Apr 28, 2022

অভিজিৎ দাস

বর্ষার দেখা

সেদিন পথে যখন আমি একা -
বর্ষার সাথে হঠাৎ হলো দেখা!
অল্প রোদে মুচকি হেসে বলে,
একটু চলো ভিজভে ঠাণ্ডা জলে।
ভিজতে কি আর আমার আছে মানা?
বর্ষা যদি ডাকে এমন করে।
আমিও জানি মেলে দিতে ডানা-
পাখির মতো বৃষ্টি কিংবা ঝড়ে!
বর্ষা ডাকে আমায় অবিরত-
শুকনো পাতায় শিশির ঝরার মতো
তখন কি আর করতে পারি মানা?
তার সাথে যে পুরোনো জানাশোনা।
অগত‍্যা তাই ভিজি ওৎপ্রোত,
ভিজিয়ে গেলো বৃষ্টিকনা যতো।
বর্ষা আবার হারিয়ে গেলো দূরে -
আমি এখন ভীষণ একা একা।
ভাবছি বসে চুপটি করে ঘরে,
আবার যদি হতো বর্ষার দেখা!

রামমোহন বাগচী

সৃষ্টি হউক গ্রহণ মুক্ত! 
                        
কাল্পনিক নেশায় মত্ত শ্রেষ্ঠ জীব ! ভুলে স্রষ্টা কে। 
হাজার নামে আছো তুমি সৃষ্টির হৃদয়ে। 
ভালো বাসে তোমায়, ভুলে তোমার ভালো বাসাকে। 
সবার কন্ঠে তোমার নাম, তবুও জ্বলছে আগুন সৃষ্টির হৃদয়ে। 
সৃষ্টির স্রষ্টা তুমি ? এ কেমন সৃষ্টি তোমার  ? 
নিজেকেই নিজে করছো আঘাত  ! 
এ কেমন খেলায় মত্ত তুমি, করে হাজার ভাগ
তোমার লীলায় মত্ত তুমি, বুজা বড় ভার। 
জোৎস্নার আকাশে উড়ে অগ্রগতি হৃদয়ে সঞ্চিত অভিমান। 
অনুশোচনার অগ্নি গর্বে দগ্ধ কর তোমার সৃষ্টির গৃনীত অভিমান। 
তোমায় খুঁজি তোমার সৃষ্টির মাঝে, 
 বিমুগ্ধ চোখে দেখি যেন অপূর্ব সুন্দর সৃষ্টি তোমার। 
দূর্বসার স্পন্দনে যেন শুনি নির্ভেজাল শান্তির গান।।

ডাঃ তারক মজুমদার

তবুও

এক মুঠো --
সময় ভিক্ষা  চেয়ে
শুনেছি ব্যস্ততার সাতকাহন। 

সময় দাবানলে পুড়ছে সময়
পুড়ছে যত সময়
মুখোশ আর মনুষ্যত্ব--

তবুও ভালবাসার  আবাহন।

গোলোকেশ্বর সরকার

মেঘ

আকাশে মেঘ  ।   নীল  আকাশের বুকে  সাদা মেঘগুলি একদিক থেকে অপর দিকে ছুটছিল । মেঘগুলি বিভিন্ন রূপ ধারণ করেছিল । কখনও বাঘ,  কখনও  শিংওয়ালা হরিণ, কখনও  শুঁড় বিশিষ্ট  হাতির আকার  নিচ্ছিল ।  পার্কে বসেছিল  তিন  কলেজ --বন্ধু  । একজন ছেলে, দু'জন মেয়ে । ছেলে বন্ধু বলল, " দেখ, দেখ । মেঘের মধ্যে একটি নৌকো  ।  নৌকোর ওপরে বসে একজন মাঝি নৌকো চালাচ্ছে ।"    অপর দু'জন মেঘের ভেতর মেঘ দিয়ে তৈরি করা  নৌকা --মাঝির  ভাস্কর্য দেখতে পেল  । বলে উঠল, "আরে, তাই তো , তাই তো !" একজন মেয়ে বন্ধু  বলল, "তাকা , তাকা । মেঘের  অন্দরে   বিছানা পাতা শোওয়ার  খাট  দেখা যাচ্ছে ।"  অন্য দু'জনে  মেঘের মধ্যে মেঘ দিয়ে বানানো শিল্পী মেঘের বিছানা--খাটের কারুকাজ  চোখে দেখে বলে উঠল, " বেশ তো, বেশ তো  !"  অপর মেয়ে বন্ধু বলে উঠল , " চেয়ে দেখ, চেয়ে  দেখ । মেঘের  অভ্যন্তরে একটি ঘর দেখা যাচ্ছে ।"    বাকি দু'জন বন্ধু  মেঘের মধ্যে মেঘ দিয়ে  ঘরামি মেঘের হাতে  নির্মাণ  করা ঘর দেখে বলল, " ঠিক, ঠিক !" 

