Apr 29, 2023

কল্যাণী ভট্টাচার্য্য

জীবন তরী

সুতোর টানে উড়ছে দেখো
রংবেরঙের ঘুড়ি। 
তারই মতো ঘুরছে দেখো
মোদের জীবন তরী। 
রংবেরঙের ঘুড়ির মাঝে
মন ছুটেছে শৈশবে। 
শ্যামল সবুজ গাঁয়ের 
কেমন করে কাটবে। 
মনের জীবন ঘড়ির মতো
ছুটছে কেমন করে। 
ঘড়ির কাঁটা আজকে শুধু
ছোটে পিছন পানে। 
থামবে ঘড়ি থামব আমি
জানি প্রভুর টানে।

শ্বেতা ব্যানার্জী

অহল্যা মন

ধর বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে তোলপাড় জ্বর এলো তোর। 
জ্বরের ঘরে একা  বসে তুই যন্ত্রণাটা খুবলে খাচ্ছে কপাল।
আমি তোর জানলার শার্সিতে চুপটি করে লাগিয়ে  রেখে ঠোঁট ---
বলি,এইতো আছি তোরই পাশে.জলপট্টি দেবার কী দরকার। 

তুই তখন ব্যথায় হচ্ছিস কাতর, আমি তোর পড়শী হলাম খাটে। 
ব্যথাটা'কে দু'ভাগে ভাগ করে নিয়ে  পৌঁছে যাব তোর ই মঞ্জিলে। 
তখন যদি মন বাড়াতে পারিস বলবি কী আমার কানে- কানে 
ভালোবাসা এক জায়গায়  থিতু ব্যথা গুলো যাচ্ছে কেমন উড়ে...।

তোর আঙুলে  আঙুল ছুঁয়েই দেখি আদুরে আদর পড়ছে চুঁয়ে চুঁয়ে...। 
 ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিলি গায়ে আঙুল তখন আঙুল ছুঁয়েই আছে।
বিদ্যুৎলতা হঠাৎ দিল দেখা, বললাম আমি চা করে আনি।
হাতধরে আলতো চাপ দিয়ে আদুরে গলায়  বলবি  আমি কি তা জানি।
ঘাম এসে জ্বরের মাথা ধুয়ে, পারদটাকে  নামাবে টেনে  নিচে, 
বলবি তুই দু'গালে টোল ফেলে জানিস আমি তোকে দেখলেই ঘামি,
জ্বরটা তখন বুকপকেটে রেখে, ভালোবাসা বাড়ায় পাগলামি। 
 
-----তারপর কাটে কয়েক প্রহর প্রহরী ঘেরা মন।
উঠতে গেলে হাতটা টেনে  বলিস আলতো-- স্বরে,আবার আসুক  তোলপাড়  জ্বর, ঝড় উঠুক দেনাপাওনা নিয়ে--
 এমনি করেই কথায় কথায় বেলা ভবিতব্য জমে জমে পাথর, আমি তখন  অহল্যা মন নিয়ে জেগে উঠছি তোর স্পর্শ পেয়ে ।

অসীম পাঠক

সূর্যোদয় 

ভোরের সূর্যোদয় ঠিক দেখাবো একদিন, দেখে নিও - যেদিন আহ্লাদে অবসাদে ভোরের আলোর নরম রঙে দাগ পড়বে তোমার ফর্সা গালে, যেদিন প্রানের অনুভূতিতে মিশবে আলোকিত ঝর্না। যেদিন পাখি ডাকা কাকভোরে তোমার আমার ঢিলছোঁড়া দূরত্বে ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে আবির রাঙানো লাল সূর্যোদয়ে মিশবেনা  অস্তগোধূলীর সন্ধ্যারাগ। 

ভোরের ভৈরবীতে বাজবে অনাবিল জ্যোৎস্নাধারায় প্রেমের নবজীবনায়নের উষ্ণতা। সেদিন ঝোপ জঙ্গলের ওপার থেকে পাহাড়ি টিলায় পথ চলতি মানুষের অচিন সুরে রক্তমাংসের আমিতে খুঁজে নিও  আমার চোখে তোমার সূর্যোদয়। আমি যে সূর্যাস্তের ম্লান আলোয় ভালোবেসেছি দিগন্তের নীলাঞ্জনাকে। তাকে সূর্যোদয়ের ডাক দিয়ে পরিশুদ্ধ হলাম নির্মল প্রশান্তিতে ; তোমার আমার সূর্যোদয়ে পাহাড় ঝর্না মেঘ বৃষ্টির রূপকথার গল্প নেই, আছে আলো আছে জীবনের বাগিচায় রৌদ্রময় সকাল ।

রিপন সিংহ

ওহে কাঠঠোকরা 

জানিনা হঠাৎ অকারণেই স্বগত উচ্চারণ করি,
পাবনা জেনেও হাত বাড়িয়ে তোমায় ধরি।
কোন কারণ নেই তবুও চোখে ভেসে থাকে,
তোমার স্পর্শের জন্য বুকের মাঝে বেদনা জাগে।
কাঠঠোকরা পাখির মতো হৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে,
আমার বুকের মাঝে নীড় তৈরি করে।
রাঙা চরণ দু -খানা বুকের মাঝে রেখে,
তোমার সোনালি চঞ্চু আমায় ক্ষত করলে।
জানি একদিন দক্ষিণা বাতাসের সাথে আসবে,
অকারণেই তুমি আমাকে তোমার করে নেবে।
রাধা তিথিতে আমার আমিটাকে ছেড়ে দিয়ে,
তোমার সাথে মিশে যাবো সম্পূর্ণ তোমার হয়ে।
জীবনের সব লক্ষ্য একদিকে সরিয়ে রেখে,
আমি আবার স্বগত উচ্চারণ করি বসে।

