Oct 18, 2021

অনামিকা দও

প্রণয় প্রয়ান

চেয়েছিলে মুক্তি,

দাওনি কেন যুক্তি?

ছেড়ে যদি দেবেই হাত ,

তবে  দিলে কেন মিথ্যে অজুহাত?

থাকবো বলে জানান দিয়ে,

মিথ্যে বলে পালিয়ে গেলে?

চাইছো যখন অন্যকে,

আসছি বলে জানান দিলাম তোমাকে!

প্রয়াস আজ থমকে গেছে,

রাতের আধাঁরের কাছে!

স্মরণে আজ দিনগুলো,

পাইনি আমি স্মৃতিগুলো।।

একটু করে ক্ষত যখন মলম ছাড়াই সারে,

ওরা ভালোবাসার নামে 'মরা' মানুষ মারে।।

প্রতীক হালদার

ছাত্রজীবন 

যে জীবনটা সবচেয়ে সুখের 

শিক্ষা যে হয় শুরু,

যে জীবনের হাতেখড়ি তে 

পাই যে শিক্ষা গুরু ।


যে জীবনে আলোর পথে 

চলতে শুরু করা,

যে জীবনে শিক্ষা শুরু 

করি লেখাপড়া ।


পুঁথিগত বিদ্যা সাথেই 

জীবন গড়ার কাজ,

যে জীবনটা ফিরে পেতে 

চাই যে সবাই আজ ।


ছাত্রজীবন বড়ই মধুর 

বিবেক- চেতনা- ধ্যান,

জাগ্রত হয় একে একে 

শ্রদ্ধা -ভক্তি- জ্ঞান ।

নীতা কবি মুখার্জী

আকাশ তুমি

আকাশের কাছে শিক্ষা নাও কতো উদার হওয়া যায়

সুদূর নীলাকাশ দেখেই মানুষ কতো কিছু ভেবে পায়।


পাখিদের সুখ-বিচরণ ক্ষেত্র ওগো নীলাকাশ তুমি

মেঘ-সখাদের বুকে ধরে রাখো, তুমি আশ্রয়ভূমি।


রামধনু যেন তোমার প্রিয়া মিষ্টি আলিঙ্গনে

তাকে দেখে কতো কথা ভাবি আর জাল বুনি মনে মনে।


নতুন সূর্য বুকে ধরে যেন বলে,  ওঠো এই বার

সূয্যিমামার উদয় হয়েছে, তুমি ঘুমায়ো না আর।


মধ্য-দুপুরে আকাশ দেখলে চোখ যে ঝলসে ওঠে

এইবার খানিক বিশ্রাম নাও, বেরিও না যেন মোটে।


সমুদ্রপারে যেখানে আকাশ মিশে দিগন্তরেখায়

প্রেমিক-প্রেমিকা তাই দেখে মিলে অনন্ত-তন্দ্রায়।


জ্যোৎস্না মাখা আকাশ যেন মোহময় স্বপ্নের দেশ

আকুল হিয়া ছুটে গিয়ে বলে থাকবো এখানে বেশ।


আকাশ, মাটি, সূর্য, তারা কতো অপরূপ দান

এদের কাছেই শিক্ষা নিয়ে গাই জীবনের গান।

দ্বীপ দে

মা

মা গো আমার জন্মদাত্রী 

তোমায় বড্ড ভালোবাসি,

তোমার কোলে জন্ম নিয়ে ধন্য হলাম আমি।

মা গো আমার জন্য কত কষ্ট করেছো যে তুমি, 

তোমার মতো মাকে পেয়ে ধন্য আজ আমি। 

কত যে রাত ঘুমের মাঝে ভিজিয়েছি তোমায়, 

তবুও তুমি রাগ করোনি মুছিয়েছো আমায়। 

আমায় শুকনোয় রেখে মা গো ভিজেছো যে তুমি, 

তাই তো তোমার ঋণ গো মা শোধ করতে পারব না যে আমি। 

স্তন্যপানে কতোই কষ্ট দিয়েছি যে মা নেই কোন তার শেষ, 

উফ্ করোনি তুমি মা গো নেই কোন তোমার প্রেমের নিকেশ। 

রাগের মাথায় একবার যদি দিয়েছ মা গালি, 

