Jul 30, 2022

সুমিতা বর্ধন

ভেঙে যাওয়া বাড়িটা

বিশাল বড় একটা বাড়ি ছিলো
তার ছিলো মস্ত এক বারান্দা
অনেক আগে একটা রেডিও ছিলো,
তাঁতেই সন্ধ্যে বেলা ছায়াছবির গান বা-
রবিবার দুপুরে নাটক শুনতাম সবাই মিলে ।
তারপর প্রযুক্তির উন্নয়নের চাপে পড়ে
ঘরে এলো এক মস্ত বড় টেলিভিশন
সবাই এক সাথে মিলে মিশে
রামায়ন ,মহাভারত বা চিত্রহার দেখার ধুম।
ক্রমে সময়ের গ্যারাকলে
মস্ত বাড়ি আর বারান্দাটা 
ভেঙে -
ছোট ছোট ফ্ল্যাট হয়ে গেলো,
সবার ঘরে একটা করে রঙিন টিভি হলো,
বাজারের ব্যবসায়ীদের মুনাফা বাড়লো প্রচুর
কারন সবার হাতে যে একটা করে বাজারের ব্যাগ,
অন্যের মুনাফা বাড়িয়ে কিন্তু
আমাদের কপাল পুড়লো অনেকটাই
আগে পুজোর চাঁদা আসতো 
বাবা বা কাকার নামে এক সাথে
কিন্তু এবারে সবার জন্য
হাজার টাকার রসিদ,
পুজোর বাজেট বেড়ে যায়
এক লাফে অনেকটাই।
আগে দুস্টুমি করলে 
বাবা বকতেন , দাদু বাঁচিয়ে দিতেন,
এখন বাবা বকলে
মা ভয়ে চুপটি করে থাকে
আর সন্তানটির অসহায় দৃষ্টি
খোঁজে নিরাপদ আশ্রয়।
আগে ইস্কুলে দুষ্টুমি করলে
মাস্টার মশাইয়ের শাসনের কথা
বাড়িতে জানতেও পারতো না আর -
জানতে পারলে বাবার হাতে আরো
কতক  শাসন জুটতো,
এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি
 আদরের সন্তান দু-একটি, 
ছাত্রের গায়ে হাত তোলা যে-
শিক্ষকের স্পর্ধার বাইরে,
মন্ত্রী আমলার ভীতি প্রদর্শনে
শিক্ষকও যে নীরব ভূমিকায়।
আগে  সবাই মিলে হতো বনভোজন,
ঝাল বেশি, নুন কম ,আধসেদ্ধ রান্নাও
মহা আনন্দে  খাওয়া হতো পাত পেরে,
এখন পিকনিকের জমানা
ক্যাটারারদের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় না 
 ইটের ওপর হাঁড়ি করাই চড়িয়ে রান্নার সেই আমেজ।
দিন বদলায় ,সময় বদলায়
তাই  ঠাকুমা ,দিদিমা দের সাথে
রূপকথার গল্প শোনাও আর হয়ে উঠে না।
ছোট ছোট পরিবার 
বই এর ব্যাগের চাপে 
আর ইঁদুর দৌঁড়ের প্রতিযোগিতায়
সামিল এবার তুমি আমি সবাই।