সূত্রা সরকার সাহা

মর্মর ধ্বনি

ঐ শুনি মর্মর ধ্বনি বসন্ত বাতাসে,
ঝরা পাতা ঝরঝর ঝর মলিন হাসে,
কোকিল কণ্ঠে ক্ষণে ক্ষণে ক্ষণে কুহুতান,
ঝরা পাতার স্মৃতি বিজড়িত বিদায় গান।

উদাসী মন ধায়‌‌‌ ঐ নীল দিগন্তে,
হেথায় হোথায় বিদায় বাণী চিরন্তনী অজান্তে,
জীবন রেখার নিত্য সুখ দুখের কাহিনী,
ধরাতলে অমর হয়ে লেখা রবে জানি।

বনে বনে ফাগুনে ঐ বসন্ত বাতাসে,
স্মৃতি হয়ে বারবার ফিরে ফিরে আসে,
পলাশ শিমুল রাঙে রঙ জোছনার তান,
শেষের অশেষ বাণী ঐ বসন্তেরই দান।

স্বপন দেবনাথ

সেই সাক্ষাৎ

তপ্ত ধূলোবালির ভিড়ে
হঠাৎ তার সাথে দেখা 
যাকে খুঁজেছিলাম একদিন
সবুজে সবুজে, নীল দিগন্তে।

উন্মত্ত, পাগল করা শকট থেকে নেমেই 
চোখে চোখ পড়ল আমাদের,
যেন পথের পারে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য
এক অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে আছে আমার।
দুদন্ড ধরেও থাকি নি সেই পথে 
এক পলকেই মুগ্ধতা নেমে এসেছিল
আকাশ জুড়ে।

সেই চাহনি , সেই অমূল্য হাসি, সেই অপেক্ষার ধরন
আমার মাঝে এনেছে যেন ---
সমুদ্রের বাঁধ ভাঙার জোয়ার ,
আজ‌ও চোখের পর্দায় ভেসে চলেছ তুমি ।
নীড়ে ফেরা নীল দিগন্তের সেই পথিকের মতো।
প্রেমমাতাল হয়ে আছি !
বিভোর হয়ে আছি তোমার প্রেমে ---
শুধু তোমার প্রেমে।

আসুক না আবার চোখে চোখ রাখার 
সেই মহেন্দ্রক্ষণ মুহূর্তটা ।
এবার না হয় একটু শান্ত হয়ে পথের ধারে 
পথিকের সেই পন্থশালায় মিলিয়ে নেব
তোমার আর আমার জমানো সেই অগ্নিলালা ।
না হয় কোনো এক নির্জন সবুজের মাঝে 
দুহাত এক করে হারিয়ে যাব প্রেমের অতল গহ্বরে।
আর না হয় গোমতীর পার হয়ে ছুটে যাবো কোনো এক 
নিরালা নীড়ে, 
অথবা ঝামেলাহীন কোনো এক  দ্বীপে।

সোনালী গোস্বামী

 মুক্ত আকাশ

অজানা পৃথিবী ডাক দেয় আমায় মৃদু সমীরণে,
যেনো এক পশলা বৃষ্টি ধুয়ে দেবে স্নেহের আলিঙ্গনে ।
বাঁধা- বিপত্তির অনেক ঊর্ধ্বে, ঊর্ধ্বতনের পরশে,
আকাশের মুক্ত নীলিমায় হারিয়ে যাবার হরষে।।

কখনো  নিজেকে নিয়ে ভাবনার পথে,
গভীর উপলব্ধির প্রকাশের সাথে।
মুক্ত বিহঙ্গের  মতো ডানায় ভর করে,
পরিযায়ীর বেশে দেশ থেকে দেশান্তরে।।

মেঘের ঘর্ষণে দুঃখের প্রাচীর ভেঙ্গে,
মনের সুখ মূল নিকেতনের রঙে।
আকাশের গভীরতায় হারিয়ে যেতে থাকি,
চেনা- অচেনার পথ চলা অনেক বাকি।

গ্রহ - তারকারাও অসীম অনন্তমেলায়,
নিজেকে সাজিয়েছে সঠিক বেলায়।
আমিও যেনো নিজেকে সাজাতে পারি,
মুক্ত আকাশ হয়ে যেনো বাঁচতে পারি।।

বিশ্বায়নের যুগে যেখানে কলের ধোঁয়ার গ্রাসে,
ফুসফুসের শিরাগুলি বিষাক্ত বায়ুর শ্বাসে।
আর  না হয় বিষময় নাইবা হলো...
পৃথিবীর নকশিকাঁথা এবার  জীবন বোধের  ভাবনা জড়াই চলো।।

অতনু রায় চৌধুরী

শান্তি

এরপরও কথা থেকে যায়,
থেকে যায় স্মৃতির চাদরে জমানো কিছু বিকেল।
জীবনে বড় হওয়ার তাগিদে
স্বপ্ন আর বাস্তবের ফাঁকে থাকে যে শৈশব
সেই শৈশবটাই সুন্দর।
 
তারপর চৈত্রের হাওয়া বৈশাখের আগমন 
সব মিশে যায় একসাথে।
দিনের শেষ বেলায় জড়িয়ে যায়
ক্লান্ত শরীর আর অভুক্ত পেট
যেখানে ডালে ভাতে মিশে গেলেই 
পরম শান্তি।

