সহজ সমাধান
শিয়র এর পাশেই একটা গাছ রোপণ করেছিলাম। এরপর কয়েক বসন্ত কেটে গেলো। বসন্ত এলেই সমস্ত পাতা ঝরে যায় কিন্তু একটি পাতা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। জন্মলগ্ন থেকে সে পাতার আর স্থানচ্যুত হয়নি কখনো। সে পাতায় বহুকাল ধরে সালোকসংশ্লেষ প্রায় হয়না বললেই চলে। ধীরে ধীরে হলুদ বর্ণ ধরে যাচ্ছে বছর তিনেক ধরেই। হঠাৎ তাকে একদিন বিবর্ণতায় বেঁচে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করতেই সে জানালো এমন উত্তর দেওয়ার মতো শব্দ এ পৃথিবী আবিষ্কার করতে পারেনি।
বুঝলাম কোনো এ প্রশ্নের উত্তর তার জানা নেই। শুধু হলুদ বিবর্ণতার মাঝে মাঝে ক্ষাণিকটা সবুজের ছিঁটেফোঁটা ঘিরে প্রতি বসন্ত শেষে আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখে সে।
জীবনের কঠিন উত্থান পতন উপেক্ষা করে কেবল মায়ায় জড়িয়ে বসন্তের পর বসন্ত দিব্যি কাটিয়ে দিচ্ছে। পরিশেষে আবার জানতে চাইলাম এ জীবনের শেষ কোথায়? অমলিন ভাবে হেসে জানালো শেষ শুরু ভেবে কখনো কোনো কাজ করা যায় না। শরীরে যে কিছুটা সবুজের ছিঁটেফোঁটা আছে হয় সেগুলো প্রাধান্য পেয়ে আবার পুরো সবুজে ভরে উঠবে নয়তো হলুদ এর প্রাধান্যে বৃক্ষ ত্যাগ করবে। শুনে খুবই সহজ সমাধান মনে হলেও জীবনের এমন সহজ সমাধানে আসতে যে কাঁটা পথগুলো পেরিয়ে আসতে হয় সেগুলোর অভিজ্ঞতা বাস্তবে কারোর উপভোগ্য না হলে প্রায় বিবর্ণময় পাতার গল্প আমাদের চেতনায় সেই সরলতার ছাপ ফেলতে পারবে না কখনোই।।