পরমূহুর্তে কোলে টেনে সব করেছো খালি। 

মা গো তোমার ঋণ যে আমি শোধ করতে পারব না যে কভু, 

মা যে আমায় ভালোবাসে সদার মতো তবু। 

প্রসেনজিৎ রায়

পৃথিবী আমাদের হোক

শুনলাম পৃথিবীটা কোনো এক ধর্মের মানুষের.....

বাকিরা সবাই উদ্বাস্ত,

তাই বাকিরা সবাই মরতে হবে বিনা প্রতিবাদে....

এ পৃথিবীর এটাই শর্ত ।


আবার শুনি সারা পৃথিবীর মালিক ধনতন্ত্র.....

তৃতীয় বিশ্ববাসী নীরব গোলাম,

সর্বনাশা প্রতিবাদের ঝড় উঠেও থেমে যায় চোখরাঙানিতে,

মেকি গণতন্ত্র তোমায় হাজার সেলাম ।


জানলাম একদিন পৃথিবীটা খেলার পুতুল রাজনীতির.....

শিক্ষিত সৎ মাথাগুলো শুধুই সরঞ্জাম,

কলম হারালো অমর কথা লেখার দাবী......

বদলে রক্তে সাজানো অমর স্বার্থবাদীর নাম ।


বুঝি আজ পৃথিবীটা জোরের মুলুক.....

বুভুক্ষু অসহায় মুখগুলো বড্ড বেমানান,

নিষ্পাপ আবদারগুলো শিকার ঘৃণ্য লালসার.....

হৃদয়হীনের ভিড়ে দমবন্ধ সরল হাজার প্রাণ ।


আঁধার সরে হবে সূর্যোদয় আবার নতুন দিনের..

খুঁজে পাবে জানি একদিন সর্বহারার দল প্রাপ্য সুখ,

মহাকালের তোপে ধ্বংস হোক সব ভেদাভেদ...

পৃথিবীটা শুধু আমাদের মানুষের হোক ।

জয়িতা দে

সম্পর্কের খেলা

সম্পর্ক কোন বন্ধবাক্সে রাখা ঠুনকো জিনিস নয়, 

সম্পর্ক এক মুক্ত আকাশ যেখানে আবেগের মুক্তি ঘটে,

যার বিস্তৃতি সীমাহীন, বয়ে চলে স্রোতস্বিনী নদীর মতো।

সম্পর্ককে বেঁধে রাখায় নেই কোন আনন্দ,

বরং ভালোবাসার র‌ংধনুতে মিশে একাকার হয়ে যায় এই বিশ্বমাঝে।

সম্পর্ক কোন কিছুর প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা নয়,

বরং সকলের মাঝে প্রিয় মানুষের সুখে নিজের মনে প্রশান্তি লাভ।

রুনা নন্দী

রঙ মিলান্তি

আমার

হৃদয় বলে আমার ই আছো,পথ যতো হোক দূর

আমার কথায় তানপুরাতে আজও বাঁধো সুর।


তোমার

তোমার বুঝি অন্য আকাশ  ! অরণ্য তার বুকে

বৃষ্টি ভেজা রাত ভুলেছো দিনের আলোর সুখে।


আমি

ব্যস্ত সময় কাটছে বুনে তোমার ফেরার আশে

ছেঁড়া কাঁথায় স্বপ্ন গাঁথি তোমায় ভালোবেসে।


তুমি

হয়তো তুমিও ফিরতেই চাও ফিরতে হবে তাই

কিম্বা আজো ভুল করে মন আমায় ছুঁতে চায়।


আমরা

শব্দে শব্দে মিল খুঁজে পায় ছন্দ দোদুল মনে

তুমি আমি,আমরা হোলাম গল্প কথায় গানে।

Oct 17, 2021

সুষমা দেবনাথ

অব্যক্ত কথা

চিরদিন তুমি স্মৃতিতে রয়ে যাবে

কখনো  হবে না দেখা।

মাঝে শুধু থেকে যাবে 

অসীম দূরত্বের রেখা।

কেন বা আসে সত্যিকারের ব্যক্তিত্ব?