ছন্দা দাম

জ্যান্ত পাথর

আসলে আমি কোন মানুষ না...
আমি একটা অবয়ব মাত্র,
একটা অনুভুতি,একটা বোধ,অথবা ঝরা পাতার মতো একেবারে অর্থহীন কিছু!
আমি নিজের জন্য হাসি না কাঁদি না,খুশিতে মেতে উঠি না,বিরহে কাতর হয়ে যাই না,
মৃত্যুতে বিষন্নতার আঁধারে ডুবে যাই না
আসলে আমি বলতে কিছু আছে বলে বুঝতেই পারি না আমি!!
দিনান্তে সূর্য যখন মুঠো মুঠো আবির ছড়িয়ে দেয় আকাশে বাতাসে...
আমি অর্থহীন অনুভূতি হীন ভাবে তাকিয়ে থাকি শুধু,
কষ্টের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে আমি আকুল জড়িয়ে ধরি না ভালোবাসার ওম,
বিরহের আকণ্ঠ বন্যাধারায় ডুবে যেতে যেতে আঁকড়ে ধরতে চাই না বাঁচার খরকুটো,
আমি যে কি চাই,ঠিক জানি না,
কি পেলেই বা আনন্দে ভরে যাব তাও জানি না!
আমি তোমাদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের হাওয়ায় বর্ষশেষের ঝরা পাতার মতো একটু লাফিয়ে উঠি,
পথপাশের ক্ষুদ্র ঘাসফুলেদের বাঁচার প্রচণ্ড তাগাদা দেখে একটা নড়েচড়ে বসি প্রাণের তাগিদে,
আবার নদীকে পাথরের  প্রচণ্ড ধাক্কায় লাফিয়ে উঠে আবার সামনের দিকে প্রাণস্পন্দন নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখে... আমার বুকের বাঁদিকটা হঠাৎ নেচে উঠে খবর দেয় বুঝি আমি জীবিত প্রাণী!
আমি আসলে জানি না আমি কি!

জগন্নাথ বনিক

পথিক 

যে পথে আমি প্রতিদিন হাঁটি,
সেই পথকে আমি ভালোবাসি।
ভালোবাসি সেই পথের দুধারে, বেড়ে ওঠা সবুজ বৃক্ষকে।
যে বৃক্ষে ফুল ফুটে,ফল দেয়,
ফুলের সৌরভে ছুটে আসে প্রজাপতি,
রঙিন পাখনা মেলে।
আর মৌমাছি এসে খেয়ে নেয়,
ফুলের মধু গুলি।
বৃক্ষের ডালে নবীন প্রবীণ পাখিরা এসে কুজন করে,
 আমি ভালোবাসি।
সেই বৃক্ষের শীতল ছায়ায়,
আমি ঘুরে বেড়াই আর স্বপ্ন দেখি।
যে পথে আমি প্রতিদিন হাঁটি,
সেই পথকেই আমি ভালোবাসি।

মিঠুন রায়

শিকার

প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই সকালবেলায় সাইকেল নিয়ে বাজারে বের হয়েছে সুমন ভোর পাঁচটায় পত্রিকা অফিসে গিয়ে খবরের কাগজ সংগ্রহ করে। নয়টার মধ্যেই প্রায় তিনশত বেশি পত্রিকা সে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেয়।তারপর বাড়িতে এসে প্রধান করে চলে যায় হরি বাবুর চট কলে।বহু শ্রমিক সেখানে কাজ করে।সকাল এগারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ডিউটি তার।হরি বাবুর সুমনকে খুব ভালোবাসেন।বি এ পাশ ছেলে। সম্পূর্ণ ভদ্র।কলেজে পড়ার সময়ই তার বাবা মারা যায়।বড় ভাই স্ত্রী -সন্তানদের নিয়ে গুজরাট থাকেন। সেখানেই চাকরি করেন।

   দেশের বাড়িতে সুমন এর সঙ্গী বলতে গেলে তার এক বৃদ্ধা মা। দুজনের সংসার।প্রতিবছর বাবার বাৎসরিক কাজের সময় সুমনের দাদা বাড়িতে আসে।তখন খুব আনন্দ হয়।

     হরি বাবুই বলতে গেলে সুমনের অভিভাবক।সুমনকে তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। সুমন ওনাকে কাকা বলেই ডাকেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সুমন খানিকটা ফ্রেস হয়ে চলে যায় টিউশনে। এমনটাই সুমনের রোজনামচা।

    গত পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় সুমনের জীবনে একটা দারুণ ঘটনা ঘটল।তেমাথার মোড়ে হঠাৎ সুমনের সাথে দেখা হল সোহেলীর ।সোহেলী সুমনের কলেজ জীবনের বান্ধবী। শুধু বান্ধবী নয়,বলা যেতে পারে প্রেমিকা।এক সময় সুমন তাকে অন্ধের মতো ভালোবাসত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভুল ভাঙ্গে তার।সোহেলী বিত্তশালী ঘরের মেয়ে ছিল।তার বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের সাথে।সুমন ভেবেছিল হয়তোবা সোহেলী এই বিয়েতে আপত্তি করবে।অথচ সোহেলী ভালো বর পেয়ে,সুমনকে এড়িয়ে যায়।হয়তোবা নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সোহেলী সুমনের সাথে সবধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।সুমন নীরবে মুখ বুজে সব সহ্য করে। বুকে এক রাশি স্বপ্নকে আটকে রাখে।তবে সুমনের মনে একটা গভীর বিশ্বাস ছিল যে, একদিন না একদিন সোহেলী তার নিকট আবার ফিরে আসবে। নিজের দুঃখ ভুলতে গিয়ে সে স্বেচ্ছায় সোহেলীর সব স্মৃতিকে বিসর্জন দিয়ে দিয়েছে।তবু, জীবনের প্রথম প্রেমকে আর অস্বীকার করা যায় না।যদিও বিয়ের পর একটি বারের জন্যও সোহেলী সুমনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেনি।সুমন তো অনেক আগেই সোহেলীর মোবাইল নম্বর ডিলিট করে ফেলেছে।

