বুলবুলি
শরীফ এবং আয়েশার নিকার দেড় বছরের মাথায় সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।জেলা হাসপাতালে তিনদিনের হ্যাপা সামলে আজ বাড়িতে আনা হয়েছে , দু'জনেই উৎফুল্ল খুশি তাদের ভিন্ন ধর্মীয় আশ্রয় দাতা। বেবি সিটে মোড়ানো বাচ্চা কোলে নিয়ে সেবিকা হাকডাক করছে আয়েশার - কে আছে বাচ্চাটি নাও ! শরীফ তাদের আশ্রয় দাতাকে দেখিয়ে বললো উনি বাচ্চাটির দাদু উনার কোলে দিন । বাচ্চা কোলে নিয়ে লোকটি নাম রাখলেন "বুলবুলি" । সুসংবাদ শুনেও তাদের কোন পক্ষের কেউই দেখতে আসা তো দূর খোঁজ খবর পর্যন্ত কেউ নেয়নি । না নেবার ই কথা তাদের সম্পর্ক কোন পক্ষই মেনে না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে রাতের আঁধারে এক বস্ত্রে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছিল ।
আশ্রয় দাতা লোকটির কাজের লোক খুব দরকার ছিল , খোঁজ পেয়ে আলাপচারিতায় সহমত হওয়ায় কাজী ডেকে নিকা করিয়ে বাড়িতে তুলে নেন । দু' পক্ষের আমতের কারণ হল - আয়েশার মা তৃতীয় সন্তান প্রসবের সময় বাচ্চা সহ ইন্তেকাল হলে ওর বাবা নিঃসন্তান তালাক প্রাপ্ত এক মহিলাকে নিকার আয়োজন করে কিন্তু নিকার আগের রাতে তিন সন্তানের জনক শরীফের বাবা দলবল নিয়ে জোর করে ঔ মহিলাকে তুলে বাংলাদেশে নিয়ে নিকা করে । শরীফের মা অবজ্ঞা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে , শরিফরা তিনভাই বোন নানার কাছে আয়েশা ও একমাত্র ভাই বোয়ার কাছে অবহেলায় বড় হতে থাকে । তখন থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে সপে নেওলে সম্পর্ক ।
গ্রামের দু'য়েকজন মহিলা বাচ্চা দেখতে এসে দেখতে পায় শরীফ তার ঘুমন্ত শিশুকে কোলে নিয়ে নিষ্পলক চেয়ে আছে , দুচোখে আনন্দ অশ্রু টলটল .. টলটল...।