তরুনী নদী
আমার একটা নদী আছে। একান্তই আমার। নিজের সম্পদ বলতে সেই নদীই। তাকে স্বযত্নে পুষি হৃদয় কোঠায়। হেমন্তকালে সে উজ্জীবিত হয়। নাম রাখি তরুণী।বহুবছর ধ্যানবিষ্ট কোনো এক সন্ন্যাসীর মতো একটা অশ্বত্থ গাছ পাহারা দেয় তাকে। তরুণীর বুক পবিত্র হয় তার ঝরাপাতায়।শরতের শিশিরবিন্দুর সাথে মিশে সে ধীরে ধীরে পুষ্ট হয়। সে হাসে খিলখিলিয়ে।যা আমার সুখের রসদ যোগায়।হেমন্তে তার পাড়ের বাঁশপাতা ঝরে পড়ে । তার স্বচ্ছ জলে দেখা যায় নিজ রূপে মশগুল নার্সিসাস। চারিদিকে মাঠ জুড়ে কাটা ধানের গন্ধ।কৃষকের ঘামে মাখা পথঘাট।প্রশান্তিকর একটা পরিবেশ।
আমার একান্ত নিঃসঙ্গতাগুলো তাকে দিই। সে আপন করে নেয়। তার জন্ম হয়েছে বেশিদিন হয়নি। আমার মতনই সে নতুন এ জগতে। মাঝি ভাটিয়াল গায়না এখানে। সূর্যোদয়ের দৃশ্য যদিও দেখা যায় না তবে তার অস্ত যাওয়ার রক্তিম আভা বেশ আবিষ্ট করে রাখে।আমি তার পাড়ে বসে দেখি এসব।এখানে বসে তৃতীয়ার একফালি বকফুলি চাঁদ দেখা যায় দূরে বহুদূরে আবছা এক পাড়াগাঁয়ের উপর।শোনা যায় "চোখ গেল'' বলে রাতপাখির ডাক।....
ভাবি,এসব উপহার দেব তোমায়। আমার একান্ত বলতে এসব ছাড়া আর কিছুই নেই। তোমার যাপন ক্ষমতা বহুদূর বিস্তৃত। তুমি চাইলেই বানাতে পার এমন হাজারো পাহাড় নদী সমুদ্র। কিন্তু আমি আমার সবটুকু দিয়েই বানিয়েছি আমার তরুণী নদীকে। তুমি নেবে?