    সেদিন সোহেলী হঠাৎ সুমনকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসেছে। সুমন তাকে দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে।আচমকা ভীড়ের মাঝে সুমনের হাত জড়িয়ে ধরে সোহেলী। এখনো সেই স্পর্শ।সেই অনুভূতি। অনেকটা লজ্জায় পড়ে যায় সে। এ কি,তুই কি করছিস।

হাত ছাড়।এখানে অনেক পরিচিত মানুষ জন। সবাই কি বলবে?

 সোহেলী নিজেও যেন সুমনের কথায় সংকোচ বোধ করল। সত্যিই তো। সুমনের হাত ছেড়ে বলে উঠল,তোর সাথে যে আমার অনেক কথা বলার আছে।

  সুমন তাকিয়ে দেখল ,এখন যেন সোহেলী র মুখে একটা অস্পষ্টতার ছাপ বিরাজ করছে।কলেজ জীবনের হাসি খুশী সোহেলী যেন খানিকটা বদলে গেছে। আচ্ছা, তাড়াতাড়ি বল-আমাকে আবার কাজে যেতে হবে।বলে উঠল সুমন।না,চল না-একটু পাশে বসে কথা বলি।এখানে কোথায় বসব।

সোহেলী বলে উঠল,একটু এগিয়ে গেলেই আমার বান্ধবী আয়েশার ফ্ল্যাট আছে। সেখানে বসে নীরবে কথা বলতে পারি।

হাত ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সুমন বলে উঠল,বেশ তবে তোমাকে ত্রিশ মিনিটের বেশি সময় দিতে পারব না।

ঠিক আছে। যথেষ্ট সময়।

সোহেলী সুমনকে নিয়ে গেল আয়েশার ফ্ল্যাটে।আয়েশা তাদেরকে বসিয়ে রেখে চলে গেল স্কুল থেকে নিজের বাচ্চা আনতে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সোহেলী,সুমনকে বলে উঠল-আমাদের কলেজ জীবনের কথা তোর মনে আছে?সুমন হতচকিত হয়ে পড়ল।কেন,আবার এই পুরোনো কথা।সোহেলী বলে উঠল,আমি যে তোকে এখনো ভালোবাসি।এই কথাটা বলেই সোহেলী নিজের কামিজটা খুলে ফেলেছে।সুমন,চায়ের কাপটা টেবিলের উপর রেখে ,উঠে দাঁড়িয়েছে।তবে আমি আসি। পথ আগলে দাঁড়ালো সোহেলী।আমিতো তোমাকে যেতে দেব না।এখনো ত্রিশ মিনিট হয় নি। অনেক সময় বাকি আছে।

তবে এসব কি নোংরামি। সোহেলী জড়িয়ে ধরল সুমনকে। আমার শরীরের চাহিদা তুমি পূর্ণ কর।আমার স্বামী আমাকে শারীরিক সুখ দিতে অক্ষম। সোহেলী আমাকে ছাড়।আমি ভদ্র ঘরের সন্তান। আমার এই সমাজে যথেষ্ট সম্মান আছে। তোমার সাথে এখানে আসাটাই আমার ঠিক হয় নি।তুমি পরিকল্পনা করে আমাকে তোমার ফাঁদে জড়িয়েছ। সোহেলী বলে উঠল, আমার শারীরিক চাহিদা তোমাকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে, নতুবা এই মুহূর্তে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। সুমনের দুচোখ দিয়ে তখন মন্দাকিনীর ধারা পড়ছে।সে বুঝতে পেরেছে, সোহেলী তাকে এখানে নিয়ে এসেছে নিজের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। উদ্দেশ্য পূরণ না হলে,সে চিৎকার করে লোক জমায়েত করবে। প্রয়োজনে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতেও সে দ্বিধাবোধ করবে না।

  অগত্যা,সুমন বাধ্য হয়ে নিজেকে সঁপে দিল সোহেলী র হাতে। সোহেলীর শারীরিক চাহিদা পূরণ হলে ছুটে আসে আয়েশা।আয়েশাও তাকে ভোগ করে।সুমন যে আজ তাদের বাসনার শিকার হয়ে গেছে,তা বিলম্বে হলেও সে বুঝতে পেরেছে। 

     বেলা গড়িয়ে গেছে।সুমন বাড়ি ফিরে দেখে বৃদ্ধা মা ভাতের থালা সাজিয়ে বসে আছে সন্তানের জন্য পথ চেয়ে। মায়ের গলায় জড়িয়ে ধরে সে কেঁদে উঠল।কেননা,এ জগতে একমাত্র মা ছাড়া যে আর কেউ সন্তানকে নি:স্বাথ ভাবে ভালবাসেনা।

বিদিতা সেন

 স্মৃতিসুধা

সেই যে আমার দিনগুলো
বেশতো ছিল ভালো, 
আমার একটি আকাশ ছিল
ছড়িয়ে নীল আলো। 

সেই আকাশেই স্বাধীন মনের
মেলে দিতাম ডানা, 
বাদলের সাথে উড়ে যেতে
থাকত না কোনো মানা। 