 আয়না  সামনে  রেখে  শ্যাম্পু করা চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়াতে আঁচড়াতে  কুড়ি বছরের মেয়ে  নীলাঞ্জনা আয়নার  ওপর পড়া মেঘের  মধ্যে  ' ভ্রুণ 'দেখতে পেল ।

চিন্ময় রায়

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

বিজ্ঞানেরই আশীর্বাদে আজ,
বিশ্ববাসী আনন্দে।
কতকথা প্রকাশিত হয়,
আজ ফেসবুকেরই মধ্যে।
হোয়াৎসঅ্যাপ এর মাধ্যমেতে,
কতো কথাই হয়।
আসুন সকলে মিলে বলি আজ,
সোশ্যাল নেটওয়ার্কের জয়।
ইন্সটাগ্রামের মধ্যে মোরা,
কতো নায়িকাদের দেখে।
কতো যোগসুত্র বেরিয়ে আসে,
সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থেকে!
এই সোশাল নেটওয়ার্কের জন্যই আজ,
কত মেয়েরা স্টার।
কেউ করে স্নেক ভিডিও,
আবার কেউবা টিকটকার।
ছেলেরা থাকেন পাবজি-তে আজ,
কেউবা ফ্রি-ফায়ারে।
মোবাইল স্কিনে ক্লিক করে করে,
এনিমিদের মারে।
সোশ্যাল নেটওয়ার্ক মোদের করেছে-
অলস অকর্মণ্য।
তবুও মোরা বেঁচে আছি আজ,
সোশ্যাল নেটওয়ার্কের জন্য।

অশ্বিনী কুমার মন্ডল

প্রত্নতত্ত্ব 

এই পৃথিবীতে অনেক সভ্যতার সমাধি ঘটেছে 
বহু যুগ পূর্বে হয়তো বা অগ্নুৎ্পাতে অথবা ভুমিকম্পে 
কিম্বা উল্কাপাতে নতুবা চিরতুষারে ঢাকা পড়ে ?
অথচ এখনো মানুষ শিক্ষা নেয়নি আগের থেকে 
সেই একই ভুল করে চলেছে বারংবার অন্তহীনভাবে? 
মানুষ হতে চেয়েছে এ গ্রহের সর্বসুখী যন্ত্রমানব?  
সভ্যতার কালো ধোঁয়া যেদিন সম্পূর্ন গ্রাস করবে 
এই সুনীল আকাশকে সে দিন আর সূর্য রশ্মি 
আকাশ ভেদ করে পৃথিবীতে আসবে না! 
কোনো গঠের রাখাল আর চরাবে না ধেনু
পৃথিবীর এই সবুজ প্রান্তরে নীল আকাশের নীচে? 
কালাচাঁদ আর বাজাবে না বেণু কদম্বের ডালে 
রাধিকা আর আসবে না যমুনায় জলে কলস কাঁখে? 
আমাদের এই সভ্যতার উন্নয়নের চাকা
হয়তো চাপা পড়ে যাবে মাটির নীচে! 
আবার হয়তো আমরা ফিরে যাবো 
সেই কার্বনিফেরাস যুগে বা হিম যুগে
মানুষ নয় অন্য কোনো রুপে হয়তো আবির্ভূত হবো! 
তখন আমাদের জীবাশ্ম গুলো 
আবিষ্কার করবে অন্য কোনো উন্নত জীব। 
আমরা হবো রিসার্চ এর বিষয় ? 
আমরা যেভাবে প্রাচীন হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো 
বা সুমেরীয় সভ্যতা আবিস্কার করেছি। 
সেই  দিনের মতো একই ভাবে হয়তো আমাদের বর্তমান 
সভ্যতাও একদিন ভগ্নস্তূপের নীচে চাপা পড়বে। 
তারপর বহু যুগ পরে আবার আবিষ্কৃত হবে 
এই সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ রাখাল দাসের মতো
কোনো এক বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিকের হাতে ? 
আর এক একটা ভুল খুঁজে বার করবে
আমাদের সমাজ জীবনের, নগর পরিকল্পনার? 
এই অতি আধুনিক সভ্যতার ধ্বংসের পর
হয়তো শুরু হবে এক নতুন যুগের। 
আবার সূর্য্য উদিত হবে পূর্ব কোণে
নব আশার আলোয় অঙ্কুরিত বীজ 
স্বাগত জানাবে রক্তিম সূর্য্যকে।

