Jul 17, 2021

দীপা সরকার

চিঠি

পৃথিবী সুস্থ হলে আমি পাহাড় দেখতে যাবো 

উঁচু থেকে পাহাড়কে দেখব 

মানুষ সমুদ্র দেখতে যায় ঝরণা দেখতে যায়

আসলে তারা জলকে দেখতে যায়।


আমি পাহাড়ে যাবো 


শুনেছি শীতে নাকি খুব ঠান্ডা লাগে পাহাড়ে 

তাই গ্রীষ্মে যাবো,

দূরের মেঘকে ডেকে বলব পৃথিবী সুস্থ হয়ে গেছে 

তুমি বৃষ্টি হয়ে এসো চৈত্রের ভরা দুপুরে।


পাহাড়ে বসে আমি চিঠি লিখব আমার প্রিয় মানুষদের 

আমি লিখব ভালো আছি 

ভালো থাকার জন্য।।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ

আবার হাসবে

হাসবে আকাশ হাসবে রে মন কাঁদিস নে সুজন।

দুখু মিয়ার দুঃখের মতন দুঃখ নাই কো তেমন।

রেশম বনে কুবের কূলে পাখিরা গান সুরে।

স্কুল কলেজে রবি ঠাকুর যেতেন না যে পড়তে।

বিশ্বকবি হলেন তবে কেমন করে ঘরে।

ভালো মন্দ যাহাই আসুক লয়গো তবে মেনে।

নদীর বুকে প্লাবন আসে বালির ভরে ভরে।

পূর্ণ করে আকাশ তবে হাসির আমেজ মেঘে।

যক্ষপ্রিয়ার বেদনাতে রামগিরিবর কাঁদে।

মেঘের দূতে খবর আসে বীনা তারে তারে।

অশ্রুবারি সিক্ত করি মনের বাঁধন খুলি।

ছোট দুঃখের চেয়ে বড়ো দুঃখ তবে ভারী।

মনের মাঝে জেগে উঠে নবসূর্য তারি।

গীতার বাণী স্মরণ করি হলে ধরি বলে।

শক্তি মত্তায় রক্ত উদ্দাম স্যানিটাইজার ছলে।

করোনা নাশ হবে সেদিন জাগবো আমরা যেদিন।

আমাদেরই অপমান সব ধুয়ে মুছে যাবে।

মৃত্যুমিছিল হেলায় করে চেতন মিছিল হবে।

নতুন সাজে ধরিত্রী যে আগের মতো হাসবে।

পৌষালী ভৌমিক

আমি জীবন্ত হতে চাইনি

আমি জীবন্ত হতে চাইনি...

বিষাদের সুর যখন বুকে বাজছিল,

সেই সুর আমি থামাতে পারিনি

আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...

মনে যখন আনাগোনা থেমেছিল,

তখন ঢেউ খেলাতে পারেনি

আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...

শিউলি তলায় তখন ও ঘ্রাণ ছিল,

কিন্তু শুভ্রতা কুড়িয়ে পাইনি

আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...

শব্দ যখন নিঃশব্দ হয়েছিল,

আমি তীব্রতা খুঁজে পাইনি

আমি...জীবন্ত হতে চাইনি...

