Jun 29, 2023

সমরেন্দ্র বিশ্বাস

১.বন্ধ্যা দিন 

চোখ থেকে কিছুটা দৃষ্টি খুলে মাটিতে পড়লো,
কথা ছিল কিছু কিছু দৃষ্টি গজাবে
তা হলো না, 
কারণ মাটিরা তখন রক্তাক্ত আর দৃষ্টিরা বীর্যহীন!

২. ব্যবধান খর্ব হয়ে আসে 

বিদ্বেষের পায়ের থেকে মুজো খুলে গেলে
পাহাড়ের উচ্চতারা খর্ব হয়ে আসে।
তখনই মানুষেরা পেরিয়ে যা‌য় স্ত্রোত্রপাঠ নদী, 
আজানের আকাশ থেকে নেমে আসে ইন্দ্রের বাতাস!

রুদ্র মোস্তাফা

প্রতিবেশী  

১.

নীলতরঙ্গে কত কথা ওড়ে যায় আঙুলের ক্লান্তি ভুলে
রংবেরঙের রাতগুলো ঝরে পড়ে প্রতি ভোরে 
একাকী দুজন বেলকনির রোদ ধরছি ছায়ার আঁচলে
তবু আটকে থাকে বর্ণমালা চোখের কার্নিশ ধরে। 

২.

দুই বারান্দার মাঝে শুয়ে আছে দীঘল শূন্যতা
কথা বলা মানা তাই বারান্দায় বুনেছি গোলাপ
আমরা বোবা প্রতিবেশী পেয়েছি সৌরভের পূর্ণতা
সুবাসে সুবাসে ঠিক জমেছে আমাদের আলাপ।

উমাশংকর রায়

১. ধূসর কৌলিন‍্য

বৃষ্টি চাই বৃষ্টি চাই বলে - চলে গেল সবে।
অপেক্ষার বৃষ্টি এল, সব ধুইয়ে চলেও গেল।
শুধু ধূসর কৌলিন‍্যের নিয়ম ভিজেনি, তালে তালে
উড়ছে ধুলো ভিতর-ঘরে, সংসার তার অটুট।

২. কাঁটা

গলায় কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে অন্ধকার
উগরাতে গেলে চাই - অন্তত এক ছটাক আভাস।
আশ্চর্য! রাতজাগা পাখিও বুঝতে পারেনি -
অন্ধকার একমুখো নয়, তার দশানন, দশ মুখ!

সুমন পাটারী

১.

সলতে পুড়ছে
কেরোসিন পুড়ছে

আলো,
আরো আলো

তারপর অন্ধকার
এবং অস্তিত্বের সংকট।

২.

কোনো পুরানো আধমরা গাছ দেখলে
আমার বাবার কথা মনে পরে
মা তাঁর এক একটি ডাল ভেঙে চুলা জ্বালায়
ভাত ফোটায়

নবীনকিশোর রায়

সিঁড়ির নিচে 

১.
এক দীর্ঘ নিঃশ্বাসে 
গান্ধীজির বুকের ভেতর থেকে 
একটি শব্দ বেরিয়ে এলো
-------"হায় রাম!" 

তার পর থেকে পাথরের 
মূর্তির ভিতর স্থাপত্যে তিনি সর্বত্র বিরাজমান...
 
২.

সার্ধশত বর্ষে তোমার মূর্তির
পাদদেশে সিঁড়ির নিচে 
বসে  দেখি--
ছেঁড়া মানচিত্রের পাশে পড়ে আছে ইতিহাসের কয়েকটি অধ্যায়। 

অদূরে বানর দলের উলঙ্গ নৃত্য,অলখ্যে  বীর হনুমানের চাপা আর্তনাদ... 

কমল সরকার

১.  ভালোবেসে

এই বিষাদঘন জীবনে 
দুঃখের পরিবর্ত চেয়ে আমি
তোমাকে ভালোবেসে ফেললাম। 

জীবন এখন বিষণ্ণতর 

২. প্রাক্তন

প্রাক্তন প্রেমিকার কথা মনে পড়লে 
তাকে বাতিল কবিতার মতো ভাবি —

প্রত্যাখ্যানের পরও 
কেমন একটা মায়া লেগে থাকে!

পঙ্কজ কান্তি মালাকার

১.একযোগে


নির্মীয়মাণ ধাতববস্তু শুধু প্রস্তুতির আগুনে পুড়ে না
জীবনের সবচেয়ে বেশি ঘা খায়,
যার থেকে ঘা খেয়েছে,ঘা খেতে খেতে তার মতো
কিংবা তার চেয়েও শক্ত হয়ে যায়।
তখন আর ঘা কি লাগে গা'য়?

