে শুধু নিরন্তর অভিলাষ ।
আজ বসন্ত উতলা, 
উন্মুক্ত বহুমুখী 
ধূলিকণা গায়ে মেখে 
বসন্তের উদযাপন ।

কৌশিক সরকার

 নতুন বসন্ত

বহুদিন কানে আসেনি কোকিলের ডাক
বহুদিন দেখিনি শিমুলের ফুল, 
শহরের বুকভরা ডায়েরি জুড়ে
হাজারো নকল বসন্তের ভুল। 

হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস থেকে শুরু করে ফেসবুকের স্টোরি, 
ইনস্টার পোস্ট থেকে টুইটার, 
সবেতেই বসন্তের জুড়ি মেলা ভার। 

শৈশব জুড়ে রঙের মেলা
স্মৃতির দেয়ালে, 
কবিতার লাইনে বসন্ত খুঁজি
নিজের খেয়ালে। 

হাজার লাইক, মিলিয়ন ভিউস ; 
শেয়ার হয়েছে যত, 
রঙের দুটো রেখার মাঝে
গভীর হয়েছে ক্ষত।

পান্থ দাস

বসন্ত

বসন্তের ছোয়া লাগলো যে সবার প্রাণে ৷ বসন্তে যে আবার হলো তাজা সম্পূর্ণ প্রকৃতি ৷ রঙে রাঙা হলো যে বসন্ত কোকিল মন আর হৃদয় ৷ ছোট বেলার সেই বসন্তের স্মৃতিচারণ করছিল ওই পাড়ার অসিম ৷ তাঁর সুরে পুরানো সব ফেলে আসা দিনগুলি যেন ভাসা দিয়ে উঠলো ৷

 দোলের চার দিন আগে থেকেই বাবাকে প্রতিটা প্রহর জিজ্ঞাসা করা কবে আসছে দোল, আগের থেকেই একটি লিস্ট তৈরি করা কাকে কাকে এবার রঙ মাখাবো আর কার কার কাছ থেকে লজেন্স চাইবো ৷ কোন রঙের আবির আনবো তা ভেবে যে দিশাহারা হয়ে যেতাম ৷ বাবাই শেষে সাহায্য করতো রঙ আনার ব্যাপারে ৷ 

মিষ্টি, জিলিপি, রসগোল্লায় যে প্রাণ পরে থাকতো ৷ দোলকে ঘিরে বাড়িতে যে ননান মিষ্টি আসবেই সেই জ্ঞান ছিল যদিও, আরো ব্যাকুল থাকতাম তা খেতে পাবো বলে ৷ 

দোলের দিন একদম ভোরে স্নান করেই মায়ের সাথে বসে যেতাম দোল বানিয়ে, নানান রঙের আবিরে দোলকে রঙিন করতাম পরে মা পুজোও দিত দোলকে ৷ তারপর মা আর আমি মিলে বাড়ির উঠোনে নানান রঙে রঙিন আলপনা তৈরি করতাম ৷ ব্যাস তারপর চলতো সবাইকে রঙ মাখানোর পালা ৷

আজও সেই স্মৃতি গুলি মনে করলে মনটা যেন আনন্দে ভরে যায় অসিমের ৷ খুব ভালো সময়গুলি পার হয়ে আজ যুবক জীবনের পর্যায়ে দাড়িয়ে অসিম সেই অভিজ্ঞতাগুলি আনন্দে স্মৃতিচারণ করছে ৷ দাস, হাঁপানিয়া, ত্রিপুরা

বসন্তের ছোয়া লাগলো যে সবার প্রাণে ৷ বসন্তে যে আবার হলো তাজা সম্পূর্ণ প্রকৃতি ৷ রঙে রাঙা হলো যে বসন্ত কোকিল মন আর হৃদয় ৷ ছোট বেলার সেই বসন্তের স্মৃতিচারণ করছিল ওই পাড়ার অসিম ৷ তাঁর সুরে পুরানো সব ফেলে আসা দিনগুলি যেন ভাসা দিয়ে উঠলো ৷

 দোলের চার দিন আগে থেকেই বাবাকে প্রতিটা প্রহর জিজ্ঞাসা করা কবে আসছে দোল, আগের থেকেই একটি লিস্ট তৈরি করা কাকে কাকে এবার রঙ মাখাবো আর কার কার কাছ থেকে লজেন্স চাইবো ৷ কোন রঙের আবির আনবো তা ভেবে যে দিশাহারা হয়ে যেতাম ৷ বাবাই শেষে সাহায্য করতো রঙ আনার ব্যাপারে ৷ 