অভিমানের পারদ যখন চড়ছিল,

তখন আমি আমাকেই পাইনি.......।

সুকেন বিশ্বাস

মেঘবালিকা

মেঘবালিকা নীলাম্বরে ওত পেতে বিদ্যমান

কার্ণিশে চড়ুই দুটি ঠোঁটে ঠোঁটে আদর নিচ্ছে।

গোধূলির শেষ লগ্নে,পা ঝুলিয়ে আরাম নিচ্ছি

শ্রাবণের শান্তশিষ্ট আবহাওয়ায়।

মেঘবালিকা গলনে-শুরু হোলো শ্রাবণধারা

চড়ুই দুটি প্রেমের তাপে সিক্ত,সিক্ত হচ্ছি মনে তোমার ছবি এঁকে

ভালোবাসার অমোঘ মধুর টানে,গায়ে শিহরণ তুলে।

শ্রাবণ ধারার প্রতিটি ফোঁটায় লোমকূপ কথা বলে।

হঠাৎ দেখি তুমি বৃষ্টি স্নাত পিচ রাস্তায় নগ্ন পায়ে

চড়ুই দুটি লজ্জা পেয়ে ঢুকেছে ভেনটিলেশনে।

সোমা বিশ্বাস


মহুয়া বা  মহুলা

প্রায় দু বছর আগের কথা-
স্থান পুরুলিয়ার অযোধ্যা, উদ্দেশ্য মহুয়াবন দেখা
সাথে ছিল স্থানীয় ড্রাইভার কালুদা
দারুন গাড়ি চালাই, জায়গার সম্পর্কে বলেন-
গিয়ে পৌঁছলাম মহুয়ার বনে, মন দেখে আপ্লুত!
কোথা হইতে আইছেন ক‌ইলকাতা?
জিজ্ঞেস করল এক স্থানীয় কিশোর
পাহাড় দ্যাইখবেন,ফটক তুলবেন?
জিজ্ঞেস করায় বলে,কেলাস ফাইভে প‌ইড়ি।
কিছু মহুয়ার ফুল ডাল সমেত এনে বলে;
এই লিন মহূলা  গাছের ফুইল-
গন্ধক আছে বটে।খাইবেন নাকি?নেশা হইবেক!
ইহার ও তেল হয় ও বটে, গায়ে হাতে পায়ে;
মালিশ করলে পারে ভাইলো হয় বটে-
সঙ্গে কালু দা বলে ইহার সাদা ভাইগ 
আর লতাপাতা দিইয়া সবজি বানায়, পরব হয়;
গাছের ডাল উহাদের বিহার কাজে লাগেক-
কালুদা ও ওই কিশোর টি হাতে কিছু মহুয়া
বা মহুলার ফুল দিল নিয়ে আসবার জন্য-
সেই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা আজও স্মৃতি হয়ে আছে...
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: পুরুলিয়ার অযোধ্যার ভাষায় রচিত)

দিপ্সী দে

লাশ

(প্রথম অংশ) 

মাঝ সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছে একটি লাশ,পিঠে

বেকারত্বের বোঝা নিয়ে ভারত থেকে রওনা দিয়েছে ফরেনে চাকরির সন্ধানে

ভূগোলের মানচিত্রের দেশগুলিতে নোঙর করতে না পেরে ব‍্যাগ টা ঘুছিয়ে নিয়েছে এ পাশ ও পাশ সার্টিফিকেটে।

সে ভেসে যাচ্ছে সমুদ্রের তলায় লাল মাছেরা ও তাকে কামড়াই না

ভাসতে ভাসতে সে ভাবছিল সতেজ দেহের অংশ গুলির কথা যে অংশ গুলি খসে পড়ে গেছে

অতিরিক্ত নোনা জল পান করায় তার ক্ষিদা মিটলেও  মৃত্যু  হয়েছে। সে ভেসে যাচ্ছে....

কিছুক্ষন পর  মৃতদেহ টি লেন্ড করবে।

তার ব‍্যাগের পেছনের দুটি চেন খোলা,ফাঁকা পকেট রেখেছে মাস পেরোলে মাইনে পুড়বে বলে,

রেলের টিকিত গুলির পেছনে কলম দিয়ে লিখেছে 

আমার পরিচয় বেকার  তাই ভেসে ভেসে যাচ্ছি 

একটি চাকরির সন্ধানে। 

সামনের মাসে ফিরে আসবো বাড়িতে বিয়ে 

এসেই কারেন্ট বিল জলের টেক্স আর বাবলির স্কুলের টাকা চুকিয়ে দেবো,

এই কথা ভাবতে ভাবতেই জাহাজের বগি থেকে ছিটকে পড়ে একটি মানুষ অর্থাৎ  এই লাশটি।

রাহুল শীল

প্রোটোপ্লাজম

সব শেষ হয়েছে এইমাত্র

ধূসর জগতে প্রোটোপ্লাজমিক পরিবর্তন!

