Apr 29, 2023

অপাংশু দেবনাথ

নিষাদ নন্দিনী

মানুষ নদীর কাছে ফিরে যায় একা,
সব অবসাদ তার পায়ের কাছে রেখেই 
হেসে ওঠে পুনরায়।

ঊনকোটির ভাস্কর্য দেখায় সে কাকে?
বেটলিং শিবের উচ্চতা জানিনা বলেই 
নীরমহলের গভীরতা মাপতে শিখিনি।
জলপ্রপাতের কথা বলে রাইমা ও সাইমার 
কাছে নিয়ে যায় তবু অন্য অভিসারে। 
জরাজীর্ণ হাওড়ার কথাও নির্দ্বিধায় বলে ওঠে।

সব ব্যথা কাটিয়ে সে আলোকিত প্রভাত এখন।আমি সীমান্তের কথা বলি, স্বপ্নের কথাও।

দৃশ্যান্তের শেষে মায়া জড়িয়ে থাকে মোহিত চোখে,
বিশ্বাসে ভিক্ষাপাত্রে ভরেছি। 
সব ভাণ্ড রেখে একদিন ফিরে যাবো বাড়ি।

কখনো সমুদ্র দেখাবে সে। 
ডুবে যাবার আগে সাঁতার শিখে নিতে হয়,
এ কথা বলেছে সঙ্গোপনে, কোনো ইতিহাস পূর্ব অন্ধকারে। 
খেয়ালে বন্যা এনেছে, নদীধর্ম এমনই তো হয়,
মুগ্ধ চরাচর রূপে বেখেয়ালে ডুবে যাই। 
বুকে জমে থাকে কিছু বালি,
মরাকাঠ,জলে ভাসে অর্জিত-তর্পণ!

আমাকে পললভূমির কথা বলে অভিসারে।

আমি বলি,জেনেছো কি  নিষাদ নন্দিনী!কাপালিক-জীবনে একবারই তো স্নান হয় এমন!

শৌভিক বাগচী

 মৃত্যু 

চলতে চলতে থেমে যাওয়া টাই
কি  মৃত্যু ?

হিমশীতল ছাওয়ায় 
দুদণ্ড জিরিয়ে নেওয়াকেই কি 
চলে যাওয়া বলে ?

 তমিস্রার  অতলে আলোর 
কৌণিক দূরত্বে কি অমরাবতী 
তৈরি করে মৃত্যু ?

যাপিত  ছন্দের আকাশ ভেঙে পড়া 
যদি মৃত্যুই হয় ,
তাহলে এমন মরণের সারি 
ঘিরে আছে চারিধারে .....

ছায়ার মতো ভিড় করে আছে সেখানে 
লোক ,মানুষের সাথে যার 
যোজন ফারাক ।

অমোঘ যতিপাতে সে 
মিশ্রবৃত্ত মেলায় 
তুচ্ছতার চোরাবালি তলে ,

কি বলবো তাকে ??

কুশল ভৌমিক

এসো ভালোবেসেই মরি


এই উন্মুক্ত আকাশ আমাদের মাতৃভূমি। 

ফ্রগ পরা মাছরাঙাদের পিঠ দেখিয়ে 
পুকুরের জলে শুয়ে থাকে চাঁদ 
চাঁদ ও আকাশের দূরত্ব 
ছুঁয়ে দেয় আমাদের নরম শরীর।

আমাদের জ্যোৎস্নাস্নানে ধন্য হয় রাতের আকাশ।

মিটমিট তাকিয়ে থাকা লাজুক তারাদের দিকে
দু' হাত তুলে বলি-

কী অপূর্ব এই বেঁচে থাকা!

আমাদের মৃত্যুর ভয় নেই।
মৃত্যুর ভয়ার্ত চাহনিকে পাশ কাটিয়ে 
আমরা ধরতে জানি পরস্পরের হাত
অবিশ্বাসের পৃথিবীতে আমরা বিশ্বাস ফলাই
খুব ছোট এই জীবন নামের রেলগাড়ি
পরস্পরের অভিমুখে আমাদের আনন্দ ভ্রমণ। 

আমরা ভালোবেসে বেঁচে উঠি প্রতিদিন 
ভালোবেসে প্রতিদিন মরে যাই।

বিল্লাল হোসেন

মাটি

মাটি জানে কতটা পথ বাঁধা আছে 
পায়ে আমার
পথিকের পায়  
কতটা পথ হাঁটলে তবে পথিক হব।

কতটা পথ হাঁটলে বোধিবৃক্ষের 
কাছে পৌঁছোব
মাটি জানে 
কবে হবে আমার মহাপরিনির্বাণ।

রুদ্র মোস্তফা

আমি কোনোদিন প্রেমিক হতে পারিনি 

আমি এক হতে গিয়ে একের ভেতর হয়েছি অসংখ্য
অথচ আমি এককভাবে শুধু প্রেমিক হতে চেয়েছি।
প্রেমিক হলে নিশ্চয়  হত্যা করতে পারতাম না তনুকে
নিশ্চয় বিচার করতাম ত্বকী কিংবা সাগর-রুনি হত্যার
অমন দাউ দাউ আগুনে পুড়িয়ে মারতাম না নুসরাতকে
কিংবা আটকে দিতে পারতাম মুনিয়ার মৃত্যুও।

আমি প্রেমিক হতে গিয়ে হয়েছি ডাক্তার
আমার হাতেই বদলেছে মৃতের ময়নাতদন্ত— 
আমিই হয়েছি সাংবাদিক অথবা পুলিশ অফিসার
আমার হাতেই ঘটনা ঘুরেছে ভিন্নখাতে— 
হয়েছি ইঞ্জিনিয়ার,ভবন ধসিয়ে মেরেছি মানুষ
আমিই হয়েছি শিল্পপতি, হয়েছি খুব বড়ো আমলা 
আমি প্রেমিক হতে গিয়ে হয়েছি উকিল
জজ,ব্যারিস্টার অথবা আর যা যা হওয়া যায় 
তার সবই হয়েছি— শুধু প্রেমিকই হতে পারিনি।
কেননা, প্রেমিকেরা হয় অন্যরকম 
             
তাদের বুকের ভেতর থাকে প্রেম,থাকে নিজস্ব শ্রম 
হৃদয় খুঁড়ে তারা উত্তোলন করে মুঠোভরা মায়খনিজ 
প্রেমিকদের হতে হয় ভীষণ রকমের শ্রমিক।
আমি কোন দিন প্রেমিক হতে পারিনি  । 
মোহ দিয়েছে বাধা,ক্ষমতা আটকে দিয়েছে পথ—
অথচ আজীবন আমি শুধু প্রেমিক-ই হতে চেয়েছি!