মিষ্টি, জিলিপি, রসগোল্লায় যে প্রাণ পরে থাকতো ৷ দোলকে ঘিরে বাড়িতে যে ননান মিষ্টি আসবেই সেই জ্ঞান ছিল যদিও, আরো ব্যাকুল থাকতাম তা খেতে পাবো বলে ৷ 

দোলের দিন একদম ভোরে স্নান করেই মায়ের সাথে বসে যেতাম দোল বানিয়ে, নানান রঙের আবিরে দোলকে রঙিন করতাম পরে মা পুজোও দিত দোলকে ৷ তারপর মা আর আমি মিলে বাড়ির উঠোনে নানান রঙে রঙিন আলপনা তৈরি করতাম ৷ ব্যাস তারপর চলতো সবাইকে রঙ মাখানোর পালা ৷

আজও সেই স্মৃতি গুলি মনে করলে মনটা যেন আনন্দে ভরে যায় অসিমের ৷ খুব ভালো সময়গুলি পার হয়ে আজ যুবক জীবনের পর্যায়ে দাড়িয়ে অসিম সেই অভিজ্ঞতাগুলি আনন্দে স্মৃতিচারণ করছে  ৷

প্রীতম চক্রবর্তী

বাংলার বসন্ত 

বাতাসে ভাসে রঙিন পাখনা,
রঙিন কুসুম ছড়ায় আলো ।
স্নিগ্ধ সমীরণ গা ঘেসে যায়,
ডাকে এলো যে বসন্ত এলো ।
রঙিন চেহারা নৃত্যে মেতে ,
ছড়ায় রং আকাশের পানে ।
কুহু - কুহু স্বরে কোকিল গায় ,
ঈগল নাচে মধ্যগগনে ।
কচি পাতা , আম - কাঁঠালের গুটি ,
মেলা মেলা ডাক পথের ধারে ।
ডুবে জল খায় পানকৌড়ি ,
দ্রুত পবন ধুলো নিয়ে উড়ে ।
বইছে নদী মৃদু স্রোত নিয়ে ,
ব্যাঙাচি পড়ে কিলবিল করে ।
মধ্যপুকুরে দাঁড়িয়ে বক ,
টুক - টুক করে চুঁনোপুটি ধরে ।

চিন্ময় রায়

সুখের স্বাধীনতা

আমরা হলাম ভারতবাসী,
এই স্বাধীন ভারতবর্ষে।
সকলে মিলে কাটাই দিন,
আনন্দে এবং হর্ষে।
কত কষ্টের ফলে মোরা স্বাধীনতা পাই,
হিন্দু-মুসলিম বৌদ্ধ জৈন মোরা ভাই ভাই।
সকলেই থাকি আনন্দে মোরা থাকি দুঃখিতেও-
আমরা সবাই ভারতবাসী, ভিন্ন নয়কো কেউ।
দূর হয়েছে ব্রিটিশ শাসন-ভরতবর্ষ হইতে।
সর্বদা মোরা ব্যস্ত থাকি, 
ভারত মায়ের জয়  গানেতে।
বীর শহীদদের রক্তেতে আজ,
সুখের স্বাধীনতা।
তাই হাত জুড়ে প্রণাম জানাই,
তোমায় ভারত মাতা।

ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল

মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে

মহান মৃত্যু এসে ধূসর রঙের শাড়ির আঁচল দিয়ে ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বাসভঙ্গের অপমান লাঞ্ছনা। শরীরটা শূন্যে ভাসিয়ে দেওয়ার আগে 
স্বপ্নের জাল বুনে ছিল -----
একটা ছোট্ট সংসার সুখ-সমৃদ্ধির।
জাল বুনে ছিল নয় ,বুনতে শিখিয়েওছিল 
বলেছিল -  "উই আর মেড ফর ইচ আদার"।
আবেগে ,আবেশে নিঃশেষ করে 
উজাড় করে দিয়েছিল  -
ভেবেছিলো এই রাস্তার সবটাই মসৃণ 
পথটুকু হেঁটে গেলেই 
সেই স্বপ্নের নীড় 
যেখানে কেবল পূর্ণিমার নরম আলো।

ক্রমশঃ মিথ্যে হয়ে যাওয়া 
ভালোবাসার গ্যাস বেলুনটা 
এত উপরে নিয়ে গেল 
যেখান থেকে নামতেই পারলোনা" রেখা"।

জগন্নাথ বনিক

সিন্ধুবালা

পাশের বাড়ির সিন্ধুবালা,
দেখতে পায় না চোখে।
ছেলে মেয়ে আছে সবাই,
কথা বলতে পারতো কিন্তু মুখে।