নিবার্ক পথের মাঝে ঘুমিয়েছি অনেকদিন

ওরা নিশ্চিত হয়ে নিশ্চুপ সেজেছিল।


একটা পাহাড় থেকে নদীর দূরত্বে দাঁড়িয়ে

তন্ন তন্ন করে খুঁজেও মেলেনি একটা আশা,

জনতা ভিজিয়ে দিয়েছে রাজপথের রেখাগুলো

কিন্তু ঐ রৈখিক পথে শুধুই বুটের অনর্গল শব্দ।


অবশেষে হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে

মুখগুলোর পানে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখি।।‌‌


জয়ন্ত মজুমদার

সন্ধ্যা-ভোরের মেয়ে

ভোরের  আলোর

একটা প্রতিফলন,

তোর সাথে ছিল বাকি,

মুছে আঁকা-বুঁকি, রোজ

নতুন করে আঁকি।

দেখি, আরো তাকা

নাক'টা কেমন বাঁকা,

চোখ কত বোঝে

কে তাকে খোঁজে,

হাসি কার লাজে

জড়ায় গালের খাঁজে।

পারবি যদি বলি,

দেখ ফুলগুলি, তোর

মতোই হাসে, সবুজে'ও ভাসে।

রাখিস মেলে পাশে

গন্ধ তাদের কেশে,

কাঠ-গোলাপের মালা

খোপার-বাঁধন খোলা।

ছড়ার জলে হাওয়া

শিমুল-ফুলের নাওয়া,

আবার বাঁধিস চুলে

দোলা দিয়ে দুলে।

যাই যদি ভুলে

দেখতে এমন করে,

সন্ধ্যা-প্রদীপ ধরে

রাখিস উঠোন পরে।

ভোরগুলো আরও,

সন্ধ্যা-কালোয় গেলো,

তোর কথা-বলা,

দিন-স্বপ্ন নিলো।

মাঝে-মধ্যে বসে

শীতের রোদের রেশে,

আলতা-ভেজা হাতে

রোদ পা'য়ের সাথে,

ভাবছিলি কার কথা

পাতায় রেখে আতা,

হেথা, সন্ধ্যে ভেবে রাখে,

ভোরের রঙিন ডাকে,

দেখেছিস তাকে?

নৌকো ভাসায় পাঁকে

লতা গায়ে রেখে

বেনী দোলায় কাঁখে।

কণিকা দত্ত চৌধুরী

বজ্জাত

নারীর গর্ভে জন্ম তোদের, 

বক্ষসুধা করে পান। 

কেমন করে করতে পারিস, 

সেই নারীদের এত অসম্মান?


নির্লজ্জ তোরা হিংস্র হায়না 

সব নেকড়ে বাঘের দল। 

কেমন করে নিষ্পাপ মেয়েদের

জীবণ নিয়ে খেলিস বল? 


যাদের পানে শকুনের নজরে, 

তাকিয়ে থাকিস তোরা। 

তোদের ঘরেও তো আছে মেয়ে মানুষ,

ওরে বজ্জাত লক্ষীছাড়া। 


ধর্ষিতারা ঘরে গুমরে মরে, 

ধষর্ক ঘুরিস পাখনা মেলে। 

দু একদিনে বন্ধী জেলে, 

মুখ বন্ধ রাখিস টাকা ঢেলে। 


টাকা দিয়ে মুক্তি পাবি, 

আইন কানুন সব টাকার জোর। 

ধর্ষিতার ঐ কালরাত্রিটা, 

কখনো আর হয়না ভোর। 


ওদের বুকে কত স্বপন ছিল, 

ছিল কত আশা। 

জীবন খানা বিষিয়ে দিলি, 

তোরা এমন সর্বনাশা। 


কোনো নারীর গায়ে আবার বসাবি যখন, 

হিংস্র নখের থাবা। 

ভেবে নিস্ তুইও হবি, 

কোনোদিন কোনো মেয়ের বাবা!