সেই যে আমার মাটিতে ছিলো
সোনালী শষ্যের ধান, 
বৃষ্টিভেজা মধুর গন্ধে
জুড়িয়ে যেত প্রান। 

সেই যে মাঠটিতে ছিলো
সবুজ ঘাসের মেলা, 
প্রতিনিয়ত করিতাম সেথায়
সবান্ধবে খেলাধুলা। 

সেই যে আমার  নদীটি ছিলো
হয়ে যেত মৃদুছন্দে, 
তরঙ্গের সাথে জলকেলি
করিতাম আনন্দে। 

সেই যে আমার পাহাড়টি ছিলো
সদায় দাঁড়িয়ে নির্বাক! 
মনচাইলেই শুনাত আমায় 
প্রতিধ্বনির ডাক। 

সবকিছুই ভাসছে এখন
আমার স্মৃতিসুধায়, 
মনটা আমার হারিয়ে গেছে
জটিল জীবন ধাঁধায়। 

প্রকৃতির কোলে আছে স্নেহে
যেমনি ছিলো তারা, 
কালের শ্রোতে ভাসতে গিয়ে
আমি হয়েছি আমিহারা। 

রামমোহন বাগচী

রংএর নেশা 

রং তুলির খেলায়, রং ও তুলির ছলনা
দেখেও না দেখার নেশায় করে তাড়না ! 
অন্তর আত্মার জাগ্রত মশালের আলো 
লালসার  ফসলে  হয়েছে  কালো। 
আপোষহীন মানবতা ,গায় বিরোধী গান! 
সংগ্রাম খোঁজে বেড়ায় সংগ্রামী প্রাণ! 
প্রতিরোধের ভাষা হতাশার পাশে দাঁড়িয়ে 
হেঁটে বেড়ায় অন্ধ গলির পথ মাড়িয়ে।
ভালো আছে দেশ ও দেশের মননে     
বিছিয়ে কন্টক, আনন্দ কাননে !         
আগামী প্রজন্মের মুখে দিয়ে হতাশার প্রদীপ । 
হরি নামের ফোয়ারায় ভাসিয়ে যায় দীপ
ভিক্ষাপাত্র সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে পাশে
তাই, নেশার তাড়নায় ভ্রমর ধেয়ে আসে , 
ভালো বাসার গন্ধ আজ নেই কোন ফুলে
সমীরণ  হারিয়ে  গেছে  নিজ  পথ  ভুলে। 
সরস্বতী হারিয়ে পথ কাঁদে পথে পথে
জ্ঞানের উৎস ক্ষমতা দখলের সাথে, 
আপসহীন সংগ্রামের নেশা, ভাসে ছলনায়
বেঁচে আছো রং তুলি ,অজ্ঞানের করুণার ছোঁয়ায়।

সুজন দেবনাথ

 আশা

আকাশ তলে বসে বসে রোজ
নিরালায় তারা গুনি,
রঙিন পৃথিবী আঁকবো বলেই
হাজারো স্বপ্ন বুনি।

কখনো কালো মেঘেদের দল
ব্যাঘাত ঘটায় কাজে,
কুড়ানো স্বপ্ন হারিয়ে যাওয়া
হয়তো ভীষণ বাজে।

তবু বাঁচতে গেলে গড়তে হবে
আবার নতুন করে,
জানি অস্ত রবি উঠবে আবার
নিত্য নবীন ভোরে।

জয়িতা ভট্টাচার্য

অবচেতন 

মাঝে মাঝে শীত খুব।
মাঝে মাঝে উষ্ণতা উধাও। 
অনন্ত গহ্বরে ডুব
শীতল রমণ থেকে বহু দূরে
দূরে সরে যাই।
জীর্ণ কাঁথার ভেতর টলমল নদী
ওইখানে ভাসাই শৈশব
কাগজের ডিঙি,
ওখানে দাঁড়িয়ে  আমার মা
আর আমার বাবা আকাশে 
তার হাত ছুঁয়ে আছে 
বাগান থেকে উড়ে আসছে 
নীল প্রজাপতি 
আমার চোখ থেকে গড়িয়ে 
গড়িয়ে পড়ছে কষ্ট 
এই অন্তরাল আমাকে নিয়ে যায় নির্বাণে

অলকা গোস্বামী।

গল্প: 

অবেলার বন্ধু

মনীষার এই প্রশ্নে হঠাৎ করে হকচকিয়ে গেল তৃণা।

বেশিদিন হয়নি, ছেলের বন্ধুর বোনের আইবুড়ো ভাত অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়েছে মনীষার সাথে। প্রথম দিন থেকেই কেমন একটা হৃদ্যতা অনুভব করে তৃণা।

ছেলের সঙ্গে এই মফস্বল শহরে থাকছে তৃণা। স্বামীও চাকুরীসূত্রে অন্য শহরে। নিজেকে কখনো খুব একা মনে হয়।  মনের কথা খুলে বলার মত লোক আশে পাশে কেউ নেই। দিনে একবার অন্তত অরিত্রের সাথে কথা হয়।সেই নিয়ম মাফিক খোঁজ খবর নেওয়া। অরিত্র আজকাল বেশী কথা বলে না। ভীষন টায়ার্ড শোনায়.....,তাই কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায় তৃণা। মনের ভাবনা চিন্তা সম্পূর্ন ভিন্ন দুইজনের। যদিও পরস্পর যত্নশীল। কিন্ত আরিত্রর সঙ্গে মানসিক নৈকট্যের সাঁকোটা ভাঙে গড়ে.... এরকমই চলছে।

কিন্তু কিছু একান্ত অনুভূতি কারো সাথে ভাগ করা যায় না।

এই যেমন...

