Dec 20, 2021

মিঠুন রায়

দায়

অস্তিত্বকে আঁকড়ে বেঁচে থাকে মানুষ 

প্রশ্ন তুলে মানবতার অপমৃত‍্যু

পরিচিতির সোপান যদি রাজনৈতিক রঙ,

ক্ষুধার্তের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় কারা,

তারাও মানবপ্রেমের বুলি আওড়ায়।

মেকি দেশপ্রেমীরা ঘৃণা করে মানবতাকে

বিপথে স্বপ্নরা ডানা মেলে,

লুটে নেয় মহাজন শস‍্যকণা

কথা রাখার দায় কারোর নেই।

Dec 19, 2021

আমিনুল ইসলাম

তোর প্রত্যাখ্যান

তোর একপলক চাওয়া দেখে থমকে গেলাম 

তোকে নিয়ে হৃদয়ের ক্যানভাসে ছবি আঁকলাম।

হাজারো স্বপ্ন ,হাজারো চাওয়া নিয়ে তোর কাছে গিয়েছি,

তোকে নিয়ে অসীম সাগরে পারি দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

তুই দুই হাতে আগলে আমাকে এমন ভাবে ছুঁড়ে দিলি,

আজ আমি দিশাহীন।

পথ হীন অন্ধকার পথে হেঁটে হেঁটে জীবন চলে এখন।

মরীচিকা জেনেও এগিয়ে যাই প্রতিক্ষণ।

বড় ক্লান্ত আজ আমি, 

তোর প্রত্যাখ্যান পেয়ে আজ আমি মরুভূমির বুকে ও ফুল ফোটাতে পারি।

তোর ই আঘাতে আজ আমি সাগর জলে হাঁটতে পারি।

অনেক কিছু শিখেছি এখন, তোকে নিয়ে আর ভাবিনা,

ভালো থাকিস তুই তোর আঙিনায়।

আমার জীবন ঘুচিয়ে নেব মরুভূমির সীমানায়।

Dec 18, 2021

মায়া রানী মজুমদার

পৌষ সংক্রান্তি

পৌষের অন্তিম দিনে 

হয় পৌষ সংক্রান্তি, 

পিঠা পায়েস খেয়ে সবাই

মনে পায় শান্তি।

পৌষ মাসে কৃষকের ঘরে

আসে নতুন ধান, 

পৌষের শেষ দিনে হয়

পালিত পৌষপার্বণ।

নতুন চালের সদ্য  

তৈরী গরম পিঠা, 

সবাই বসে মজা করে

খেতে লাগে মিঠা।

ফুলপিঠা, ঝোলপিঠা 

পুলিপিঠা, চিতই, 

খেতে লাগে মজা ভারী

 নিয়ে যত সব সই।

ভাপাপিঠা পাখীপিঠা 

পাটিসত্ত্বা মালপোয়া, 

খেতে খেতে সব পিঠা'ই

হয়ে যায় খোয়া।

সংক্রান্তির দিনে হয় 

কোথাও পৌষমেলা, 

ভাই বন্ধু পরিজন গেলে

গড়িয়ে যায় বেলা।

মেলা শেষে ফিরে ঘরে 

সবাই একসাথে, 

যায় শুনা নামকীর্তন 

উৎসবের  রাতে, 

হরি নামকীর্তনে আছে

ভিন্ন ভিন্ন সুর, 

মুখরিত চারিদিক 

লাগে বড়ই মধুর।

নীরেশ দেবনাথ

দু দিন পরে

দু দিন পরে আবার তার সাথে 

দেখা  হয় যদি?

কী কথা বলিবো তার সাথে?

এত দিনের না বলা কথা কি বলা যাবে!

যদি স্তব্ধ হয়ে যায় সব!

স্তব্ধ হয় হোক!

চোখের ভাষাই হবে মুখের কথা।

না বলা কথাই হবে চোখে চোখে,

যদি আবার হয় দেখা

তার সাথে দু দিন পরে।

দেবীদাস নন্দী

টিপ

সেই কবে থেকে

স্নানঘরে আরশির

লাল টিপটা একা

গোধূলির অস্তরাগ


তুমি  কথা রাখনি.....