কেন‌ই বা রয়ে যায় মনের কথা অব্যক্ত?

জানা নেই আজও সেই উত্তর।

প্রশ্নগুলো নিরুপায় হয়ে রয়।

রাজা দেবরায়

সিঁদুর খেলবেই

সদ্য প্রয়াত বৌদির স্বামী, ফলে

দশমীতে সিঁদুর খেলা নিষেধ।

যুক্তি কেউ দিতে পারছে না,

তাই খেলবেই বৌদির জেদ!!

Oct 16, 2021

পদ্মশ্রী দাস

আলোর পথে 

সন্ধ্যা যখন নেমে এলো -
পথ টা যে তখন অদৃশ্য হতে যাচ্ছে,
হয়তো একটু আলোর সন্ধান মিলবে!
প্রাণ পাখি টি আমার মুক্তির গান গাইছে।

আলো তো এখানে তখন  ও ছিলো-
কিন্তু সেটা তো ছিলো চোখ ধাঁধানো 
চোখে আমি  দেখতে পাই নি কিছু
তবে সেই চোখ দুটি তো স্বপ্নে বাঁধানো।

সেই স্বপ্ন টাকেই সত্যি করতে ,
হেঁটে চলেছি অজানা অচেনা পথ ধরে
পথ টা যে খুব কাঁচা রে ভাই-তাই হোঁচট খাই ইট পাথরে।
  
রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে হয়তো -
তবে ব্যথা যে আজ হচ্ছে না আর,
যতই পায়ে কাঁটা বিধুক্ 
করতে তো হবেই সব বাধাকে পার।
 
লোকে আজ আমায় দেখে -
নিন্দা করছে আড়াল হতে,
আশীর্বাদ করে  মাথায় নিয়ে,
হাঁটছি আমি আমার পথে।
 
সূর্যের মতো দীপ্ত হতে,
সূর্যের মতোই যে পুড়তে হবে!
যখন নিজেই নিজের আলো হবো,
অন্ধকার তখন দূরে রবে।

