Feb 21, 2024

রুদ্র মোস্তফা

 তর্জনী অথবা বিজয় ফুলের জন্মবৃত্তান্ত 

বিভাজনের প্রাচীর টপকে ক্ষুধার মাছি কানের কাছে
 ভনভন করে স্লোগান তুলেছিলো
‘লাখো ইনসান ভুখা হ্যায়, ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’।
আমরা তখন দেখছিলাম ঘর পোড়া আলোয় স্নানের দৃশ্য—
বদলে যাওয়া ঘরে ভিন্ন স্বরে মগ্ন হয়ে 
 ক্ষুধার রাজত্ব ঢেকে দিচ্ছিলাম রূপকথার গল্পে।

প্রথম ঘোর কাটে ভাষার ঘাটে:
‘দ্য স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ অব পাকিস্তান ইজ গোয়িং টু বি উর্দু 
অ্যান্ড নো আদার ল্যাঙ্গুয়েজ’। 
আমরা সমস্বরে বলেছি, নো—
 নো নো নো নো নো নো। 
বুক পেতে ঠেকিয়েছিলাম সুচালো বুলেট। 
আমরা রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিলাম বর্ণমালা।

আমরা হাসতে গিয়ে টের পাই 
জখমের কালশিটে চাদর জড়িয়ে রেখেছে ঠোঁট।
আমাদের হাসি আমাদের উপর গড়িয়ে পড়ছে 
ক্রীতদাসের ক্রন্দন হয়ে... 
হাহাহা হাহাহা হাহাহাহা...
তখন হাসতে ভুলে গেলাম  
তখন বাঁচতে ভুলে গেলাম। 
হন্যে হয়ে আমরা খুঁজছিলাম শিকল ভাঙার গান 
খুঁজছিলাম অসুর নিধনে সুরের মোহময় টান। 

বাঙালির হাজার বছর রেসকোর্স ময়দানে 
সমস্ত হিসেব নিয়ে একে একে বসে 
তখন অস্তিত্বের চেয়েও উঁচু হয়ে দাঁড়ায় তর্জনী— 
তর্জনী ধোয়া বর্ণমালায় ভেসে যায় জনপদ : 
"রক্ত যখন দিয়েছি আরো রক্ত দেবো।
এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। 
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, 
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"
মুহূর্তেই আমরা শিখে যাই  
আঁধারে রঙিন ফুল ফোটানোর মন্ত্র। 
দীর্ঘ নয় মাস পর  
চরাচরে ভেসে যাওয়া রক্ত 
সবুজ বুকের ঠিক মাঝখানটায় 
 'আমার সোনার বাংলা 
আমি তোমায় ভালোবাসি' 
বলে  জেগে ওঠে। 
বাংলাদেশ নামে মৌ মৌ ঘ্রাণে
তখন বিজয় ফুল ফুটে পৃথিবীর বুক জুড়ে।