Sep 5, 2021

সৌমেন ভট্টাচার্য্য

দূর্গা দুর্গতি নাশিনী  মা 


মাগো  মা দূর্গা  দশভূজা  মা

লহ  আমাদের অর্ঘ্য  প্রণাম,

এই  ধরাধামে  অর্বাচীন  ঘেরা

জানাই  তোমায় স্বাগত  অভিবাদন ।

তোমার  গুণগানে  অভিভূত  আমরা

তুমি  কখনো  কালী -  কখনো  দূর্গা

কখনো আবার  জগদ্ধাত্রী মা 

কখনো  দেখি  তোমার  সংহাররূপিনী  রণাস্ত্র - সজ্জা।

 তুমি কি  শুধুই  মা  মাটির  প্রতিমা !

নরলোকে  কি  নেই  চেতনা  - নেই  কি  আত্মা।

দেবলোকে  তুমি  করোনি  অসুরদের  ক্ষমা

 কেন  স্তব্ধ বলো  রণাস্ত্র  তোমার  আজ  ধরেছে  কি  মরিচীকা।

এতো  অন্যায় - অত্যাচার -  অবিচার

জগতে  গেছে  ছেয়ে

তুমি  কি  গো  দুর্গতি  নাশিনী  মা

শুধু  নীরবে  দেখবে  চেয়ে  চেয়ে?

নীরবে  যাইবে  সয়ে ?

মাতৃ  রূপে -  শক্তি  রূপে   তুমি  থাকো  সদা  মা  সর্বভূতে।

রত্মা মজুমদার

আক্ষেপ

সরে গেল বাঁধন হারা প্রেম,

অভিমান তপ্তে ভুল ।

নীরস সৌমাল্য অঙ্ক কষার মত,

ছুঁড়ে দিল দুটি শব্দ কৌশল করে।

বুঝেও নিরুওর চিরদৃতা,

সৌমাল্যের আগ্রহে জল ঢেলে দিল ।

পরে আক্ষেপ  হাতুড়ে পেটানো তপ্ত লৌহদন্ড, 

আক্ষেপ চোখের জলের গণিতবিদ সৌমাল্য ।

কাঙ্খিত শাওন রাতের বুকের বন্ধু, 

বর্তমানে রুমালীর শয্যায় খেলাঘল বেঁধেছে ।

মুঠো ফুল ছড়িয়ে দিয়েছে বিছানা,

দিনে দিনে চোখের জলের বাদলা রাত ।

বিষাদ বিরাগে কথা বলে নিজের সাথে,

ভিজে যায় বিরহ বিছানার একাকী শয্যা।

হৃদয় শীল

জাগো মানব  

হে মহামানব  জাতি জেগে উঠো, 

এই শ্রেষ্ঠ প্রাণী জেগে উঠো।

লড়তে হবে তোমায় প্রস্তুত হয়ে ওঠো, 

আর নয় লোভ হিংসা যুদ্ধ মহামারী। 

ভুলে গেছো তোমার ধর্ম ভুলে গেছো তোমার কর্ম । 

জেগে  তুলো তোমার মনের শক্তি জাগো জাগোও জেগে উঠো। 

মহা মানব ধর্ম কে জাগিয়ে তুলো হে মহা মানব জাতি জেগে ওঠো । 

অতীতকে স্মরণ করে ভবিষ্যতে পা বাড়াও। 

উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কেই ভালোবাসো। 

শ্রদ্ধাশীল হুও ভক্তি শীল হুও।

লোভ অহংকার ত্যাগ করে সৎ পথে এগিয়ে যাও সৎপথ‌ই পরম ধর্ম

শকুন্তলা সান্যাল

গমক

চক্রবৎএ ঘুরে চলা আমার কাজ নয়।
তাবলে মেঘ জমে না, তা নয়
তাবলে বিরহ শেষে প্রেম চাইবনা,তেমনও নয়।

চাকা ঘোরো চাকা ঘোরো।
এগিয়ে চলো চাকা!
চাইনা চাইনা চাকার ঘোরা বন্ধ হোক ।
সে আমার ইচ্ছে কথার দেশকাল, 
সে আমার ভালোবাসার খড়কুটো।
সে আমার  চোখের  ঘুম...