গীতশ্রী ভট্টাচার্য্য

তুমি আমি

ব্যতিক্রমী সমারোহ হোক তোমার জন্য , আমার জন্য

মিনার হোক সফেদ কোনো শহরের এই পাথর বুকে।

খোদাই করি দুজনেতে অঙ্গুরীয় স্মারক করে ভালবাসা

গালিব হোক, লুধিয়ানভি জিভের স্পষ্ট উচ্চারণে।


ব্যতিক্রমী সমারোহ হোক ছোট্ট কোনো পুকুর ধারে।


কলাপ মেলুক ময়ূর পাখা, মেঘ ও গর্জুক সমান তালে

কিনকিন বৃষ্টির মাঝে দু ফোঁটা জল চোখের কোণে।

জয়গোবিন্দ আউড়ে যাবে ছন্দে ছন্দে মিঠে সুরে,

বুকে আমার বাঁশি বাজুক তোমার হাতের চরণস্পর্শে।


ব্যতিক্রমী সমারোহ হোক আমাদের এই পর্ণ ঘরে।


রক্তে জাগুক বিপ্লবী সুর, তুমি আমি বিদ্রোহী হই

পাঁজর চিরে হাড়ের মাঝে শব্দমালা দুলতে থাকুক।

এবার শুধু দামামা বাজুক, ভেরি বাজুক গগন জুড়ে

আমার মুখে রক্ত জমুক তোমার দ্রুত হৃদ স্পন্দনে।


ব্যতিক্রমী সমারোহ হোক আমাদের এই জীবন জুড়ে!!

অষ্ট দেয়াশী

গরু চিনলাম মানুষ চিনলাম না

ছোটবেলায় পড়ে ছিলাম গরুর রচনা। 

তাই আমি চিনে গেছিয়ে গরুকে দেখ না। 

কেন তবে শিক্ষক তুমি  আমাকে পড়ালেনে মানুষের রচনা। 

তাহলে আমি চিনে নিতাম মানুষে কেমন তা। 

গরু দেখলে বুঝতে পারছি এটা গরু। 

মানুষ দেখলে বুঝতে পারছিনা এটা মানুষ না পশু। 

মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক মানুষ। 

সুযোগ বুঝে ছোবল মারে এরা কি সত্যিই মানুষ। 

গরু তবু মনিবের উপকারের কথা মনে রাখে। 

মানুষ রূপি পশু গুলো কোন দিনো উপকারের কথা নাহি মনে রাখে। 

নিজের টা চেনে এরা ভালো করে ভাই। 

পরের পিছনে বাঁশ দিতে এরা খুব ভালো করে জানে। 

তাই তো ও শিক্ষক ও দিদি মনি মানুষের রচনা পড়িয়ো আমায় আগে জনমে। 

তাহলে মানুষ চিনতে ভুল হবে না কোন  সময়ে।

প্রতীক হালদার

চাঁদের হাসি 

একলা জেগে চাঁদ মামা ওই
হাসছে মিটিমিটি,
নেই চোখে ঘুম একটুও যে 
দেখছে পিটিপিটি ।
কখনও বাড়ে ,কখনও কমে 
চন্দ্রকলা চলে,
নিজস্ব কোনো আলো নেই 
অন্যের আলোয় জ্বলে ।
অমাবস্যাতে নেই যে দেখা 
আগমন পূর্ণিমাতে,
তারাদের ভিড়ে বা কখনও একা 
সন্ধ্যা কিংবা রাতে ।
সারা গায়ে অসংখ্য কলঙ্ক 
করে না তবু পরোয়া,
হাসির ছটায় মুগ্ধ করে 
জীবনের দিল-দরিয়া ।
মোহিত করা মিষ্টি হাসি 
আমায় দিও ধার ,
মাতিয়ে দেব ভুবনটাকে 
করব একাকার ।

অলকা গোস্বামী

জীবন - যানজট

যখন উদাস মন
বিষন্নতা গাছের ছায়ায়,
কিছু স্বপ্ন ভাঙে গড়ে
রাখালিয়া বাঁশির মায়ায়।

নরম কমলা রোদ
নীল ছায়া দীঘির শরীর,
কাঠবেড়ালি নেমে আসে
ঝুরি ধরে বটের প্রাচীর।

হাক ডাক,যানজট
কোলাহল শহুরে স্লোগান,
গান্ধী ময়দান হয়ে ঘুরে যায়
নৈতিক দাবি, ও প্ল্যাকার্ড।

এরই মাঝে একবুক শ্রান্তি নিয়ে
তৃষিত পথিক,
হেঁটে যায় আজীবন,...
পথ ও শেষ হয় একদিন।।

