Apr 25, 2022

সাগর শর্মা

শূর্ন্য (একটি প্রবন্ধ)

'শূন্য' একটি সংখ্যা। এই সংখ্যাটিই বোধ হয় সকলের মাথা খারাপ করে দেবে। কী একটা সংখ্যা রে বাবা! এমনিতে তার কোনো অস্তিত্ব নেই বটে কিন্তু একবার কোনো সংখ্যার পাশে বসতে পারলেই হয়েছে। শুনে ভাবতে বসেছেন নিশ্চয়ই এটি একটি পরজীবী সংখ্যা। কিন্তু মশাই আপনি বোধ হয় এর ক্ষমতা সম্পর্কে জানেন না। এ যে কী করতে পারে তাই নীচে সংক্ষেপে তুলে ধরছি। 


আপাতদৃষ্টিতে শূন্য একটি পরজীবী সংখ্যা,মানতে কোনো দ্বিধা নেই। সমগ্র সংখ্যাতে এর স্থান আছে বটে কিন্তু সে একটি অস্বাভাবিক সংখ্যা। কারণ শূন্যের সাথে যারই গুণ দাও না কেন,ফল কিন্তু শূন্যই হবে। ভাই (সংখ্যা) তুমি হতে পারো অনেক বড়ো বিত্তশালী তবে সাবধান! শূন্যের সাথে লাগতে এলেই বিপত্তি। সে তোমাকে টেনে হিঁচড়ে নিজের সমান বানিয়েই ছাড়বে। সংখ্যার প্রণেতা সম্ভবত তার এই অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেই তাকে স্বাভাবিক সংখ্যায় স্থান দেন নি।

শূন্য গুণের বেলায় এরকমটি হলেও গুণের ছোটো ভাই যোগের বেলায় সে একেবারে ধোয়া তুলসীপাতা। যোগের সংক্ষিপ্ত নিয়ম যদি গুণ হয় তাহলে তারা ভাইই হল। শূন্যকে বলা হয় যোগজ অভেদ। আগেই বলেছি যোগের বেলায় সে সর্বদাই নির্লিপ্ত থাকে। এবার আসা যাক বিয়োগ ও ভাগের ক্ষেত্রে। বিয়োগের ক্ষেত্রেও সে তার প্রভাব দেখায় না। সে তার ঔদাসীন্য বজায় রাখে যেমনটি দেখা যায় যোগের ক্ষেত্রে। আর ভাগের বেলা? না সেটি বলে কাজ নেই,আমি আর আপনাদের মাথা নষ্ট করতে চাই না।

শূন্যের অস্তিত্ব দিতে হলে তাকে যথাযথভাবে ব্যবহারও করতে হবে। কোনো সংখ্যার সাথে জুড়ে দিলেই শূন্য অস্তিত্ব ফিরে পাবে এমনটি ভেবে যদি কোনো ব্যক্তি সংখ্যার বাঁদিকে একের পর এক শূন্য দিতে থাকেন তাহলে তার সময় ব্যয় হবে ঠিকই কিন্তু তার লাভ হবে শূন্য। এই শূন্যকে সর্বদাই সংখ্যার ডানদিকে বসাতে হবে। এমনিতে অস্তিত্বহীন সংখ্যাটিকে যদি আবার ডানদিকে বসাতেই থাকেন তাহলে এটি এতো বড়ো আকার নেবে যে গণকযন্ত্রেও জায়গা হবে না। তবে হ্যাঁ, বামে শূন্য বসানোরও মূল্য আছে - ভোডাফোনে কল করার ক্ষেত্রে।

কোনো অঙ্কের সংখ্যার শুরুর সংখ্যায় কিন্তু শূন্য অবশ্যই থাকবে। এক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয়তা অতুলনীয়। তাই একে নেহাত অনর্থক বলাও চলে না। এ কারণে এই সংখ্যাটি আমাকে এত অভিভূত করে। অতএব, সর্বোপরি এই সংখ্যাটির আবিষ্কর্তা আর্যভট্ট (মতান্তর আছে) কে ধন্যবাদ না জানালে আমি নিজেকে অকৃতজ্ঞ মনে করব।

শেষে বলা যায়,এই শূন্য আমাদের মানব জীবনের সঙ্গে তুলনীয়।আমাদের জীবন শুরু হয় শূন্য থেকে,শেষ হয় শূন্যতেই। এই দুটি সময়ে আমরা পোশাকশূন্য,শক্তিশূন্য,পরিচয়শূন্য,ন্যায়শূন্য,ভয়শূন্য,আচারশূন্য,বিচারশূন্য,আশাশূন্য,আকাঙ্খাশূন্য - সর্বশূন্য।মরণের পর দেহের যে শক্তি অন্য মাধ্যম লাভের লক্ষ্যে অন্তর্হিত হয় তারও পরিণতি সেই শূন্যে।

তাই শূন্য অস্তিত্বহীন হলেও শূন্যকে বাদ দিয়ে আমাদের জীবন চলতে পারে না। আমাদের মাথার উপরেও রয়েছে এক মহাশূন্য যার কোনো আদি কিংবা অন্ত নেই। কে যে তার সৃষ্টিকর্তা সেকথা কেউ বলতে পারে না। এই মহাশূন্য,এই ব্রহ্মাণ্ড সেই অচেনা স্রষ্টার নিয়মাধীন। এই প্রকান্ড ব্রহ্মাণ্ডে শক্তি ও ভর যেখানে পরস্পরের রূপান্তর মাত্র সেখানে এই প্রশ্ন বারবার উঠে আসে তাহলে এই ব্রহ্মাণ্ডের বাইরেও কী আরো ব্রহ্মাণ্ড আছে? বিজ্ঞানীরা এর ইতিবাচক উত্তর দিয়ে আরও অনেক ব্রহ্মাণ্ডের অস্তিত্বের জানান দিয়েছেন বটে কিন্তু তাহলে ব্রহ্মাণ্ডের যেখানে শেষ তারপর কী আছে?