চক্রবৎ এ  ঘুরে চলা আমার কাজ নয়।

আকস্মিক প্রেম এসো,আমায় হত্যা করো,তোমায় বরণ করি

শাশ্বতী দেব

হৃদি কথা

তুমি নেই- আছে অনুভূতি,

দেখা নেই হৃদয়ে শুধু স্মৃতি।

মনভ্রমরা চায় যেতে শুধু তোমার কাছে,

মন যে শুধুই আনন্দে নাচে।

আপনা থেকেই কেন আজ লজ্জা পাচ্ছি?

নিজেকে আজ দূর-দূরান্তে উড়িয়ে দিচ্ছি ।

আস্কারায় আজ মন করছে দুরন্তপনা,

হৃদয়ের কোণে আজ ফুটল হাস্নোহানা।

রাহুল দেবনাথ

আনন্দম 

কন্ঠে কন্ঠে মঙ্গল সুর,

দশভূজা মা নয়তো দূর।

ভোরের শিশির ভেজা ঘাস,

ভোরের শিউলি অপরূপ সুভাষ।

ঢাকে কাঠি পরল এবার,

ত্রিনয়নী এসেছে আবার।

আলতো মাখা দেবী চরন,

দশোভূজা সাজে সিংহবাহন। 

অশুভ শক্তির বিনাশ করে,

তুমি যে আসো মা বাপের ঘরে।

বীরেন্দ্র কন্ঠে আগমনী সুর,

চারিদিকে শুধু খুশির জোর।

শারদ প্রাতের নবজাগরণে,

মা এসেছেন মর্ত্যধামে।

দিলীপ দাশ

ভালবাসা

(অক্ষরবৃত্ত ছন্দে পর্যায়সম পয়ার)

ভালবাসা  নয় শুধু  সুখের  সঞ্চার,

কত ভালবাসা কাঁদে নির্জন প্রহরে।

দেখেছি আমি যে তার নিঃশব্দ প্রহার

দফন দেখেছি তার  কত  বালুচরে।


হাসতে শেখায়  বলে  লোকে ভালবাসা

আমি তো দেখেছি তারে নীরবেতে কাঁদে।

দহনে  দহনে  পুড়ে   অবিরাম  আশা

অজস্র প্রেমিক তার পরেছে যে ফাঁদে।


জ্বলে পুড়ে খাঁক তার সহস্র প্রত্যাশা

স্থবির  শৈবাল  সম   দুরন্ত  যৌবন।

ভালবাসা কখনো বা শকুনির পাশা

কত ভালবাসা গেলো ভঙ্গ  দিয়ে রণ।


পথহারা ভ্রান্ত  যত   প্রেমিক  পথিক

অজস্র যাতনা যত বক্ষে ধরে রাখে।

পায় না জীবনে খোঁজে ঠিকানা সঠিক

মরণের পথ পানে  শুধু চেয়ে  থাকে।

আব্দুল হান্নান

যখন যাবে

মাতাল নদী বরষা যদি পায় একবার দেখে

ঢেয়ের ওপর ঢেয়ের চাপড় কুলে ভেঙে থাকে।


মাছের পনা চলেই টানা নেই কোনো তার দিক

চরের দিকে ঠেকে গিয়ে ভাসে থিক থিক থিক।


গরম কালে হাওয়া চলে মন মজে যায় তাতে

শীতের সময় নীরবে ঘুমায় ভয় থাকে না স্রোতে।


চাঁদনি রাতে রূপালী পাতে কত যে রঙে সাজে

কুলে গেলে ভরায় ফুলে সময় ভালো কাজে।


শুভ্র হাসি ভরায় রাশি..জুড়ায় ক্লান্ত দেহ

যখন যাবে নতুন লাগে নিরাশ হয়না কেহ।।

Aug 14, 2021

জগন্নাথ বনিক

শরৎকালে ঢাকের শব্দ 

শিশির ঝরেছে ফুল ফুটেছে,
শরতের আগমনে।
ধরনীর বুকে আজ ঢাকের শব্দ,
কী আনন্দ সবার মনে।।

