ভুলে যাওয়া শেকড়
রিয়া একটি গ্রাম্য পরিবারের মেয়ে, যার ছোটবেলা কাটে মায়ের আদর আর বাবার শাসনের মধ্যে। মেধাবী রিয়া বড় হতে হতে নিজের গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসে উচ্চ শিক্ষার জন্য। পড়াশোনা শেষ করে সে একটি বড় কর্পোরেট অফিসে চাকরি পায়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে ওঠার পর, তার ব্যস্ত জীবন তাকে গ্রাম ও পরিবারের থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। শহরের ঝলমলে আলো আর ব্যস্ততার মধ্যে রিয়া তার গ্রামে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবার কথা ভুলে যেতে বসে।
প্রতিদিন অফিসের কাজ, মিটিং, প্রেজেন্টেশন—এই সবের মধ্যে রিয়া এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে মায়ের ফোনের উত্তর দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় না। মা প্রতিদিন মেয়ের ফোনের অপেক্ষায় থাকেন, কিন্তু রিয়া প্রতিবারই অফিসের কাজের অজুহাত দেখিয়ে ফোন ধরতে পারে না। সময়ের সাথে সাথে মা-বাবার স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে, কিন্তু রিয়া এসবের খবরই পায় না।
একদিন অফিসে একটি মিটিংয়ে রিয়া জানতে পারে, ওর মা গুরুতর অসুস্থ, শয্যাশায়ী। তাড়াহুড়ো করে সে গ্রামে ফিরে আসে। বাড়ি পৌঁছে দেখে, ওর মা বিছানায় শুয়ে আছে, শরীরের চেহারা পাল্টে গেছে, আর বাবা অসহায় নিরুপায় চোখে তাকিয়ে আছেন।
রিয়া মায়ের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘’মা- মাগো, আমি এতদিন কোন মোহে আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম! কর্পোরেটের আলো ঝলমলে মোহে তোমাদের খোঁজ রাখিনি! আমাকে ক্ষমা করে দাও, মা।’
মা কষ্টের হাসি হেসে বলেন, ‘’তুই ভালো থাকলেই আমি খুশি, মা।’
রিয়া বুঝতে পারে, কর্পোরেট জীবনের সাফল্যের মোহে সে তার শেকড় ভুলে গিয়েছিল। মা-বাবার ভালোবাসা ও সান্নিধ্যই তার আসল সম্পদ। সে সিদ্ধান্ত নেয়, কাজের পাশাপাশি পরিবারের জন্যও সময় বরাদ্দ করবে। সে নিজের জীবনের ব্যস্ততা কমিয়ে মা-বাবার সাথে আরও সময় কাটানোর প্রতিজ্ঞা করে।