আব্দুল গফফার

মেয়েটির নাম লাঞ্ছিতা

অসহায় মেয়েটির নাম লাঞ্ছিতা,
সাবালকত্ব আসেনি তখনও!
পার হতে হয় পরের ঘরে,
অনেক সুখস্বপ্ন নিয়ে ঘর বেঁধেছিল সে,
চারহাত এক করে জীবন কাটাবে।

জীবনটা যে অর্থ আর ভোগ লালসার শিকার,
পরতে পরতে বুঝেছিল যখন সে অন্তঃসত্ত্বা!
জীবনের সর্বস্ব দিয়ে লাঞ্ছিতা আজ বড় অসহায়,

শুভ পরিণয়ের পর ভালোবাসার সাগরে, 
ভেলা বেশ ভালোই ভেসেছিল
কিন্তু ছন্দপতন ঘটে যেদিন সে গর্ভবতী হয়,
যেদিন তার কোল আলো করে কন্যাসন্তান আসে।
পরিবার প্রিয়জনের লাঞ্ছনা আর গঞ্জনা
সইতে সইতে প্রাণ ওষ্ঠাগত।

কন্যাসন্তান প্রেম ভালোবাসা পরিণয়,
এই সকল শব্দগুলি বিধির নিয়মে লেখা আছে-
নারীজাতির এই অধ্যায় ইশ্বরপ্রদত্ত এবং সহজাত।
তাও কেন লাঞ্ছিতা বড় অসহায়!!

চন্দন পাল

সাহিত্য প্রতিভার ভাবনায় 

ত্রিপুরার সাহিত্য জগতে বাংলা ভাষায় কৃতিত্বের দৃষ্টান্ত রেখেছে বাইখোরার সুমন পাটারী। ২০২২ যুব পুরুস্কার, যা বিভিন্ন রাজ্যের নজর ও গুরুত্ব কেড়েছে।

  আরও কত কৃতি,  যুব থেকে বয়স্ক হয়ে গেছেন, আবার ভবিষ্যতে হয়ে যাবেন সঠিক সন্ধান ও বাঁছাইয়ের অপূর্নতায়। এই বাঁছাই  ত্রিপুরা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের একটি উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব বলে মনে করি। আমরা জানি সাহিত্যপ্রেমী সুসমাজের সুসৈনিক। তারা সংখ্যায় যত বাড়বে ততই সমাজ দূষণমুক্ত হবে। শালিনতায় গতিমান হয়ে অন্যদেশের সাথে স্পর্ধাতুল্য চমক হবে। তাদের লালন সরকারের পিতৃতুল্য ভূমিকা বলে মনে করি দেশের স্বার্থে । এ ভূমিকা শুধু সাহিত্যে নয় সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে,, যেমনঃ নাচ গান খেলা কলা সেবা ইত্যাদি ইত্যাদি। 

  অবশ্যই স্থানীয় বোদ্ধা মহলের সহযোগিতা ছাড়া এ বাছাই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে প্রতি জেলা বা মহকুমা থেকে তিনজন প্রথম সারির বা দ্বীতিয় সারির প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এগিয়ে আসতে হবে যাঁরা গড়িষ্ঠমান্য ও অধিকতর নিরপেক্ষ। একটি লেখা তিনজনের কেউ একজন বুঝতে পারেনি! তা হতেই পারে না। বোদ্ধারা সাহিত্যপ্রেমী, পাঠক, প্রকাশক, অধ্যাপক, সাংবাদিক, তথ্যআধিকারীকও হতে পারেন, এবং তাঁদের মান্য প্রচারও থাকবে। 

নির্বাচিত বোদ্ধাদের পরিচয় গোপন রাখা এবং তাঁদের  মাসিক বা বাৎসরিক সাম্মানিক দেওয়া আবশ্যক মনে করি, কারণ কাজটিতে মানসিক চাপ আছে। 

  কাজটির বিভিন্ন শাখা থাকবে ও প্রতি শাখায় নম্বর পদ্ধতি দেওয়া থাকবে। তিনজনের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে যে বেশি হবে সে বছরের সেরা ক্রমিক  হিসাবে গন্য হবেন। তাদেরও বাৎসরিক সাম্মানিকের ব্যবস্থা প্রয়োজন, উৎসাহের লক্ষ্যে। এখানে বিচারকও সাহিত্য রচকের দলে থাকতে পারবেন। আর যদি বিচারক সেরা নির্বাচিত হন সেক্ষেত্রে তার প্রাপ্ত সাম্মানিক অর্ধেক হলেই ভাল হবে কারণ তাঁর একটি বাঁধা সাম্মানিক রয়েছে।

যে শাখাগুলি বিচার করতে হবে,,, (১০ নম্বরের মধ্যে) 

 সেগুলি হতে পারে,,১)লেখা ও আচরণের মিল, ২)নিয়মিত কিনা, ৩)বিষয়বার্তার গুরুত্ব, ৪)শিল্পেররূপ, ৫)গঠনপ্রয়োগ, ৬)ভাষা'র সেবা, ৭)শুদ্ধ ও সচেতন সাহিত্যের মাত্রা,,, ইত্যাদি ।এছাড়া আরও কিছু বিষয় সংযোজিত হতে পারে।

   গল্প প্রবন্ধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাময়িকী পত্রিকা বই ও মুঠোফোনে সক্রিয়তার পাশাপাশি উপরোক্ত শাখাগুলির  অর্জন দেখা যেতে পারে ।

নমিতা সরকার

যত্নের যাতনা রঙ

আমার কষ্টগুলো কাউকে দিইনা, এগুলো দিয়ে জলরঙের ছবি আঁকতে ভালোবাসি, আকাশের রংধনু বদলে যেমন নীলের মেলায় ডুবে যেতে যেতে মেঘের বুক চিরে যেমন বর্ষা নামে তেমন করে আঁকিবুঁকি করি হৃদপিণ্ডের পাথর হওয়া টুকরো মাঝে।
পাথরের টুকরো গুলোও ডুবতে থাকে নোনা সমুদ্রের অতলে তবুও সেখানে স্বপ্নেরা চিত্র আঁকে জলজ উদ্ভিদের মতো। 
কোনো একটা সময় যেমন ডিসকভারির দৃশ্যপটে সেজে ওঠে আশ্চর্য সৌন্দর্যে। 
অবাক হয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে জেগে ওঠে কিছু সুখ নোনা সৈকতে ঝিনুকের বুকে মুক্তার অন্তরে।