Nov 22, 2021

অশোকানন্দ রায়বর্ধন

প্ল‍্যাটফর্ম        

ট্রেন চলে গেলে শূন‍্য প্ল‍্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকি একা ।
দুধারে রাবার বন । মাঝখানে মরানদীর মতো 
লুঙ্গার দীর্ঘ শরীর নিয়ে ঘুমন্ত রেললাইন ।
একপাশে সারাটা স্টেশনচত্বর দাঁড়িয়ে পাহারায় আছে ।
মাঝে মাঝে জেগে ওঠে রেললাইন হুইসেলের শব্দে
তার বুকের ওপর দিয়ে গড়ায় ধাতব অজগর ।
পাশের শহরে এখন এটাই আধুনিকতা ।  কিছুক্ষণের জন‍্যে চঞ্চল জীবন ।
তারপর আবার উত্তরের বাতাস দাপট শুরু করে

শীত এলেই রাবারের পাতাগুলো হারিয়ে যায় অনন্তে
কতোকালের ঘরদোর, খুনসুটি সংসার আর
ধীরে বড়ো হওয়া সন্তান নতুন স্বপ্নে উড়ে  যায় ।
শেকড় তাদের টানেনা । নতুন নিবাস কিংবা বাসা বাঁধে 
আকাশের কাছাকাছি । আরো উপরের কোঠায় ।

পরিচিত নিসর্গের বিন‍্যাস নেই আর আগের মতো ।
তাই সব সন্তানেরা দুধভাত ফেলে কর্পোরেট দানাপানির
খোঁজে পাড়ি দেয় সেইসব ধাতব পাতের পথে ।
চলে যাওয়া ট্রেনের গার্ডের হাতের সবুজ পতাকা
হাওয়ায় ওড়ে আর এক দীর্ঘ স্বপ্ন বদল হয় নতুন উড়ানে।
ট্রেন চলে গেলে শূন‍্য প্ল‍্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকি একা ।

সেলিম মুস্তাফা

হে দেবতা        

যতখানি আঁকা যাবে ততখানি যাবে এই পথ—
যেতে পারি আমিও তেমন
যেরকম জল যায় ঘাস ও পাতার ফাঁকে
নিভৃত মাটির বুকে—জনপদ ছুঁয়ে ছুঁয়ে—
বালুকণা ছুঁয়ে ছুঁয়ে— 
যেখানে হৃদয় নামে এক নির্জন মন্দির !

হে দেবতা, 
জীবন দিলে না, শুধু
ভক্তিটুকু দিলে !

তৈমুর খান

ইক্ষুক্ষেতের পাশে   

ইক্ষুক্ষেতের পাশে আমাদের সোনালি বৈরাগ্য

উদ্বাহু দাঁড়িয়ে আছে

কী কথা শুনতে চায় এত?


উদ্গত কথাদের বিরামহীন অস্ফুট ধ্বনি

বিমূঢ় কল্লোল তুলে ভাসাতে চায়


আমাদের আলোকিত পরবশ

মেধাবী মৈথুনের দেশে

উড়ে যায় বিদগ্ধ চতুর হাঁস


কৌতুকের অভ্যাস থেকে আমরা ফিরি

আমাদের অন্ধ পিতার কাছে

যেখানে অন্ধকারে গৃহগত পাপ

আত্মসুখের বিনুনিতে লুকায় অভিশাপ


ইক্ষুক্ষেতের পাশে সবুজ নদীতে

লখিন্দর ভেসে যায়


আমরা রতির আক্ষেপ দেখে বিকেল গড়াই

অপাংশু দেবনাথ

এই পথ      

তুমি কি এ পথে বাড়ি ফেরো আলোর ক্লান্তি নিয়ে বিকেলে!
এ পথেই কি বাজারে যাও ঢলে পড়া সূর্যকে পেছনে ফেলে?
এই চৌমুহনীতেই কোদাল গাঁইতি হাতে দাঁড়াও কাজের খোঁজে!

শহর থেকে টিউশন সেরে ফিরে আসবে বলে মেয়ে অপেক্ষায় বাসস্টপে পিতা
কিংবা শিশু নিয়ে তুমি কি স্কুলে যাও এই পথেই?