নীতা কবি মুখার্জী

কবিতা আমার

কবিতা আমার জীবন রে ভাই, কবিতায় ফুল ফোটে

কবিতা দিয়েই ভালোবাসি আর কবিতার হাসি ঠোঁটে।

কবিতা-কাননে ফুল ফোটে জানি যখন কবিতা লিখি

সরস্বতীর চরণে ধরে কবিতা লিখতে শিখি।


আপামর-জন ভালোবাসে যদি তাকেই কবিতা বলে

কবিতা-কাননে ফুল ফোটাতে আমার লেখনী চলে।

দিবানিশি শুধু লিখে যাই আমি, কি জানি কিসের টানে?

শত গঞ্জনা সয়ে যেতে হয়, তবু না চেতন মানে।


কবিতার মালা গেঁথে যাই শুধু সকাল, দুপুর, সাঁঝে

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পঙক্তি সাজাই কত না কাজের মাঝে।

কবি হতে আমি চাইনি জীবনে চাই শুধু ভালোবাসা

আমার কবিতা পড়ে দেখো সখা, এইটুকু রাখি আশা।

গোপাল বণিক

কিউমুলোনিম্বাস

বর্ষা তে ভরসা নাই আমার,

তোর আগমনীর সুরে অণ্ডকোষের নাচে নাচুক,

আমি আছি সর্বহারার দলে।

কতো রাত বিনিদ্র কেটেছে

টিনের ছিদ্রান্বেষণ দুই চোখে

আটকাতে পারিনি তোর অবাধ বিচরণ।

এইসব দেখে তোর খেয়ালি মন-

হেয়ালির চাঁদরে মুড়েদিয়েছিলো আমার স্বপ্ন।

স্কুলের পথে তোর প্রত্যাশিত আগমন

দুহাত ভরিয়ে তুলতো ব্যঙ্গ বিদ্রুপে,

কাকভেজা শরীরে অতৃপ্তির হাসি নিয়ে

ভাসিয়ে দিতাম স্বপ্নের ভেলা।

ফুটে উঠতো আরও কত করুণ স্বপ্ন।

না থামলে চলবেনা-

তরী থেকে তীরে উঠতেই হবে।

কিউমুলোনিম্বাস মেঘের পর্দা ভেদ করে

ফুটবে এক রঙিন সকাল।

আমরণ বর্ষার শেষে শান্তিপর্বে

সেইদিন ছড়াবো সুদিনের ঘ্রান।।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

ঋতুকবিতা

কক্ষপথ আবর্তনে তৃষিত মেদিনী

কর্ষিতক্ষেত দাহবুকে চাতকনজর

ঘামেভেজা মাটির শ্যামলাস্বপ্ন ধূসর প্রান্তরে পুড়ে,

-ভারতীর হৃদয়পুড়ে অম্বুধারা ঝরে,

অঝোর ধারা ঝরে

কাষ্টতৃষিত আষাঢ়ের গর্ভ ভরে;


বাসন্তী তুমি মৌসুমী হয়ে এলে-

ধানফুলে রামধনুপাখা প্রজাপতির নৃত্য ভাবে চাষি,

মা কামাখ্যা অন্নপূর্ণা'র আহ্বানে দ্বারবন্ধ আরাধনায় বসে।

সুচরিতা পাটারী

একাকীত্ব

একাকীত্বের শহরে বসতি আমার,

সেখানে প্রাণোচ্ছল বস্তুও জড়ত্বের আস্বাদন খোঁজে।

নীরবতা অবিরাম খুঁজে বেড়ায় অভিমানের ক্ষত চিহ্ন।

মাঝে মধ্যে আবেগিত মোহ উঁকি দিয়ে জানায়,

"তোমার শহরে আসছি আমি, দর্শনার্থী বেশে"