সম্বল ছিল হাতের লাঠি,
ঘরে বাইরে যাওয়ার।
মন চাইলেও যেতে পারতো না,
দূরে কোথাও যাওয়ার।

পৃথিবীর আলো দেখতে পায়না,
সিন্ধুবালা মাসি।
কন্ঠ শুনেই চিনতে পারতো,
খোকা তুই ঘরে এলি নাকি।

মায়ের ডাকে সারা দিতো খোকা,
একটু কর্কস সুরে।
সিন্ধুবালা তখন চুপটি করে,
দুই নয়নে অশ্রু ঝড়ে।

সিন্ধুবালা একটু শান্তি চায়,
বলতে চায় মনের কথা।
আসেনা কেউ আগের মতো,
শুনে না কেউ সিন্ধুবালার মুখের কথা ।।

অরুণেশ্বর দাস

কত দিন পর

কত দিন পর আবার বারুদের
গন্ধ চার দিকে, হাহাকার শুধু,
কত দিন পর!
শিক্ষার এমন ধরাশায়ী দশা
যায়না দেখা, যায়না ভাবা_
এই সুন্দর জীবনটাই শেষ যে,
মানবতার অপমৃত্যু ঘটছেই
পরিবেশ বিপর্যয়ের পরিহাস!
কত দিন পর!
পদ লোভী, অর্থ লোভী কত,
বুদ্ধিরা সব গেল কোথায় যে,
অসৎ বুদ্ধি থাকেই, আর সৎ?
পাখিরা ডাকবেনা মিষ্টি সুরে
কাঁদবে ওরা কাঁদবেই__
চারদিকে যে গন্ধ বারুদের-ই
কত দিন পর!

সন্ধ্যা দেবনাথ

দেশপ্রেম

দেশের জন্য জীবন আমার ভাবে অনেক কিছু।
দেশের জন্য করবো কাজ করে মাথা নিচু।
বাসবো ভালো দেশের মানুষ সেবা করবো সবার, মানব জনম এক বার নয় চাইবো শতবার।
মানুষ হয়ে জন্ম হলাম দেশ প্রেমী, হতে চাই, 
দেশের জন্য আজ নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে যাই।
দেশ আমাদের মায়ের সমান দেশের কথা ভেবে, 
দেশ বন্ধ সবাই তোমরা দেশ ছেড়ে কোথায় যাবে। ভাগ্য করে এমন দেশে জন্মে ছিলাম তাই, 
প্রাণ ছুঁয়ে যায় সোনার দেশ কোথায় বা আর পাই। জলাশয় আর সবুজ ঘ্রাণে শস্যে দানায় ভরা,
এমন দেশের করবো কাজ হয়ে পাঞ্চাল পাশ। 
কতো সুন্দর সাজানো আমার দেশ খানি,
জন্মো যে দেয় সে তো মা হয় দেশ আর একমা জানি।
দেশের তরে প্রান দিলো ভগ সিধু, কানু, ভগৎ, ক্ষুদিরাম, 
সেই সব মহা বীর কে জানাই সহস্র কোটি প্রণাম।

গোবিন্দ মোদক

কাঁটাতারের কান্না

কাঁটাতার এই এক জমিনকে করেছে দুই-খান,
টান রয়েছে তবু প্রাণে — মনে আছে টান।
তাহলেও তো ইচ্ছা হলেই হবে নাকো দেখা, 
রক্ত ঝরলেও বুকের মাঝে দূরেই রবে সখা।

ক্রোশের পর ক্রোশ কাঁটাতার বুক চিতিয়ে আছে, 
টান থাকলেও উপায় কি আর যাবে তার কাছে!
তাই এপারেতে রাম কাঁদে, ওপারে কাঁদে রহিম,
রঙিন রঙিন দিনগুলো কই কোথায় সেই সুদিন!

কাঁটাতার মন ভেঙেছে কেড়েছে প্রাণের ভূমি, 
টান থাকলেও ওপারে যেতে পারবে নাকো তুমি।
তবু একই বাতাস যায় বয়ে যায় দুই পারটা জুড়ে, 
রঙিন পাখি গান গেয়ে যায় এপার ওপার ঘুরে।

কাঁটাতারের দোষ নেইকো সে নিমিত্ত, নিষ্প্রাণ,
টান যতোই থাকুক বুকে, যতোই কাঁদুক জান।
তাই ভোরের শিশির কান্না হয়ে ঝরে তারকাঁটায়,
রক্ত ঝরে হৃদয় ক্ষতে, ঝরে ফোঁটায় ফোঁটায়!!

