আইডেন্টিটি কার্ড
এই মাটিতে প্রোথিত আমার হৃদয়
আমি ভূমিপুত্র এই পৃথিবীর।
আমার গলায় ঝুলছে আইডেন্টিটি কার্ড
ভিসা অফিস সেঁটে দিচ্ছে রাষ্ট্র পরিচয়
ধর্মজাজক পুরোহিত নির্ধারণ করছে গন্তব্য
আমি সংকুচিত হচ্ছি
ক্রমশ গুটিয়ে যাচ্ছি নিজের ভেতর।
আমার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত
মুখস্থ অভিব্যক্তি ছাড়া
নিজস্ব কোনো কথা নেই
নিজস্ব কোনো ক্রোধ নেই
নিজস্ব কোনো বেঁচে থাকা নেই।
আমার জন্ম হয়েছে বহুদিন আগে
আমার মৃত্যু হয়েছে বহুদিন আগে
আমি পেরেক ঠুকেছি আমার কফিনে
নিজের কাঁধে তুলেছি নিজের লাশ
নিজের সমাধির সামনে
গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে থেকেছি বহুকাল
একনজর নিজেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায়।
আমার শরীরে আটকে থাকা লবণ
কোনো এক কবি ভালোবেসে সমুদ্র বলেছে
আমার পাঁজরে আটকে থাকা অন্ধকার
গল্পকারের কলমে হয়েছে জীবন
অথচ আমার ব্যক্তিগত কবর
যার ওপর রক্তবর্ণের গোলাপ
বিদ্রুপের হাসি দিয়ে দিনরাত
হয়ে গেছে প্রিয়তম স্বদেশ
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা মাতৃভূমি।
এইখানে প্রোথিত আমার হৃদয়
অথচ খুব সহজেই অখন্ড আকাশ অতল সমুদ্র
আদিগন্ত শস্যের মাঠ
হতে পারতো আমার বসতভিটা
এই পৃথিবী হতে পারতো আমার মাতৃভূমি।
যারা কেড়ে নিয়েছে আমার আদিগন্ত জলের শৈশব
আমার শরীরে গেঁথে দিয়েছে বিভৎস যুদ্ধের ভৌতিক চিহ্ন
মন্দির মসজিদ প্যাগোডায় বন্দী করেছে আমার ঈশ্বর
আমার হাতে তুলে দিয়েছে বিরাম চিহ্নের অবিরাম আর্তনাদ।
আমার প্রেমিকার টুকরো হওয়া স্তন
পিতার প্রলম্বিত চিৎকার
এক টুকরো কাফনের কাপড় হয়ে
দুলতে থাকা মায়ের সাদা থান
আমাকে ঘুমোতে দিচ্ছে না।
যীশুর পুনরুত্থানের মতো
আমি উঠে এসেছি কবর থেকে
অভিশাপ দিচ্ছি অবিরাম
মৃতদের ভাষায় লিখছি কবিতা।
কবিতা কোনো আনন্দ ভ্রমণ নয়
কবিতা এক মহিমান্বিত বিপ্লব
জীবিতদের মতো নতজানু নয়
তবু মৃতদের কবিতা দুর্বোধ্য?
অথচ মৃত্যুর পর জেনেছি
মৃত্যু অযাচিত এক বিরাম চিহ্ন
ওইখানে সারিবদ্ধ আমার লাশ
গলায় ঝুলছে আইডেন্টিটি কার্ড...
এই মাটিতে প্রোথিত আমার হৃদয়
আমি ভূমিপুত্র এই পৃথিবীর।
আমার গলায় ঝুলছে আইডেন্টিটি কার্ড
ভিসা অফিস সেঁটে দিচ্ছে রাষ্ট্র পরিচয়
ধর্মজাজক পুরোহিত নির্ধারণ করছে গন্তব্য
আমি সংকুচিত হচ্ছি
ক্রমশ গুটিয়ে যাচ্ছি নিজের ভেতর।
আমার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত
মুখস্থ অভিব্যক্তি ছাড়া
নিজস্ব কোনো কথা নেই
নিজস্ব কোনো ক্রোধ নেই
নিজস্ব কোনো বেঁচে থাকা নেই।
আমার জন্ম হয়েছে বহুদিন আগে
আমার মৃত্যু হয়েছে বহুদিন আগে
আমি পেরেক ঠুকেছি আমার কফিনে
নিজের কাঁধে তুলেছি নিজের লাশ
নিজের সমাধির সামনে
গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে থেকেছি বহুকাল
একনজর নিজেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায়।
আমার শরীরে আটকে থাকা লবণ
কোনো এক কবি ভালোবেসে সমুদ্র বলেছে
আমার পাঁজরে আটকে থাকা অন্ধকার
গল্পকারের কলমে হয়েছে জীবন
অথচ আমার ব্যক্তিগত কবর
যার ওপর রক্তবর্ণের গোলাপ
বিদ্রুপের হাসি দিয়ে দিনরাত
হয়ে গেছে প্রিয়তম স্বদেশ
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা মাতৃভূমি।
এইখানে প্রোথিত আমার হৃদয়
অথচ খুব সহজেই অখন্ড আকাশ অতল সমুদ্র
আদিগন্ত শস্যের মাঠ
হতে পারতো আমার বসতভিটা
এই পৃথিবী হতে পারতো আমার মাতৃভূমি।
যারা কেড়ে নিয়েছে আমার আদিগন্ত জলের শৈশব
আমার শরীরে গেঁথে দিয়েছে বিভৎস যুদ্ধের ভৌতিক চিহ্ন
মন্দির মসজিদ প্যাগোডায় বন্দী করেছে আমার ঈশ্বর
আমার হাতে তুলে দিয়েছে বিরাম চিহ্নের অবিরাম আর্তনাদ।
আমার প্রেমিকার টুকরো হওয়া স্তন
পিতার প্রলম্বিত চিৎকার
এক টুকরো কাফনের কাপড় হয়ে
দুলতে থাকা মায়ের সাদা থান
আমাকে ঘুমোতে দিচ্ছে না।
যীশুর পুনরুত্থানের মতো
আমি উঠে এসেছি কবর থেকে
অভিশাপ দিচ্ছি অবিরাম
মৃতদের ভাষায় লিখছি কবিতা।
কবিতা কোনো আনন্দ ভ্রমণ নয়
কবিতা এক মহিমান্বিত বিপ্লব
জীবিতদের মতো নতজানু নয়
তবু মৃতদের কবিতা দুর্বোধ্য?
অথচ মৃত্যুর পর জেনেছি
মৃত্যু অযাচিত এক বিরাম চিহ্ন
ওইখানে সারিবদ্ধ আমার লাশ
গলায় ঝুলছে আইডেন্টিটি কার্ড...