যতই তাকে দেখি ততই বিস্মিত হই। যদি প্রশ্ন করি,এই মহাশূন্যের ধ্বংস কবে তখনও উত্তরশূন্য থাকি। এমন হাজারো প্রশ্ন আছে যাদের উত্তর শূন্য।এমন হাজারো বিষয় আছে যাদের কারণ শূন্য। সর্বোপরি এই অপ্রাপ্তির শূন্যতা আবহমান কাল ধরে মানবহৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েই গেল।

কৃষ্ণ ধন শীল

সহচর

ভাবনা যত খারাপ-ভালো 
থাকে একই মনে, 
সৎ-অসৎ উভয় দেখো
মিলে একই সনে।
রিক্ত ধরার বক্ষ জুড়ে 
বিশাল রত্নাকর, 
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেমিলেতে 
সকল আপন পর।
সুখের হাসি দুঃখের কান্না 
বাজে একই মুখে, 
কষ্ট যত আশা যত 
বাঁধে বাসা বুকে। 
মিঠে তেতো টক ঝাল 
স্বাদ একই জিভে, 
একই ভবে আলো-আঁধার 
জ্বলে আর নেভে। 
সুর বেসুরে শব্দ যত
শ্রুত একই কর্ণে,
একই মণিতে দৃশ্য যত
রঙীন নানা বর্ণে।

বিউটি‌ সুত্রধর

রঙ্গিন বসন্ত

বসন্তের বাতাসে বহিছে রঙের গন্ধ
হাওয়ার স্পর্শে  মাতিয়ে তোলে অঙ্গ।
নানা রঙ্গের সমাহারে বসন্তের আগমন
হারিয়ে যায় সেই রঙ্গে সকলের মন।
বসন্তের শুরুতে হয় ভিন্ন রঙের খেলা,
মনোহরা প্রকৃতিতে নানা রঙের মেলা।
বসন্তের আবাহনে দশভুজার আগমন,
উৎসবের আনন্দে উৎফুল্লিত  মন।
নতুন মাসে নতুন সাজে,

নানা উৎসবের নতুন বাদ্য বাজে।
সেজে ওঠে পৃথিবী রঙ্গিন হাওয়ায়,
রং এর মাসে সবাই দুঃখ ভুলে যায়।
বৎসরে একবার আসে বসন্তের উৎসব,
মনোমালিনতা ভুলে এক হয়ে যায় সব।

অম্পিকা পাল

N.S.S.- র হয়ে

অষ্টপ্রহর কর্ম করবো    N.S.S.- র সব সাথী।
বিলায়ে দেবো নিজেরে কর্মে সর্ব দিবা-রাতি।
মহীরোপণ,শোণিতদানে করবো সুস্থ জীবন দান!
মানুষের লাগি কর্ম করবো, দিতেও রাজি মোদের প্রাণ।
N.S.S.-র মোরা যত সখা-সখী বিলাবো সবারে শিক্ষা।
আদৰ্শ হয়ে উঠার লাগি আমরা দিবো দীক্ষা।
কলঙ্করা আছে যত যেথা - সেথা ছড়িয়ে ,
ঝাড়ু দিয়ে আমরা সবাই দেবো যে তা সরিয়ে।
দিবা-নিশি আঁখিপাতে  সিক্ত রূপে যারা ,
তাদের দুখে দৌঁড়ে গিয়ে আমরা দেবো সাড়া।
মোদের মাঝে করবো জমা উদার ভরা পাত্র!
কর্ম মাঝে থামবো না তবু ভিজলেও ঘামে গাত্র ।
আমরা আনবো সুখের পরশ সত্য পথে চলবো।
একদিন দেখো বিজয়ের কথা আপন কণ্ঠে বলবো।।

Mar 29, 2022

অপাংশু দেবনাথ

ক্লোজআপ ছবি

আমাদের কোনো ক্লোজআপ ছবি হয় না আলোকিত মঞ্চে,
মাটির কাছাকাছি থাকা অতি সাধারণ মানুষ। 
স্ক্রিনজুড়ে আপনারা হেসে উঠবেন বলেই আমরা কাজের মানুষ, 
রোদে, ঝড়ে, বৃষ্টিতে কিংবা ধুলোয় মুসকিল আসান করি।
জানতেও পারেন না আপনাদের হাসির আড়ালে আমাদের ঘর্ম ও অশ্রু ঝরে পড়ে।

আপনাদের ক্লোজআপ ছবির ঠিক নীচেই আমাদের ছবি,
পৃথিবী তার অনন্ত বুকে ফ্রেমবন্দী করে রেখেছে আবহমানকাল।

