Oct 31, 2023

তাপস শীল

পুকুরের প্রতিক্ষা

বছর কয়েক আগে গ্রামের বেশির ভাগ ছেলে মেয়েরাই পুকুরে স্নান করতো। তখন সবার বাড়িতে কল বা কুয়ো ছিলো না। পুকুরে স্নান করার সুখটা ছিল আলাদা। সকালে ঘুম থেকে ওঠে প্রাইভেট পড়তে যেতাম। ঠিক সাড়ে নয়টায় প্রাইভেট ছুটি হতো। দৌড়ে দৌড়ে বাড়িতে আসতাম কারন যত তাড়াতাড়ি আসা যাবে তত বেশি পুকুরে ডুবাতে পারবো। দশটার মধ্যেই স্নান ছেড়ে খাওয়া -দাওয়া, পোশাক পরে স্কুলের দিকে ছুটতে হতো। সবাই দিন গুনতাম রবিবার কবে আসবে তার অপেক্ষা। 

দীর্ঘ প্রতিক্ষা অবসান ঘটে রবিবার আসে। রবিবার দিন প্রাইভেট ও থাকতো না ব্যাস্; দুপুর বেলায় যে ঋতুতে যে ফল থাকতো সেই ফল ভর্তা করে খেয়েই পুকুরে ডুবানো আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ। একে একে সাঁতার কাটা প্রতিযোগিতা, কতক্ষন জলে ডুবে থাকা,  তা এক-দুই করে গুনতাম আরো থাকতো কতো কি!  এর ফাঁকে পুকুরে মালিক এসে অনেক গালাগালি করতো, মাঝে মাঝে পাথর ও মারতো, তারপর বাড়িতে নালিশ দিয়ে আসতো। তারপর ও আমরা চুপ করে মালিককে এড়িয়ে  করে সবাই মিলে ভেজা গায়ে হাসতে হাসতে চলে যেতাম।আর সবাই মিলে বলতাম সামনে রবিবারে আবার হবে...

আধুনিক যুগে এখন আর ছেলেমেয়েরা পুকুরে স্নান করে না, সাঁতার কাটতেও জানে না।আমাদের যেমন প্রত্যাশা পুকুরের ডুবানোর প্রতি তা আজ হারিয়ে গিয়েছে মুঠোফোনের ছোঁয়ায়।কিন্তু আজও পুকুরটা দিন গুনছে আধুনিকতার মাঝে পুরাতন কে খুঁজে পাওয়ার প্রত্যাশায়।