সারেঙ্গীর সুর
কে বলে আমি কবিতা লিখি!
আমি তো দাবি নিয়ে অনশনে বসিনি..।
----কেন যে ভ্রু যুগলে এতো জিজ্ঞাসার চিহ্ন'
আমি কেবল গ্রহণ লাগাতে ব্যস্ত--
যাক না শব্দগুচ্ছ রাহুর পেটে,
অথবা ঝড়ের দাপটে দেশান্তরী।
কিম্বা থালা নিয়ে ফুটপাতের ওপর ভিখিরিনী বেশে।
ধরো যদি আমার সময়ের হিসেব ঘড়ির কাঁটার কাঁধে বর্তায় কি লজ্জায় পড়বে সে!
না,না, আমি কবিতা লিখিনা।
দুটো শব্দের বোঝা বইলে ই কি তাকে কবি বলা যায়!?
----কবি, দুটো অক্ষরের ব্যাপ্তিতে সূর্যের আগুন।
চাঁদের সহিষ্ণুতা, সৃজনশীল শিল্পমাধ্যমের কড়িবরগা ছুঁয়ে ছুটে চলে আকাশ ছুঁতে...
তারপর তারাদের সাথে মিলেমিশে জ্বলজ্বলে নক্ষত্র--"
না,না, আমি কবিতা লিখিনা।
এক অর্থে আমি "ধর্ষক"
প্রতিদিন হাজার -হাজার শব্দকে ধর্ষণ করে ছুঁড়ে দি
ডাস্টবিনে।
তারপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে তারা এলোমেলো...
তখন "ডি এন এ" টেস্টে ধরা পড়ে এটা আমার ই
কীর্তি।
তবুও কেউ- কেউ অসাধারণ, অনবদ্য, অনুপম,অসামান্য...
লিখে আমাকে আশ্বাসের জোয়ারে বসিয়ে মোহনায় নিয়ে যায়।
আমি বুঝি, "শব্দ ধর্ষক" কথাটা কেউ মুখ ফুটে বলেনা।
আমার শব্দেরা কোনদিন কবিতা হয়ে ওঠেনি।।
তারা বোঝেনি পিচগলা রাস্তায় শ্রমিকের দান, বোঝেনি করণিক বাপের কান্না, সীমান্তে শহীদ ভাইদের দুঃখ।
বা যে শিশুটি জন্মে ই মায়ের ছোবড়া দেহে শুধু খিদে
খুঁজে গেল, তাদের কথা।
আমার শব্দেরা শুধু ই বৈভব মেখে বিভীষিকা বুনে গেল..।
সিস্টেমের কলকব্জা নেড়ে চাবুক চালাতে পারলোনা।
আমার শব্দগুচ্ছকে আজ স্বাধীনতার স্বাদ দিলাম,
উড়িয়ে দিয়ে বললাম..।
যা---
ঘুরে আয় হিরোশিমা -নাগাসাকি, ঘুরে আয় খিদের রাজ্যে, বা কাঁটাতারের দুইপারে। আর হিমাঙ্কের
নীচে স্যাঁতসেঁতে তলকুঠুরিটায় লুকিয়ে যারা দেশরক্ষা করছে তাদের কাছে।
যদি, আর ডি এক্সে জখম হতে পারিস,অথবা বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিন্নভিন্ন।
সেদিনই ফিরে আসিস আমার কবিতা হয়ে..।
নাহলে আজন্ম "শব্দধর্ষক ই.." রয়ে যাবো।