খুব চুটিয়ে প্রেম করতে ইচ্ছে করে, সেই কৈশোরে যখন প্রথম কাউকে ভালো লেগেছিলো। আবছা চেহারা, আজ আর মনে পড়ে না।স্কুল ছুটির পর সিঙ্গাড়া খেতে যাওয়া, ভয়ে বুক দূরু দূরু, কেউ না দেখে ফেলে.... সেসব কি অরিত্র কে বলা যায়!! মনে মনে হাসে তৃণা। 

শীতের ঘোলাটে রোদ মেখে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে... গ্রামের পথ ধরে কোনো এক অজানা অচেনা রাস্তায় ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকানে। অলস চোখে চারপাশের মানুষ জন দেখে আবার শেষ নাওয়ে ঘরে ফেরা।

এসব অভিযানে যাওয়ার জন্যে বন্ধু চাই।সেই যাকে দেখলেই  মন ভালো হয়ে যায়। যার হাত ধরে গোধূলি বেলায় কোনো মেঠো পথে শালবনের ছায়ায় হারিয়ে যাওয়া যায়। মনীষাকে সেরকমই বন্ধু মনে হয় তৃণার।

অনেক বছর ধরে একটা শহরে থেকেও সেরকম কোনো কেউ নেই। কংক্রিটের জঙ্গলে মানুষের মন গুলো ও বড্ড পাথুরে। প্রাচুর্যের চাপে পিষ্ট। কোনো গভীরতা নেই। কথা বার্তা বড্ড মেকি।

তাই

এই মফস্বল শহরে মনীষাকে পেয়ে খুব ভালো লাগছে তৃণার।

"সে হয়না মা, মুনিয়া আমার জীবন বাঁচিয়েছে। সেদিন যদি ও আমাকে জঙ্গলের মধ্যে থেকে তুলে না আনতো তাহলে আজ আমি হয়ত বাঘের পেটে থাকতাম"।

"সবই বুঝলাম বাবু, কিন্তু তুমি তোমার জীবন বাঁচানোর প্রতিদান হিসেবে যা করতে চাইছ সেটা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া...., 

আমার মাথায় কাজ করছে না। আমাদের সমাজ, আত্নীয় স্বজন এরা.... সর্বোপরি ভবিষ্যতে তুমি কি অ্যাডজাস্ট করতে পারবে। আবেগ নয় বুদ্ধি দিয়ে বিচার কর বাবু।"

মা, আমার তোমাকে বলা হয়ে গেছে। তুমিই সামলাবে সবকিছু"। এই কথা বলে মৈনাক বেরিয়ে যায়।


মাস ছয়েক ধরে এনজিও র সাথে একটা প্রোজেক্ট কাজ করছে মৈনাক। বাড়ী বাড়ী গিয়ে ডাটা কালেকশন করতে হয় ওদের। তৃনার ছেলে অন্ত প্রান, তাই ছেলের সাথে এই সাঁওতাল গ্রামে পড়ে আছে।


অরিত্র কে কিভাবে জানানো যায়.... হঠাৎ করে এই কথা শুনে, ওর না শরীর খারাপ হয়....। ওখানে একা আছে, কিভাবে রিয়েক্ট করবে...! তৃণা  কী করবে না কাকে বলবে, কিচ্ছু ভেবে পায় না।

"আচ্ছা মনীষার সাথে কথা বলে দেখি ....! ও হয়ত কিছু একটা ভালো বুদ্ধি দিতে পারে"।

পরদিন মনীষা কে দেখে জড়িয়ে ধরলো তৃণা।

"জানো তো তোমাকে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছে। ভরসা পাচ্ছি। অনেক কথা আছে। চল চা খেয়ে আলাপ করি"।

"আচ্ছা তৃণা, এখানে আসার আগে এতো বছর তুমি বড় টাউনে নিজের ফ্ল্যাট এ থাকতে।তো সেখানে কি তোমার কোনো বন্ধু ছিলনা? যে তুমি আমাকে ডেকে আনলে। তোমার সংগে আমার পরিচয়ের তো বেশীদিন হয়নি"।


আচমকা মনীষার কথায় হকচকিয়ে  গেলো তৃণা।

"মনীষা, আসলে কী জানতো, তোমার মধ্যে হয়ত কোনো এক সময় আমি নিজেকে খুঁজে পাই। তাই এত কম সময়ের পরিচয়ে আমি তোমাকেই নিজের বলে কাছে ডেকেছি। আর জানতো এই বয়সে এসে সহজে বন্ধু মেলে না।.... নিজের লোকেদের ভীড়ে, পরিচিত পরিবেশে, হাসি খুশি ইমেজ ধরে রাখতে হয়। নাহলে সবাই তোমাকে  করুণার পাত্র হিসেবে দেখবে। সেটাতে রেপুটেশন বজায় থাকে না। সম্পর্কের ফাটলে রিপু করে.... মেকআপ এর প্রলেপ চড়িয়ে তবে, ভিতরে তোমার যাই থাক না কেন"!