বিশ্বজীৎ রায়

আমার স্বপ্নের গ্রাম 

আমার সপ্নের গ্রাম,তার নাম কাশীপুর

গ্রামটা ছিল ছােট, কিন্তু অনেক দুর

সেই গ্রামে আছে, বড় একটি বন

আমার পরে আছে,সেখানেই মন

সেই গ্রামে আছে,হাতি আর গাঁধা

আমার মন সেখানেই,গরুর মতো বাধা

আমি আমার মার কাছে, ধরেছি যে বাইনা

সেই গ্রামে নিয়ে চলো, আর দেরি সয়না

মা আমাকে নিয়ে গেলো, সেই গ্রামের হাটে

সন্ধা বেলায় গেলাম আমি, মামার বাড়ীর বাটে

সেই গ্রামের এক মাঠে হত, নানান রকম খেলা

সেই মাঠে বছরে একদিন, হতো বড় মেলা

আমি মেলাতে গিয়ে কিনতাম,  খেলনা আর বই

আমার মা কিনতাে শুধু,  জিলেপি আর দই

আমার স্বপ্নের গ্রাম,   আমি আসব এই আমার সপথ

এবার আমি ধরে নিলাম,   আমার বাড়ীর পথ

ইউসুফ মোল্লা

কৃষকের মুখ

কৃষকের মুখ ছিল মিছিলের মাঝে

দু'বেলা মাঠে ঘাটে দিন কাটে

তবুও উপোস ছিল কী খাবে এই ভেবে


কৃষকের মুখ ছিল মিছিলের মাঝে

মন্ত্রীর ছেলে এলে দিতে হবে রাস্তা ছেড়ে

নাহলে চাকার তলায় মরতে হবে পিষে


কৃষকের মুখ ছিল মিছিলের মাঝে

রাজনীতি জানে না সে কীভাবে করে

তবুও পার্টির নেতা দরজায় কড়া নাড়ে


কৃষকের মুখ ছিল মিছিলের মাঝে

নেলসন ম্যান্ডেলা আর একবার এসো

কৃষকের ঘরে একবিংশ শতাব্দীর বেশে।

সুধীর দাস

একটি মেয়ে

একটি মেয়ে যে নাকি বিশ্বমাতা 
একটি মেয়ে যে নাকি মাতৃসুলভা
একটি মেয়ে যে নাকি স্তন্যদায়িনী, দুঃখদায়িনী, সুহাসিনী।
যার মুখখানি ভয়ানক স্বপ্নেও শান্তিদায়িনী।
একটি মেয়ে যার মাতৃত্বের ঋণ 
মিটাতে পারেনি স্বয়ং বিধাতাও।
একটি মেয়ে অজস্র আঘাতের ফলেও 
হাসিমুখে সুহাসিনী।
একটি মেয়ে বিধাতার তেরী সংসারে বিনা পারিশ্রমিকে থাকার জানে কুশলতা।
অসংখ্য ব্যথা, চোখের কোণে লুকানো বিন্দু ফোটাঁ।
তবুও নীরব নিঃস্তব্দ।
অগোছালো সমাজের নিয়মে বাধা।
মনে অসংখ্য আশা, 
জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও সে বিজেতা।
একটি মেয়ে ভেজায় কেশে বিশুদ্ধ নিরুপমা।

দিয়া দাস

ইচ্ছে আমার হতে পাখি

হতাম যদি পাখি_ডানা মেলে পাড়ি দিতাম ওই দূরের আকাশে।

দেখতাম ওখান থেকে এই পৃথিবীকে কত সুন্দর লাগে।

        হতাম যদি পাখি

স্বাধীনভাবে উড়তাম ডানা দুটো মেলে,

কোথাও বাধাঁ ছিলনা আসা যাওয়াতে।

     হতাম যদি পাখি

থাকতাম গাছের ডালে__

  নিজের তৈরি বাসায় ইচ্ছে মতো করে।

  হতাম যদি পাখি

             দূরে পাড়ি দিতাম 

সকাল থেকে সন্ধ্যে।

বেলা শেষে ফিরতাম বাসায়

কেউ কিছু বলার মতো ছিলনা আমায়।

যোগমায়া গোস্বামী

সময় স্রোত

অতীতের দিন গুলি

যায় নি যে রাখা

মনভরা কত ছবি

স্মৃতিপটে আঁকা।


তিনকাঁটার যন্ত্র খানি

টিক টিক চলে

হঠাৎ করে জানান দেয়

সময় শেষ হলে।


হৃদয় থেকে খসে যাওয়া

ঝরা পাতা গুলি

দুঃখ সুখের অসীম পারে

করে কোলাকুলি।


আজ ভাবি সেসব অতীত

অনেক মধুর ছিলো

তাইতো তার স্মৃতিগুলো

আজও রয়ে গেলো।

রামকৃষ্ণা দেবনাথ

১. প্রতিপত্তি

এই পড়ন্ত বিকেলে তোর ছবি মন আঁকে
এখনো পারেনি মেনে নিতে,
খুঁজে তোর মতন কাউকে ।

দ্বিধাহীন ভাবে থাকবো প্রতীক্ষায়
আমার একান্ত মন রয়েছে অপেক্ষায়।।

আকাশে বাতাসে বইছে শরতের ফুলের গন্ধ ,
তুই আসবি নামবে বৃষ্টি,
আমি ছাতা হয়ে চলবো তোর সাথে...
দেখবো প্রকৃতির সব রূপ তোর সাথে হয়ে মেশে,
এই পড়ন্ত বিকেলে তোর ছবি মন আঁকে।।