সৌমিত বসু

চাইনি কখনো চাইনি 

সকালের বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে রয়েছে নিরপরাধ বিকেলে ।
নিরপরাধ এই কারণেই ,কোনো চাহিদা নেই। মেঘনির্ভর জীবনে বিকেল যে আসতেই হবে তেমন কোন নিশ্চয়তাও নেই ।
আসলে প্রদীপ হ'য়ে জন্মে নক্ষত্র হ'তে চাওয়া কিছু প্রাণ
আজও আমাদের চোখে জল আনে।

তাহলে কি যেখানে আছি শুয়ে থাকবো সারাটা জীবন?
নাকি নিজেকে ছাপিয়ে বেড়ে ওঠা কার্নিশে
ফুটে থাকবো কাগজফুল হয়ে?
রোদ যেখানে এসে মেরে যায় হালকা ছোবল প্রতিবেশী ভঙ্গিমায় ; 
নাকি ওপরের দিকে তাকিয়ে চশমা পরার ভঙ্গিতে 
আকাশের গায় ঝুলে থাকা তারাদুটোকে ডেকে এনে চোখে পুরে নেবো
আর সমস্ত জীবন উত্তল লেন্স হয়ে ঘুরে বেড়াবে সামনে-পেছনে
কেউ না কেউ আমাদের ডেকে বলবেই ভালোবাসা ভরা মুঠো কখনো খুলো না।

কথা যখন উঠলো তখন ভালোবাসার গায়ে বসে থাকা প্রজাপতিগুলোকে 
হাত বাড়িয়ে ডেকে নিই ?
যে ফ্যাকাসে দিনগুলো এতকাল মাড়িয়ে এসেছি একটা প্রদীপ নিয়ে খুঁজে দেখি কোন মায়া লেগে আছে কিনা,সবাইকে অবাক করে 
ওপরে উঠতে চেয়ে যে সিঁড়িটি মেয়ে আমার আলগোছে হারিয়ে ফেলেছে
আজ তা খুঁজে এনে তুলে রাখি প্রাচীন বারকোশে।

তমা বর্মণ

উড়াল 

তোমার বুকে দুঃখ নেই কি পাখি? শুধু সুখ!
যদি এ আকাশ হতে পারতাম, পালকে অক্লান্ত ভুবনে ওড়াওড়ি 
দুঃখ থাকত না আমার, বেদনা উড়িয়ে প্রণয়ে নির্ভয়
সব আষাঢ় খুলে দিতাম 
শেষপাতার মতন চেয়ে যেতাম রৌদ্রের হরিদ্রা 
দিনবদলের জীবন, পাখি তোমার জীবন যেমন অনন্তে!    
ভয় নেই, আগুনের হিংসার ধ্বংসের মানুষের ভয় আছে 
শোক আছে মনখারাপ আছে 
কণ্ঠ জুড়ে ডাকলে শূন্য মুখ বাতাস হয়ে কেবল ফিরে আসে
মুখ আর মানুষ জেব্রার চকরাবকরা!
আমলকী বনে রাখা পিরিতি জ্বালিয়ে ভিটেমাটি অঙ্গার
পাখি, মুকুলের গায়ে আগুনের পরাগ
তোমার ভালোবাসা যেমন রেণুতে রেণুতে
যদি হত মানুষ ঢল বেয়ে আগুন হত জোছনার জল! 
মানুষ এখন সেঁকোবিষ তিনপুরুষ দলদাস 
দানা ফেলে বিশ্বাসে তুমিও বুঝি বোকা হলে!
আকাশ বনানী অনার্য হাতে সরাইখানায় ঝলসে খায় 
পূর্ণিমার যৌনচাঁদ, পাখির মাংসে! 
ঋতুফুলে বদলে যদি যেত সব 
পাখি, বদলে যদি যেত সব!
ছিনিমিনি খেলা উঠে যেত নীড়পাতার ঘরে
কুয়াশা ভেলার মতন উড়ে তোমার সঙ্গে আকাশের সঙ্গে 
আত্মীয় হলে খুলে যায় মানুষের অনাত্মীয়তা 
বন্ধ জানালার শিক, এসো 
এবার অন্তত ডানার ঈশ্বরে আমরা মুক্ত হই।

চন্দন পাল

আলোর চিঠি 

ঐ যে আলো ফুটলো, এ আর নতুন কী!
উষাকালে আসে,  গোধূলিতে  যায়। 
পথে, ফুল ফুটাক, পাখি জাগাক, অক্ষর চেনাক, মেঘ, চাঁদ কিবা বড়দিন বানাক।
তোমার কী?  
আমারই বা  কী?
আমরা এই ভেবে খুশি থাকি যে, অন্ধকারের রাজত্বি হলে,
তোমার যা,  আমারও তা। 
তাই বোধ হয়, বিবেক আনন্দের ধার ধারি না !

তৌফিক জহুর

তিনি 

সন্তর্পণে এগিয়ে যাই সেই মাঠে
যেখানে একদিন সাড়ে সাতকোটি জীবন
সকলেই দাঁড়িয়ে থাকে নতুন সূর্যের আশায় 
নতুন একটা ভোরের খিড়কি খুলে দিলেন তিনি,
রঙতুলি দিয়ে আঁকা একটা জমিন দেখলো সবাই 

তিনি আমাদের রঙধনু চেনালেন
স্বপ্নের ঘোমটা খুলে দিয়ে তিনি দেখালেন
একটা মুক্ত আকাশ যেখানে অলৌকিক তুলির পরশ

আমরা জলে- জঙ্গলে কাদায় ডুবে 
তাঁর যাদুতে জেগে উঠি পরাধীনতার শেকল ছিঁড়ে 

আমরা মুক্ত বাতাসে উড়িয়ে দেই আমাদের লাল-সবুজ 
পদাতিক হয়ে লেফটরাইট করি
অভিবাদন জানাই তাঁকে 
আমরা তাঁর শেখানো বুলি আওড়াই
" দাবায়া রাখতে পারবানা"......