"হম,বুঝলাম। তবে কী জানতো, জিজ্ঞেস করলাম এইজন্যে। যে আজ তুমি অজ পাড়াগাঁয়ে আছো তাই আমাকে মনে রাখছ। দুদিন পর চলে যাবে।....তখন"

কথা বলতে বলতে মনীষার চোখ ভরে এলো। তৃনা বলল,

"মনীষা জীবনের পড়ন্ত বেলায় তোমাকে পেয়েছি। কিছুদিন পরেই আঁধার নামবে। তখনই তো আমরা দুজন দুজনকে বেলা অবেলায়, রাতের ঘন আঁধারে বন্ধুত্বের আলোর মশাল হাতে নিয়ে পথ চলব"।

 দূরে কোথাও রেডিও তে

চির সখা হে..., গানটি শোনা যায়।

দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

প্রণাম

প্রতিদিনের ভালবাসার অভিনয় ছেড়ে,
দেখি আমার আমি কে ৷
বরফ সাদা হিমালয়ে নিস্তব্ধ আকাশের মাঝে,
কত কথা বলে যায় নিঃশব্দে ৷
নেই প্রতিশোধ নেই উত্তাপ শুধুই দাড়িয়ে থাকা আজীবনI 
বাধার পাহাড় রক্ষা চারিধার প্রমানের নেই প্রয়োজন৷
নিজের অস্তিত্ব নিজের মাঝে,
বলে বারবার টিকে থাকার অধিকার ৷ 
আয়োজন প্রহসন সময়ের নিরীক্ষণে ,
প্রমাণ নির্ভর করে কর্মের বীজে ৷

মনচলি চক্রবর্তী

সবুজের স্পর্শ ও"ঊনকোটি শ্রীঙ্গেরী সারদা পিঠম" লোকমুখে  (তিরুপতি বালাজি মন্দির)

সৃষ্টিকর্তা নিজে সবুজের অমৃত স্পর্শে  শস্যশ্যামলা বসুন্ধরা সাজিয়েছেন।সবুজের পরশে ধন্য জীবকূল। সবুজ প্রকৃতি, সবুজ বনানী, সবুজ মাঠ,সবুজ পাহাড়।সবুজের মাঝেই লুকিয়ে আছে প্রাণের স্পন্দন । সবুজ প্রকৃতিই  আমাদের প্রকৃত জীবন সঙ্গী।

ত্রিপুরার প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত  সবুজ শহর কৈলাশহর। শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  আর দর্শনীয় স্থান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 

কৈলাশহরের অনতিদূর , বিলাশপুরে(ডলুগাঁও)

অঞ্চলে অবস্থিত সুবিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে   নব নির্মিত দক্ষিন ভারতের মন্দিরের   আদলে গড়া অপূর্ব   "ঊনকোটি শ্রীঙ্গেরী সারদা পিঠম"মন্দির লোকমুখে  তিরুপতি বালাজি মন্দির। 

"ঊনকোটি শ্রীঙ্গেরী সারদা পিঠম" লোকমুখে 

বালাজি মন্দির  বা  বিষ্ণুমন্দির। যেখানে বিষ্ণুদেবের পূজার্চনা  হবে।

দক্ষিন ভারতের মন্দিরের স্থাপত্য ভাস্কর্যের সংমিশ্রণে সুসজ্জিত মন্দিরটি নিজ মহিমায় মহিমান্বিত। দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার ফলশ্রুতি নবনির্মিত এই  মন্দির। 

সবুজ পাহাড়, নদী, সবুজ ঘাস আর বনানীর  মাঝেই গড়ে উঠেছে  সুন্দর স্থাপত্য ভাস্কর্যের অপূর্ব নিদর্শন তিরুপতি মন্দির।সবুজে ঘেরা বনানী ঘেঁসে আঁকাবাকা পথ চলে গেছে মন্দিরের দিকে। চারিদিকে শুধু সবুজের সমারোহ আর পাখিদের কলতান। সবুজ ঘাসের মাঝে পাহাড়ি মাটির লাল পথ গেছে মিশে।প্রবেশ পথে বিশাল সবুজ এক আকাশচুম্বি  উচ্চ বৃক্ষ  আমন্ত্রণ করছে যেন দর্শনার্থীদের।এই সুউচ্চ সবুজ বনস্পতি মন্দিরের শোভা বর্ধন করছে। চারিদিকে সবুজের সমারোহ।সবুজের চাদরে মোড়া সুউচ্চ রং তুলির টানে সুসজ্জিত  পর্বতের ন্যায় মন্দির।মন্দিরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের নিপুণতা দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো। বিভিন্ন দেবদেবীর উজ্জ্বল  মূর্তিতে সুসজ্জিত মন্দির। মূর্তির রূপ আকৃষ্ট করে দর্শনার্থীদের।মূর্তি গুলো যেমন স্বাভাবিক তেমনি  সজীব। 

তিনটি ভাগে সুসজ্জিত এই মন্দির টি।দুধারের  দুটি   ক্ষুদ্রাকৃতির সুউচ্চ সুসজ্জিত  মন্দিরের মাঝে বিশাল আকাশচুম্বি তিরুপতি তথা বিষ্ণুর মন্দির।  পূজার্চনার  মূল স্থান।সুন্দর কারুকার্যে সুসজ্জিত  সেই মন্দিরের প্রবেশ দ্বার। প্রবেশ দ্বারের উপরে দেবদেবীর মূর্তি।প্রবেশ দ্বার উন্মোচিত হলেই বিশাল আকারের পাথরের বিষ্ণু মূর্তির অধিষ্ঠান।তিরুপতি তথা বিষ্ণু মূর্তির সৌন্দর্য  অপার।  দুদিকের মন্দির দুটিতে  অপরূপ বিভিন্ন দেবদেবীর  মূর্তি নির্মিত ।অত্যন্ত নিপুণতায় শিল্পী  রূপ দিয়েছেন, প্রান দিয়েছেন মূর্তিগুলোর মাঝে। 

