Aug 31, 2023

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

সূর্যাস্তকাল


সূর্যাস্ত নিপুণ হলে সুদর্শন হয় কোন সন্ধ্যাতারা
আকাশের অন্ধকার বিস্তারে তোমার মুখ ভাসে না।
ভালোবাসব বলে পরিপাটি হৃদয় রেখেছি তাই
তুমি কি ঘোর কাপালিক নাকি অন্য কোনো তন্ত্রে
তোমার বিছানো আঁচলে যানজট গড়ে রেখেছে বলো?

হঠাৎ কুয়াশাভোর এলে শরতকালের কথা মনে পড়ে
যে ভোরে আমার মা নক্সিকরা চটের ব্যাগ হাতে নিয়ে
বাপের বাড়ি নাইওর যাবেন বলে ঘাটে বসে থাকতেন
সম্পর্কিত দেওর মাঝির অপেক্ষায়। জারুল গাছের ছায়ায় শীতল হয়ে পানের খিলি বানাতেন।

এখন তোমার আকাশে সেসব আলপনা ভাসে না আর
এখন চন্দ্রকথা আর চন্দ্রাবলি ছেড়ে চলে গেছে 
শোলোকের মামাবাড়ির চেনা সেইসব চিত্রকথা।
ঘাট পেরুবার সেই মাতৃমঙ্গল শাঁখাভরা হাত নেই আর
তুমি আমি এখন অনেক অনেক বড়ো হয়ে গেছি

অপাংশু দেবনাথ

কুমিরাশ্রু-৩

অকারণ মন্দ-মন গোপনে সাজালে ছক,
শরীর তখন বেসামাল অর্ধপঙ্গু দিশেহারা।
এমন পঙ্গুত্ব নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কতদূর 
হাঁটা যায় রম্যনগরীর ধূপ গন্ধহীন ঘুর্ণিপাকে!

এভাবে সফল হতে চাও সময়ের ভুল রিহার্সালে? 

সবুজ পাতাগুলোকে ঈষৎ হরিৎ কিংবা 
জলপাইয়ের রক্তিম নয়ন বলে ভ্রম হয়!
দৃশ্যত উথলায় হাওয়া,রৌদ্রস্নাত কোলাহলে,
ভুল মন্ত্রপাঠে তুমি সাজাতে পারো সংসার।
সেই চেতনার রঙে ফিরতে পারে কি আর কেউ! 

আমি চারিদিকে দেখি অর্ধসত্য বহুরূপী কান্নার কাজল।

সৌমিত বসু

মায়া বৌ

বুকের ভেতর বর্ণমালার রঙ
একটা জীবন। কেমন আছো তুমি?
শুকনো পাতা গাছের কি কেউ হয়
সন্ধ্যাতারা মেয়ের চেয়ে দামী?

বিকেল যখন মেঘের সাথে হেসে
যত্নে বলে সর্বনাশের কথা
বৃষ্টি পড়ে সহসা সেই মুখে
আধোমলিন স্বপ্নে যা রূপকথা।

কমল সরকার

গেরস্থালি 

এমন নয় যে  হিসেব মত চলতে হবে সবই 
মাঝে মাঝে বেহিসেবি হলাম না হয়  আমি 
তুমিও হলে অমিতব্যয়ী খানিক , 
ফর্দ মেনে সওদা তো হয় রোজ 
তারই ফাঁকে একটু না হয় বাজে খরচা হোক ! 

বাসন কোসন জামা কাপড় থাকুক অগোছালো , 
সারা ঘরে আমি ফেললাম সিগারেটের ছাই ।
তুমিও ভাঙো ফুলদানি কাপ দুটো !
পরিপাটি রয় তো বাড়ি রোজ 
ফাঁক ফোঁকরে গেরস্থালি বিশৃঙ্খল হোক ।

এমন নয় যে নিয়ম ক’রে ভালবাসতে হবে 
মাঝে মধ্যে প্রেমের পাত্র থাকল না হয় খালি । 
তুমিও ধরো হাড়-কিপটে হলে , 
ভরা প্রেমে  দিন তো কাটে রোজ 
তারই ফাঁকে একদিন নয় উপোস-আপোস হোক ! 

কে বলেছে রোজই তোমায় লক্ষ্মীসোনা হতে ! 
মাঝে সাঝে  উড়নচন্ডী লক্ষ্মীছাড়া হও । 
আমিও ধরো আস্ত পাগল হলাম , 
রয়ে সয়ে হয় তো কথা রোজ   
কোমর বেঁধে এক দিন নয় ঝগড়াঝাঁটি হোক !