তাঁর আঁকা মেঠো পথে আমরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনি।

সুমনা রায়

বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু, তুমি নেই তবু তুমি আছো 
সাত কোটি মানুষের চোখে 
তুমিই এঁকেছো মুক্তির স্বপ্ন 
তোমারই প্রত্যয়ে লক্ষ জনতা 
বেরিয়ে এসেছে নির্ভিক বলিদানে
তাই তো এক মুজিবুরের থেকে 
লক্ষ মুজিবুরের কণ্ঠে ধ্বনিত 
স্বাধীনতার গান
বাহান্ন থেকে একাত্তর তুমি ঝরালে রক্ত 
বিদ্রোহ আর বিপ্লবে 
আজও জেগে আছে সোহরাওয়ার্দী 
বারবার প্ৰতিধ্বনিত সাতই  মার্চ  

তুমি ছিলে তুমি আছো 
নিঃস্ব প্রাণের দ্বিধাহীন আশ্রয় 
তুমি আছো পাল তোলা নৌকায় 
তুমি আছো তুফানী হিল্লোলে 
তুমি আছো ফলন্ত শস্যের মাঠে 
আছো আমাদের হৃদমাঝারে 
রাত যখন ঘুমায় হ্যামিলনের বাঁশিতে 
অতন্দ্র জেগে থাকে টুঙ্গিপাড়া 
জেগে থাকে বত্রিশ নম্বর 

তুমি নেই তবু তুমি আছো 
তুমি আছো লাল সবুজ পতাকার মাঝে 
বাংলার স্বাধীনতা, এতো তোমারই দান 
বাংলাদেশের আরেক নাম 
শেখ মুজিবুর রহমান

সুতপা রায়

বঙ্গবন্ধু 

বাংলাকে যারা ভালোবাসে তারা বাংলার বন্ধু 
ভালোবাসা মানে সুসময়ে এসে পাশে থাকা নয় শুধু 
ভালোবাসা মানে ক্ষয়ে যাওয়া দেখে নয় নীরব অশ্রুপাত 
ভালোবাসা মানে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হাত

বাংলা পূর্ব বাংলা পশ্চিম আসাম ত্রিপুরা এবং বিশ্ব জুড়ে
বাংলা নিয়ে বলতে গেলেই বাঙালী এসে পড়ে
নিজেকে না বেসে ভালো কী করে বুঝবো অন্যকে ভালো বাসতে হয়
একথাটা তিনি বুঝিয়েছিলেন, বাঙালী নেহাৎ-ই তুচ্ছ নয়

রক্তে দৃপ্ত চেতনা জাগানো ভাষণ, কর্ম, শ্রম দিয়ে
হায়, বাংলা বাঁচাতে তেরোটি বছর কারাবাসে গেল হারিয়ে
সংগ্রাম তবু থেমে যায় নি
মুক্তদেশের স্বপ্ন মরে নি 

এত জোর তিনি কোথায় যে পান জানে অন্তর্যামী 
সাতই মার্চের বক্তৃতা শুনে শিউরে উঠেছি আমরা ও আমি
মহান মানুষ এ বাংলা বিশ্বে, গাই তাঁর জয়গান
'জয়বাংলা' শ্লোগান তোলেন শেখ মুজিবুর রহমান
 
'মনুষ্যত্বে' নিশ্চয় তাঁর প্রথম পরিচয়
রাজাকারদের এ শব্দটি একটুও চেনা নয়
একটি চেতনার নাম বঙ্গবন্ধু, তাঁকে হাজার সেলাম
তাঁরজন্যে যুদ্ধ শেষে প্রিয় বাংলাদেশটা পেলাম

দিলীপ বসু

বঙ্গবন্ধুকে চিঠি

বঙ্গবন্ধু তোমাকে আজ আমার বড়ো দরকার
টুঙ্গিপাড়ার কবরথেকে আরেকবার 
উঠে দাঁড়াও,
আকাশেরদিকে দুহাত তুলে বলো,
বাংলাদেশী নয় বাঙালি জাতি সত্তাই
আমার আকর।
আরেকবার তোমাকে দরকার বন্ধু,আরেকবার
সূর্যের ধমনী ঘিরে আছে মওসুমি পঙ্গপাল
গুলিস্তানের  সেই বাড়িটায়
তোমার কুর্শিতে বাসাবেঁধেছে তিনটে
ছারপোকা
আরেকবার তোমাকে দরকার
জলৌকায় ভরে গেছে নীল যমুনা

আমাকে একটু চুনদাও, তোমার কোটের
জেব থেকে মোতিহারি তামাকভর্তি
একটা দেহাতি চুরুট।
 
নয়নাভিরাম নীলে আজ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া,
জান্নাত থেকে তুমিকি  হলুদের  আস্ফালন
দেখতে পাচ্ছনা?
পিঁপড়ের ডিমগুলো টেনে নিয়ে যাচ্ছে মড়াপিঁপড়ে।

