এবং
সময়ের পাঁচালী
এত বুঝে কী হয়
কী হয় বুঝে?
এখন সৎ ও স্বচ্ছতা
আছে মুখ গুঁজে!
এক অদ্ভুত নিরবতা
আমাদেরে গিলে খায়।
এই-ই কি পরিনতি
রাজা ও প্রজায়?
বাঁচা ও বেঁচে থাকতে
কত কী কসরত।
রাম আর রাবণ
কই হ্যাঁ দশরথ?
সত্য বলার সাহস
বড়ই সংকুচিত।
মিথ্যা এসে গ্রাস করে
সত্যের ইমারত!
দিক্বিদিক হাহুতাশ
মানবতা নেই।
নিজেই নিজের জন্য
যুদ্ধ যুদ্ধ খেই।
সন্যাস বেরাম নিয়ে এত ভয়ের কী।এ রোগ নতুন নয়। সকলেই কমবেশি কোনো না কোনো রোগাক্রান্ত।হোক সন্যাস।কিংবা সাঁই।আসলে সমস্ত রোগই মুক্তির পথ খোঁজা।কিন্তু মুক্তি কী কোথাও আছে বন্ধু।কবিতাই পারে প্রকৃত ভালোবাসা ও মুক্তি নামক পাখিটির নিকট পৌঁছে দিতে।
কবিতা আমার একমাত্র পতাকা।আর কোনো রঙ নেই।রঙচঙ মাখি না আমি।আমিই আমার রঙ।নিজের পতাকা আমি নিজেই বহন করি।আমার কোনো তল্পিবাহক নেই। শববাহী গাড়ী নেই। শবযাত্রা নেই। দেওজলে ভেসে গেলেও ক্ষতিবৃদ্ধি নেই। শূন্য থেকে শুরু হয়ে শূন্যে বিলীন হতে আপত্তি নেই। আমি শূন্য। আমার কোনো সংখ্যা নেই। সকলেই আমার।আমার আমার বলে আমি করতালি দিই না।কবিতার কাছে যাই।কবিতা আমার পতাকা ও নগ্নতা ঢেকে রাখার একমাত্র অস্ত্র। ধারালো না হোক তবুও শান দিই খাপখোলা তলোয়ার।
কবিতার নিকট সঁপেছি নিজেকে। কত বন্ধু আপন হয়ে ঘরে ঢুকে সিঁদকেটে হুকুতৈসার গভীর জঙ্গলে হারিয়ে গেছেন সে হিসেব রাখি না। কারণ আমি নেগেটিভিটির তীব্র রশ্মির সাথে মিতালি করি না।সকল ধ্বংস স্তুপ থেকে তুলে আনি আবিস্কারের মুদ্রা। আগুন নিভে গেলে নিশ্চিত জানি জুমের ভেতর থেকে লকলকে লাউডগা বেতলিংচিপ ডিঙিয়ে লঙ্গাই পেরিয়ে যাবে হাকমরাজার দেশে।দেশটেশ মানি না।ভূগোল মানি না।কবিতার কোনো মানচিত্র নেই। দশক নেই। শূন্যতা নেই। কবিতা আসলে বিচ্ছেদ বাড়ায়।কিন্তু বিচ্ছিন্ন করে না। গেঁথে রাখার কৌশল কবিতার অন্তরে অন্তঃসলিলা ফল্গুর মতো প্রবাহিত। যে বুঝে সে বুঝে।সে-ই লালন।গভীর অন্তর্ভুক্তির তাড়ানা থেকেই কবিতার কৌপীন লোটাকম্বল হাতে আমি পরিযায়ী পাখি। জুম পোড়া ময়াল।
আমার পরিক্রমায় সবুজ ইটপাথর গচ্ছিত রাখি।পাটকেল মারি না আমি।কারণ আমিই পাটকাঠি।পাটশাক।
কবিতার কাছে নিজেকে রিক্ত করে দিতে আপত্তি নেই। কবিতা আমার একমাত্র পতাকা। এই পতাকার রঙ হৃদয়ের আকাশ।