এমন নয় যে ধরাবাঁধায় চলতে  হবে সবই,
মোদ্দা কথা পারস্পরিক এই যে এতো প্রেম 
চুকিয়ে দেবো এক জন্মেই পুরো ।
উলটে পালটে বাসবো ভাল রোজ ,  
তাই বলছি নিয়ম ক’রে নিয়ম ভাঙা হোক ।

কুশল ভৌমিক

অমরত্ব

বারান্দার টবে ফুটে আছে আস্ত একটা জীবন 
পাপড়িখসা একটা বিকেল সব হারিয়ে 
জেগে থাকে পুনর্জন্মের আশায়।

মানুষ প্রত্যাবর্তনকাতর 
ইতিহাস মিথ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে 
এক টুকরো আয়নার ভেতর। 

পুরনো জামা থেকে 
খসে পড়ে স্মৃতির কুয়াশা
শুকিয়ে যায় বর্তমানের উত্তাপে। 
ভুলের
দ্বিতীয় কোনো সংস্করণ নেই।

ওহে বেলেল্লা সময়--
এ কেমন তামাটে তামাশা 
অক্ষম হাতে তবু কেন জেহাদের জুলফিকার? 
প্রেমিকের  পাঞ্জাবির পকেটে একটাও চাঁদ নেই 
অথচ ভুলভাল নক্ষত্রে ভরা আমাদের ব্রহ্মাণ্ড! 

চারিদিকে অবতারের দৌড়াত্ম্য
অলৌকিক হাট-বাজার 
কে যে কাকে দিচ্ছে অমরত্ব! 

জন্মের ভেতর আমাদের মৃত্যু
মৃত্যুর ভেতর জন্মরেখা দেখা যায়।

সন্তোষ রায়

ট্রেন ও স্টেশন                                       

একটা দিন, একটা রাত—কেবল
দু'টোই স্টেশন ।
লোয়ার বার্থে ঘুম দিলে একঘুমে
পৌঁছে যাই গন্তব্যে
তারপর শিস মেরে সারাদিন যত কাজ।
ভিখিরি ভাবে না কেউ।
তোমাকেই ভাবি বলে কিছু লিখি, কিছু টিপ মেরে বুঝে ফেলি ভেতরে বাদাম নেই । 
স্টেশন মাস্টার জানে আমি পাগল নই।
ভিক্ষের নেশা আছে কিছুটা। জানু পেতে বসি–
কী জানি কী দেবে আমায়! চাই ত অনেক কিছু—
সোনালী কাবিন চাই, সোনালী ডানার চিল চাই, আরো কত কী চাই— সোনার হরিণ— সোনার তরী 
ধনরত্ন চিনেছি অনেক— দুই স্টেশনে ঘোরাফেরা করে খুঁজি— আর কী পাই! আর কী পাই!
জিভের ডগায় নুন দিয়ে বলি, মর, নয় জীবনটাকে ঘষে ঘষে দেখ্‌ — চন্দন আছে কি না —

রুদ্র মোস্তফা

প্রতিবেশী  

এক

নীলতরঙ্গে কত কথা ওড়ে যায় আঙুলের ক্লান্তি ভুলে
রংবেরঙের রাতগুলো ঝরে পড়ে প্রতি ভোরে 
একাকী দুজন বেলকনির রোদ ধরছি ছায়ার আঁচলে
তবু আটকে থাকে বর্ণমালা চোখের কার্নিশ ধরে। 

দুই 

দুই বারান্দার মাঝে শুয়ে আছে দীঘল শূন্যতা 
কথা বলা মানা তাই বারান্দায় বুনেছি গোলাপ 
আমরা বোবা প্রতিবেশী পেয়েছি সৌরভের পূর্ণতা
সুবাসে সুবাসে ঠিক জমেছে আমাদের আলাপ।

শান্তনু ভট্টাচার্য

সম্ভ্রম 

একটা দুরন্ত হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে সম্ভ্রম 
পাখির ডানার মত পাখা মেলেছে সে-
চারের গুণিতকে মন্ত্রমুগ্ধ মাছেদের মতো 
চারপাশ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ভাগাড়ের শকুন। 

বাঁ-চোখ বুজে ডান-চোখে সেদিকে তাকাতেই 
এক গভীর সমুদ্র এসে ঘিরে ফেললো
পায়ের তলায় সরে যাচ্ছে মাটি 
লোনাজলে ডুবতে ডুবতে 
আকাশের দিকে হাত তুলে বলছি -প্রভু বাঁচাও 