অসংশয় মনে এক মুঠো ভালোবাসা তোর হয়ে থাকবে
তোর ভালোলাগা আমার কাছে অধিকার নয়তো
প্রতিপত্তি হয়ে থাকবে।

২. নিজ প্রনয়

ভালবাসার পূর্ণতা রাখতে চাই স্নিগ্ধ মানে
করবো না আবদ্ধ তোমায়....
প্রণয় রইল উদর জঠরে,বিনা উন্মোচনে রইল গোপনে।
মায়াবী মন আগলে রাখে তোমায় সূক্ষ্ম যতনে।
পারবো না আমি করতে পরিমাপ ভালোবাসি কত...
হয়ে উঠুক এমন যেন তুমি অনুভব করতে পারো নিজের মত ।
হৃদয় শিহরণ স্নায়ু অনুনাদ তীব্রতায় ভরে,
যখন ভাবি একান্ত মনে তুমি পাশে অতি সঙ্গোপনে
দূরে থেকেও অধিক মায়া জড়িয়ে রাখো...
জানিনা কিভাবে তুমি বাধোঁ
স্বপ্নগুলো তোমার নামে বুকে জমা থাকুক..

কুশল রায়

জেগে দেখা স্বপ্ন

প্রত্যেক মানুষ রাখিয়াছে স্বপ্ন যাবে বহুদূর,

পূরন করে তৈরি করবে বাস্তব 

গড়বে ভবিষ্যৎ অদূর ৷

কিন্তু কোথায় ? যেদিক তাকাই,

দেখা যায় কেবল হতাশা ৷

ভণ্ডামি আর রাজনীতির কাছে সব পরাজিত

হোক না সে প্রতিষ্ঠিত হবারই আশা ৷

কখনও মানুষের ছলে,কখনও রাজনীতির বলে 

ধ্বংস হচ্ছে কত ভবিষ্যৎ ৷

পরিবারের আশার নীচে চাপা পড়ে যাচ্ছে 

একজন ব্যাক্তির নির্দিষ্ট লক্ষ্যের শপথ ৷


আর কতদিন এভাবে চলবে 

মানুষের স্বপ্ন ভঙ্গের খনন ৷

এতো দেখি ঘুমানো স্বপ্ন,বিধাতা কি এতোই নিষ্ঠুর ?

করতে দেবে না পরিশ্রমের বীজ বপন ?