২.অন্যদৃষ্টি

লোকে বলে বন্যা -ভীষণ প্রলয়ঙ্করী,
আমি তো দেখি পাহাড় হতে নামছে গিরিকন্যা শুভঙ্করী,
তুমি দেবী কামাখ্যা ধন্যা অন্নপূর্ণা মাতা
অশুভ দলনে দেবী চণ্ডী অশুভে ভয় পা।

দেবাশ্রিতা চৌধুরী

১. অন্তরাল

দ্রোহের আকাশে ভোকাট্টা ঘুড়িরা
সন্ধিস্থল, বিপনন,যৌবন বন্ধক রেখে
জারুল গাছের কচি পাতার 
গন্ধে শামুকের মতো অন্তরাল খোঁজে।
       
২. বিসর্জন
        
নিভন্ত চিতার ছাই বিসর্জনের পর
পাতকী নক্ষত্রের টিপটিপ আলো
সমস্ত পাপ আর অনাচারের
গোপনীয়তা লুকিয়ে মুচকি হাসে।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

১.দায়ভার

আধুনিকতার জোয়ার ; 
প্রকৃতিকে পরোয়া না করার দম্ভ, 
সৃষ্টির রথে বেপরোয়া স্ফূরণ
স্রষ্টার মনে অসন্তোষ; বিধ্বস্ত সৃষ্টি
হাহাকারের আগুন; বীভৎসতার কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার আকাশ,শত ভিড়ে  মানুষের অসহায়ত্ব
বড্ড চাক্ষুষ,ঝলসে যাওয়া দেহগুলির ছটফটানি, নির্বাক পৃথিবী। দায়ভার তবে কার?

২.মনোস্বাদ

পাহাড়,নদী কেউ  স্থির,কেউ চঞ্চল
কারো বুকে সবুজের বাণ,পাখ-পাখালির স্নিগ্ধ কলরব,
কারো বুকে উদ্দামতা,সাগরে মিশে যাওয়ার অদমিত
স্পৃহা,গর্ভের নিন্দা। তবুও পাহাড়ই জন্মদেয় নদীর
গর্ভক্ষরণের যন্ত্রণা বাপাশে চেপে রেখে
মুক্ত পৃথিবীতে ঠেলে দেয়  কাম‍নার তৃপ্ততায়।

আব্দুল গফফার

১. ধংসের ইঙ্গিত 

নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখো, 
কাঁদছে কলুষিত আকাশ।
চাঁদ তারার মৃদু আলো,
জানান‌ দিচ্ছে ধ্বংসের ইঙ্গিত!

২.স্বপ্নের ঠাসবুনন

হঠাৎ স্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়,
আমার অবচেতন মন -
আঁখি বুজলে গভীর হয়,
স্বপ্নের ঠাসবুনুন।

সন্দীপ সাহু

১. দেও-মনু কথা

দেও আর মনুর বিয়ে ও মিলন-কথা
কে না জানে। বেচারা লেঙ্গাই!
দেও মানুষকে ধারণ করে ঢেউয়ে ঢেউয়ে
চুম্বনে সূর্য জ্বালিয়ে, দেয় মনুকে। মনু লাল হয়!

২. জ্ঞান-বৃক্ষের ফল ও পুরুষ নারী 

পুরুষের দেহ নারীর দেহ, 
আজও আদম ইভের আপেল-দৌড়েই!
জ্ঞান-বৃক্ষের ফল ছড়ানো সর্বত্র।
পুরুষ দেহ নারী দেহ তা শুধু কুড়িয়ে চলে!

শঙ্খ অধিকারী

 ১. প্রেম 

সবকিছু ডুবে যায় জলে 
এমনকি ভালোবাসাও 
শুধু তুমি ডুবলে না এখনও ।

২. নীতিভ্রষ্ট 

চাঁদ হারা রাত 
আর ধুলো ছাড়া পথ 
দুটোই তোমার মতো 
নীতিভ্রষ্ট মনেহয় ।

নন্দিতা দাশ চৌধূরী

১.আলো-আঁধারে


যাবার যে সে যাবেই চলে ফিরবে সে যে ফেরার,
আলো ঝলমল  দিন হোক কিম্বা গভীর আঁধার। 

২.নদী হয়ে যাচ্ছে

যে বইখানি সে লুকিয়ে দিয়েছিল আজ তার কবিতাগুলো জলপ্রপাতের মতো লাফিয়ে পড়ছে আমার জোছনা মাখা রজনীগন্ধা বুকে,আর একটা একটা করে নদী যাচ্ছে।।

পদ্মশ্রী মজুমদার

১. দুটি হাতের মাঝে


ভুবন জুড়ে আসন পেতেছি তোমার। 
নিজেকে কোথায় লুকাই বলো! 