কী আশ্চর্য! প্রভু সাড়া দিলেন 
অধমের প্রার্থনা মানলেন
ধীরে ধীরে নোনা জল নেমে গেলে থিতু হয়ে  
ডান-চোখ বুজে বাঁচোখ দিয়ে দেখি 
শ্বাপদেরা শুধু থাবাই চেটে যাচ্ছে 
আর সে সম্ভ্রম দেদার লাস‍্যতা বিলোতে বিলোত
দেবী থেকে উর্বশী 

দু-চোখ খুলে দেখি-আমিইএকাই পড়ে রইলাম 
বিধাতাও চলেছেন সম্ভ্রমের পিছনে পিছনে...

রোকেয়া ইসলাম

ঋণ

প্রায় শেষ বর্ষার কৃষ্ণ গহ্বর হায়েনা উদ্ধত বুট
এজিদ উত্তরসূরীরা এসেছিল ঘন ছায়া মৃত্যু এসেছিল বত্রিশ নম্বরের সিঁড়িতে
সেদিনের সেই গভীর রাতটা কেমন ছিল? 
অনেক খুন সিমেন্টের ফ্লোর উষ্ণ 
সে ম্যালা প্রশ্ন 

যেখানে আমার নীলাভ আকাশ, দৃঢ় হিমালয়, প্রদীপ্ত সূর্য 
অবারিত ফসলের সবুজ মাঠ,অগণন দোয়েলের সুর, আমজনতার বিশ্বাস 
ভালবাসা আর পিতার রক্ত -স্রোত একাকার

পনেরো অগাষ্ট ভোরে বড্ড একা হয়ে যাওয়া 
শ্রাবণ ভেজা বাতাসে অনন্ত বিষন্ন গীতি
রেডিওতে তারবার্তা, অভ্যূন্থানের এই এক রীতি... 
দুঃখী মানুষ- শোষিতের পক্ষ স্বজন আর নেই!! 
সমাধি সে অবধি ঠিকানা, এই গ্রহ পিতৃহারা 
আত্মভোলা বাঙালি স্তম্ভিত 
মাটি - পানি - বায়ু কোথায় পাই 

বাবা নেই ডাক নেই কেউ নেই সমকক্ষ
মেঘে ঢাকা দৃষ্টি সীমানা আকুল অশ্রু -পাথর
সময় কে তোমার পক্ষ। 

স্মৃতির মিনার আজো ভালবাসার অবিরাম নুন 
অবনত তোমার কাছে 
জনক তুমিই স্বাধীনতা 
আমার হাজার বছরের ডি এন এ রিপোর্টে 
তোমার খুন

তবুও রয়ে যায় অপরিশোধ্য বকেয়া ঋণ
স্পন্দিত বুকে এখানে থামতে চাই 
টুঙ্গিপাড়া বাসস্ট্যান্ড, আমাকে নামিয়ে দিন...

নবীনকিশোর রায়

অতিথি তুমি 

প্রাত্যহিক ঘর থেকে বেরিয়ে
সূর্যউঠা নতুন সকালে
আবারও একটি রামধনু রঙের
আকাশ দেখব... 

পরস্পর হাতে হাত রেখে
অনেক দূর এসে----দেখি
আপন পর এমন ভাবনা থেকে, পর ভাবনার কথাটা উঠলো! 

পিছনে ফিরে ভাবি---
বন্ধ এক ঘরে আপন হয়েছিলাম,
আছি এভাবে বহুদিন। 

অথচ,ধ্যানাচ্ছন্ন সময় 
ভেঙে কথায় কথায় 
পথ এগিয়ে যায়---

ক্ষণিকের এক অতিথি, 
প্রত্যুষের রঙ মেখে---
রামধনু রঙের আকাশের দিকে 
পা বাড়ায়... 

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

দুই বন্দীর প্রেম

সূর্যমুখী অবাক চোখে দেখে থাকে প্রিয় রূপ,
প্রিয় আভায় রাঙিয়ে ওঠে তার চোখ-মুখ-বুক।

মোটেই নিঠুর নয় সে প্রিয়, চাহনিতেই বুঝে,
মেঘের আড়াল থেকে তার মোহনীকে দেখে।

ডানা মেলে ছুটতে চায় প্রিয়জনার বুকে,
মধ্যাকর্ষণে বাঁধা, সে বিষাদ আঁধার চোখে।

সৌরমণ্ডলের রীতি নিয়ে বন্দী পদ্মপতি,
হাতটিও বাড়াতে পারে না, তার চাহনিতেই প্রীতি।