নিয়তি রায় বর্মন।

দোল বা বসন্ত – যা বহিবাংলায় ও বিশ্বে হোলি নামে পরিচিত

শীতের রুক্ষ শুষ্ক দিনের অবসান ঘাটিয়ে ঋতুরাজ বসন্ত আসে। ফাল্গুন-চৈত্র দুই মাস বসন্ত কাল। ক্যালেন্ডারে ফাল্গুন মাস শুরু হতেই যেন প্রকৃতি জগৎ বদলে যায়। গাছে গাছে কচি সবুজ পত্র, আম্রমুকুল, কোকিলের কুহুতান। পলাশ, শিমুল, রঙ্গন, কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দেয়। কাঁঠাল গাছে মুচির ঝাঁক— অদূর ভবিষ্যতে রসালো ফল যাবে ঘরে ঘরে ভোজন রসিকের রসনা তৃপ্ত করতে। দোলযাত্রা উৎসব শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব নামে পরিচিত। এই নামের প্রচলন করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ – ১৯৩২ সালে। প্রথমে ঘরোয়াভাবে হতো— ক্রমে এর বৈচিত্র বৃদ্ধি পায়। শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসবে প্রাক্তনীসহ বহু মানুষের ভিড় হয়। যে শৈল্পিক ও নান্দনিকতায় সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তা উপভোগ্য এবং শিক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে ধর্মের খুঁতমার্গ, সামাজিক বিধিনিষেধ বা লোকাচারের বাড়াবাড়ি কিছুই ঘেঁষতে পারেনি। বসন্ত উৎসব আন্তরিক, অমলিন এবং আনন্দের উৎস।

১৯০৭ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি, বসন্ত পঞ্চমীতে রবীন্দ্রনাথের কনিষ্ঠ পুত্র স্বল্পায়ু শমীন্দ্রনাথের উদ্যোগে শান্তিনিকেতনে ঋতু উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এরই পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত রূপ বর্তমানের বসন্ত উৎসব। এর সূচনা সরস্বতী পূজার দিন শুরু হলেও পরবর্তী সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিদেশ সফর ইত্যাদি কারণে দিনক্ষণ পরিবর্তন হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন হতো অত্যন্ত আনন্দ ঘটা করে। নববর্ষ ও বসন্ত উৎসবের মতো কোন ধর্মীয় আচার অনুমোদন পায়নি। নববর্ষের দিনে গণেশ পুজো হাল খাতা, আমপাতা, সিঁদুর, পঞ্জিকা ছাড়াও যে নববর্ষ আনন্দ উৎসবে পরিণত হতে পারে তা রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষা ও বাঙালি সমাজকে শিখিয়ে গেছেন। ধর্মীয় অনুষঙ্গ ব্যতিরেকে রবীন্দ্রনাথের ভাবনার বসন্ত উৎসব ও বর্ষবরণ এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে আজকের বাংলাদেশ। ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উৎসবে পরিণত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে যে বসন্ত উৎসব চালু করেছিলেন তাতে যে শিক্ষণীয় দিকটি রয়েছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ছাত্রছাত্রীদের দলগতভাবে যে নাচ, গান, নাটকের মহড়া দেওয়া এবং উপস্থাপন করা হয় তা এখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সম্প্রীতির বাণী – ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৌভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। আনন্দ— যে আনন্দে কোন ক্লেদ নেই— অনাবিল। কোন ধর্মীয় আচার, সংস্কার বা কুসংস্কারের কোন বেড়াজাল নেই। “ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল”- এই গান দিয়ে সকালে শাইন্তনিকেতনে বসন্ত উৎসব শুরু হয়। ছাত্রছাত্রীদের সাজ পোশাক ও ফুলের ব্যবহার লক্ষ্য করার মতো। ছোট ছোট মেয়েদের বাসন্তী রঙা শাড়ি পড়ে সারা শরীরে ফুল দিয়ে সেজে গান ও নাচের ভঙ্গিমা মুগ্ধ করে। এ এক অপরূপ কলা প্রদর্শন।

রঙিন বসন্তকে আরো রঙিন করে তোলে দোল খেলা। দোলযাত্রা বা হোলি উৎসবের পৌরাণিক উপাখ্যান রয়েছে। দোলযাত্রার আগেরদিন বহুৎসব হোলিকাদহন বা নেড়াপোড়া। ভাগবত পুরাণে আছে অসুর রাজা হিরণ্যকশিপুর অমর হবার সাধ জাগে। এই উদ্দেশ্যে তিনি ব্রহ্মার ধ্যানে বসেন এবং যথারীতি বর প্রাপ্ত হন। এই বর লাভ করে দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত অহঙ্কারি ও উদ্ধৃত হয়ে ওঠেন। অমরত্ব পেয়ে তিনি ঘোষণা দেন কেবল তাকেই দেবতা হিসাবে পূজা করতে হবে – অন্য কোন দেবতাকে নয়। যদি কেউ তার আদেশ অমান্য করে তবে শাস্তি পাবে এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। কিন্তু হিরণাকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ পিতার সাথে সহমত হননি এবং পিতাকে পূজা করতে অস্বীকার করেন— কারণ প্রহ্লাদ বিশ্বভক্ত, বিষ্ণুপূজাই তিনি যথারীতি চালিয়ে যান।

এতে হিরণ্যকশিপু রাগান্বিত হয়ে পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। হিরণ্যকশিপু বোন হোলিকার কাছে এ বিষয়ে সাহায্যপ্রার্থী হন। হোলিকাও অমরত্ব লাভ করেছিল ব্রহ্মার নিকট থেকে। দেবহতাগণ রাক্ষসদের অমরত্ব বর সহজে দিতেন না—আর দিলেও এর মধ্যে নানা ফাঁকফোঁকর থেকে যেত। হোলিকা আগুন থেকে রক্ষা পাবার জন্য বর হিসাবে একটা বিশেষ পোশাক পেয়েছিলেন। এই সুযোগের সদব্যবহারের উদ্দেশ্যে হিরণ্যকশিপু পুত্র প্রহ্লাদকে বোন হোলিকার কোলে বসিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন যাতে প্রহ্লাদ আগুনে পুড়ে মারা যান আর হোলিকা বেঁচে যান।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল আগুন লাগানোর পর পোশাকটি হোলিকার গা থেকে প্রহ্লাদের শরীরে ওঠে যায়। এতে প্রহ্লাদ আমদানি বেঁচে যান আর হোলিকা দগ্ধ হয়ে মারা যান। এতে হিরণ্যকশিপু জব্দ হলেন। এদিকে বিষ্ণু শিষ্য প্রহ্লাদের জীবন রক্ষা পেয়েছে দেখে তিনি নৃসিংহ অবতার রূপে (অর্ধমানব- অর্ধসিংহ) গোধূলি লগ্নে (দিন ও রাতের মাঝামাঝি সময়ে) আবির্ভূত হন এবং ঘরের চৌকাঠে নিয়ে যান হিরণ্যকশিপুকে এবং নিজের কোলে বসিয়ে (না বায়ুতে না স্থলে) তার পেটের নাড়িভুড়ি বের করে হাতের থাবা বসিয়ে হত্যা করে। অর্থাৎ অস্ত্রশস্ত্র কিছুই ঐ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়নি। এভাবেই বিঘ্ন অবতার (নৃসিংহ) প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন এবং দৈত্য রাজ হিরণ্যকশিপুকে হত্যা করে মানবজাতির স্বস্তি বিধান করেন। অর্থাৎ অশুভের ওপর শুভের জয়। বর্তমানে হোলির পূর্বদিনে হোলিকা দহন বা নেড়াপোড়া উৎসব এ ঘটনারই ইঙ্গিতবাহী। অশুভের বিনাশ করে শুভের সূচনা।