এ পথ ঝাঁড় দিয়েছে কেউ বহুকাল আগে।
মানুষ তার ধর্ম ভুলে একদিন ভিড় জমিয়েছিলো রমনীয় বাতাসে।
এখানেই কীর্তন শেষে এশা-র নামাজ শুনতে শুনতে বাড়ি গেছে মা ও মেয়ে।

এখন এই পথ জুড়ে পড়ে আছে ক্ষয়ে যাওয়া ছেঁড়া জুতো, 
চৌমুহনী জুড়ে ছিন্ন বোতাম, আর প্রতিনিয়ত হাওয়ার ওজন বাড়ে।

সুড়ঙ্গ থেকে ছুটে আসে কেউটে-বাতাস ; পতাকার দুর্গন্ধ।
একা মানুষের পায়ে পায়ে দাঁড়িয়ে আছি
তুমি এলেই এই পথ ছুটবে কামনার গন্তব্যের দিকে।

সৌমিত বসু

আমার মেয়েটি         

ভাতের হাঁড়ির ভেতর বসে আছে মেয়ে।এইতো আকাশে ছিলো।কখন সে নেমে এলো ঢাকনা সরিয়ে?প্রতিটি গ্রাসের সাথে কিভাবে যে তোকে মুখে তুলি?মেয়ে ফ্যালফ্যাল।বাবার মুখের ভেতর দিব্যদর্শন।

মেয়ের মা মুখের ভেতর ছুড়ে দিচ্ছে টুকরো টাকরা মেঘ।যাতে দমবন্ধ করে লোকটা মরে যেতে পারে।ইতিহাস বই থেকে পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ঢুকিয়ে দিচ্ছে মুখে।যাতে কেউ খোঁজ না পায় স্বপ্নের তলদেশ।মোটকথা মেয়ের সাথে সে পুড়িয়ে ফেলতে চাইছে তার কয়েকমাসের ভুল।

একটা খারাপ লোক একটা ভালো বাবা হতে চেয়ে মুখ তুললো ওপরে।একটা মেয়ের মা ভালো হতে চেয়ে তাকালো ঘাসের দিকে।দুটো জীবন পালকের মতো ভেসে গেলো কোনদিকে,মেয়েটা জানেনা।

তমা বর্মণ

এখন সময় দ্রোহ ও প্রেম        

ফিরে দেখার সময় নেই 
নিজের সঙ্গে নিজের দেখা ক্ষণিক হলেও 
আয়নার সভ্যতায় এ মুহূর্ত চিরকাল
মানুষ নিজেকে ধরে দাঁড়িয়েছে, তাকে ভেঙে 
পালটে ফেলতে পারো পৃথিবী, অন্ধকার এগিয়ে এক-ধাপ আরো 
কাপুরুষ জঙ্ঘার দিকে যেমন এগিয়ে যায় 
উধাও জীবনের শেষ ক'দিন
কিছুটা বাকি পড়ে থাকে উন্মুক্ত চাওয়ার কাছে  
নত প্রণামে বোধির কাছে এক-দিন যা প্রতিজ্ঞা করেছিলে
পবিত্র সম্ভারে একটু একটু সেই মন্দ্রিত স্বর এখনো 
পাখিদের শুদ্ধ ডানার উচ্চারণে খোলা আকাশে 
যে নক্ষত্র তারার চোখ তোমাকেই চাইছে আলোময়
অসুখের উপত্যকায় একক ইতিহাস হতে তার ডাকে 
যোদ্ধার ভূমিকা।

কুশল ভৌমিক

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়া মেয়ে      

কার্তিকের সদ্যভূমিষ্ঠ শীতের সকালে 
ভাঁপাপিঠার পৃষ্ঠদেশে 
লেপ্টে থাকা নারকেল-গুড়ে
সেই যে জানালে আমন্ত্রণ 
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়া মেয়ে। 

আমি তো ভূগোল পড়া ছেলে 
প্রতিবেশ জলবায়ু খনিজে পাথরে
খোদাই আমার মন 
মসলার আবাহনে সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণে 
আমাকে ডাকছো সারাক্ষণ 
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়া মেয়ে। 

পায়েসের বুকজুড়ে উঁকি দেয়া কিসমিস
শুয়ে থাকা গাওয়া ঘি পোলাওয়ের চালে
কাবলি ছোলার চাট, তোকমার শরবত 
কপির ডালনা আর টিকাইয়ের লোভে
ভাবছো নোঙর ফেলি তোমার বন্দরে? 

ভূগোল ও পরিবেশ 
যাবতীয় অধিবিদ্যা ভুলে
তোমার রসুইঘরে কেন রোজ উঁকি দেয়
কোন ঘ্রাণ পেতে চায় 
কিছুই জান না তবু 
অগোচরে 
রোদ হয়ে মুছে দাও যাবতীয় অন্ধকার 

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান পড়া মেয়ে।

শান্তনু ভট্টাচার্য

১. হাঙ্গার ইনডেস্কের এক'শ এক     

দুদিন  কিছু  না জোটার পর
তিনটে মেঠো ইঁদুর ঝলসানো হচ্ছে উঠোনে...

