বোধন...
অবশেষে কি না তোর মতো একটা ব্রাইট ছেলে এরকম একটা কাজ করলি? তোর থেকে এমন কাজ কোনোদিনই আশা করিনি। তোকে আমি অনেক ভরসা করতাম, বিশ্বাস করতাম আর তুই কিনা আমাদের না জানিয়ে এই মেয়েকে বিয়ে করে আনলি অনুপ, আমি তোকে কিচ্ছু বলতাম না যদি না এই মেয়ের সাথে...
তুমি কি ভাবলে, আমি কিছু না জেনেই ওকে বিয়ে করেছি না মা আমি ওর সবটা জেনেই ওকে গ্রহন করেছি।
ওর কি দোষ বলো মা ওর ফিউচার ও তো আমাদের মতোই ব্রাইট ছিলো, তবে এখন কেন ওকে অন্ধকার জীবন নিয়ে গোটা জীবনটা কাটাতে হবে? কেন মা বলো কেন? সেদিন রাতে তো পল্লবীর কোনো দোষ ছিল না! সেদিন সন্ধ্যায় নাচের শো টা শেষ করেই আমাকে ফোন করেছিল...
হ্যাঁ বলো পল্লবী, এই যে এই মাত্র আমার শো শেষ হলো, তোমাকে কত করে বললাম আসতে এলে না...
কি করবো বলো অফিসে কাজ পরে গেছে, পরের বার যখন শো হবে আমি নিশ্চয়ই আসবো, তো এখন বাড়ি ফিরবে কি করে?
এই তো মাত্র সাতটা বাজে, অটো করে ঠিক বাড়ি পৌঁছে যাবো তুমি চিন্তা করো না এখন রাখি ফোনটা...
সেদিন যদি আমি ওর ফোনটা রিসিভ করতাম, হয়তো কোনো ভাবে সেদিন ওকে নরপিশাচ গুলির হাত থেকে বাঁচতে পারতাম, আর যখন কল ব্যাক করি ততক্ষণে যে ওর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে... কেন ঐ নরপিশাচ গুলির শিকার হতে হলো ওকে?
আর এখন কেন ই বা ও এই অন্ধকার জীবনটা কাটাবে?
যদি অন্ধকার জীবন কেউ কাটায় তাহলে কাটাবে ওই পাপী গুলো পল্লবী নয়, ও আগে আমার কাছে যতটা পবিত্র ছিলো এখনও তাই আছে।
ও নিজেকে কেন বিনা দোষে শুভ অনুষ্ঠান আনন্দ থেকে দুরে রাখবে? আমি আমার সিঁদুরে নতুন করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে শেখাবো, তোমার চিন্তা তো আমায় নিয়ে তাই না? আমি ওর সাথে ভালো থাকবো মা, আজ তো বিজয়া, আমি চাইনা ওর আনন্দ, উল্লাস, ভালো থাকার অধিকার মায়ের সাথে বিসর্জন হয়ে যাক, যদি বিসর্জন হবার ই হয় তাহলে মানুষ রূপী পিশাচ গুলির বিসর্জন হবে, তুমি ওকে মেনে নাও মা।
আমার ভালোবাসাকে আমি বিনা অন্যায়ে বিসর্জন হতে দেবো না, আমার সিঁদুরে রাঙ্গা করে আমি এভাবেই বোধন করবো আমার ভালোবাসার। যাতে আমার সিঁদুরের শক্তি একে অশুর বিনাশে শক্তি দেয়...
শুভ শক্তির জোরে বারবার যেন অশুভ শক্তি বিনাশ হয়।