দুষ্টের দমন এবং ভক্তদের রক্ষার জন্য শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় দোল উৎসবের সূচনা করেছিলেন। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে সকল বর্ণের মানুষকে আবির এবং রঙ খেলার মাধ্যমে এক করে নেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। শ্রীকৃষ্ণের প্রস্তাবে নন্দরাজা সানন্দে রাজি হন। যমুনা নদীর তীরে মাটি দিয়ে তিন ধাপ বিশিষ্ট দোলের বেদী বানানো হয়। দোলের বেদীর প্রথম ধাপে অর্থাৎ সর্বোচ্চে বসবেন শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকা। গোপ বালক বালিকারা আবির রঙ দিয়ে দোলের বেদী রাঙিয়ে দেবে এবং শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকার পূজা করবে। সংকীর্তন করবে- “ রাধে কৃয়, রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ রাখে রাখে।” উপস্থিত সবাই নিজেদের মধ্যে রঙ খেলবে এবং গুরুজনদের রঙ দিয়ে প্রণাম করবে। দোল উৎসবটি হিন্দুদের একটি অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। হিন্দু শাস্ত্রে রঙের একটা বিশেষ গুরুত্ব আছে। বিভিন্ন পূজায় ঘটের নীচে আলপনা দেওয়া হয় পঞ্চ রাঙে। এই পঞ্চ রঙ্ হলো— চালের গুড়া দিয়ে সাদা রঙ, লাল জবা ফুল শুকিয়ে গুড়া করে লাল রঙ, বেলপাতা শুকিয়ে গুড়া করে সবুজ রঙ, শসাহীন ধান পুড়িয়ে গুড়া করে কালো রঙ। 

বর্তমানে অসাধু ব্যবসায়ীগণ নানা রাসায়নিক উপাদান দিয়ে রঙ তৈরি করে— যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব কৃত্রিম রঙ থেকে চর্মরোগ, চোখ জ্বালা এমনকি অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। দোলযাত্রা একটি হিন্দু বৈয়ব উৎসব। এটিই বহির্বঙ্গে হোলি নামে পরিচিত। বৈপ্লব বিশ্বাস অনুযায়ী ফাল্গুনি পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকুয় আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপিনীর সঙ্গে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। ঐ পরম্পরা থেকে দোল পূর্ণিমা দিন রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে নগরকীর্তনে ভক্তরা বের হয়। নারীপুরুষ সকলে এতে অংশ নেয়। দোল পূর্ণিমার আগের দিন বাৎসব বা হোলিকাদহন হয়। বাংলা অঞ্চলে দোল উৎসবটি দোল পূর্ণিমার পরদিন অনুষ্ঠিত হয়। আর 'হোলিকা' থেকে 'হোলি' নামটি এসেছে। বাংলার দোল উৎসবটি সারা বিশ্বে 'হোলি' নামে পরিচিত।

দেশ বরেণ্য দেশজয়ী পন্ডিত "নদের নিমাই' জন্মেছিলেন মায়াপুরে ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনি পূর্ণিমাতে। পিতা বৈদিক ব্রাহ্মণ জগন্নাথ মিশ্র নাম রাখেন 'বিশ্বন্তর'। মাতা শচীরানি আদর করে নাম দেন 'নিমাই'। এ নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। গায়ের রড় অত্যন্ত ফর্সা বলে তাঁকে 'গৌর নামেও অভিহিত করা হত। মাত্র ষোল বৎসর বয়সে তার্কিক পণ্ডিত নিমাই গয়া যান পিতার পিণ্ডদান করতে। সেখানে বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ ঈশ্বর পুরী মহারাজের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। মহারাজ নিমাই এর মধ্যে স্বয়ং কৃষ্ণের রূপ দর্শন করেন এবং তাকে দীক্ষা দেন। দীক্ষান্তে নিমাই এর মধ্যে কৃয়প্রেম জাগ্রত হয়। নদীয়ায় ফিরে এসে সকল বৈয়বদের সাথে নিয়ে সংকীর্তন শুরু করলেন। এই আচরণে কোন উচ্চ-নীচু ভেদ ছিল না। পাণ্ডিত্বের লড়াই, পাঠশালা ত্যাগ করে হরিনামে সবাইকে এক সারিতে নিয়ে এলেন। নিত্যানন্দ প্রভুর সঙ্গে পরিচয় হলে “গৌর-নিতাই” এই দুজন সমস্ত সংকীর্তনের পুরোধা হয়ে যান। বৈদিক ব্রাহ্মণকুলে জন্ম গ্রহণ করে এভাবে নীচ জাতের সঙ্গে সংকীর্তন করা ব্রাহ্মণরা মেনে নেননি।

নিমাই পণ্ডিত বুঝেছিলেন মানুষে মানুষে ভেদ থাকলে মানুষের বা সমাজের উন্নতি হতে পারে না। মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি প্রেম ভালোবাসা জাগানো দরকার। পরস্পরের জীবনের সমস্যা পরস্পরকেই জানতে হবে— তবেই সমাধানের রাস্তা পাওয়া যাবে। শান্তি বজায় থাকবে। একমাত্র ভালোবাসা দিয়েই মানুষকে বাধা যায়। অসহায়কে দান করলে তা সম্মানের সঙ্গেই করা বাঞ্ছনীয়। মাত্র চব্বিশ বৎসর বয়সে কেশব ভারতীর নিকট থেকে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। তারপর তিনি গৃহ ভাগ করে বৃন্দাবন যাবার জন্য মনস্থির করলে মাতা শচিরানির আদেশে জগন্নাথ ধাম পুরীতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি হরিনাম সংকীর্তনে উঁচু-নীচু সকল মানুষকে এক সূত্রে গাঁথার কাজ শুরু করেন। মানব প্রেম ছড়িয়ে দেন। কিন্তু তথাকথিত ব্রাহ্মণদের তা পছন্দ হয়নি বলে তাঁকে রুষ্ট রোষে পড়তে হয়। তাঁর মৃত্যুটা রহস্যময়। গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু পুরীতে থাকার সময় প্রতি বছর বসন্ত পূর্ণিমায় ভক্তদের নিয়ে নগর কীর্তনে বেরিয়ে পড়তেন।