মনস্তাপেও  ফুটবেনা আর ফাটা ডিম
আকাশ-পৃথিবী-নক্ষত্র অনন্ত গ্রহরাজি  
তোমার দিকে তাকিয়ে আছে,বাঙালির  মাথারউপর চিল না আবাবিল,  উড়ছে ভ্যাম্পায়ার
তুমি আরেকবার উঠে দাঁড়াও
এই অজল প্লাবনে বাঙালির 
তোমাকে বড়ো দরকার।

তোমার অঙ্গুলিহেলনে জেগে উঠেছিল
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া,
আকাশের সূর্য মুখ লুকিয়েছিল গন্ধমাদনের আড়ালে,  জিব্রাইলের ডানা ছড়িয়েছিল পুষ্পবৃষ্টি
কাফের বলে যারা তোমাকে অভিসম্পাত দিয়েছিল
আজ তারা হাবিয়াদোজখে বসে মুজিবকীর্তন গায়,

তুমি আরেকবার উঠে দাঁড়াও বঙ্গবন্ধু 
তর্জনী উঁচিয়ে বলো, যথার্থ কোনওদিন সত্য হয়না
নিমকহারামের রক্তবীজ থেকে
ভূমিষ্ঠ হয় লক্ষকোটি নিমকহারাম।
এমন বুলেট কোথায় আছে যে তোমার রক্ত
শুষে খায়,এমন ট্রিগার কোথায় আছে যে তোমার
 অব্যর্থ নিশানায় নাম লেখে বাংলাদেশ বাংলাদেশ।

নিমাই বারুই

মানুষ মানুষের জন্যে

সময় বড় রহস্যময়।সময় অদ্ভূত রকমের বাস্তব এবং কঠিন।আর এমনই এক অদ্ভুত সময়ে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বের মানব জাতি। চারিদিকে কেবল সংকট আর সংকট।মানব জাতির জীবন, জীবিকা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিক মূল্যবোধ সর্বত্র এক অদ্ভুত সংকটে বিরাজমান।আর এই সংকট থেকে উত্তরণের সঠিক কোন দিশা এখনো মানব জাতির কাছে অধরা। মানুষ আজ দিশেহারা। তবে আশার কথা হলো যে একশ্রেণীর মহামানবেরা রাত দিন এক করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, পৃথিবীর মানব জাতি কে মহাসংকট থেকে বাঁচাতে। যদিও এরই মধ্যে বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে এবং এখনো হচ্ছে।

শুরুতেই সবাই নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন যে আমি এখানে করোনা বিষয়ক সংকটের কথাই বলতে চাইছি।এই অদ্ভুত পরিস্থিতি কেন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা অবশ্য আমার আলোচ্য বিষয় নয়। আমরা দেখছি এই পরিস্থিতিতে মানব নামক জাতির চরিত্রের বিচিত্র রূপের বহিঃপ্রকাশ এবং পরিচিতির।এই প্রসঙ্গে বিখ্যাত একটি গানের কলি মনে পড়ে যায় " মানুষ মানুষের জন্য--"।

সু- সভ্য মানব জাতির সমাজে এটাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তব টা কী দেখছি! মানব জাতির চরম সংকট কে কাজে লাগিয়ে মানুষ মানুষকে নির্মম ভাবে শোষণ করছে,নির্যাতন করছে,নির্দয় ভাবে শাসন করছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের সম্পদের পরিমাণ এভারেস্ট এর চূড়া স্পর্শ করতে চাইছে। অন্যদিকে লক্ষ্য কোটি মানুষ সব হারিয়ে মৃত্যুর মিছিল কে দীর্ঘায়িত করছে।

আবার এটাও দেখছি অসহায় বিপদাপন্ন মানুষদের সাহার্যার্থে কিছু মানুষই আবার এগিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ও ভাবনার অনেক রকমের রকম ফের রয়েছে। দশ জন দাতা মিলে একজন অসহায় মানুষ কে একটা পাউরুটি দিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে ছবি পোস্ট করতে দেখি। আবার এও দেখি কেউ কেউ নিজের সর্বস্ব দান করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।কী বিচিত্র এই মানব জাতি!

সাহিত্য সংস্কৃতি এবং সেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার দৌলতে , মানুষ এবং মানব সমাজের বিচিত্র সব রূপ এবং চরিত্রের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে।আর এই দৌলতেই আজ কলম হাতে নিলাম। ইদানিং কালে সমাজে ' বিশিষ্ট সমাজসেবী' নামে একটি শব্দের বেশ প্রচলন ঘটেছে। কোন ব্যাক্তির  নামের আগে বিশেষণ হিসেবে প্রায়সই এর প্রয়োগ হচ্ছে।আর এতে এই বিশেষণ শব্দটির যেমন অবমাননা করা হচ্ছে তেমনি এর প্রতি একটা আতঙ্ক ও ছড়াচ্ছে। আমার এই কথার পেছনে দুটো উদাহরণ দিচ্ছি, তাহলেই ব্যাপারটা পরিস্কার হয়ে যাবে। আমাদের অতি আপন কয়েকজন সমাজসেবী মহামানবের নাম এই প্রসঙ্গে আসতেই পারে।যেমন স্বামী বিবেকানন্দ,রাজা রামমোহন রায়,ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ,মাদার টেরেসা প্রমূখ ‌। এমন বিশিষ্ট সমাজসেবী  বা সমাজ সংস্কারক পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন মানব সমাজে আবির্ভূত হয়েছেন একাধিক সময়ে। আর ঐ মহান সমাজসেবী মহামানবেরা ,মানব জাতির জন্য যে সেবামূলক কাজ করে গেছেন,তার দৌলতেই আমরা আজ সুসভ্য মানব জাতি।

