May 28, 2022

পীযূষ রাউত

১.ডন

স্বঘোষিত ডন 
তোমাকে বলতে পারতাম এসব হচ্ছেটা কি? 
তার আগেই যে হয়ে গেলে কালো ইতিহাস। 

২. শেয়ার করোনা

প্লিজ্ আমাকে আমার মতোই থাকতে দাও। ঘর-গেরস্থালির 
নোংরা কূটকচালে প্লিজ আমার 
সঙ্গে কোনদিনও শেয়ার করনা

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

১. গুড্ডি


তোমারে লইয়া গুড্ডি উড়াই স্বপ্ন উড়ে সাথে,
দূর আকাশে যাওনা যত সূতা আমার হাতে
এধার থিক্কা ওধার থিক্কা কাটতে আসুক তোমায়
ভো কাট্টা করবো কেডা কইলজার মাঞ্জা সূতায় ।

২. নাও

ভরদুপইরা উতাল হইয়া কই গো তুমি যাও–
শরীরখানা তোমার যেমন  ময়ূরপঙ্খ নাও,
গহীন গাঙে ভাসান যামু আমায় তুইলা নাও–
কি লাগবো, পরান পিরিত ? দিমু আমি তাও ।

তৈমুর খান

 ১. জীবনযাত্রা

  
 অসম্ভবের সঙ্গে প্রেম, রাস্তা বহূদুর
 সমস্ত জীবন ভেসে ভেসে চলে যাই
 কারো কারো সাথে পথেই দেখা হয়
 আয়ুটুকু নৌকা, সময় সমুদ্দুর…
       
২.অসহায়ত্ব
         
 বিশ্বাসের কাছে নত হয়ে থাকি
 অবিশ্বাস এসে মিথ্যুক সাজায়
 সোনালি রুপালি হেসে ওঠে
 আমার সত্যতা তবে কেমনে বুঝাই!

সৌমিত বসু

১.পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ - ৩৪

এইখানে ছিলে তুমি?এইখানে ছিলে একদিন?
ছুঁয়ে দেখি লাল মাটি, কান পেতে শুনি শালবন,
সমস্ত রাত্রির প্রেত সঙ্গে নিয়ে ঘুরি, আর দেখি
তোমার শরীর নেই, তোমার আত্মাও আজ ঢেকে গেছে ঘাসে।

 ২.রাগ

নিদ্রাহীন বেদনায় ভরে আছে দেহ
দূরের আকাশ থেকে নামে কেউ 
বাঁধের ওপর
চারিদিকে সংগোপন,ভুল ভেবে আজ
হাত ছাড়িয়ে যে উড়ে যায় ঢেউয়ের চুড়োয়
ভোরের আগেই দেখো ঠোঁটে এসে
উড়ে বসবেই।

অপাংশু দেবনাথ

১.সন্ন্যাস

উপুড় হয়ে লিখা বারণ, চিৎ হয়ে থাকো।
চিৎ হয়ে থাকো যতোক্ষণ না তুমি 
জ্যোৎস্নায় ভিজে যাও
অত:পর লিখো উপন্যাস অথবা নিজেরই সন্ন্যাস।

২.চিঠি

কুসুম তোলো একা তুমি বন্দরে যে নাবিক জাগে
তাহার কথাতো ভাবো নাই কখনো এই সোহাগি রাগে
দরোজা খুলিয়া যখনই দাঁড়াই একা বৃষ্টি নামে
উঠোনে প্লাবন, তুমি বুঝি পাঠালে চিঠি জলোখামে?

জহর দেবনাথ

১.উনিশ তুমি 

১৯ তুমি আমার গর্ব আমার অহংকার
উনিশ তুমি আমার চেতনা- পরিচিতি আমার
১৯ তোমার রক্ত- আমার প্রেরণা
উনিশ তোমার ত্যাগ আমার ভাবনা।

২. জবরদস্তি 

আমি আমার মতো বলবো গাই-বো
পড়ব- লিখবো নাচবো খাব-দাব
আনন্দে মাতবো কিংবা প্রতিবাদ করবো
কারো মাতব্বরি কিংবা জবরদস্তি মানবোনা।