আব্দুল গফফার

অতীত সেই চলন্তিকা

অতীত সেই চলন্তিকা, বাঙ্গালা ভাষার অভিধান,
প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে কতশত বানান!
কে খবর রাখে, রাখার ধারও ধারি না,
কি লিখলাম, কেন লিখলাম একবারও ভাবিনা,
লিখতে পড়তে শুধু দৃষ্টি ব্যয় করলেই হল।
হ্রস্ব-ই না দীর্ঘ-ই, দন্ত-ন না মূর্ধাণ্য-ণ, 
দন্ত-স না মূর্ধাণ্য-ষ বা তালব্য শ,
সন্দেহ নিরসনে অবিরাম কাটাছেঁড়া চলছে -
শিখে এসেছি যা তার আর চলবে না।
নতুন পাঠ্যবই, নতুন বানান বিধি, 
নতুন নতুন শব্দবয়ন, শব্দচয়ন,
অভিধান গ্রন্থগুলি চরম অসম্মানের শিকার!
হায়রে কাব্য গল্প প্রবন্ধ উপন্যাস..সাহিত্য জগত -
বানান, ভাষা শিক্ষার চরম অবক্ষয়, এলো দুর্দিন।
বানান শব্দগুলো সব এলোমেলো, ধ্বংস,
বানানের নিয়ম, শিকেয় তুলে সব বিসর্জন।
এই লেখনীতেও ভুল আছে ধরে নিয়ে,
সকলের কাছে প্রশ্ন কি হবে বানানের ভবিষ্যত!

নমিতা সরকার

কৃষাণীর সতীন অন্তরা

হেলেদুলে পরা রোদে পোড়া সোনালি ধানের সোনালি স্বপ্নের বীজ, 

উঠোন জুড়ে খেলা করতে করতে চাষির চৌকাঠ পেরিয়ে নববধূবেশে প্রবেশ করে হাসির ঝিলিকে...  

পাঁকা ধানের স্বপ্নের ভাষায় চাষের বসবাস হৃদয়ের লেনদেনে, জেগে ওঠে কৃষাণীর বাসর আসর সাজানো ঝলমলে অন্তরে।

পূর্ণতার পূর্ণ্যপত্রে ভাগ্যবতীর আঁচল ভান্ডারে শোভা দেয় সামাজিক নিয়মে তবুও যেনো অপূর্ণ  ঘর...

যে অপ্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মের বাঁধ ভেঙে সুখ ও সৌন্দর্যে রেঙেছে কৃষাণীর অন্তর।


সুমনা রায়

স্বাধীন তর্জমা 

আমার ঘুম না আসা চোখে জেগে থাকে অসীমান্তিক  রাত। তার বুকে দোল খায় আধফোটা চন্দ্রমল্লিকার শর্তহীন মায়া। গভীর হতে হতে নিমগ্নতা একটা বিশাল বৃক্ষ হয়ে ওঠে। তার শাখা প্রশাখায় জড়ায় শাশ্বত প্রণয়ের সুর। তাকে ছুঁয়ে দিলেই আমার চেতনার স্রোত বয়ে যায় চেনা দ্রাঘিমাংশ থেকে অচেনায়। দূরে কোথাও নবপল্লবে জন্ম নেয় আলোর এক স্বাধীন তর্জমা।

সঙ্ঘমিত্রা নিয়োগী

একটি চিত্রকল্প

যখন আমি দুপুরে ভাত খেতে বসি, 
 ভাতের গন্ধ লাটিমের মত গড়িয়ে 
এবাড়ি ওবাড়ি ঘুরে গোমতী  নদীর পাশ হয়ে পথ মাঠ  ক্ষেত পেরিয়ে
 লালগিরি গ্রামে পৌঁছোয় । 
 এরপর গন্ধ রথের চাকার মত গড়িয়ে 
ধান খেতে যেখান থেকে তৈরি হয় আমাদের আহার-- 
অন্নউৎপাদক কৃষকের বাড়ি অব্দি-- 
ছুঁয়ে ফেলে তার ঘরের কোণ, কুয়ো তলা, ছেঁড়া কাঁথা--
তার ঘাম-নুন-শ্রম আর চোখের জল...
দুবেলা খেতে বসলেই মনে পড়ে 
যারা এই অন্ন ফলায় তাদের সন্তান কেউ অভুক্ত নয় তো!