আমি জানিনা তাঁদের নামের আগে যে বিশেষণ টি ব্যবহার করা হয়ে আসছে, সেই বিশেষণ টি এখনকার সময়ে কার বা কাদের নামের আগে ব্যবহার করা যায় বা আদৌ যায় কিনা ! কিন্তু অহড়হ তা করা হচ্ছে।এ ব্যাপারে বিদ্ব্যজন দের প্রতি আহ্বান রইলো এই ব্যাপার টা আপনারা একটু ভেবে দেখবেন। তবে হাঁ পাশাপাশি আরো একটি শব্দ বা বিশেষণ নিয়ে ভাবা যেতে পারে,সেটি হচ্ছে সমাজ কর্মী।যারা সমাজের জন্য কাজ করছেন তাঁদের কে সমাজ কর্মী বলা যেতেই পারে।কেউ ব্যক্তি স্বার্থে সমাজের জন্য করেন, আবার কেউ বা বৃহৎ স্বার্থে সমাজের জন্য কাজ করেন।

এই দুটো ক্ষেত্রে আমরা একটি করে উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি যেমন, একজন কৃষক যখন মাঠে কৃষি কাজ করে ফসল ফলান উনি কিন্তু তখন সমাজের কথা ভাবেন না। নিজের পরিবারের সার্বিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবেই উনি জমিতে ফসল ফলান। কিন্তু আমরা দেখি কী ! যে কৃষকের উৎপাদিত ফসল থেকেই সমাজের অন্যান্য অংশের মানুষরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। সুতরাং এই দিক দিয়ে কৃষক সমাজ মানব জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবক সমাজ। কারণ কৃষি বা কৃষিজ ফসল উৎপাদন না হলে মানব জাতির অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে যাবে।এটা একটা উদাহরণ দিলাম।এমন অসংখ্য উদাহরণ আমাদের সমাজে বিদ্যমান। বিদ্যা দান কারি একজন শিক্ষক থেকে শুরু করে একজন সফাই কর্মী সবাই সমাজের কাজ করছেন।

আবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমরা উদাহরণ হিসেবে যদি বলি,জনগন বা দেশ সেবার নাম করে যারা রাজনীতি বা দেশের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে আসছেন তাঁরা ও কিন্তু নিঃস্বার্থ ভাবে কিছু করছেন না।কেন না বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত সমাজ সেবা করতে আসা প্রতিনিধি রা ও কিন্তু অন্যান্য সরকারী কর্মীদের মতো মাসিক বেতন বা ভাতা নিচ্ছেন। শুধু তাই নয় পরবর্তী সময়ে অবসর কালীন ভাতা ও পান।সেই সঙ্গে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রা অন্যান্য অনেক রকমের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও পেয়ে থাকেন। অবশ্য বলা যেতেই পারে যে উনারা জনগণ তথা রাষ্ট্রের জন্য অনেক কিছু করতে এসেছেন যখন তখন বিনিময়ে কিছু পেতেই পারেন।

তাহলে উনাদের কীভাবে আমরা সমাজসেবী বলে মেনে নেবো ! কই প্রভু যীশু, ভগবান বুদ্ধ কিংবা মহাপ্রভু চৈতন্য দেব মানব সেবার বিনিময়ে কারো কাছ থেকে  কিছু নিয়েছেন বলে তো শুনিনি ! 

প্রসঙ্গত আসতেই পারে যে তথাকথিত ধর্মীয় গুরু বা পূজারীরা ও তো মানবের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ। তাহলে তাঁরা সমাজসেবী কি না ! যুক্তির বিচারে উনারা ও মানব সেবী বা সমাজ সেবী হতে পারেন নি। কেননা তথাকথিত ধর্মীয় গুরুরা ও কিন্তু শিষ্য দের দীক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে দক্ষীণা বা প্রণামী নিচ্ছেন।আর মন্দিরের বা বাড়িঘর কিংবা বারোয়ারী ঠাকুর পূজার পূজারীরা তো পেশাদারী। শিক্ষকের শিক্ষা মানব জীবনে বা সমাজ কল্যাণে অপরিহার্য্য নিঃসন্দেহে। কিন্তু তথাকথিত ধর্মীয় গুরুর দের দীক্ষা বা মন্দির মসজিদ বা গির্জার পূজা প্রার্থনা মানব জীবনে কতটা জরুরি ! ভাববার বিষয় নিঃসন্দেহে, কেননা যুগ যুগ ধরে ধর্ম আর পূজা কে উপলক্ষ করে মানুষে মানুষে অসংখ্য রক্ত ক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে গেছে।আজ ও তার ব্যতিক্রম কিছু নয়।

তবে নিশ্চিত ভাবেই এটা বলা যায় যে সমাজ সেবা বা মানব সেবা মানবের একটি পরম ধর্ম। কারণ যুগ যুগ ধরে আমরা জেনে আসছি যে " শুন হে মানুষ ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই " । আমরা এটা ও জেনে আসছি যে " বহু রূপে সন্মুখে ছাড়ি কুথা খুঁজিছ ঈশ্বর / জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ।"