নীতা সরকার

 রঙিন বসন্ত

বসন্ত আজ জাগ্রত দ্বারে
পলাশের বন বিকশিত হয় রক্তিম ফুলে
হৃদয়ে জাগে প্রাণের দোলা।
কোকিলের কুহু কুহু ডাকে মনে হয়

তোমার আগমনের বার্তা এসেছে।
বসন্তের আগমনে পুরাতন প্রেম উঠে জেগে।
তুমি আসবে বলেছিলে কবে আসবে? 
আমার মন প্রাণ দিয়ে মাখাবো রং

কি রং মাখবে তুমি? 
লাল,নীল,হলুদ,সবুজ
না গোলাপী।
এসেছে আজ রঙের উৎসব
দুয়ার রেখেছি খোলা।
তুমি এলেই মাতবো আমরা রঙিন উৎসবে।

রঙের দোলায় দুলবো দুজনে।
এই নাও রং মাখাও আমার শরীরে
পূরণ হোক প্রেমের জ্বালা।
এমন ভাবে মাখাবে রং
যেন থেকে যাই জীবন ভর।

ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী

ললাট

জননী আজ দ্বি-বিভক্ত
পুত্র  লাশে শোকাহত
লুণ্ঠিত আজ নারী লাজ
রাজপথ আজই সাজিছে লালে 
শরন নিয়েছে কত জনে
আপন ভিটে মাটি ছাড়ি
অনাহারে মরিছে কত জনে
অতিবাহিত হইতেছে দিন অনিশ্চয়তার মাঝে
কি দোষে পাইতেছে বল এ যানতনা
বলিতে পারিবে কি
পারিবে কি সাজাতে আবার
পারিবে কি ঘুরে দাঁড়াতে।

কার্ত্তিক‌ মণ্ডল

আর কত

লোহায়‌ মরীচা পড়া সম্পর্ক নিয়ে
কখনো কি বন্ধুত্ব করা যায় ?
না দেশ প্রেম জাগ্রত হয় !
না মনুষ্যত্ব সাগরে ডু‌ব দেওয়া যায়।

হাজার হাজার শতাব্দী পেরিয়ে এলে
নদী নালা মাঠ ঘাট ভেঙে
কত চড়াই উৎরাই বন্যা খরা বিপর্যয় ঠেলে।
তবু মঠ;মন্দির; মসজিদ ;গির্জায় বিবাদ,
বিবাদ ধর্মে ,বর্ণে,জাতে ।

আর কতটা পথ পেরুলে!
আর কতটা চেতন সীমার পাড়‌ ভাঙলে‌,
এই অবাঞ্ছিত ধারনাগুলো থেকে মুক্ত হবে মানুষ
কবে ,মানবতাই‌ হবে ; মানুষের কাছে শ্রেষ্ঠ ধর্ম
সেই সময়ের দিকে অপেক্ষায় চেয়ে র‌ইলাম ।