প্রভাতী ভোরে শিশির ভেজা,
শিউলি ফুলের গন্ধে।
নদীর ধারে কাশ ফুলের সারি,
দেখি যে মনের আনন্দে।।

ঢাকের শব্দে ধরনীর বুকে,
হবে যে দেবীর বোধন।
শরৎকালে খুশির হাওয়া,
নেচে ওঠে সবার মন।

ষষ্ঠী থেকে মহানবমী,
পুজোর চারটি দিনে।
ঢাকের তালে নৃত্য করি প্রণাম জানাই,
দুর্গা মায়ের শ্রীচরণে।

দশমীতে গঙ্গার ঘাটে,
বিদায় জানাই অশ্রু জলে।
সবার ঘরে হাসি আনন্দ,
সুন্দর শরৎকালে।।

অন্তরা ভট্ট

দিশেহারা পাখি 


দিশেহারা পাখির মতো
খুঁজে বেড়াই বাসা
আমিও হয়তো দিতে পারি
তোমায় ভালো রাখার আসা।

প্রয়োজন নয় শুধু
প্রিয়জনও বটে
আহ্লাদের নীড় খানা 
রাখি ভালোবেসে।

শস্যাদি যত আনি
সঞ্চয় রাখি 
ক্ষেত খালি হতে যেন 
পেট ভরে রাখি।

সবুজের বন্যা 
আসে মাঠে-ঘাটে
তোমাতে-আমাতে মিলে 
ছুটি দেশ দেশান্তরে।।

Aug 13, 2021

অদৃশ্য নাথ

শিকার

আমাদের দেশে আইন কি আছে 

কেন জনতার বুকে আঘাত ?

বুদ্ধিজীবী প্রতিবাদীরা ভিজে বেড়াল

নেই নেতার কোন জাত ?


মানুষ বিশ্বাস করে ভোট দিল যাকে

তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার,

আজ অর্থের লোভে বেচে দেয় নেতা

জনসাধারণ তার শিকার ?


বলো কোটি জনতার দোষ কি তাদের

তারা গিনিপিগ কেন রবে ?

এ দেশের আইন নেতা আমলার

মানুষের কবে হবে ?


কেন এ নির্বাচন, কেন এ প্রহসন

কেন খরচ লক্ষ কোটি টাকার !

জনসাধারণ রয়ে গেল আজও

নেতাদের হাতে শিকার ?

সৈকত ভৌমিক

অনুভূতি

আমার সাথে পড়তো একটি মিষ্টি মেয়ে!
তাকে ভালোবাসতাম আমি প্রাণের থেকে চেয়ে!
কাজল কালো ছিল তার ঐ দুইটি আঁখি!
সে ছিল আমার মনের পোষা পাখি!
তারে পুষতাম আমি আমার মনের খাঁচায়!
তাকে দেখার জন্য যে আমি থাকতাম অপেক্ষায়!
তারে না দেখলে অশ্রু ঝড়তো আমার দুই নয়নে!
তারে যত্ন করে রাখি আমার অবুঝ মনে!!
তাকে দেখতে লাগতো যেন কোনো স্বর্গের অপশরা!
তার জন্য আমি এনে দিতে পারি গ্রহ, নক্ষত্র, তারা!
আদর করে মনে মনে ডাকতাম তাকে মিষ্টি!
আমি হবো ঘন মেঘ আর তুমি হবে বৃষ্টি!