ভক্তদের আন্তরিক প্রয়াসেই দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্তত শতাধিক দেশে দোল উৎসব বা বসন্ত উৎসব বর্তমানে উদযাপিত হচ্ছে। দেশ বিদেশের মানুষ স্বীকার করে নিয়েছে এই উৎসব প্রেমের, হৃদয়ের এবং ভালোবাসার। মানব বৃত্তির জাগরণ, রাক্ষস বৃত্তির নাশ। এই বিশ্বাস নিয়েই বসন্ত উৎসব বা দোল খেলা বা হোলি অদ্যাবধি উদযাপিত হচ্ছে। এর প্রচার ও প্রসার বেড়েই চলেছে।

মধুরা বৃন্দাবনে পালিত হয় লাঠমার হোলি। পুরাণ কাহিনি অনুযায়ী রাধাকৃষ্ণের আমল থেকে সেখানে হোলি খেলায় গোপিনীরা লাঠি ব্যবহার করত। কৃষ্ণ ছোট বেলায় যশোদা মাকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি কেন শ্যামলা আর রাধা কেন ফর্সা। বালক কৃষ্ণকে শান্ত করার জন্য যশোদা মা মজা করে বললেন রাধার গায়ে রঙ মাখিয়ে দিতে। তাইলে আর রাধার গায়ের রঙ যে ফর্সা তা বুঝা যাবে না। কৃষ্ণ তখন বন্ধুদের নিয়ে রাধা ও গোপিনীদের রঙ মাখাতে গেলে ওরা লাঠি দিয়ে কৃষ্ণ ও তাঁর বন্ধুদের পেটায়। এই সূত্র থেকেই এখনও মথুরা বৃন্দাবনে মহিলাগণ হোলির সময় পুরুষদের মারে। এই মজার হোলি খেলা দেখার জন্য বহু লোক সমাগম হয়। দেশ বিদেশের লোক আসে এই ঐতিহ্যবাহী হোলি খেলা দেখার জন্য।

উৎসঃ বসন্ত উৎসব বা দোল পূর্ণিমার উদযাপন খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩০০ (তিনশত) বৎসর পূর্বে প্রাচীন আর্যজাতি ভারতের পূর্বাঞ্চলে সূচনা করেন। মধ্যপ্রদেশের রামগড়ে পাথরে খোদাই করা গুহালিপিতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। আবার খ্রিস্টিয় তৃতীয় শতকে বাৎসায়ন রচিত 'কামসূত্র'-তে রঙ খেলার উল্লেখ রয়েছে। ৭ম শতকে হর্ষবর্ধন রচিত ‘রত্নাবলী' এবং ৮ম শতকে 'মালতী মাধব' নাটাকে দোল উৎসবের বর্ণনা পাওয়া যায়। জীমূতবাহনের 'কাল বিবেক' ও ষোড়শ শতকে রঘুনন্দন এর রচনায় হোলি উৎসবের উল্লেখ রয়েছে। আরো নানা পৌরাণিক সাহিত্যে দোল পূর্ণিমা ও রঙ খেলার কথার উল্লেখ আছে।

ঋতুরাজ বসন্তের প্রাকৃতির বৈশিষ্ট্যও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এ ঋতু নিয়ে কাব্য সাহিত্যেরও অন্ত নেই। তবে দোল উৎসব বা রঙ খেলা যখনই যেখানে চালু হয়েছে তা সমাজের মঙ্গলের জন্যই হয়েছে। অর্থাৎ ভেদবুদ্ধি বাদ দিয়ে পরস্পরকে আলিঙ্গন করা। ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ ভেদে উৎসবে মেতে ওঠা।

সোনালী রায় বাগচী

বিসর্জন

" উহঃহঃ...আবাগীর বেটির ঘুম কত ! আবার দেয়ালা কচ্ছেন ঢং মেরে । চাঁপা....ও চাঁপা....বলি চোখটা খুলবি , নাকি ? সকাল গড়িয়ে গেলে ঘোষ গিন্নির বাড়ির কাজটা করবে তোমার কোন ভাতারে , অ্যাঁ...? ' সক্কাল সক্কাল মায়ের চিল্লামিল্লিতে ঘুমটা ভেঙে গেল চাঁপার । ধুর...কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিল সে ...। সবে মাধুরী দীক্ষিত নাচটা শুরু করেছিল! সেও তো অমন নায়িকাই হতে চায়। কি সুন্দর সাজ , কেমন পোশাক , কত্ত বড়লোক!! মা দিলো সব নষ্ট করে....ধুর, ভাল্লাগে না । চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসলো চাঁপা । তার চোখে মুখে এখনো পুরো না হওয়া স্বপ্নের রেশ । তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আবার মুখ ঝামটা দিয়ে উঠলো মালতি , " বলি গতরখানা নাড়বে নাকি কোলে তুলে নিয়ে যেতে হবে ? আমার হয়েছে যত জ্বালা । মেয়ের বাপ তো জন্ম দিয়েই কোন এক ভাতারখাগীকে নিয়ে ঘর ছাড়লো...। এখন সারা জীবন এই বোঝা বয়ে চলতে হবে আমাকে । " রোজকার এই একই ঘটনা । চাঁপাও অভ্যস্ত হয়ে গেছে মায়ের শাপ শাপান্ত শুনতে শুনতে । 

               আড়মোড়া ভেঙে কলতলায় গেল সে । মুখ ধুতে ধুতেই শুনতে পেল একটা পরিচিত গলার স্বর...নারান শয়তানটা । কদিন ধরেই খুব ঘোরাঘুরি করছে এদিকে । চোখের চাউনিটাও যেন কেমন অদ্ভুত । মায়ের সাথে কি অত কথা যে বলে শয়তান মিনসেটা বোঝে না চাঁপা । কিন্তু বুকের ভেতরটা কেন জানি শিরশির করে একটু । নাঃ... আর দেরি করলে হবে না । ঘোষ বাড়ির মাসি বলেছিল আজ নতুন জামা দেবে । আর তিনদিন পরেই তো পুজো । মনটা হঠাৎই খুশিতে ভরে উঠলো চাঁপার । 

                আজ বিজয়া দশমী । বাইরে ঢাক বাজছে । ঠাকুর বিসর্জনের বাজনা । চাঁপার পরনে এখন চুমকি বসানো শাড়ি... নতুন । ঠোঁটে চড়া লিপস্টিক । চুলে রজনীগন্ধার মালা । বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতেই তার নাকে ভেসে এলো একটা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ । বেশ বুঝতে পারলো ঘরে ঢুকে দরজাটা কেউ বন্ধ করলো সশব্দে । চোখটা বুঁজে ফেললো চাঁপা....এখন দেবীর বিসর্জন হবে ।