রুদ্র মোস্তফা

১.পর্যবেক্ষণ  

ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়েছে প্রিয় মুখগুলো 
কেউ বলে দেয়নি হিরে কাচ কাটে 
আমি আসলে হিরের চোখ দিয়ে
কাচের পৃথিবী বিচার করেছি এতোকাল।

২.দূরত্ব 

দুঃসময় বলে দেয় 
চোখ থেকে চশমার দূরত্ব কতটুকু...
তুমি পাশে থাকলে 
সব দূরত্বই আমি মাপতে পারি অনায়াসে।

নমিতা সরকার

১.দূর দৃশ্যের পাখি

ডানা নেই তবুও উড়ে যায়.... 
দূর থেকে দূরে অচেনা 
রাজপথের মায়া শহরে....
হরেক রকম লীলা আপন ঘরের দেয়াল জুড়ে।

২. অপূর্ব ফুলটি

গোপন রঙে ফোটে স্বার্থের ফুল আশ্চর্য তীক্ষ্ণ তিক্ত গন্ধ,
মানুষেরা তবুও তুলে রাখে খুব যত্নে....
প্রকৃতি ভাবে নিঃস্বার্থের বাগানে বুঝি ওরা অপূর্ব ফুলটি তুলতেই ভুলে গেছে।

নাহার আহমেদ

১.বাস্তবতা
                     
তৃষ্ণার মোমবাতিটা জ্বলেজ্বলে নিঃশেষ হলে 
জমে থাকা অভিমানগুলো যাবে সব গলে ,
নীল যন্ত্রনারা অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে 
নতুন করে আবার আমাকে কাছে পাবে ।

২.ব্যর্থতা

ভালোবাসার মর্মটা বুঝতে -বুঝতেই 
হয়ে গেলে তুমি হাতছাড়া ,
গোখরো হয়ে স্মৃতিগুলো
আজ শুধু দংশায় ।

নবীনকিশোর রায়

১.প্রীতি ধ্বনি 

ভাষা  সুর সমুদ্রে ভাসে
নদী বয়ে নিয়ে যায়  স্বরবিতান
এপারে শঙ্খ ধ্বনি মিলন সুর 
ওপারে অগ্নিবীণা মন্দ্রিত আজান

২.উজান বায় 

সুরালোকিত রবির কিরণ 
এক তার বাজে অন্তরালোকে
লালন বাউল ভাটিয়ালি গায় 
উভয় তীরে সম্প্রীতি উজান বায়

খোকন সাহা

১.সিরাজ

নিজেরে বড় ভাবতে পারিনা ব'লে,
তারুণ্যের ঘরে চুরি যার কাজ ;
শরীর'টা মীরজাফর হলেও-বা,
মন'টা তার এখনও সিরাজ! 

২.রাজনীতি

ছন্দের যাদুখেলা,  মর্মের দোলা। 
হাটে বসে হাট ভাঙ্গে,  জহুরীর মেলা।
যত তালে তাল মারুক, তালগাছের মাথায়; 
ভেঙ্গে পড়লে দেখা যাবে, ক'টা তাল গড়ায়!

সুতপা রায়

১.অন্য উপগ্রহ

কোনো রাত নির্জন নয়
ঘন ঘন সাইরেন
কোনোদিন আর নয় মুখরিত 
শুধু লেনদেন

২.বৃন্দাবন 

বিরহ বিতরনে কী সুখ বল মন
ক্ষণেক বাঁচার আশে
 যাহা 'করেলি' তাহাই 'শ্রীধাম' 'বৃন্দাবন'

মৃধা আলাউদ্দিন

১.যুদ্ধ

যুদ্ধে আমার হাত কেটে যায়
পা কেটে যায়-
নাকের ডগা
পেটের প্রতি অঙ্গ। 

২.জাতিসঙ্ঘ

যুদ্ধে আমার সব কেটে যায়
চেয়ে থাকে
বাইডেন এবং বরিসসহ
চ্যাটের জাতিসঙ্ঘ।

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

 ১. পথ – ১


পায়ের আওয়াজ ছিন্ন হয়ে গেলে
বগলে তুলে নেই স্মৃতির ক্র্যাচ!
পথ জুড়ে একটা রাত্রির আকাশে
শুধু বিষন্ন তারাদের গান।

২. পথ – ৫ 

পথের মধ্যেই শুয়ে আছে ঘুমপোকা,
দীর্ঘ চলার পথটাতেই হারিয়ে যাওয়া -
কোলাহলের পাশেই ঘুমিয়ে আছে 
নির্জন এক স্মৃতিস্তম্ভ!