হে ইশ্বর আর নয় , তুমি চারিদিক আলোকিত কর

মানুষ যেন মানুষের স্বপ্ন কে সম্মান করতে শেখে

এটাই সবচেয়ে বড় ৷

অন্যের সম্মান স্বাচ্ছন্দ্য দেখে

যেন কেউ হিংসায় নাহি মরে ||

মায়া রানী মজুমদার

বিজয়া দশমী

ঊমা মা জগজ্জননী সকলেরই উনি মা।

ছোট বড় সবাই সম্বোধি "মা" শুধুই "মা"।।

মায়ের  আগমন বার্তায়  মন হয় চঞ্চল।

সজ্জিত  পূজো মন্ডপে নর নারীর ঢল।।

থাকে কত আয়োজন কত সাজ সজ্জা।

ভুলে যাই ভেদা-ভেদ ভুলে যাই লজ্জা।। 

আনন্দঘন মূহুর্ত লাগে যত বড়ই দারুণ। 

বিদায়ের সুর  যে হয় তত  বড়ই  করুণ।। 

নয়দিন নয়রাত্র মহিষাসুরের সাথে যুদ্ধে।

দশমদিনে হলেন বিজয়ী ত্রিনয়নী'মা যুদ্ধে।। 

ধরাধামে পূজিত মা'মহামায়া যুদ্ধের সাজে।

মহিষাসুর সহ পূজিত  হন এই ধরা-মাঝে।।

ঊমা'মা গেলেন কৈলাশে যুদ্ধে হয়ে বিজয়ী।

পালন করি বিজয়া "দশমী" হে মা মৃম্ময়ী।। 

ছাইভষ্ম মাখে গায়ে ভোলানাথ তাঁর স্বামী।

উনিই জগৎ  স্বামী, আর  উনিই  ভূ-স্বামী।। 

ত্রিনয়নী মাকে দেখে মন ভরে যায় শ্রদ্ধায়। 

মোদের মন  মানে না  দিতে মাকে বিদায়।।

সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম কখনও দুই নয়।

চাই না  দিতে  বিদায়, তবুও যে দিতে হয়।।

সুধীর রায়

কাশফুল 

রোদ ঝলমল রবির আলো শরৎ সকাল সাজ,

শিউলি তলায় ম ম ছড়িয়ে পড়েছে আজ।

ফুলের সাজি হাতে সোনার ফুলকুঁড়িয়ে লয়,

আগমনী আসছে দ্বারে,শিউলি মেয়ে কানে কানে কয়।


শুভ্র সাজে মেঘের ভেলা ভেসে ভেসে যায়,

কখনো বা কালো মেঘ থমকে দাঁড়ায়!

কখনোবা শুভ্র সাজে বৃষ্টি মেয়ে হাসে,

কখনো বা কালো সাজে আঁখি জলে ভাসে।


কাশের বনে কাশ ফুল বাতাসেতে খায় দোল,

মনে হয় শরৎ রানী খুলে দিলো শুভ্র চুল।

আহা কী অপরূপ! কাশফুল দেখতে-

গাঁয়ের কবি ধরলো কলম, ফুলের ছবি আঁকতে।


মন হারিয়ে কাশফুলে দুঃখ-কষ্ট গেলাম ভুলে,

সুখ-দুঃখ অর্পণ করলাম আগমনীর চরণ তলে।

আগমনী এলে দ্বারে বাঙালিদের মন ভরে,

কাশফুলে বরণ করে মাগো তোমায় নেবো ঘরে।

গঙ্গা সাহা

বাবা

দেখিনি আমি পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা--- 
স্বয়ং ঈশ্বরকে।
কিন্তু দেখেছি বাবা তোমাকে।
তুমি আমার ঈশ্বর।
তোমার হাত ধরে প্রথম হাতটে শেখা।
তোমার আদর্শে আমি আদর্শিতা।
তোমাকে দেখিনি আমি কখনও--
ক্লান্ত আর‌ বিরক্ত‌ হতে।
সেই ভোরবেলা ওঠো রোজ,
যাও যে  কাজের স্থানে।
ফিরে আসো  সেই রাতে।
আজ পর্যন্ত দেখিনি তো কখনও--
নড়চড় তার হতে।
সারাদিন ব্যস্ত থাকো,
সেই তো তোমার কাজে।
তবুও বাড়ি ফিরে ভুলোনা,
খেয়েছি কিনা জিজ্ঞাসা করতে।
দেখেছি অসুস্থ হলে আমি,
মাথার পাশে সারারাত বসে থাকতে।
যখন যা বলেছি দিয়েছো যে এনে,
কখনও বলোনি পারবোনা আনতে।
মেয়ে বলে কখনও তো করোনি ,
দাদার সাথে তুলনা, করোনি
আমাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যতা।
সর্বদা ডাকো আমায় মা বলিয়া।
কখনও তো তুলোনি গায়ে হাত,
দাওনি তো কভু ধমক জোর গলায়।
জুগিয়েছো সাহস সর্বদায়,
চলিতে মাথা তুলিয়া সদায়।
বাবা তুমি যে আমার মহান।
তোমার ছায়াতে আমি সুরক্ষিত।
বাবা তোমায় খুব ভালোবাসি।
তুমি ভালো থেকো সদায়।
তোমার আশীর্বাদের হাতটা,
আমার মাথায় রেখো সদায়।