Jun 29, 2022

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

লজ্জা

বড্ড বেমানান, মননে যার বসত
চোখে স্বপ্ন,কন্ঠ-কলমে নিরলস প্রচেষ্টা 
সেই স্বত্ত্বায় খলতা! বড্ড বেমানান।

উর্ধমুখী চলন,প্রবল উন্মত্ততা,
মরুভূমির মরীচিকায় বিলীন প্রাণের স্বত্ত্বা,
কোণায় কোণায় আধাঁরের আধিপত‍্য।

নির্লজ্জ হাসি, অমানুষিক বিশ্লেষণ
কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি,এক অমানবিক পরিতৃপ্তি
সম্পর্কে ভাঁটা,তবুও শ্রেষ্ঠত্বের পিছু ধাওয়া।
 
শ্রীহীন মন,বোধ হীন কলম,মর্যাদা হীন সুর
দিশাহীন তুলি সমাজের নয় দিশারী,
প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে স্ফুরিত দীনতা।

এই দীনতা মনুষ্যত্বের, শৈল্পিক স্বত্ত্বার,
উদারতা পকেটে পুড়ে  শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন
এই লজ্জা মানবতার , অগ্রগামী সভ‍্যতার।

অলকা গোস্বামী

বৃষ্টি ঝরছে এখনও

বৃষ্টিতে ক্লান্ত পুরোটা দিন,
কাগজের নৌকা ভেসে যায়
গলি পথে,
অসময়ে ঋতু খেলে লুকোচুরি,
বানভাসি নাজহাল কত নগরী।
 চুপসে যায় ভালোবাসা,
স্যেত স্যেতে মাটির ঘরে।
ধারাসার বৃষ্টি,
যাবতীয় তৈজস
ছত্রভঙ্গ ভাঙনের মুখে,
শীত বোধে ফিরে যাই
আলো ও আগুনে ।
গ্রীষ্মের খরতাপ 
ভিজে যায়
বর্ষার অপ্রমেয় দানে।

নিয়ম এখন আর কেউ
মানেনা নিঃশর্ত
মুক্তির ও মাশুল চাই
সময়মত।
ধুয়ে নিক বৃষ্টি সব
চিন্তার মলিনতা,
আশ্রয় শুধুই প্রকৃতি,
বাকি সব শূন্যতা।।

রঞ্জিতা চক্রবর্তী,

 বালুর সংসার

জীবনটা যেন সমুদ্র সৈকতে গড়া বালুর সংসার - 
যেখানে একটা মাত্র ঢেউয়ের আঘাতে, 
বালুঘরেরা প্রাণ হারায়! 
খোলা হাওয়ায় পালের নৌকো ডুবে - 
গাঙচিলেরা শহর পাল্টায়, 
হুট করে উড়ে চলে অন্য ঠিকানায়.....
দিগন্ত মিশে যায় আঁধারের বুকে!

কিন্তু,ধীরে ধীরে আবার সূর্য ওঠে,
পাখিরা গান গায় - কবিরা নবীন কাব্য লিখে, 
ঠিক এমনি করেই জীবন এগিয়ে যায় জীবনের পথে..........
নতুন হাতেরা আবার বালুঘর বানায়।।।

শান্তনু ভট্টাচার্য্য

 কল্পনার সে

সেই দিনটা ছিল ত্রিশ'এ ফেব্রুয়ারি,
অজানা ক্যালেন্ডারের সেই দিন।
কল্পনার জগতে উঁকি দেয় কে!
গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল সে।
পরনে লাল শাড়ি, পায়ে নূপুর-
গায়ের রংটাও ছিল বেশ খাসা।
মনের অগোচরে মনে হচ্ছিল,
এই তো সেই প্রেয়সী আমার।
যৌবনের তাড়নায় ছুঁতে চাই তাকে,
মেঘের ভেলায় চলে যায় যে সে।
শ্রাবণ ধারাও ঝরতে থাকে,
আমার আঁখি পথ বেয়ে।
         