অপাংশু দেবনাথ

জ্যোৎস্না 


ভেবে বলো,

কিছু দেবার ছিলো না বুঝি!


কি দেবে আর? 

আদিগন্ত অন্ধকার দিলে।


অহোরাত বুকে ঝর্ণা জাগিয়ে রাখি

সারা গায়ে গোপণ-জ্যোৎস্না মেখে

স্নান করবে বলে।

ড. সন্দীপক মল্লিক

স্বদেশী প্রকৃতির শোভায়

স্বদেশী প্রকৃতির শোভায় বাঁচে সবুজের চন্দন !

তবু

মানবিক শরীরেই দেখো  ব্যথাতুর ক্রন্দন !

ভুলে-ভরা আচরণেই শারীরিক ফাগুন

                                     বিধ্বস্ত-প্রায় !


অলক্ষুণে মতিভ্রম আয়ুহারা !

ব্যক্তিক অশন-বসন-কৃষ্টিতে বিনষ্টিরই জয় !


মানবিক মৌলিক জ্যোতি, সদ্ভাবনার সজ্জা

                                    নিঃশেষিত-প্রায় !

পাপবিদ্ধ আচরণে অবারণ অবক্ষয় !


স্বদেশী নিসর্গ-শ্যামলে প্রসন্ন গুল্ম-লতা-পাখিদের

                                    শ্রীমণ্ডিত ঐকতান !

সুষম-সুস্মিত-সম্প্রীত প্রাণিদের সংসারে

                                     অমৃত-পরমের গান !

কেবল

মানবের মননেই পাপান্ধ সম্ভোগ !

কেবল

মরণের ঘোরেই  স্বদেশী  প্রগতি-পুষ্পের  মঞ্জরি অস্থির !


এ  কেমন পরাজয় মানবিক মাধুরী-বৃত্তির ?


আজ

পবিত্র জীবনের অর্জনে অদৃশ্যের  

                                         তমসাচ্ছন্ন ধৃতি !

আজ

কৃতি-প্রভুত্বের নিঃশেষণে  বিপর্যস্ত 

                                        স্বদেশী মানবিক সংহতি !

চন্দন পাল

অধিনায়ক (২)

জানি, তুমি ঈশ্বরকে (প্রকৃতিকে) সব বলোনি! 

আমরা যে কৃতঘ্ন-ভীরু-স্বার্থপর, অমানবিক-উদ্ভট-দিকভ্রষ্ট আর অসাম্য, তুমি বলোনি।

আর একটু সময় দাও, আমরা ঠি-ক  হয়ে যাবো।


তোমার উপেক্ষিত পরিবার আজ সে দিনগুলি ফিরেচায়---! 

অপত্য আর প্রিয়তমার, অনেক কথা ছিল তোমাকে  বলার।

অনেক আদর ছিল, চেয়ে নেওয়ার।


কিন্তু সময় ছিলনা তোমার,  বৃহদভুক্তি হয়ে।

নিজ পরিবারের আদরকে দিলে হেলায় বলিদান।


না জানি কতদিন,জলেনেমে চান করোনি।

না জানি কতদিন, হাত ধুয়ে খাওয়ার,চকিৎ পাওনি।

তবুও প্রত্যয়ে অটল, নির্বিকার।


শীততাপ বিছানা ছেড়ে,  বন-বাদাড়কে করেছিলে বালিশ-

কাবুলি, কাগজঅলার কষ্টরূপ নিয়ে খুঁজেছো মুক্তির পথ-

সয়েছো বুটের ঘা, গারদের কামড়,সহযোগির কষ্টকরুণ চোখের ভাষা।

জানি,

পঁচাত্তর বছর মানে, সাড়ে সাতষট্টি হাজার দিন আমাদের বোধোদয়ে নেহাৎ  কম নয়!