সত্যিই তো, ঈশ্বর নামে কেউ আছেন কী নেই এই বিতর্কে না গিয়ে, ঈশ্বরের সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের সেবাই হোকনা আমাদের পরম ব্রত! বর্তমান অদ্ভুত সংকট ময় সময়ে আমরা তো জীবন দিয়ে উপলদ্ধি করলাম, যে মন্দির মসজিদ বা গির্জা তে সর্বশক্তিমান বলে কেউ নেই! সভ্যতার চরম সংকটের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে কেউ দাঁড়ায় নি। উপরন্তু বিপদ গ্রস্থ মানুষের জন্য প্রত্যেকের দ্বার ছিল বন্ধ। সুতরাং ঘুরেফিরে আবার সেই মহান সঙ্গীত শিল্পীর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলতেই হচ্ছে " মানুষ মানুষের জন্যে---"

খোকন সাহা

হয় বসন্ত, নয় তালাক

বাঁকা চাঁদ যখন   বেনু বনে ছুটে পালায় ,
বুড়ো বাপ'টারে বলি , তোর লতানো মেয়ে
পাতানো গাছের আড়ালে , লাল পেড়ে শাড়ী পড়ে নামে
আমাদের মৌচাক বনে ।

তেষ্টা তূরুপ তালিয়া বসন্তে,  'ফুল ফুটুক, না ফুটুক'  ;
বুকের আগুনে পুড়ে যায় , রাতকানা কথার নূপুর।
প্রাণের প্রণয় প্রাণেই মরে , তবু এক গেলাস জল তেষ্টা মাপে ।

শুনেছি বুড়ো ,  তুই সোজা কথার বাঁকা মানুষ !
সর্ষক্ষেতে পেতে রাখিস ,  রং তূরুপের তাস  ;
পাখীপ্রলাপের রত্ন মানিক ,  অক্ষরের চাষ ।

যদি পড়ে গো ধরা ,  পিন্ডি  চট্ কানোর   আগে
বলিস্  কেন তারে , দে তোর স্বাধীন দুটো ডানা।
নিয়ে যা,  আমার আদুরি! চাঁদমেয়ে সোনা !
যারে জ্যোৎস্নাবেগম জড়িয়ে ধরে , সুখের সাগরে
দুঃখের নদী বায় !  কালচক্র সুতোর প্রতিপাদ্য ভুখা যায় 

‌
হায় বসন্ত ! আয় !  তোকে উজার করি ।
তোর বুকের ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে  প্রকান্ড গাছ  ;
ফুল-পাতাহীন মৃত শাখাদের অসংখ্য স্মারকগ্রন্থ ,
আচরের দীর্ঘ হতশ্বাস । তুই ছাড়া কে আছে আমার
আত্মদানের নিবাস !

মাটির সোঁদাগন্ধ মাখা ,  পরানের দু'কূল ছাপা
কোথাকার হেঁটে যাওয়া মানুষের বসবাস !
রক্ত তরুণ সৈনিকের অভিষেকে
ফুটিল মালতি ফুল, মরুদানবের দুঃসহ কারাগারে    

আজ।  হয় বসন্ত ,  নয় তালাক !
সর্ষক্ষেতে রক্ত চাবুক ,   অন্ধকারে উঠোনলিপি।
বুক চিরে মুখ লুকায় , চকিত চপলা মৃগয়ার
স্বর্ণ-কলিজা আভা ।
বলি শীলা !  কী প্রয়োজন আর
অযথা অগ্নুৎপাত ,  অন্ধকারে গলিত লাভা ?

শ্রীমান দাস

টুঙ্গিপাড়ার সেই ছেলেটা

টুঙ্গিপাড়ার সেই ছেলেটা, বারুদ ঠাসা বুক
মুক্তিনেশায় উঠলো হয়ে জাতির অভিমুখ।

অত্যাচারী ব্রিটিশ শোসন-হানাদারের ঘাঁটি,
ভাষারক্তে লাল হয়েছে বাংলা মায়ের মাটি।

সেই ছেলেদের জীবন বাজি,মাতৃভাষার মান
প্রাণের দামে গেয়ে গেল লাল সবুজের গান।

পদ্মা মেঘনা বুড়িগঙ্গায় বইলো অশ্রুধারা
মধুমতির বুকের উপর ঢেউ আপনহারা।

সেই ছেলেরা মুক্তি সেনা , লক্ষ্যে অবিচল
গুঁড়িয়ে দিল পদাঘাতে রাজাকারের ছল।

রক্ত ঢেলে আনলো ঘরে একাত্তরের হাসি
সেই ছেলেকেই বন্ধু বলে জানে বঙ্গবাসী।

টুঙ্গিপাড়ার সে ছেলেটার মগজ জুড়ে শান
সে ছেলেটাই জাতির পিতা মুজিব রহমান।

রুদ্র মোস্তফা

স্বদেশের মুখ 

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কান্না কথা বলে 
রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে তোমার ছায়ায়। 
তোমাকে নিয়ে ভাবা আমার প্রতিটি ভাবনা 
ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বার থেকে টুঙ্গিপাড়া 
হয়ে এক পলকে পৌঁছায় হাজার বর্গমাইল। 
যেখানে ভেসে উঠে শিশুর কলতান
পদ্মা মেঘনা যমুনার সুর...