রমা চন্দ্র

 সভ্যতা-সঙ্কট

আমরা আধুনিক সভ্যতার দাস
শৌখিনতার রঙিন মোড়কে-
আমাদের বাস।
সদা করি বিজ্ঞানের অহংকার
তথাপি বিজ্ঞান দীপের নিচে-
অজ্ঞানতার অন্ধকার!
প্রকৃতি কে অবাধে করি অবহেলা
স‌ইতে হয় নানাবিধ কষ্ট-জ্বালা,
দেখেছি সভ্যতার হতাশা
কাটিয়েছি বন্দীদশা...,
দূষিত পরিবেশ অসুর কপট
দেখিয়েছে মহামারী অতিমারীর দাপট!
লাশের পাহাড়ে-
শকুন কুকুর শৃগালের ভুরিভোজ,
প্রতিকুলতায় থমকে গিয়েছে জীবন নদী স্রোত,
বারে বারে ধেয়ে আসা সমুদ্র ঝড়...
কেড়েছে জীবন জীবিকা ঘর-
তবু থামেনি যন্ত্র সভ্যতার আধুনিক রথ!
জীবনের প্রবাহমান ধারা অব্যাহত রাখতে
প্রকৃতি ফিরে পেতে চেয়েছে সবুজ...
আমরা আধুনিক মানুষ যে বড়ই অবুঝ!

প্রীতম চক্রবর্তী

 বুনোফুল

তোমার আদুরে রক্তগোলাপ,
আমার পাঞ্জাবীতে শোভা পাবে ঠিকই,
তবে তার কাঁটা আমার হৃদয় বিদীর্ণ করবে।
ভালোবেসে দেওয়া সুবাসে মুখরিত রজনীগন্ধা,
আমায় মাতিয়ে তুলবে, তবে 
সেই সাময়িক সুবাসের বিয়োগে
আমি আহত হব কাল। 
বহু শখে আমায় অর্কিডের গোছা দিয়েছিলে, 
তবে তা শোভা পায়নি আমার কুঁড়েঘরে ।
প্রিয়, তুমি বরং আমায় বুনোফুল দাও।
যার হয়তো অনেক সৌন্দর্য থাকবে না,
তবে তা হৃদয়ে ব্যথা দেবে না।
হয়তো তার গন্ধ নেই,
তবে সে লোভ দেখাবে না।
হয়তো সে বনে থাকে,
তবুও আমার জীবন রাঙিয়ে তুলবে।

সুপ্রদীপ দত্তরায়

ছাই চাপা

আকাশের দিকে তাকিয়ে একদৃষ্টিতে
কুলি সর্দার রামদেও বলতে পারতো -
কখন কোথায় বৃষ্টি হবে আজ,
ধূলো উড়িয়ে পরাণ মাঝি 
হাল ধরতো নৌকাতে ।
গাভিনটার দাঁত গুনে রামদরিয়া
দিব্যি বলে দেয় অবিকল বয়স আর -
মুখাগ্নি শেষে শ্মশানবন্ধুরা জানে
কতটা সময় লাগে লাশটা পুড়ে খাক হয়ে যেতে ।
নদীর বাঁক চলে জ্যামিতিক নিয়মে, জানি ।
যদিও অনেকেই জানেন না বা মানেন না
ভালবাসা আর ভালো লাগায় ফারাক বিস্তর,
চোখে চোখ রেখে কথা বলা চলে
শুধু মুখ দেখে বলতে পারি না -
কতটা বিষ লুকিয়ে আছে মনের ভিতর ।
মানুষের জীবনটা বিচিত্র রঙের ক্যানভাস
আলাদা করে এক একটি রঙ - আলাদা চরিত্র,
কারো সাথে কারো মিল নেই অথচ
একসূত্রে গাঁথা - অদ্ভুত ক্যালেইডোস্কোপ ।
শুধু যে রঙটা চাপা পড়ে গেল ছবির স্বার্থে
সে ফুরিয়ে যায় না, হারিয়ে যায় -
ছাই চাপা স্ফুলিঙ্গের মতো 
জমে থাকে, স্মৃতির গহনে
কোন এক ব্রাহ্ম মূহুর্তের অপেক্ষায় ।

অম্পিকা পাল

মায়ের প্রতি

চাই গো তোমার স্নেহ ভরা বুক  মিলুক আমার বুকে
সারাজীবন চাই আমি মা তোমায় সুখে - দুখে।
তুমিই আমার জ্যান্ত দূর্গা, দশভূজা মা ,
তবুও হবে কম যদি গো ধরি তোমার পা।
তুমি কখনো পুরুষ,কখনো নারী, কর্ম করো নিত্য-
মানুষ হয়ে ভরাই যেনো মা তোমার এই চিত্ত।
আমার ঘরের লক্ষ্মী তুমি, শয়তানের জন্য কালী -
তোমার কর্মে মুগ্ধ আমি, ভালোবাসা ঢালি।
তোমার জন্যই জ্যান্ত অসুররা পারে না করতে ক্ষতি
আমার কাছে চিরকাল তুমি আদর্শ এক সতী।
বিধবা শুনতে ভালো লাগে না,বাবাতো হৃদয়ে জ্যান্ত
লোকের কথায় কান দিও না, হও দেখি মা শান্ত।