নীতা কবি মুখার্জী

প্রিয় কবি--শঙ্খ

চলে গেছেন  আমাদের প্রাণের প্রিয় কবি
এখন  তিনি তাই হয়ে গেছেন শুধু ছবি।
না ,ছবি নয়, তিনি থাকবেন হৃদয়ে মননে
আমাদের মনের মনি-কোঠায় সশ্রদ্ধ আলিঙ্গনে।
শঙ্খ কবি--শঙ্খের মতোই পবিত্র, শাশ্বত
তোমাকে রাখবো আমরা হৃদয়ে, জাগ্ৰত।
বাস্তববাদী কবি, সাম্যবাদী কবি, সমাজের ত্রুটির কথা বলেছো দৃপ্তকণ্ঠে
তাই আজ গলা ধরে আসে, কথা নাই কণ্ঠে।
আছে শুধু পূজা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা
বাংলার ঘরে আবার এসো ,কবি,
এইটুকু রাখি আশা।

সানী ভট্টাচার্য

ভালোবাসা

ভালোবাসা তুমি শান্ত নও 
অবাধ অসীম চঞ্চল 
ভালবাসা তুমি ক্লান্ত নও 
পদ্মা বরাকের জল 
ভালবাসা তুমি নীল রং 
অনন্ত আকাশে ঘেরা 
ভালবাসা তুমি লাল রং 
মৃত্যু ফাঁদে ভরা 
ভালবাসা তুমি এমন ফর্সা 
যেমন শান্তির দূত 
ভালবাসা তুমি এত কালো 
মায়াবী কিংবা অদ্ভুত 
ভালবাসা তুমি এত সবুজ 
যেমন আমাজন - বর্ষাবন
ভালবাসা তুমি পাশে থাক 
সবার প্রিয় জন
ভালবাসা তোমায় খুঁজে বেড়াই 
হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা এসএমএস এ
ফেসবুক এর চঞ্চলতা দেখি 
রমণীদের মুখে 
ভালবাসা যেন তুমি মোহময়ী 
কিংবা কান্নার রব 
ভালবাসা তুমি সবার প্রিয়
যেমন কিশোর শৈশব 
ভালবাসা তুমি এত গভীর 
সাত সমুদ্র জানে 
ভালবাসা তুমি হৃদয়ে থাক 
ঈশ্বর তা মানে 
ভালবাসা তুমি চাঁদের হাট
বিলাসী সভ্যতার গায়ে
ভালবাসা তুমি ঘুরে বেড়াও 
নীরবে নগ্ন পায়ে 
ভালবাসা আমি আজও একা 
দেখা করো অল্প!
ভালবাসা তুমি ছাড়া নেই 
জীবনের কোনো  বিকল্প।

আব্দুল গফফার

থাকতে চায় নিভৃতচারী হয়ে

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের চোরাস্রোতে,
নিত্য ভিড় করে অক্ষরমালা-
সারি সারি কতশত শব্দগাথা।

মিশ্রিত চিন্তনের রং, রঙিন শব্দ,
ক্রমশ উজ্জ্বল কবিতার ক্যানভাস-
আগুয়ান,গতিবান সাধের লেখনী।

মুহুর্মুহু কাটা ছেঁড়া, শব্দের টেক্কা,
অগ্রজ কে, পশ্চাদে কার অবস্থান-
কমা,দাঁড়ি,লাইন, নিমেষেই সমাপ্ত।