আমরা এখন, প্রতিদিন সকালে,

গল্প, কবিতা, শুভেচ্ছা আর উপদেশ বিনিময়ে,

পরস্পরের বোধ জাগিয়ে তুলি।

তুমি আরেকটু সময় দাও, আমরা ঠি-ক  হয়ে যাবো। 

নেতাজি,

তুমি এক সন্ধানের নাম, অন্তরের জিজ্ঞাসা! 

কোথায় লোকালে...?  এসো!

তুমি রাজর্ষি, রাজার-নীতি, অন্তরের পাঠশালা।

উৎকর্ষ জীবনের সূত্রগুলি, প্রতি শিশু কন্দরে ছড়িয়ে দাও।

ধরো হাত,স্পর্ধা হোক বিশ্বমানে।


তুমি,  শুনতে পাও কি!

নানা বিজ্ঞাপনে ভরে গেছে, দেশাংশ।

ভিত্তি লুকিয়ে, প্রচার সারে, সস্তা  প্রচারীরা। 

আমরা গিলি, গভীরে যাই না, বুদ্ধিও তেমন নেই।

আগে চাই যাপন,পরে যাচাই।


থেকে থেকে সম্ভ্রম ছেড়ে, নিরুপায় যাচ্ঞা উঠে । 

চার এর সাধ মিঠলেও, চার লাখের অন্তরাত্মা কাঁপে।

সাথে আছে মারি, ঠেলাঠেলি আর উন্নাসিকতা! 

দেখো,

 রং ঢং ময়ূরপুচ্ছ মাখা, বাছাই কর্তার গা।

আদুরে ডাকে পিছলে পড়ে ক্ষমতার মেধা। 

ওদিকে, 

অসহায় বিজ্ঞান বাটি চালে, , 

হজম করে, স্বৈর হুকুম, মাতব্বরি শাসন।

ভাবনারা বাঁচায় পিঠ, পরে পুরস্কার।

আদরের চেয়ে, অনাদরে ঘোচায় হাহাকার। 


অথচ,

এ দেশাংশ আজ আমার, কালও আমার, 

পাঁচ বছর পরও আমাদেরই ,,,,,।

পালক যেই হও,

কঠোরই হবে যদি,  সংকীর্ণমনা লুটেরাতে হও,

বেগবান হোক দেশ,দেশের সম্ভাব্য মানুষ সম্পদ !! 