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

রাঙামাটির রাজকন্যে

ক্ষীরসাগরে মুখ ডুবাবো স্বপ্ন ছিল
শীতলপাটির স্নিগ্ধতায় সাত পাঁকে বাঁধলে,
আমার গন্ধরাজ বাগানের স্বপ্ন
শিমুল তুলার মতো উড়ে গেল
রাজগাঁদার সুবাসে দু-বাহুতে জড়ালে,
ও রাঙা মাটির দেশের রাঙা মেয়ে
রোদেপোড়া দুপুর তালপাখা-হাওয়ায় রাঙালে।

ও আমার ব্যাধজীবনের ফুল্লরা
শাকান্নে সংসার রাখলে পাতে,
এই মাটির পৃথিবীতেই নিজগুণে
রূপকথার রানী হয়ে উঠলে,
জীবন যখন স্বপ্নসম আর কি স্বপ্ন দেখি?
তোমার আঁচলছায়াতেই ক্ষীরসাগর
আমি লক্ষ্মীপতি।

শুভ্রা সাহা

ভারতের নারী শিক্ষা ও ভগিনী  নিবেদিতা        

মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল ,স্বামী বিবেকানন্দের সাক্ষাতই জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা । জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু।  যার গতি ও পরিণতি অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও অভাবিত ।অখন্ড ভারতের জন্য নিবেদিতপ্রাণ । আপামর ভারতবাসীর   ভগিণী  নিবেদিতা । অসামান্য প্রতিভার অধিকারী ।এই বিদেশী নারী সূদূর  উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিবাসী । ভারত পথিক বিবেকানন্দ সংস্পর্শে এসে ভারতকে নিজের দেশ ও ভারতবাসী কে আপনজন রূপে গ্রহণ করেন ।পরাধীন ভারতের দৈন্যদশা  তাঁকে অত্যন্ত ব্যথিত করে । তাই স্বামী বিবেকানন্দের আদেশ অনুসারে  ভারতের নারী জাতি ও তাদের শিক্ষার দায়িত্বভার গ্রহণে উদ্যোগী হন ।কারণ নারী  ও  নিম্ন শ্রেণীর উন্নতি ছাড়া ভারতের জাতীয় জীবনের পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। ভগিনী নিবেদিতা মনে করেন শুধুমাত্র ইংরেজি  লিখতে ও পড়তে   পারাই শিক্ষা নয় । মানুষ হওয়ার শিক্ষা লাভ করতে হবে । তাই 1898 খ্রিস্টাব্দে নভেম্বর মাসে স্বামীজীর পরিকল্পনা অনুসারে বাগবাজার অঞ্চলে  একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সেখানে ছাত্রীদের লেখাপড়ার দায়িত্ব ভগিণী  নিবেদিতা নিজেই নেন । তিনি মনে করতেন এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা আবিষ্কার করা প্রয়োজন যা ভারতের নারী সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে সমর্থ হবে । তিনি চাইতেন অতি সাধারণভাবে নিজে একাই মেয়েদের শিক্ষা দান করবেন । ছোট ছোট মেয়েদের যেভাবে বানান শেখানো হয় তিনিও সেইভাবেই শিক্ষা প্রণালী কে সাজিয়ে নেন । তার শিক্ষার মধ্যে একটা আধ্যাত্মিক ভাব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির  ভাব উপলব্ধ করা যায় । জাত  পাতের ভেদাভেদ কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে তিনি কয়েকজন ছাত্রী নিয়ে নিজের বিদ্যালয় এর কাজ শুরু করেন । তাঁর বিদ্যালয় এর কাজে সারদা মায়ের অফুরন্ত অবদান ও স্নেহের স্পর্শে তাকে আরো কর্মমুখী করে তোলে।  বিদ্যালয় এর খরচের জন্য কাশ্মীরের   মহারাজা আটহাজার ( 8000 )টাকা দান করেন  ।নিবেদিতা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছোট ছোট মেয়েদের স্কুলে নিয়ে আসতেন ।

তিনি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা ছিলেন।  বিভিন্ন পদ্ধতিতে খেলার ছলে তিনি শিক্ষাদান করতেন । বিদ্যালয়ে  মেয়েদের ছবি আঁকা , মাটি দিয়ে মূর্তি গড়া , সেলাইয়ের কাজ,  ঘর গেরস্থালির কাজ,  বৈদিক আচার আচরণ , পূজা-অর্চনা মানব সেবা,  রোগীর শুশ্রূষা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ শেখাতেন এবং নানাভাবে তাদেরকে উৎসাহিত করতেন ।  ক্লাশে নানা বিষয়ে তাদের গল্প বলতেন ।  গল্পের মাধ্যমে পাঠ্য বিষয়বস্তু কে আকর্ষণীয় করে তুলতেন । যাতে মেয়েরা পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ওঠে বিদ্যালয়- কাজে নিবেদিতার অদম্য উৎসাহ ছিল । কিন্তু তাকে স্থায়ী ও  হিতকর  করে  তুলবার  জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল ।  ছিল কিছু নারীর । যারা বিদ্যালয় এর জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকবে  ।তখনকার হিন্দু সমাজে কোন কুমারী কন্যার পক্ষে এ  কাজ অসম্ভব ছিল । তাই যারা বাল্যবিধবা বিশেষত পিতৃ-মাতৃহীন বালিকা গনকে যথাযথ শিক্ষা দিয়ে মহৎ উদ্দেশ্যকে সফল করার পরিকল্পনা নেন। কর্মক্ষেত্রই  গৃহ এবং ধর্মই একমাত্র বন্ধন হবে । তাদের ভালোবাসা থাকবে কেবল গুরু , স্বদেশ ও জনসাধারণের প্রতি,  কিন্তু তার জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল । তাই নিবেদিতা বিদেশে পাড়ি দেন  অর্থেের জন্য।    ,প্রত্যাবর্তনের  পর    বিদ্যালয়টিকে  পুনর্গঠন এর উদ্যোগ নেন । সেই সময় স্বামীজির তিরোধানে তাঁর চিত্ত অশান্ত থাকায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়ান । পরবর্তী সময়ে নিজেকে শান্ত করে , স্বামীজি  নারী শিক্ষার উন্নতি কল্পে যে সকল পরিকল্পনা ছিল তা বাস্তবায়নে মনোযোগী  হোন ।  এর জন্য   শিক্ষয়িত্রী  নিয়োগ করেন ।  1902সালে        সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানের পর বাগবাজার  অঞ্চল এর ছাত্রীরা  বিদ্যালয়ে পুনরায় আসতে শুরু করে । সেইসময় বিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যপুস্তক ছিল না ।কিন্ডারগার্ডেন প্রণালীতে মুখে মুখে শিক্ষাদানের রীতি ছিল। সেলাই   ছবিআঁকা  ,খেেলা ধুলাই ছিল প্রধান ।