আলতো হেসে তাকে সাদরে গ্রহণ করে নিই।


সময়ের চাকা যখন এগোতে থাকে, 

আমার দর্শনার্থী  তখন গোধূলির ফেরিওয়ালা,

 ভবিতব্যের ছদ্মবেশে যাত্রাপালায় মগ্ন।

আমি কেবলই অপলক দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করি আমার নিছক বিনোদনের দৃশ্য, 

বিবেক চেঁচিয়ে জানান দেয়," তুমি পেরেছো  তাঁকে বাঁধতে ভালোবাসায়"

কিন্তু না!

হঠাৎ  একদিন স্বপ্নের দরাদরি তে সে তর্কে জড়ায়, 

না না তোলপাড় পেরিয়ে, অবশেষে পরাজিত দর্শনার্থী দাখিল করে বিদায়ের আপিল।

 চৈতন্যবোধও তাতে সম্মতি দিতে দ্বিধা বোধ করে নি,

খাঁচা মুক্ত ময়না যেমন নতুন জীবনের আস্বাদ পায়,

তেমন আস্বাদের স্বস্তি তেই বিদায় নেয় আমার আবেগিত মোহ। 

পরিশেষে আবার বুকে জড়িয়ে নেয় সেই সহলশীলা একাকীত্ব।।

Jul 16, 2021

সুষমা দেবনাথ

মনের কথা

তোমায় উদাস দেখি যখন,

মনে জাগে ভয়ের শিহরণ।

তোমার ভারাক্রান্ততা কাঁদায় এ মন,

আমার মুখের হাসির তুমিই তো কারণ‌।

তোমাতে খুঁজে পাই স্নিগ্ধ মায়া,

তাইতো শেষবেলায়ও হয়ে যাই বেহায়া।

রুবেল হোসেন

কঙ্কাল খন্ড

কিছুদিন আগের কথা!

এখন শুধু সময়ের ফের,

আমি, খোলা আকাশে উদার মনে হাঁটতাম।

সেই পাখির কূজন,আর সাদা কালো মিশ্রিত,

মেঘের গুচ্ছ গুলো ভাসতো, আর আমি হাসতাম। 

কি অপরূপ দৃশ্য! 

বিশ্বাস করো আমার আজ সেই হাসিটা, 

কোথাও হারিয়ে গেছে।

এদিক ওদিক চারিদিকে সেই হাসিটাকে খুঁজে বেড়াই,

মনে হয় না সে আর ফিরবে কোনো দিন।

সে আমাকে ফাঁকি দিয়ে অপরের মননে স্থান নিয়েছে,

বোধ হয়, তাকে আমি সেই ভালোবাসা দিতে পারিনি 

সে, যে ভালোবাসা চেয়েছিল।


মায়া রানী মজুমদার

যেতে চাই

চল মোরা হারাই ঐ তেপান্তরের মাঠে। 

যেথায় কৃষক সোনার ফসল কাটে।

সোনালী মাঠের সবুজ বনানিতে।

ইচ্ছে করে মনের সুখে হারাতে। 

অসহ্য এই জনমানবের ভীড়। 

যেতে চাই ইচ্ছে নদীর তীর। 

নদীর  মৃদু মধুর সমীরণ।

দেহে  জাগায় শিহরণ।

কত  মধুমাখা আশা। 

জাগে  ভালোবাসা।

শুধু তুমিই ভরষা।

নেই আর ভাষা।

হতাশার আশা? 