সন্দীপক মল্লিক

আজ অলক্ষুণে মৃত্যুর মিছিল 

আজ
অলক্ষুণে মৃত্যুর মিছিল
মানবিক সবুজ বনানীতে !
আজ
অব্যর্থ সময়ের পাপ
অপচয়ী প্রগতির পল্লবীতে !
আজ
দুর্বিনীত দূষিত দুঃসহ
অপঘাতী মৃত্যুর ঢেউ !
আজ
চন্দন-জীবনের সৌরভহারা
বিমুগ্ধ মমতার পরাগ !
আজ
দর্শনের ব্যভিচারে জরা
প্রাকৃতিক মানবিক দীপাবলি-দিশা !

বিধর্না মজুমদার

বাঁধন

বাঁধন যেন ছিন্ন না হয়
এই মোর চরম প্রত্যাশা
ধৈর্য্য আমাদের পাহাড় সমান
ভাঙ্গলে তবে উঠবে যেন সব ভরসা।। 

মাধুরী লোধ

প্রতিদিন থাকে খেলা

প্রতিদিন সকল মানুষ কে খেলতে হয় ভালো থাকবার খেলা
প্রতিদিন মানুষ কে তাড়িয়ে বেড়ায় মানুষের পছন্দ সন্দেহ হেলা অবহেলা ।
রোজ নামচায় মানুষের  থাকে উপরে উঠবার সিঁড়ি ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা
থাকে ঘাম শ্রম বিনিদ্র রাত করুন খেলা ধূলা  কিছু মানুষ লেখে কথা ও কবিতা ।
মানুষ প্রতিদিন ঠকে প্রতিদিন জেতে এক একটা খেলার ভিন্ন ভিন্ন ধরন
প্রতিদিন থাকে জীবন জুয়ার বাজি যারা হারেন পিছু হটেন সামনে জোটে মরন ।
দাঁতে দাঁত চেপে কেউ কেউ করেন মরন পণ চালিয়ে যান জেতার  লড়াই ,
এনারা জেতেন এনারা হাসেন বড় বেশি দেরি হলেও উত্তর পুরুষরা করতে পারেন বড়াই ।

নন্দিতা দাস চৌধুরী

স্মৃতির ডায়েরি

মধ্যবিত্ত বুকে ঝুলে থাকে স্মৃতির  ডায়েরি,এই স্মৃতি থেকে ফিরে আসার কপাট বন্ধ,
জীবনতো চলমান, অসমান অদেখায় আরো বেশী সমান্তরাল,
রোজ রোজ তাকিয়ে থাকা প্রতিচ্ছায়া চূর্ণ হওয়া নিয়মিত কঠিন  প্রস্তরে,
বিখ্যাত  শাড়ির  আঁচলে বুক ঢাকা প্রশান্ত সাগর জুড়ে নিশানী,
আমার আমি নতজানু হয়,
সবাই একা তবুও মিছিল জুড়ে সহস্র কোটির উচ্চারণ,
শুনসান রাস্তায় হেঁটে গেলে দেখতে পাই তুমি আমার  কেউ নও,আমিও তোমার কেউ নই।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

কল্পসুখ

চল তবে হাঁটি আবার নতুন করে
অস্মৃতির আড়ালে।
কল্পলোকে বুনি কল্পজ্বাল
হারানো  শৈশব খুঁজি চত্বারির ভিড়ে আরো একবার।

চল হাঁটি আবার নতুন করে,
রাতের পথ পেরিয়ে মিলি দুজনে অরূণোদয়ের পথে
সেই চৌরাস্তার মোড়ে,যেখানে লুকিয়ে ছিল 
আড় চোখে দেখার সুখ।

কল্পলোকে পাশাপাশি দাঁড়াই দুজনে
হতাশার বিস্মৃতিতে গাই ভালোবাসার গান।
বাতাসে উড়ন্ত আমার খোলা চুল,এলোমেলো খুনসুটি
তোমার দুরন্তপনা ,এক পলকের মিষ্টি দেখায় 
হারানো সুখ কুড়িয়ে নিই আরো একবার।

চল হাঁটি আবার নতুন করে
শাসন, বাধ‍্যতার অক্ষেও অবাধ‍্যতাকে খুঁজি
গোল্লাছুট, ডান্ডাচুল্লি কিংবা গুল্লি খেলার মাঝে
সকল দায়ভার ভুলে চল মুক্ত পাখী হই ।

চল বন্ধু হই আবারও বাড়ন্ত বয়সের
দৈন‍্যতা কাটিয়ে খোলা আকাশ হই
কল্পলোকের কল্পসুখে খুঁজে শৈশব পাড়ি জমাই
অস্তাচলের পথে।