দাক্ষিণাত্যের মন্দির গুলির শিল্প স্থাপত্য ভাস্কর্য চিত্রকলার ছাপ রয়েছে এই মন্দির টিতে।মন্দিরের শীর্ষ দেশ কারুকার্যে উজ্জ্বল। দেওয়ালের  ও মন্দির প্রাঙ্গনের চিত্র কলা অপূর্ব। নবনির্মিত এই মন্দিরটিকে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্নতা পেলে মন্দিরটি সমগ্র রাজ্যবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। সবুজ প্রকৃতির হাতছানি ও সুউচ্চ সুসজ্জিত মন্দির টি ভবিষ্যতে কৈলাশহর তথা  ত্রিপুরা রাজ্যর  পর্যটন মানচিত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

ঝিমলি আচার্য

অপেক্ষা 

বাবা একটু শোন 
বল কেন ডাকলে ।
বলছি একটা শিউলির চারা লাগবে, 
হঠাৎ শিউলির চারা ?
শিশু জন্মদিয়ে লালন-পালন করে--
ওকে স্নেহ ডোরে গেঁথেছি ।
এখন চারা পোঁতে ওকে মানুষ করব ।
কেন ? কিছু হয়েছে? 
না না, ইচ্ছে হয়েছে তাই ।
বল ছোট না বড় চারা, 
মানুষ করব তো তাই--
ছোট চারাই আনিস ।
 রক্তমাংসের শরীরে ক্রোধ, হিংসা ,
লোভ ,ভয় ,মান অভিমানের ওঠা -বসা
নিত্য রিপুচক্রের ঘূর্ণাবর্তন ।
আর ধৈর্যশীল সহিষ্ণু প্রাণী  উদার চিত্তে
প্রতিকূলতাকে শিরে ধারণ করে
শ্রেষ্ঠ ধর্ম পালনে নিমজ্জিত ।
তাই ধর্মপরায়ণের প্রতি একটু 
যত্নশীল হই ,কি বলিস ?
ঠিক আছে ঠিক আছে তাই হবে --
মা ধর তোমার ছোটকে কতইনা 
তিরস্কার পোহাতে  হল ।
ছোটর জন্য নিতেই হবে 
ও সমুদ্র এক বিন্দুমাত্র ।
চল ওর যোগ্যতম জায়গা সাজাব 
 কোন কষ্ট যেন ওকে স্পর্শ করতে না পারে ।
ছোটর যত্নে দাদা কোমর বেঁধে লেগে পরল ।
খুব ভালো লাগছে মা ওকে সাথে পেয়ে ।
ছোটর মধ্যে অনুভূতি জেগেছে 
আলো-ছায়া আকাশ-বাতাস 
সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে উপভোগ করছে ।
মা আনন্দ আনন্দ আর আনন্দ, 
কদিন বাদে ছোট আমাকে সাহায্য করবে ।
তোর জন্ম থেকে আজও এই 
আনন্দ উপভোগ করছি--
কেন জানিস ? 
তুই ওকে আর আমি তোকে 
নিজের হাতে মানুষ করছি তাই ।
শিউলি শরৎ এর আকাশ বাতাস --
মুখরিত করে তোলে" মা " এর আগমনী বার্তায় ।
প্রতিটি হৃদ স্পন্দনে বেজে ওঠে আনন্দের ঝঙ্কার ।
শিউলি হাঁপিয়ে তোলেছে মা 
ওর কোন দায়িত্ব নেই ?
আছে আছে ধৈর্য ধর ।
অনেক অপেক্ষার পর আজ 
শিউলির শোভায় সুশোভিত ।
ছোটকে নয় " মা " তুমি 
আমাকে মানুষ করেছ ।
খোকা তোর শোভার অপেক্ষায় 
                   আমি ।

চন্দ্রা বিশ্বাস

মেয়ে বেলা

সবুজের সরসতা চিরে, ঘোলাটে কুয়াশার প্রচ্ছদ ফুঁড়ে 
প্রথম আলোর শরীরে বর্বরতা কেটেছিল দাগ, 
কুঁড়ি থেকে ফুলের ফুটে ওঠা দেখা হয়ে ওঠেনি তখনও,
বোঝা হয়ে ওঠেনি প্রজাপতি-ভ্রমরের নুপুর-নিক্কণে তৃপ্ত পরাগ মিলন রহস্য। 
তারপর কখন ধীরে ধীরে, কালের কালির আঁচড় মনে ও শরীরে ।
দর্পণের সামনে দাঁড় করাই নিজেকে, জেগে ওঠে নদীচর বানভাসি থেকে,
মনেতে দুপুুর গড়ায়, নারকোল পাতারা দোল খায়,
দোল খায় আবেগে বিভোর, 
হিপনোটাইজড্ এক উত্তীর্ণ কৈশোর। 
প্রখর রৌদ্রেও মনে মনোরম জ্যোৎস্না, জ্যোৎস্না অগোছালো, 
দিনরাত মন-মাথা সব এলোমেলো। 
সময় শরীরে সাঁঝের গভীরে মন ভাঙে কান্নায়,
মিষ্টি মেয়েবেলা চোখের জলেতে মুছে মুছে যায়, 
আর, তুচ্ছ  মেয়ে জন্মটার মৃতদেহ পড়ে থাকে চরম অবহেলায়, জন্মাবধি চেনা সেই  ভুবনডাঙার মাঠটায়।