রুনা নন্দী

লোটাস

আশ্বিন মাসের ভ্যাপসা গুমোট, সন্ধ্যে তখন ও হয়নি হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হোলো তার সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও পশ্চিম দিকের জানালাটা হাট করে খোলা। সেই জানালার এক কোণে দাঁড়িয়ে লোটাস। তাকে দেখলে মনে হবে যেন এক নিশ্চল প্রতিমা। 
বৃষ্টির ঝাপটায় ভিজে গেছে ঘরের জিনিসপত্র ভিজে গেছে লোটাস। আজ সে যেন এক অন্য জগতের বাসিন্দা। দুপুর থেকে কেন যে বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে ফেলে আসা কুসুম পুরের কথা সে বুঝতে পারছেনা। আজ তার বড়ো ইচ্ছা করছে ফিরে যেতে সেখানে। 
এমন সময় হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। কিন্তু এখন তো তার ঘরে কারো আসার কথা নয়। সে বারবার বারণ করেছে আজ যেন তার ঘরে কাউকে না পাঠায়। এমনিতে ই আজ সকালেই লোটাস বেশ মাল্লু কামিয়েছে তাই রতন বেজায় খুশী। 
যদিও এই লাইনের ভাষা ও কায়দা কানুন এখন ও পুরোপুরি রপ্ত করে উঠতে পারেনি লোটাস। তবুও তার আগুন ঝরা রুপের জন্য মালদার কাস্টমার রা সব তার ঘরেই আসে। খুশী হয়ে কখনও সখনও টাকা ঢেলে যায় দুহাত উপুড় করে। আজ সেই রকম ই একটা দিন
খুলবোনা খুলবোনা করেও দরজা খুললো সে।লোটাস দরজা খোলারসাথে সাথেই তার ঘরে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো একটা মেয়ে। বয়স হয়তো  মেয়েটিরপনেরো কি ষোলো
অসম্ভব সুন্দর দেখতে। লাল টুকটুকে ঠোঁট কাজল কালো চোখ অসম্ভব একটা স্নিগ্ধতা মেয়েটার সারা মুখে। 
কিছুক্ষণের মধ্যেই লোটাস বেশ বুঝতে পারল তাদের এই লাইনে মেয়েটি নতুন। কিভাবে যেন আজ এসে পড়েছে। লছমীর হাঁকডাক রতনের হম্বি তম্বী শোনা যাচ্ছে দুর থেকেই কিন্তু না কিছুতেই  এই মেয়েটা কে তাদের হাতে তুলে দেবে না লোটাস। 
কি করি--কি করি ভাবতে ভাবতে তার মনে পড়ে গেল এন জি ওর দিদি বিজয়া এবং লোকাল থানার অফিসার ইনচার্জের কথা। 
খানিকক্ষণ আগে থেমে গেছে ঝড় বৃষ্টি পথ ঘাট এখন শান্ত ভীষণ
আজ ভীষণ রকম শান্ত তাদের গলিটাও। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে  রূপ কি রানী লোটাস তুলে নিল তার মুখের চড়া মেকাপ। খুলে ফেললো দামি ডায়মন্ড সেট। বাথরুমে ঢুকে মাথার ওপর শাওয়ার টা দিলো খুলে। আজ ভীষণ নিজেকে ভারহীন লাগছে তার, মনে হচ্ছে লোটাস থেকে আবার তার পদ্ম রূপে নতুন জন্ম হোলো। মনে পড়ে যাচ্ছে ফেলে আসা তার শৈশব কৈশোর। 
মনে পড়ে যাচ্ছে এক্কাদোক্কা খেলা বুড়ির মাঠ। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো সেই সব দিন। বৈশাখে আম কুড়োনো দোলে আবির খেলা আর দুর্গা দালানের মায়ের বোধন।

মিরাজুল সেখ

পৃথিবীর দুঃখ

মিশে গেছে কত মান অভিমান 
ঘৃণা অপমান পৃথিবীর বুকে, 
গেয়েছি শুধুই আবেগের গান
পৃথিবীর নয়, আপনার সুখে। 

অশ্রু ঝরেছে বর্ষ
দিয়েছে যে সুখ মানবের কাছে ,
মৃত্যু ঘৃণার বীজ বুনে বুনে 
পৃথিবীকে হতাশ করেছে পাছে।
 
 পশু ,পাখি,গাছ পালা সকলেরে
 সৃষ্টি করেছে স্নেহের পরশে, 
যত্ন করেছে পৃথিবীর তারা 
দুঃখ দিয়েছে মানব নিজ হরষে। ।।।

ইন্দিরা গাঙ্গুলী

মেট্রো রেলের ইতিকথা 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এগিয়ে গেছে কত।
মাটির তলা দিয়ে রেলগাড়ী চলছে যাকে মেট্রো রেল বলে।
খুব আরামে ই যাতায়াত করা যায় মেট্রো রেলে ।
মেট্রোয় উঠলেই "পিক ,পিক " 
করে কাচের দরজা বন্ধ হয়ে যায় ।
তারপরেই মাইক্রো ফোনে 
সুমিষ্ট কণ্ঠ স্বর ভেসে ওঠে ।
পরবর্তী স্টেশনের ঘোষণা করে দেয় ।
প্লাটফর্ম ডাইনে কি বামে 
তাও ঘোষণা করা হয় ।
মেট্রোরেলে চেপেছি বার কয়েক ।
খুব ভালো লেগেছে আমার 
মেট্রোরেলে চেপে ।
কত তাড়াতাড়ি একটার পর একটা স্টেশন চলে আসে ।
মেট্রোরেলের ইতিকথা 
বলতে গেলে মনে খুব আনন্দ লাগে ।

Mar 25, 2022

মনচলি চক্রবর্তী

যাযাবর 

পথে পথে ঘুরি
একা দেশ দেশান্তরে ছুটি, 
আমি এক যাযাবর। 
আমার নেই কোনো ঠিকানা 
নেই আমার বাসস্থান,
আমি এক যাযাবর। 
নেই আমার কোনো দেশ
নেই মাথার উপর ছাদ,
আমি এক যাযাবর। 
আমারও মন আছে, 
আছে কিছু  আমারও
চাওয়া  পাওয়া। 
নেই কোনো প্রত্যাশা, 
নেই কোথাও 
চিরকাল থাকার আশা।
পথে পথে ঘুরি, তোমাদের মাঝে
আমি এক যাযাবর।