প্রতিশোধ
দুপুরে খাবার পর বেশ আয়েশ করে ঘুমিয়েছেন দয়ানন্দ সাহা। প্রত্যেহ দোকান থেকে ফিরে স্নান খাওয়ার পর এভাবেই ঘুমানোর অভ্যাস। মাথার উপর বনবন করে ঘুরছে ফ্যান আর তিনি পাশ বালিশটিকে কোল দিয়ে শান্তির ঘুম ঘুমোচ্ছেন। এমনিকরেই আড়াই ঘন্টা কেটে যায় তার প্রতিদিন। বিকেলের চায়ের আগে যদি কোন কারণে নিদ্রাভঙ্গ হয় তাহলে রণমূর্তী ধারণ করা তার স্বভাবের একটি বিশেষ অংশ তাই বাড়ির সবাই অতি সন্তর্পনে যে যার কাজ করে যাতে ঘুমের কোনরূপ বিঘ্ন না ঘটে কিন্তু আজ এই শান্তি বেশিক্ষন স্থায়ী হলো না। বৈদ্যতিক গোলযোগের কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল পাখা আর তাতেই ঘটল বড়ো বিপত্তি। অন্যদিন এমনটি ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে দয়াদন্দের গিন্নি তালপাতার পাখা দিয়ে বাতাস করেন। গতকদিন ধরে শরীর ভালো যাচ্ছিল না, ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে তারও দু-চোখের পাতা বন্ধ। পাখা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই পি..ই..ই.. শব্দ করে একজন এসে দয়ানন্দের নাকের উপর বসে নিজের তীক্ষ্ণশুর চামরায় ডুবিয়ে রক্তচোষা শুরু করে দিল আর সাথে সাথেই ঘুমের উঠল পটল। তিনি চেচিয়ে উঠলেন, ' আমার রক্তে উদরপূর্তি করবি হতচ্ছাড়া, দাঁড়া তোকে দেখাচ্ছি মজা' বলে কষিয়ে এক চড় বসালেন নিজের নাসিকার উপর। চিৎকারে সৃষ্ট কম্পনের ফলে সেও পালিয়ে গেলো। খাটের মাঝে বসে রাগে গজগজ করতে করতে চুলকানি উপ্রশমের অব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সত্যিই তো, রাগ তো হবারই কথা। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু রক্তের পরিবর্তে দেশ স্বাধীনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরা তো মানবজাতিকে প্রতিনিয়ত শোষণ করে চলেছে। রক্ত নিয়ে আরো নতুন নতুন শোষকের জন্ম দিচ্ছে। তাছাড়া মানুষের রক্ত যেহেতু এদের শরীরেও প্রবাহিত হয়ে চলেছে মানবজাতির সঙ্গে একটা রক্তের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সে সম্পর্ক তো আর নেহাত দু- চারদিনের নয়, যুগ যুগের। সে সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেও এই অপকর্ম থেকে বিরত থাকা যায়। যদিও বা ধরে নেই অবুঝশ্রেণীর প্রাণী, বুদ্ধির বিকাশ তেমন ঘটেনি, একেবারে যে নির্বোধ সেটা মেনে নেওয়াও একেবারে ঠিক হবে না। বনজঙ্গল ছেড়ে সাদাসিধে নিরিহ প্রাণীদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে বেছে নিতে কোন দ্বিধা দ্বন্দে ভুগছে না। তারচেয়ে
বরং প্রাণীশ্রেষ্ঠ হয়ে যত বিপদ মানুষের, হত্যার মতো নিকৃষ্টতম, জঘন্য কাজ করতে মন সায় না দিলেও একপ্রকার বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে। তার তাতে কাঁধের উপর পাপের বোঝা বেড়েই চলেছে। এ সহ্য করা যায় না। করা উচিৎও নয়। এর একটা বিহিত দরকার। এসব ভাবতে ভাবতেই রাস্তায় ধোঁয়ার কামানের গাড়িটিকে জানালা দিয়ে দেখতে পেলেন দূর থেকে আসতে। দয়ানন্দ সাহার চোখে মুখে অপার আনন্দ। তিনি আবারও চেঁচিয়ে ওঠলেন 'প্রতিশোধ প্রতিশোধ 'বলে।