অনামিকা দও

বর্তমান বনাম ভবিষ্যৎ

কালকে ছিল ঝরণা-নদী,
আজ সেখানে বোতলের জল।
কালকে ছিল বাঁশির সুর,
আজ সেখানে  ডি জে সুরগুল।।
কালকে ছিল গরুর গাড়ি,
আজ সেখানে হাজির মেট্রো-ট্রেন।
কালকে ছিল আকাশ ঘুড়ি,
আজ সেখানে উড়ন্ত প্লেন।।
কালকে ছিল বই-খাতা,
আজ সেখানে মোবাইল আর ট্যাব।
কালকে ছিলাম অনেক পিছু,
ঠিক ছিল তাও সব,
আজ এগিয়ে, তবুও ভেজাল
নেই কারোর কোনো রব।।

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক 

 দহন 

দহনের অতিশয় বাৎসল্যে ঘুরেফিরে পবননন্দনের 
সুখী-সুখী মুখটাই হয়েছে উজ্জল।
লঙ্কেশরের অবশেষে পুড়বেই মুখ,
              ভাগ্যের দরজায় দাঁড়িয়ে নাস্তানাবুদ!
চরম তৃপ্তি দগ্ধতার পরে সত্যি যেন কোহিনুর,
কল্পজারিত টইটম্বুর মনে একদিন পাবেই সুদ।
ক্রমবর্ধমান উজ্জ্জ্বলতা শয়নে-স্বপনে-সুখে 
পাখনা ছড়িয়ে নিমেষে তবুও হয় স্তব্ধ মিনার ,
ছুঁতেই পারি না লঙ্কাজয়ের অপার আশ্বাস 
ছুঁই ছুঁই করে বৃথাই  জাগে নাভিশ্বাস,
দগ্ধ সরণীতে আমি-ই তখন ব্যর্থ বুদবুদ। 

ছন্দা দাম

হৃদয়ের ঋণ

রঙগুলো হঠাৎ ফিকে হয়ে যায় 
রঙগুলো হয়ে উঠে রঙিন,
কার চোখে চেয়ে এই পৃথিবী ঐ
 আকাশ কখনো ব্রাত্য কখনো স্বপ্নলীন।
চুনরীতে আবির আজো লেগে আছে...
রঙ গুলো কেন হলো উচ্ছাসহীন,
আনছোঁয়া ছোঁয়া এতো গাঢ়ো যদি.. 
ছুঁয়ে যাওয়াদের রৃষ্টি হয় কতো রিমঝিম।।
নদীর ঢেউ তন্ত্রীতে কে যে সুর তুলে যায়...
ঝড়ো মাতাল হাওয়ায় বাজে তা ধিন ধিন,
ঋণ বুঝি তার সৃষ্টি স্তিতি প্রলয়ে...
তাকে ঋণী করা নাকি নিজের বাড়ানো ঋণ!
শিউলির ঠোঁটে কুয়াশার ছোঁয়া....
বুঝি কাশবন ঢেউ তোলে বলে কিছু কথা ক্ষীণ,
পাট করে তুলে রাখা তাঁতের শাড়িটার...
স্বপ্ন ভাঁজে ভাঁজে অবসন্ন কপালের ঘাম মুছবে কোন দিন!!!