অধিনায়ক ধর হাত

দিলীপ বসু

স্বাধীনতা

ধানের খেতে ফসল ফলায় আলিমদ্দির পোলা

ইঁদুর বাদুড় সব খেয়ে যায়। 


হাসে শূন্য গোলা।

আম জনতা পদ্য লেখে 

ভোটাভুটির পদ্য

মন্ত্রী মশাই পয়ার ছেড়ে

ভাম ধরেছেন সদ্য।

 পাড়াশুদ্ধ যুবক যুবা

অন্ধকারে চাকরি খোঁজে

ভূতপাঁচালি লেখে মর্দ

আড়াইটাকা রোজে।

এরই নাম স্বাধীনতা

একে নাকি স্বরাজ কয়

বাণভাষি মানু্যহগুলো 

কলার ভেলায় সওয়ার হয়।


সবাই জানে হরিদাসী 

স্বাধীনতার সংগ্রামী

দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে

জলজ্যান্ত স্বামী

হরিদাসীর ছেলেটাও

দাঁড়িয়েছিল  ভোটের লাইনে

দেশ ছাড়ল ঠিক যেন সে

হাইনরিখ হাইনে।

কত মানুষ প্রাণ দিয়েছে

আরো কত দিচ্ছে প্রাণ

এই স্বরাজ কেমনতরো

উঠুক কলতান।

ডঃ রঞ্জিত দে

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা আমার স্বপ্ন,

স্বাধীনতা আমার মঙ্গল পাঁড়ে, 

স্বাধীনতা আমার সূর্যসেন।

স্বাধীনতা আমার বুড়ি বালামের তীর,

স্বাধীনতা আমার মাতঙ্গিনী হাজরা।

স্বাধীনতা আমার জালিওয়ানাবাগ,

স্বাধীনতা আমার জালালাবাদ।

স্বাধীনতা আমার নেতাজি সুভাষ,

স্বাধীনতা আমার বিশ্বাস,

স্বাধীনতা আমার মুক্তির শপথ।

স্বাধীনতা আমার রবীন্দ্রনাথ

স্বাধীনতা ১৯৪৬ এর দাঙ্গা,

স্বাধীনতা ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭,

স্বাধীনতা মুক্তিকামী মানুষের উল্লাস।

স্বাধীনতা দেশ বিভাগের কান্না,

উদ্ভাসদের স্বজন হারানো ইতিহাস,

স্বাধীনতা আমার দেশ,

স্বাধীনতা আমার মুক্তির শপথ।

সৌমিত বসু

তুমি আসবে বলে

এই যে অন্ধকারের ভেতর দিয়ে আমার দীর্ঘ যাত্রা

চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা সুবাতাস

একবুক বসন্তের মধ্যে কালো ডানায় ভর করে 

আমায় এইযে দিকচিহ্নহীন প্রান্তরে উড়ে চলা 

এও কি থামানো যাবেনা এই তুচ্ছ মানবজীবনে?