নিবেদিতা  ছিলেন   একজন  আদর্শ শিক্ষাবিদ । তিনি প্রত্যেক ছাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করতেন এবং তাদের সম্বন্ধে বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি করতেন ।তখন বিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা ছিল 45 জন ।তিনি ছাত্রীদের বিবরণ, পড়াশোনা , উপস্থিতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে রিপোর্ট লিখতেন  ,এতে অতি অল্প সময়ে ছাত্রীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে  উঠতে।  পড়তে আসার বাইরে ও ছাত্রীরা নিবেদিতার কাছে আসত বা রাস্তায় দেখা হলে তার কাছে ছুটে যেত।  তিনিও তাদের কাছে ডেকে আদর করতেন  ।  এই ছোট ছোট মেয়েদের কাছ থেকে তিনি বাংলা  শিখে নিতেন । খুব কম ছাত্রী বিদ্যালয়ে  আসতো  । অভিভাবকরা তাদের লেখাপড়ার কোন খোঁজ খবর নিতেন না   । এতে নিবেদিতা খুব দুঃখবোধ করতেন । আবার দেখা যেত বুদ্ধিমতী  ও পাঠে  মনোযোগী কোন কোন ছাত্রীর কিছুদিন পরেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে  ।এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়তেন । তখন বাল্য বিবাহ প্রথা কে রোধ করা প্রায় অসম্ভব ছিল  ।  তাই তিনি ঠিক করলেন এবার অন্তঃপুরিকা গণের শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন ।  বক্তিৃতা দেওয়ার জন্য যেখানেই গেছেন তিনি মহিলা সভাই বেশি বক্তৃতা দিতেন এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করতেন ।  এর প্রধান উদ্দেশ্য নারী শিক্ষা এবং ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে তাদের দায়িত্ব পালনে সচেতন করা ।তিনি তাঁর বিভিন্ন পুস্তকেও ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।

 

। তিনি নিজ গৃহে চন্ডী পাঠের আয়োজন করেন   এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের নিমন্ত্রণ করে আসেন ।  তাদের সান্নিধ্য নিবেদিতা কে উৎসাহিত করে তুলতো ।এই ভাবে তিনি  সকলের প্রিয় হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন ভাবে মহিলাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার প্রেরণা যোগান  ।তাদের একটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণকরেন ।  তিনি বয়স্ক মহিলাদের জন্য আলাদা বিদ্যালয় স্থাপন করেন ।

  নিবেদিতার বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা  প্রাচীনপন্থী পরিবারের কন্যা  , বধূ । কাজেই পর্দা প্রথা  অক্ষুন্ন রেখেই বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা ছিল ।এভাবে তার বিদ্যালয়ে বিধবা ও বিবাহিত মহিলারা সহজে শিক্ষার সুযোগ পান এবং অভিভাবকরা ও নিবেদিতার বিদ্যালয় এর উদ্দেশ্য যে হিন্দু সংস্কৃতি ও রীতিনীতি অনুযায়ী পরিচালিত এ ব্যাপারে নিশ্চিত হন  । 

ভগিণী  নিবেদিতা বিদ্যালয়টি বর্ধিত হয়ে বহু সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ লাভ করে  ।  তিনি নিজে আলাদাভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষয়িত্রীর কিন্ডারগার্ডেন ট্রেনিং দিতেন  ।বিদ্যালয়   সেলাই  ও অংকনের ক্লাস নিতেন  ।ইতিহাস ও ইংরেজি পড়াতেন   । প্রতিদিন বিদ্যালয় আরম্ভ হওয়ার পূর্বে বালিকারা ঠাকুরদালানে রামকৃষ্ণের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করত , প্রণাম পূর্বক সমবেত কণ্ঠে নানাবিধ স্তব পাঠ এর সহিত বন্দে মাতরম গানটি  গাইত।বিদ্যালয়ের  নির্দিষ্ট নাম ছিল না । স্থানীয় লোকেরা সিস্টার নিবেদিতা স্কুল বলতো ।  নিবেদিতা রামকৃষ্ণ গার্লস স্কুল নামে নাম দেন । কেউ কেউ বিবেকানন্দ স্কুল বলতেন  ।নিবেদিতা দেহত্যাগের পর বিদ্যালয় এর নাম হয় শ্রী  রামকৃষ্ণ মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুল  ।

সুমিতা বর্ধন

ইতিহাসের পাতায়

লাল বাক্স গুলো আজ আর চোখে পড়ে না
রাস্তার মোড়ে মোড়ে ওই বাক্স
লাইটপোস্টের সাথে জড়াজড়ি করে থাকা বাক্সে
 ভরা থাকতো হরেক রকম
দুঃখ বেদনা আর হাসি কান্নার সাতকাহন,
খাঁকি উর্দি পড়া মানুষগুলো
পৌঁছে দিতো ওই সাতকাহনের
দলিল বা  পরচাগুলো,
কারো মুখে হাসি ,কারো কান্না
লেখা থাকতো ওই পরচায়,
কিন্তু খবর পৌঁছতে লাগতো
 দুই চার পাঁচ বা তারও বেশি দিন,
দিন মাস বছর পেরোয়
চোখে পড়ে না সেই ডাক বাক্স
আধুনিকতার ছোঁয়ায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে
সেই হাসি কান্না আর সুখের দলিল গুলো।
আর সেই ডাক বাক্স থেকে যায়
ইতিহাসের পাতায়।

মোঃরুবেল

বারুদঘর

ক্রমশ সে বেড়ে উঠছে।
তবে মাংস পিন্ডে নয়,
ঘৃণা আর ঘৃণায়।
যৌবনে নদী যেমন ছলাৎ ছলাৎ শব্দে 
শিশু পাথর বয়ে আনে,
জায়গা করে দেয় তার বুকে।
একদা নদী তার অস্তিত্ব হারায়।
করে অভিমুখ পরিবর্তন।
অমনি করে সেও তার পাঁজরে ঘেরা নরম হৃদয়ে-
ভালোবাসার বদলে বসত করছে ঘৃণা কেবলই ঘৃণা।
সেও জানেনা
তার ভেতরে বয়ে চলছে যে তুমুল ঝড়
তাতে সে মানুষ নয়,
বরং হয়ে উঠছে একটা আস্ত বারুদঘর।

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

নিঃশব্দ পদক্ষেপ

এস ভেঙে ফেলি সমস্ত প্রতিশ্রুতি,সেসব প্রাচীন আজ
এখন নতুন করে ঘর ভাঙার আয়োজন। 
ঘরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুণ, উইয়ের বসবাস।
মেরামতি করেও বাঁচানো যায়না কিছু কিছু ঘর।