ভাবনার প্রকাশ, ঠাঁই শ্বেতপত্রে,
ছিন্ন ডায়েরি-লেখনীর সহাবস্থান।
প্রচারহীন, তাই কবি নিভৃতচারী-

কলমের আঁচড় স্তব্ধ, নেই মুদ্রণ,
জোটবদ্ধ নয় শব্দশ্রমিক-
ডাক নেই মঞ্চে, ধূসর পরিচিতি।

লিখতে চায়, আরো লিখতে চায়,
চায় না প্রচার,চায় না মঞ্চ-
থাকতে চায় সে নিভৃতচারী হয়ে

Apr 26, 2022

সোনালী মণ্ডল

সময়

সময় তুমি চতুর ভীষণ,
মাঝে মাঝে ভাবি আনমনে
বাক যুদ্ধের লড়াইয়ে হারিয়ে দেবো তোমাকে,
কিন্তু পারিনা তোমার ছলাকলার জাদুতে।
তুমি কখনো এসে দাঁড়াও না বলে
কখনো বা চলে যাও কিছু বলে।
পারিনা ছুঁতে,পারিনা মনের কথা বলতে,
একটু থমকে যদি যেতে তাহলে বোধ হয় সব কিছুরই একটা ভিন্ন রূপ দেখতে।
সময় তুমি ভীষন চতুর,
কখন যে খেলার ছলে কৈশোরের মোহে কেড়ে নিয়েছো শৈশবকে,
আবার অর্থ নাম যশের তৃষ্ণায় কেড়ে নিয়েছো যৌবন কে।
মনুষত্বের চাওয়া পাওয়ার হিসাব মেলাতে নির্বাক থেকেছে কর্তব্যের আকাশ।
ক্লান্ত হয়ে দুর্বল অস্থির ভাঁজে ভাঁজে,
জমা ব্যাধির ক্ষতে যখন খুঁজেছি
নরম হাতের আলতো ছোঁয়া,
ছুঁতে চেয়েছে আবেগের বিষাদের দেওয়াল,
পরিশ্রান্ত অশান্ত জীবনের মাথা রেখে,
শান্তির খোঁজে যখন খুঁজেছে নিরাপদ কোল,
তখনো কেড়ে নিয়েছো শেষ আশ্রয় এই গোধূলি বেলায়।
সময় তুমি নিষ্ঠুর,
বেলা শেষের ডাকে যখন বসে জীবনের 
চড়াই উতরাই পথের বাঁকে বাঁকে ভেসে এসেছে,
নিখুঁত সজ্জিত রঙিন দিনের স্মৃতি,
তখন হারিয়ে ফেলেছি চলচছক্তিহীনতা।
সময় তুমি ফিরে আসবে আর একটিবার জীবন টাকে নতুন করে শুরু করতে?

Apr 25, 2022

অসীম পাঠক

অগ্নিপরীক্ষা

ঘূর্ণায়মান সময়ের রথ এসে দাঁড়ায়  মেঘমুক্ত নির্মল সুনীল আকাশের নীচে। মাথার মুকুট খুলে অগ্নিপরীক্ষা দেবে 

এযুগের রামচন্দ্র , সবাই দেখবে প্রশস্ত ললাটে সীতার নাম , তবুও ভালোবাসার অগ্নিপরীক্ষা। সীতা নয় রামচন্দ্র বলবে , হে ধরণী দ্বিধা হও ... জীবনতরীর ভারসাম্যহীন খেলায় ভাগ্যচক্র প্রমাণ করে , সবকিছু ই আপেক্ষিক নয়।

স্বেচ্ছা নির্বাসনে বিষণ্ণতা কেই আমন্ত্রণ জানায়  এযুগের সতী সীতা, তার প্রতিজ্ঞা তার জেহাদ মুক্তি র কলকাকলীতে ভালোবাসার কবুতর কে 

দূর দ্বীপে রেখে আসার ,  সেখানে নীল জলে  নীল দিগন্তে  রামচন্দ্রের ভালোবাসার আবাহন এড়িয়ে  ব্যাস্ত থাকতে চায় সে , এ যুগের রামের ধনুকে আঁকা বিরহ বেদনার স্বগত প্রলাপ।  

