ভিজে যাওয়া বর্ষা
আকাশ-ভাঙা বৃষ্টি অভিযোজনের ছিদ্র দিয়ে
চুইয়ে চুইয়ে কবে যেনো ঢুকে গেছে
আমার নাগরিক স্নান ঘরে।
স্মৃতির সুতো দিয়ে সময়ের মসৃণ থানে বোনা
সোনালি শৈশব সারা দেয়
এই শহরে বৃষ্টিতে বুনোজলের ডাকে।
আহা, শৈশব!
ঝুম বৃষ্টিতে ঝাঁক বেঁধে কতো দিন নামি না জলে।
কতো কাল লুকাই না স্নান-রাঙা চোখ
মায়ের শাণিত শাসনের ভিড়ে!
কতো কাল ভাসাই না ভেলা...
কতোকালের ভেসে যাওয়া স্কুল ফাঁকি
ডুবে যাওয়া সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা সহ
কেমন করে জেগে উঠে স্নান-ঘরে!
মায়ের শাণিত শাসন ক্ষয়ে গেছে
বয়ে যাওয়া সময়ের ধারে,
তালি দেয়া ছাতার মতো জীর্ণ হয়ে গেছে
বাবার বুকের ছাতিম—
তবু শহরে বৃষ্টিতে তাদের ঝাপসা চোখ
চকচকে হয়ে যায় বর্ষার জলে।
অভিযোজনের ছিদ্রে চোখ রেখে
আমি ভিজি স্নান-ঘরে...
জানালার ওপারের বৃষ্টিতে ভিজে যায়
দুই প্রজন্মের পুরানো বর্ষা।