২. বেখেয়ালী বিকেল

তোমার খেয়ালী মন 
কার চোখ আঁকে জানি না,
অন্ধকারে অপলক হয়ে থাকি,
আলোর খবর রাখি না।

সঞ্জয় দত্ত

১. শূন্য ঘর

মানুষ বড়ই কঠিন!
কতোটা পাষান হয়ে মায়ার ঘর বুনছে।
ভালোবাসার নদীতে সেতু বেঁধেছে শূন্য ধোঁয়া দিয়ে!

২. সাক্ষী

প্রত্যেকটা দিন
জীবনের সাথে বেইমানি করে নাম লুকিয়ে ভাগছে।
ইতিহাস সাক্ষী হয়ে 
লিখে গেলাম স্মৃতি!

নমিতা সরকার

১.আজ অথবা কাল

অনেক আগের হামাগুড়ি দুধভাত খাওয়া ভুলে গেলেও, অনুভূতির জোয়ারে সেই প্রেমের মুহূর্ত মিলেমিশে একাকার...

তেমনই অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ তুমিই আমার।

২. সবুজ আদর

মেঘলা আকাশের শরীর ধুয়ে যে জল নামে বর্ষার কদম পাতায়,সেই পাতার কোমল ক্লোরোফিল মাখানো ভেজা আবেশে প্রিয় মুখ। 

জল স্রোতে ভেসে বেড়ায় আবেগি আদরে...

Jun 28, 2023

শর্মি দে

১.জীবনের চোরাস্রোত

কুড়িয়ে পাবো বলে আদ্ধেককাল চুপ করেই থাকলাম।
আগুনে পুড়তে আর পুড়াতে ভালো লাগে
তবুও চোদ্দআনা পাওয়া হলোনা !
একের পর এক পংক্তি মুঠো আবির সাজালো
বুকের মধ্যে 
ভয়ানক স্রোতে শেষ ট্রেনটাও মিলিয়ে যায়...

২.নীলব্যূহ

কবিতার আগুনে নীল অভিমান পুড়ছে, এই তো জীবন!
মৃতদেহের মতো চুপ করে দাঁড়িয়ে নির্বাক চোখদুটো দেখছে, কতটা জীবন!
আকাশহীন রাতের নীচে দাঁড়িয়ে খুঁজে পাই আমার অনস্তিত্ব।
চক্রব্যূহের দিকে এগিয়ে চলে অভিমন্যু!

অলকা গোস্বামী

১.ছুঁতে চাই তোমায়

গাছেরা কেমন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে 
নীল আকাশ ছুঁতে পারে সহজে...
আমি পারিনা তোমাকে ছুঁতে
আজো
অজানার ভীড়ে হারিয়ে যেতে যেতে....।

২. নিরব ভালোবাসা

ভালোবেসেও কেউ নিঃস্ব হয়,
জীবনভর কত ফরমাশ তারই আবডালে,
স্বপ্নের ঢেউ ছুঁয়ে যায় সময়ের পরত,
ভালোবাসি বলেও তুমি কেন এত নিরব ।

স্বদেশ বর্মণ

১.সাঁঝের বেলা

পশ্চিম দিগন্তে ধূসর আকাশ
ডুবিয়া গিয়েছে বেলা,
জৈষ্ঠ্য মাসের তাপ দাহ শেষে 
দিবশের খেলি খেলা।
পাখিরা ফিরেছে আপনার নীড়ে 
মধুমাখা কলতানে,
লোকালয় জাগে নতুন আবেগে 
দোলা দিয়ে গানে গানে। 

২.মুক্তির সোপান

মানুষেই গড়ে গির্জা প্যাগোডা 
মসজিদ মন্দির,
ভক্ত সেখানে স্রষ্টায় ডাকে 
নত করে তার শির।
সুপথে আমায় নিয়ে যাও প্রভু 
সবার জগত স্বামী,
তোমারে ভজিয়া চরণে সঁপিয়া 
পার পেতে চাই আমি।

গৌতম চন্দ্র

১.দূর্গা

মৃত্যুক্ষণে মহিষাসুর অট্টহাস্য হাসে...
অহংকারে অন্তরীক্ষে ভাসে...
অন্তর্যামী অন্তরে হাসে!
জগৎকল্যানে মহিষমর্দিনী মহিষাসুর নাশে...।

২.লজ্জা

প্রতিপত্তি আর পয়সা
মানুষের লালসা...
মানুষের রক্তে মানুষের স্নান
দূরহ পরিত্রাণ!