নিঃশব্দে হাঁটা দিয়েছি দুজনে দুদিকের পথে
আমার হাতে কোনো স্মৃতি নেই ;আছে একমুঠো 
ঘুণ কাটা, উইধরা ঝুরঝুরে মাটির সাহচর্য।
পথে ফেলে ফেলে যাব যদি কখনো ফিরে আসি।

তুমি কী নিয়েছ আমি জানিনা, হয়ত কিছুই নয়
তোমার কাছে দামী ছিলনা কোনোদিন এই ঘর;
পর্যাপ্ত মন ঢেলে দিলে হয়তপোকা লাগতনা এখানে।
নির্বাসন যেতে হতনা এমন অসময়ে, এমন অকালে।

কোনো এক নদীর ধারে এবার বসত গড়ব
নদীর জল  ভাসিয়ে নেবে সেই বাসা তার মর্জিমত; 
আবার পাড়ি দেব অন্য কোথাও, একা নিশব্দে
তোমার কাছে আমার ঠিকানা থাকবে অজ্ঞাত। 

সঞ্জয় দত্ত

 উৎসব

আজ উৎসব,কাল আবার হবে।
পরশুও হবে, এভাবে চলতি পথে দেখে যাব!
কতো সামগ্রী কেনাবেচা হচ্ছে।
কখনো মানুষ সামগ্রী হয়।
ক্ষুধার চেয়েও কম দামে বেচে।
এগুলো জীবনের উপহার।
প্রতিদিন কতো উপহার দিচ্ছে জীবন আমাকে ও আপনাকে।

একদিন রূপকথা আমাকে উৎসবে নিয়ে গেল,
সে আমাকে অনেক ভালোবাসে।
সে বলল,
চলো তোমাকে একটা ডায়েরি কিনে দি,
হঠাৎ ডায়েরি কেন?
তুমি কবিতা লিখবে।
না না আমার কলমের ভাষা  কবিতারা বুঝে না,
তাই এখনো ঘর বাঁধতে পারেনি।

চলো সময় হল, ফিরি।

ভবানী বিশ্বাস

তোমারি নাম গাই

আমি প্রেমে পড়ি। হ্যাঁ, প্রেমেই পড়ি।প্রেমে পড়ার মতো সুখ আর কী আছে জীবনে! প্রেমে পড়া আর ভালোবাসা এক নাকি! 

জানি না।জবাব নেই আমার কাছে।জবাব খুঁজতেও যাই না।

বিকালে জমির আলে বসি।যেন প্রতি দিনের রুটিন।সেগুন বাগানের ভিতর দিয়ে সূর্যের ডুবে যাওয়া দৃশ্য দেখতে মধুর লাগে। নিজেকে হালকা লাগে। আমার কবিতার মতো হালকা।হালকা, সহজ, সরল, শুকনো পাতার মতো। ঝরে পড়লেও শব্দ হয় না। শুধু সূক্ষ্মভাবে কান পাতলে ধরা দেয় তা.. 

হাঁটছি পুকুরপাড়ে। গান চলছে মোবাইলে----  "আমি তোমারি তোমারি তোমারি নাম গাই

আমার নাম গাও তুমি... "

যেন একঘোরে আছি। হঠাৎ নাকে মিষ্টি কোনো ফুলের সুগন্ধ ভেসে আসলো। চারদিকে চেয়ে দেখি পুকুরের দক্ষিণ পারে টিলার উপর এই গাছ। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। ছুটে গেলাম তার কাছে। যেন চুম্বকের মতো টানছে আমায়। তার সুবাস, রঙ এতোই আকর্ষণ করে কাছে না গেলে বোঝাই যাবে না। কাছে গিয়ে দেখি পিঁপড়ের দখলে গেছে ফুল। আমিও ভাগ বসালাম পিঁপড়ের সাথে। যদিও কার জায়গা কে ছাড়ে। যুদ্ধ করে কয়েকটা ফুল নিলাম। 

মনে হল এ ফুলও যেন আমাকেই ডাকছে। কী অপূর্ব রূপ তার। হয়তো স্বর্গের কোনো ফুল হবে! নাম জানি না। ছোটবেলায় দেখেছি। তবে এমনভাবে কখনো দেখিনি। তার প্রতি এমন টান কখনো অনুভব করিনি। হয়তো তখনও সে আমাকে ডেকেছে। আমি শুনতে পাইনি। হয়তো শোনার সেই বয়সটুকু হয়নি। আজ শুনলাম। তার কাছে গেলাম। মনে মনে কথা বললাম। পার্সোনাল কথা..। তার প্রেমে পড়লাম। হ্যাঁ, প্রেমেই পড়লাম। বলতে ইচ্ছে করছে তাকে ভালোবাসি। 

আমাদের একটা সিক্রেট কথা শেয়ার করছি, 

তাকে বলেছি তার একটা সন্তানকে আমার নিজের বাড়িতে লালন করব। সে খুশি হল.. 

তখনও গানটা চলছে, আমি তোমারি তোমারি তোমারি নাম গাই.....

বিধর্না মজুমদার

 লড়াই

ভরা দুপুরে কাষ্ঠ পেতে বসে আছে
একদল ডোম।
আত্মার সাথে প্রাণের লড়াইয়ে
প্রাণ হেড়ে গেছে, 
তাই এতো আয়োজন।
এই আয়োজনের সাক্ষী আমি তুমি আমরা।
সবাই হয় একবার না একবার।
আজ আমরা,
কাল আমাদের আয়োজনে
অন্যরা।
এটি একটি লড়াই মাত্র।।

লিটন শব্দকর

মেঘসুখ

রাঙতার ভেতর রোদের শীর্ণ ডালপালা
জন্মান্তরে বাঙ্ময় হয়ে রয় মেঘসুখ এক।

বাষ্পের ভেতর বরফের শঙ্খটি
বোঝাপড়ার প্রতিদিনই দেওয়ালে চিরকুট
একদিন সব পিন খুলে দেওয়া

মহাজনপদে হকার, খবরের কাগজ
সিঁড়িতে ছেয়ে থাকা শুকনো পাতা উড়িয়ে
তাকে ডেকে ডেকে ফিরে গেছে একদিন।

রাহুল শীল

 গহ্বর
        
চেষ্টার পরও তোমরা আমার ভেতর ঢুকিয়ে দাওনি- 'ঈশ্বর',
একটু এদিক ওদিক করে অবৈধভাবে যা প্রবেশ করিয়েছো
তা হলো শুধু বিষাদ বাতাস !

এই উষ্ণযুবক আর কতো লিখবে নারীসঙ্গ বিষয়ক পদ্য,
তার শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে কৃষ্ণগহ্বরের মতো অস্তিত্ব
শুধু শুষে নিচ্ছে সে- তোমাদের শোকার্ত নদী আর দীর্ঘশ্বাসের তীব্রতা।।