আশার আশা।

ভালো ভাষা। 

ভালোবাসা।

চলো যাই।

হারিয়েই।

শুনছো! 

আছো! 

হাসো!

তপা মজুমদার


রুকমিনি

গৃহিণী হতে  গিয়ে

হলাম চোখ কান খোলা অন্ধ।

যার  পিঠে ছুঁড়ি, মাথায় খড়্গ

হর্দম চলে দ্বন্দ্ব। 


রান্নায় সুস্বাদু আর তিক্ততা -

কর্তার ইচ্ছায় কীর্ত্তণ।

রোজগেরে গিন্নি হওয়া তাও...

মৌ...রাণী যেমন।


শর্তে -শর্তেই নর্দমার জীবন

ফিঁকে  নাম গৃহিণী।

ষোলকলা বত্রিশ পিঞ্জর... 

ভঙ্গুর তবুও ঘরণী। 


নাম, যশ প্রতিপত্তিতে...

রূপ তার গৃহিণী।

নাকের ডগায় দড়ি বাঁধা

হাতের পুতুল রুকমিনি।

জগন্নাথ বনিক

অচেনা শহর 

অচেনা শহর দেখেছি আমি,

হেঁটেছি অচেনা পথে।

হাজারো পথিক দেখেছি আমি,

অচেনা শহরে এসে।


ভাবিনি আমি এমন হবো,

ঘুরাঘুরি করবো দেশে দেশে।

দুঃখ দেখেছি পথশিশুদের,

আমি অচেনা শহরে এসে।


বৃদ্ধ মায়েদের কান্না দেখেছি,

শুনেছি আত্মচিৎকার।

চলার পথে আর্বজনার দূরগন্ধে,

অচেনা শহরটি আজ অপরিষ্কার।


ভালো নেই আজ অচেনা শহর,

শুধু চলছে হানাহানি।

প্রতিবাদের সুর হারিয়ে গেছে,

অচেনা শহরে এসে শুনি।


ভালোবাসার চেয়ে আঘাত বেশি,

অচেনা শহরের দিন রাতে।

দমন পীড়ন দেখেছি কতো,

অচেনা শহরে  আমি এসে।

গৌতম ভৌমিক

একটি কান্ডারী 

খামসুদিনের প্যাচখেচালু জীবনের অন্তরালে রয়েছে পরিপক্ক সমাজের কান্ডারী,

যাকে কেন্দ্র করে রয়েছে দূরদূরান্ত পৃথিবীর উল্লাস

এ যে এক ভরা পেট কলিজার পরিপূর্ণতা;

যাকে পরিহার্য সমাজ ব্যবস্থার নিবিড়ে নিয়ে যাবে দূরের মস্তিখাজানায়!


পাইনি আমি খুঁজে তবু একটি কান্ডারী!


সবাই যেন, 

বিড়ি গুটকা সমাজে পারিপাট্য দৈন্যতায় মরছে। 

সবাই যেন, 

ভাষণবাজি আর দরদাম কষাকষিতে ব্যস্ত।

সবাই যেন,

অনিদিষ্ট কালের জন্য চোখে প্রলেপ দিয়ে রয়েছে। 

নীতা সরকার

রথের মেলা

রথের মেলা, রথের মেলা

হরেক রকম রঙের মেলা।

হরেক রকম মাটির পুতুল

হরেক রকম গহনাগাটি।


নাগরদোলায় চড়ব আমি

কিনবো বেলুন, বাঁশি।

গরম পাঁপড় ভাজা আর জিলিপি,

খেতে ভালোবাসি।


ওই দেখা যায় রথের চূড়া

টানতে হবে রথের দড়ি

ছুঁতে হবে রথ

নিতে হবে লুটবাতাসা।


জয় জগন্নাথ প্রণাম করে

চেয়ে নেব একটু আশির্বাদ

রথের মেলায় মজা করে

ফিরবো বাড়ি সন্ধ্যেবেলা।