শান্তনু ভট্টাচার্য

 ১.খরার নদী

প্রতিরাতে শরীরের মানচিত্রে ঢুকে পরে একটা নদী অজগরের পাকে জড়িয়ে খুঁজতে থাকে মোহনা।

 দিনের আলো ফুটলে সারা শরীরে  
 অবজ্ঞার চিহ্ন... দুঃসহ খরা।

২.রোগ 

একটা অজানা রোগ এসেছে। 
সংক্রমণে -শিঁড়দাড়া বেঁকে যাচ্ছে
সবথেকে বেশী  কুঁজো হয়ে যাচ্ছে কবি আর শিল্পীরা।

ওরা এখন অন্ধকারের ছায়া দেখে ভয় পায়।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

১.শব্দঘর

আকাশে ঘন মেঘ, গুরুগর্জন কখনো রিমঝিম
কখনো মুষোলধারা,শব্দরা সাজায় খেলাঘর,
মধুর আবেশে,সহসা নীরব বজ্রপাত,
তাসের ঘরের মতো ঝরে যায় শব্দঘর।

২.সাক্ষী

প্রজন্ম সাক্ষী পচনধরা সেই বোধিবৃক্ষের,
যার তলায় বিকোয় স্পন্দন, আবেগ,
থেমে যেতে চায় উন্নমিত শব্দের পথচলন,অথচ
বৈভব হীন শব্দরা সেজে উঠে বিচিত্র বিভূষনে।

সুমিতা বর্ধন

১.হারিয়ে যাওয়া শৈশব

রূপকথার গল্প শুনে ডানা মেলেছিলাম,
ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি আর লালকমল-নিলকমলের দেশে যাবো বলে,
কিন্তু, হঠাৎ-ই  রাক্ষস-খোক্কসের দল -
আমার শৈশবটা কেই চিবিয়ে খেলো।

২.দুর্গা

রাজপথের ফুটপাতে রাত কাটে কতো অসহায়ের
আর ওই রাজপথেই মাটির দুর্গা
কার্নিভালে হাটে
লক্ষ-কোটির মাটির দুর্গা নদীর জলে ভাসে আর রক্ত মাংসের দুর্গা আজ পথের ধুলায় থাকে।

অর্ধেন্দু ভৌমিক

( নোয়াখালী ভাষায় রচিত)

১.কেও হেলাইন্না নঅ

হঁতের লগের দুরখি গাচ
কেও নঅ চায় মুখ তুলি। 
হা কাডি গেলে আতত ঘচি
রস দিতে নঅ ভুলি।।

২.বিফ্লভ

রক তঅ আর ঘাম 
মিলেয়েরে... 
জিয়ান অয়, 
হিয়ানেরে বিফ্লভ কয়। 

লালন চাঁদ

 ১. আকাল


জীবন ভাঙে গড়ে
আমরা পেরিয়ে যাই ফিরোজা সকাল
প্রাচীন সভ্যতা দাঁড়িয়ে থাকে ইতিহাস হয়ে
আমরা গুনে গুনে ফেলি পা
তবুও অহল্যা জমিনে আকাল।

২.উৎসব

সোনায় সোহাগা আঁকি
জীবন আঁকি নস্টাল শৈশব
একুশের গুচ্ছকবিতায় ফিরে আসে রোদ
হাসনাহানায় সন্ধ্যা নামে
পুজোর ফুলের নবান্ন উৎসব।।

গোপালচন্দ্র দাস

১.ঠুলি

শহীদ দিবস এলেই ভাষাপ্রেমী হয়ে উঠি
বাকি দিনগুলোতেও ভাষা হত্যা চলে নির্বিবাদে
নৃশংসতা সন্ত্রাস হত্যা যুদ্ধ মনকে মূল চিন্তা থেকে আলাদা করে
কলুর বলদের চোখে যেমন পরানো থাকে একনিষ্ঠতার ঠুলি।

২.ভাষাশহীদ

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের বারো বছর পর
আবার ভাষা আন্দোলন---বারো ভাষাশহীদ
সেই বারো ভাষা শহীদের নামে
বাংলা বারো মাসের নাম রাখতে চাই।