প্রেমজিৎ সিংহ

বাংলা

পৃথিবীতে আছে, কত খন্ন্ডিত পর্ব। 
তাহার মাঝে , বাংলা মোদের গরব।।

থাকে অবশ্য খ্যাতি ।।

ভাষাতে আছে চলিত ও সাধু ।
মনে হয় শুনিলে খাইতেছি মধু ।।

বাংলা ভাষা আমাদের অতি মূল্যবান ।
মায়ের ভালোবাসায় হইলাম আমি পূণ্যবান ।।

বাংলা মায়ের চরণে রাখি হে সন্মান ।
বাংলায় মুগ্ধিত আমি চির প্রবাহমান ।।

একবার পাঠ করিও বাংলায় একটি ছন্দ ।
বাক্য না হারালে করিও সমানে দ্বন্দ্ব।। 

মায়ের পুষ্পের গন্ধ মুগ্ধ করে কানন  । 
মায়ের বিপদে হয়ে যায় আমরাও দশানন ।। 

বাংলা আমার মা, আমার ভালোবাসা। 
এই ভাষায় কোলাহল, কত মানুষের আশা।। 

মায়ের বুকেতে শহীদ, কত জীবন্ত প্রাণ। 
তাদেরকেই বলে, বীর ও মহান।। 

শ্রদ্ধা জানাই, সেই বীর - পুরুষদের। 
তাহারাই দিয়েছে স্বাধীনতা আমাদের।। 

ছড়িয়ে দিয়েছে তারা, বাংলাকে চারিদিক। 
সেটিই মায়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক।।
হোক সে ভাষা, হোক তব জাতি। 

মায়া রানী মজুমদার

দামী     

স্বল্প দামের মুকুটেরও স্থান হয় মস্তকে, 
দামী জ্ঞান,বিদ্যা সঞ্চিত থাকে পুস্তকে।
শৈশব থেকেই হয় শুরু জ্ঞান আহরণ, 
তবুও শিক্ষা অসমাপ্ত  থাকে আমরণ।
দামী শার্টপেন্ট পড়ে যায় না হওয়া বাবু, 
পড়াশুনা করেই তবে সাজতে হয় বাবু। 
ভালো আদব কায়দা ও কথার কৌশলে, 
সুখ্যাতি অর্জন করে জগতের সকলে। 
শরীরের কোন অংশের অঙ্গ, হয় যদি বিকল, 
অঙ্গের অভাব অনুভবে মন হয় অচল। 
যত দামীই হোক না কেন জুতো পদতলে, 
বড় ছোট সকলেই পায়ে নিয়েই চলে। 
আসল কথা দামী কথা একটাই  ভাই, 
দামী হয় সব কিছুই, যার তুলনা নাই।
বলতে হয় গুছিয়ে কথা তবেই হয় নাম, 
ছোট্ট একটা কথারও লাখ টাকা দাম।

অংকুর রায় অনিক

তবুও তুুুুমি এলে না

আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
পৃথিবীকে বাইশ বার ঘুরতে হলো সূর্যকে কেন্দ্র করে।
বাইশবার গাছে ফুটল কৃষ্ণচূড়া ফুল।
বাইশ বার কোকিলের কন্ঠে ভাষা ফিরল।
তবুও তুমি এলে না।
আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
বাইশটি ক্যালেন্ডার পরিবর্তন হলো।
বাইশটি বাজেট উত্থাপিত হলো।
বাইশ বার পরিবর্তন হলো
জীবনযাত্রার মান।
তবুও তুমি এলে না।
আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
বাইশটি নববর্ষ এলো।
বাইশ বার আম গাছে মুকুল এলো।
বাইশবার পরিবর্তন হলো
অতিথি পাখির বাসস্থান।
তবুও তুমি এলে না।
আমাকে বাইশ বছরী বানাতে
বাইশ বার ডেঙ্গু আক্রমণ করলো এই শহরে।
বাইশটি প্লাবণ দেখলো নিচু অঞ্চল।
বাইশ বার পরিবর্তন হলো হিসাবের খাতা।
শুধু তুমি পরিবর্তন হলে না।
আগের মতো অধরাই থেকে গেলে।

চিন্ময় রায়

প্রশ্ন

আকাশ তুমি কাঁদছো কেন?
কে তোমায়ে কি বলেছে?
উত্তরেতে আকাশ বলল,
দেখো ধরণীতে আগুন জ্বলেছে।
পৃথিবী আজ এত ক্লান্ত,
সূর্যের জেদ যে এত বেশি,
কেউ কি তা জানতো?
সেই দেখে আজ আকাশ বলল,
আমার কান্নার ফলে,
ধরনী আজ ভরে উঠবে সবুজ ফুলে ফলে।
সঙ্গে বইবে শীতল বাতাস,
মনে নিয়ে আনন্দ।
বর্ষা বাতাস এলে পরে,
সূর্যি হবে অন্ধ।