তোমার মুখ মনে পড়লেই জ্বলে উঠে বর্ণমালা 
চোখের সামনে ভেসে উঠে 
জেল জুলুমের কারাগার 
বায়ান্ন- ছেষট্টি- উনসত্তরের উত্তাল সময়। 
চোখের সামনে ভেসে উঠে
রেসকোর্স ময়দানের একটি তর্জনী। 

পিতা, আমি তোমার চোখের ভাষা পড়তে গিয়ে 
পৃষ্ঠা উলটাই  বাংলাদেশের ইতিহাসে
আমি থমকে থমকে চমকে গিয়ে দেখি
পঁচিশে মার্চের কাল রাত 
চোখের সামনে ভেসে উঠে স্বাধীনতার ঘোষণা
যুদ্ধের ভয়াল রাত-দিন— 

প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শেষে
অস্তিত্বে আলো ছড়ায় 
লাল-সবুজ  পতাকা
একটি স্বাধীন দেশ 
আর একটি নিথর দেহ।
সিঁড়ি দিয়ে গড়াতে গড়াতে
দেহটি নেমে পড়ে দেশের একান্ত গভীরে। 

 'স্বাধীনতা' শব্দটি লিখতে গিয়ে
আমার কলম থেমে যায়—
থমকে যাওয়া চোখে দেখি 
স্বাধীন দেশের  ম্লান মুখ।
তবু উঠে দাঁড়াই দারুণ তেজে
তোমার শোক-ই হয়ে উঠে আমাদের ভীষণ শক্তি।

ইরফান হোসেন

জাগো মানুষের দল 

আকাশে আজ প্রলয়ের ডঙ্কা বাজে......
মিহি করে ধুনা তুলার মতো ওড়ে কপটচারীর ঘোমটা।
এইতো সময় উন্মত্ত উল্লাসের । 
এইতো সময় জেনে নেবার_
পার্থক্য মানুষ কিংবা শেয়াল কুকুরের।

জাগো মানুষের দল_
ঐ শোনো, ঈসরাফিলের শিঙা ধ্বনি।
মানুষের আজ আলাদা কাতার হবে,
আলাদা কাতার হবে শেয়াল কুকুরের।
বুক পকেট হাতড়ে দেখো।
হৃদয়টি কি আছে ঠিক যেখানে থাকবার কথা ছিল।

কোমর ভাঙ্গা বিড়ালের মত_
যারা টেনে হেঁচড়ে চালিয়ে নেয় গ্লানি।
তাদের তুমি কি ভয় দেখাও জীবন?
শ্বাপদের রক্ত লাল চোখ উপেক্ষা করতে শিখে গেছে আজ,
শুকুর মাঝি কিংবা ভানু বেওয়া।

হয়তো এই প্রলয়ে মাটি আর পাহাড়,
আবার মিলে যাবে একই তলে।
আসবে নতুন জোয়ার এই মেঘনায়।
উঠবে নতুন রবি নতুন কোন দিনে।।

শান্তনু ভট্টাচার্য

দ্বন্দের মাঝখানে 
                              
রোদের ভেতর যেমন 
লুকিয়ে থাকে তীক্ষ্ণ শীত
হাসির ভেতরে ভেতরে সফল অভিনয়। 

একটা বড় ক্যানভাসের 
একপ্রান্ত দখল নিয়েছেন -"দালি 
অন্যপ্রান্ত পিকাসো  
মাঝখানে তুলি হাতে 
দাঁড়িয়ে আছে লিওনার্দো  

মেঘের ফাঁক থেকে চাঁদ মুখ বাড়ালেই 
মোনালিসার মুখে এঁকে দেবেন 
অজ্ঞাত জ্যামিতিক সব চিহ্ন...

নমিতা সরকার

ঢেউ

চাঁদের হাসি ঠোঁটে চেপে তুমি ঘুরে বেড়াও ভালোবাসার রাজ্যে চুম্বনে ভরিয়ে দাও ডিঙ্গি নৌকার  শূণ্য হৃদয়।

তবুও তুমি বুঝনি বুঝি শূণ্য ডিঙ্গি  নৌকার হৃদয়ের ভাষা ...

ঢেউয়ের আছড়ে আছড়ে ব্যথার জলকেলি শরীরে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পরে নির্জন দ্বীপে আঁধারের বুকে। 

আর তুমি চাঁদের দেশে ভীড় করো নক্ষত্রের মেলায় 

আলোয় আলোয় ভরে যায় তোমার ভালোবাসার রাজ্য, চাঁদের হাসি ঠোঁটে জমা রেখে হৃদয়ে অাঁক লিউনার্দোর আঁকা সেরা চিত্রের হাসি।

আর ডিঙ্গি নৌকার বুকে নুড়ি জমে জমে তৈরি হয় ব্যথার পাহাড় তবুও গোধূলিবেলায় ভাসিয়ে দেয় শূণ্য হৃদয় শুক্লপক্ষের আঁধারের প্রতিক্ষায়, 

শুধুই তোমার হাসিমাখা ঠোঁটে চুম্বন আঁকবে পূর্ণিমার আলোয়।

অর্ধেন্দু ভৌমিক

মাটির গন্ধ

শ্রাবণের ভাতথালা, নাড়া-পচা ঘ্রাণ
জীবন থেকে অনেকদূর সরে... 
বাবার দু'চাষে ফেলা বুক ,কেঁচোর ঢিপি
লাঙল-হালে জমা অলংকার
মা'কে নিয়ে সাজাতো সংসার ... 

আজও  স্নায়ু খোঁজে
বাবার সেই ভালোবাসার অনুভূতি---

কর্পোরেশন, গজানো টংঘর
মাটির গন্ধ আগলে  নর্দমার কালো জল।