চারিদিকে সমুদ্র আর সমুদ্র

জল থৈ থৈ থৈ পৃথিবীর কোনো প্রান্তে কোনো মাস্তুল নেই 

যেখানে বসে দু'দণ্ড বিশ্রাম নেবো 

যেখানে বসে পার করে দেবো বয়সের গাছপাথর 

আর আমার এই রাতভোর উড়ে চলা রঙ

গলে গলে পড়বে সমুদ্রের জলে, তোমার সমুদ্রের জলে।

এসমস্ত দেখা সম্ভব হলো শুধু তোমার জন্য 

শুধু তোমার জন্য আকুল হয়ে থাকা যাত্রাপথ 

দূষে চলেছে দু'পাশের নুড়িপাথরকে 

গাছে গাছে বেঁধে চলা বর্ণনার গান 

অবশ করে দিচ্ছে দু-পায়ের পাতা, শরীরের যাবতীয় ফাঁকফোকর।

শুধু তোমার জন্য রোদ্দুরে পিঠ দিয়ে 

বসে থাকা সমস্ত দিন

দপদপ হ্যারিকেন হাতের মুঠোয় নিয়ে 

বাঁধের ওপরকার তীক্ষ্ণ সরলরেখা বারবার ছুটে চলেছে যারা উম্মাদের মতো

শুধু তোমায় নিয়ে পালিয়ে যাব ভাবতেই

পিঠে রূকস্যাক, সম্পর্কের থলির ভেতর গোপন পাথর

আর তোমার হারিয়ে যাওয়া, গ্রামের ঠিকানা।


তুমি আসবে বলে সেই সন্ধ্যে থেকে বসে আছি এই বর্ণহীন মাঠে 

এখন পূর্বদিকে ভোরের লিপস্টিক

সারারাত চাঁদকে যে কতবার উঠতে দেখলাম 

কতবার ডুবে যেতে। দীর্ঘঝযাত্রাপথে সে তোমায় হাত নাড়িয়ে আশ্বাস দেয়

কালো গাছপাতার ভেতর দিয়ে গলা বাড়িয়ে দেওয়া শ্বাপদের

ঘন জলের ঘরের ভেতর থেকে বাতাসে মুখ তোলা নানান জলজ প্রাণীরা 

অদ্ভুত শব্দ করে আকাশে চিরে ভেসে যাওয়া বিচিত্র পাখিশব্দ

আমাকে সাহস জুগিয়ে যায় সারাটারাত।

তুমি আসবে বলে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছি মৌন মিছিল।

আষাঢ়ের সব রঙ যেদিন জীবন থেকে মুছে যাবে

মুছে যাবে রাত্রে থেকে ঝরে-পড়া ক্ষোভ

কুয়াশা মাখানো সন্ধ্যার কানে সেদিন কেউ না কেউ ঠিক দিলে দিয়ে যাবে 

অচেনা আহিরভৈরব।


তুমি আসবে বলে স্বাধীনতা

সকাল দাঁড়িয়ে রয়েছে অচেনা রাস্তার মোড়ে

যে মেয়েটির হাতে হাতে বদল হয়েছে এতোকাল

যে ছেলেটি রুগ্ন মাকে রাস্তায় বের করে

জমি বাড়ি সম্পত্তি লিখিয়ে নিয়েছে 

যে প্রৌঢ় শুধুমাত্র পয়সার ক্ষমতায়

কন্যাসম মেয়ের স্তন চুষে চুষে ক্লান্ত

তারাও তড়িঘড়ি এসেছে আজ তোমায় দেখবে বলে

তারাও সমস্ত উপকথা গাছ থেকে নামিয়ে জড়ো করে

তার শুকনো পাতায় লাগিয়ে দিয়েছে আগুন 

সেই ধোঁয়া কিভাবে যেন গ্রাস করে ফেলেছে

গ্রামের পর গ্রাম। ঐতিহ্যের বাসকোশন।

তুমি আসবে বলে এই প্রথম লাগিয়ে নিচ্ছি

কালারের বোতাম, গা থেকে খসিয়ে দিচ্ছি সমস্ত উপমা

শান্তনু ভট্টাচার্য

স্বাধীনতা 


স্বাধীনতা হল

বাধাহীন বয়ে যাওয়া ইচ্ছেনদী।


স্বাধীনতা হল 

মিথ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যের সাহসী উচ্চারণ।


স্বাধীনতা হল

সবার উঠোনে পেটভরা ভাতের উৎসব

সব ইস্কুলে শিশুর ঝকঝকে হাসিমাখা রোদ্দুর।


স্বাধীনতা হল 

ভিন্নধর্মী দুটি ফুলের নির্বিঘ্ন প্রেমের সংসার।

সেনা বাংকে বসে নিশ্চিন্তে মোহাম্মদ রফি কিংবা কিশোর কুমারের গান শোনা।


আর অবশ্যই 

উড়তে থাকা পতাকাকে টেক্কা দিয়ে 


দুরন্ত পাখিদের কাঁটাতার পেরিয়ে 

বারবার যাওয়া আর আসা 

আসা আর যাওয়া...

অমলকান্তি চন্দ

মায়ের হাতে শেকল ছিল

মায়ের হাতে শেকল ছিল,কারার সেলে বন্দী ছেলে,আকাশ কাঁদে অঝোর ধারায়, শূন্যে দু'হাত মুষ্ঠি তুলে,কদম কদম এগিয়ে চলা,একলা পথে কাকের মেলা,আধপুড়া সব শ্মশান কাঠে, টগবগিয়ে উড়ছে ধোঁয়া ।

দেশের মাটি তিলক কেটে, বোষ্টমীরা তুলসি তলে, পথের মোড়ে জটলা মানুষ, শুকনো মুখে তাকিয়ে কেবল,সবার মনে গুপ্ত আবেশ,গর্ভে মায়ের হারিয়ে যাঁরা, বৈশাখী ঝড় উথালপাথাল, গাছের মতো দাঁড়িয়ে সারি, প্রতিরোধের মশাল হাতে।

ঊর্মি ডানায় খানের পাড়া,রাত্রি জাগে ঘোরের ভেতর, দফায় দফায় মুখর সভা, এগিয়ে আসে মিছিল পথে, আন্দোলনে আকাশ কাঁপে, বিপ্লবীরা তুখোড় তেজে,শেকল ছেঁড়ার গান গেয়ে যায়, নতুন ভোরে পাখির মতো।