রূপালী রায় 

বিপক্ষে 

এই নিয়ে কতবার লেখাপড়া থামিয়ে 
পড়েছি দারুণ প্রেমে ,
বসে আছি সব গিলে
 ভাবনাকে  পুড়িয়ে । 
তারপরেও কতবার সব রঙ ছাড়িয়ে 
ঠেকেছে অবাধ্য মন 
 নীল রঙের শাড়িতে ।
লাল নীল কত রঙ 
ফ্যাকাসে আর চকিতে ,
চোখ শুধু যায় মোর 
চকচকে চকিতে ।
এই পথ সেই পথ 
সব পথ ছাড়িয়ে 
চোখ খুলে দেখি যখন 
সব গেছি হারিয়ে ।
নেই পথ নেই কথা
 মাঝপথে দাঁড়িয়ে 
বসে আছি সব ভুলে 
ভাবনাকে হারিয়ে । ।

অন্যনা ভট্টাচার্য

প্রান্তিক

নিঝুম রাতের চতুর্থ প্রহরে
যখন হাল্কা সবুজ আভা
ছড়িয়ে পড়ে, সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে
আমার কাছে জন্মান্তরের
বাঁধা পড়লে- প্রান্তিক।

ভবানী বিশ্বাস

মায়া জড়ানো মৃত্যু

এই যে আমরা হাসছি
তোমার বাঁশির সুরে মাতোয়ারা হচ্ছি
এ সুরে কেমন যেন একটা মাদকতা ভাব 
নেশাগ্ৰস্ত হয়ে তোমার কাঁধে ঝুলে পড়ছি বারবার
আর তুমি এসব নিরবে সহ্য করছো। 

বাতাসে কেমন একটা গন্ধকের গন্ধ
মাথা ঝিমঝিম, আদর আদর শিতলতা
পূর্ণিমার পূর্ণ আলো যেন শরীর ভেদ করছে
এই নির্জন প্রান্তে মনে হচ্ছে পেঁচাটা যেন
বিপদ সংকেত শুনে ডাকছে। 

ঠিক তখনই চাঁদের রুপোলি আলোয়
আমরা শেষ তাকিয়েছিলাম দুজনের দিকে। 
শরীর তখন একেবারে অবশ হয়ে আসছিল
তোমার বুকে শেষবারের মতো শুয়ে
শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলাম দুজনেই।

কল্যাণী ভট্টাচার্য

গ্রাম বাংলার পথ

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
আঁকাবাকা পথে,
চলে গেলো যে পথখানি
আল পথ সাথে। 

সেথায় তুমি দেখতে পাবে
খেঁজুর গাছের সারি,
মাছরাঙা ঐ ধরছে মাছ
জলেতে সারি সারি। 

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
পেরিয়ে তমাল শিমূল,
মাঝখানেতে বাঁশঝাড়
জারুল আর পারুল। 

রাখাল ছেলে বাজায় বাঁশি
ঐ যে দূরের মাঠে,
বিকোতে জিনিস গ্রামের মানুষ
চলছে দূরের হাটে। 

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
লীলাবতীর পাশ দিয়ে,
সেই খানেতে কাজলা দিদি
আজকে তার বিয়ে। 

ছোট নদীর পাশ দিয়ে
বলাকা সারি সারি,
ধান পাঠ আখ তার
মনোরম ভারি। 

আমার বাড়ি যাবে ভ্রমর
মেঠো পথটি বেয়ে,
কলাগাছের সারি সারি
গ্রামটি আছে ছেয়ে। 

সেথায় তুমি দেখতে পাবে
আম কাঁঠালের সারি,
তারই ফাঁকে ঐ দেখা যায়
সেই তো মোদের বাড়ি।।

মনচলি চক্রবর্তী

ইতিহাস

কালের অমোঘ নিয়মে সভ্যতা সংস্কৃতি,       আজ ইতিহাসের পাতায় তার শেষ পরিনতি।
যুগে যুগে সমৃদ্ধ শিল্প, অনেক ভাস্কর্য হয়েছে খোদিত।
কিছু আছে উজ্জ্বল অক্ষত আর সব ধ্বংস স্তুপে শায়িত।
রাজা রাজায় যুদ্ধ , ভ্রাতাদের মধ্যে  লড়াই সিংহাসনের। 
পলাশীর প্রান্তর আজও গুমরে কাঁদে, সাক্ষী বিশ্বাস ঘাতকতার।
রক্ত ঝড়েছে অনেক, মূল্য দিয়েছে প্রতারনার।
আজও আর্তনাদ জমে আছে, বুক ফাটা কান্না মানুষের ও যুদ্ধ প্রান্তরের,
যুগ যুগান্তরের ইহাই কাহিনী, ইতিহাস মানব প্রজন্মের।