কাঁদতে কাঁদতে ঝিমিয়ে পড়া বাচ্চাটা
মা'র কোল থেকে তাকিয়ে দেখছে-
                      দিন বদলের আলো।


২. অদ্ভুতভাবে 

চিমনির ধোঁয়া।বাসের চাকা। ট্রেনের চাকা।
অফিসমুখো মানুষ। দ্রুতগতি। হরেক গন্তব্য।

লোকাল ট্রেন।অনেকদিন না দেখা পাওয়া দুই যুবক যুবতী হাত ধরবার আগে গা ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছে দরজার সামনে... 
 
 সব একেবারে ঠিকঠাক আগের মত।
শুধু অদ্ভুত ভাবে রেল লাইনের ধারে 
আগাছা কিংবা গাছে গাছে যে ফুলগুলো ফুটছে সেগুলো শুধু লাল পোড়া রুটির মতো...

হারাধন বৈরাগী

বর্ণমালা       

বর্ণমালা নেমে এসেছে 
গাইরিং থেকে
চোখ ভরে উঠেছে তারায়

জুম জঙ্গল উপল
তাকে পথ ছেড়ে দাঁড়ায়।

এবার ঝিরি ছড়া নদী পেরিয়ে
ঝাঁপ দেবে মোহনায়

রোদ তাপ আর নিম্নচাপে
এখন সে মেঘলা আকাশ।

মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ

পৃথিবী পৃষ্ঠ   

(ক)

মৌসুমী মণ্ডল দেবনাথ 
আমার ভূখণ্ডের একটা নাম দেবে? 
একটা সাম্যের পতাকা দেবে?
আমার সভ্যতার একটা আইডেনটিটি দেবে?
আমার বুকের গভীরে ধুকপুক করে ভিয়েতনাম।
হৃদয় জুড়ে ভল্গা তীরের বরফকুচি,
ব্রেনে ভরা আছে ইজিপ্টের পিরামিড বিজ্ঞান 
মনের মধ্যে বৈষ্ণবপদাবলীর প্রেমের ধারা
তবুও মাথাটা নামিয়ে রাখি সিন্ধু সীমান্তে ঘর বাঁধা
পাখিদের আটপৌরে খড়কুটোর ঘরের দুয়ারে।
 
(খ) 

পৃথিবীর রজঃসলা ভূমিতে ফসল ফলাই আমি,
আমার লাঙলে আজ যুদ্ধভূমির রক্ত চুঁইয়ে পড়ে
মন্থনে উঠে আসছে পীড়িত দেশের কান্না-রস
আমার পোশাকে ছাপা সিরিয়া, প্যালেস্তাইন ও
প্যারিসের বারুদের তীব্র গন্ধ।  
আজ সন্ত্রাসবাদীদের সাথে আমিও
একই পতাকার নীচে দাঁড়িয়ে।

(গ) 
   
পৃথিবীর সব নগরের পথে পথে ছড়িয়ে রইল শিউলির সৌরভ।
আমার লোহিতকণায় মিশে আছে বিকেলের মোহ। 
আমি আগ্নেয়গিরির মতো আগুনের ঝড়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছি।
মাংসে ফুটছে স্ফুলিঙ্গ, 
কোনও অজানা ধর্মের একজন ঈশ্বর আমার কন্যা-শরীর 
সম্ভোগ করছে...
আমার মাংস গলছে প্রচন্ড তাপবাহে।
একটা শরীরী গোধূলি ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে রজনীগন্ধার গন্ধ মাখা শবদেহ হয়ে

(ঘ) 

এ বিশ্ব একদিন মানুষের বাসস্থান হবে
সমস্ত দৈবাধীন ধর্মকে ছুটি দিয়ে
কালের যাত্রায় ফুটবে পারিজাত। 
আলোয় জন্ম নেবে ধানের শীষেরা। 
এখন আমার পারমানবিক ঘুম 
নিয়ে যাও হে ঘুমপরীর দল...
অন্য কোনও মহাশূন্যে।
আকাশের নীলহারা পাখিরা ফিরে আসুক আবার পুরনো আকাশে।
আমার সমস্ত ধ্রুবপদে বাঁধা নদীর ঘাটে ঘাটে
মুক্তির ভাষা জাগবে সকালবেলায়।

তমালশেখর দে

সিদকা /2

এত প্রত্যাখ্যানের পর আবার এসে কেন দাঁড়ালাম তোমার সামনে ?

আরও প্রত্যাখ্যাত 
আরও দহন চায় এ-হৃদয়!