সীতা ব্যাকুলতা বোঝেনা , ভালোবাসার মানদন্ডে অগ্নপরীক্ষা বোঝে , ত্যাগের প্রতীকী মন্ত্রে রামকে  প্রতি পলে অনুভব করাবে নিঃসীম শূণ্যতা। যা একদিন সে পেয়েছে , আজ অশোক কাননে গভীর নিস্তবব্ধতা ছেয়ে আছে , আজ যে  ভালোবাসার অগ্নিপরীক্ষা।

জগন্নাথ বনিক

স্বপ্ন ভঙ্গ 

চেয়ে চেয়ে দেখি বলতে না পারি,
কত না শুনেছি মুখের ভাষণ।
ঠেকেছে পিঠ দেয়ালে আমার,
অথচ আজও শুনেনি আমার মুখের  একটু কথন।

চলেছি হেঁটে পথে পান্থরে,
যাচ্ছি  আজও মানুষের ঘরে ঘরে।
আমার হাতটা ধরেনি কেউ,
আজও একটু শক্ত করে।

কত যে মনের স্বপ্ন ছিলো,
আশা গুলি আজ নিরাশ হলো।
তবুও জীবন রেখেছি বাজি,
চলছি হেলে দোলে।

শ্রী গঙ্গাধর বাগ্দী

অপার্থিব

অশ্রু ঝরে বুকটা হল প্রকাণ্ড এক নদী 
কাঁদাবে কি আমায় তুমি নিরবধি ,
জানিনা রইলে দূরে তুমি কোন অভিমানে 
ভোরের পাখি ঘুম ভাঙ্গায়    নিজের কলতানে। 
 
রোজই রাঙ্গা সূর্য ওঠে  তবু হয়না যেন সকাল
নীরবে আঁধার ঘনিয়ে আসে আমার পরকাল,
ভগ্ন বুকে সইব কত আর বিষাদের জ্বালা 
উন্মুক্ত দ্বারটি বোধহয় এবার 
পড়বে তালা।

কেমনে তখন তুমি অনায়াসে করবে প্রবেশ 
কেমনই বা  তোমার মনের     কাটবে আবেশ, 
দেখবে আমায় আকাশ মাঝে তারার বেশে
নীরবে আমি দেবো পাড়ি মৃত্যুর দেশে।

স্বপন দেবনাথ

ক্ষনিকের ভালোবাসা 

হয়েছিল দেখা সেই বৈশাখী মেলায়,
দিনের শেষে সেই পড়ন্ত বেলায়।
চেয়েছিলে মোর অবুঝ মুখের পানে, 
তোমা প্রেম সুর ভেসে আসল কানে।
ক্ষণিকের জন‍্য পরে না চোখের পলক, 
মুগ্ধ, দেখে আমি  তোমারি প্রেমের ঝলক। 
ভেবেছিলাম দুজনে মিলে যাব তেপান্তর, 
মোদের মাঝে প্রেম শিখা জ্বলবে নিরন্তর।
অমনি সময় চারদিক কালো করে, 
অন্ধকার নেমে আসল কালবৈশাখীর তরে।
চারিদিক ছুটোছুটি, মনে অস্থিরতা, 
ভয়ের পাখি উড়াল দিয়ে বারাল আকুলতা।
হঠাৎ দেখি সম্মুখ হতে গেছ তুমি হারিয়ে, 
একাকিত্বে আছি আমি তোমার  অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে।

পিয়াল দেবনাথ

গোড়ার কথা

আজ রাতে তোমার সাথে অনেক কথা ছিল।
বহু কালের সঞ্চিত কথা।
একটি আস্ত বিশ্বের ব্যাপারে।
নির্জীব সজীবের অন্তরালে একটি আত্মার ব্যাপারে।
বহু দূর থেকে আসা বৃষ্টি বিন্দু
আমার জানালার বাইরে, ল্যাম্প পোস্টের আলোয়
মুক্তোর মত ঝরে;
বাতাসে হেলে দুলে।
সেই বৃষ্টি হঠাৎ আমায় ভিজিয়ে দেয়,
আমার মুখমন্ডলে আলতো ভাবে ঝরে পরে।
এই স্নেহের পরশে নিজেকে ভিজতে দিলাম।
তারা কি যেন বলতে চায় আমায়।
তাই বেরিয়ে পরলাম ঝড়ো বর্ষনে,
নিঝুম শীতল বারি বিন্দুর কথা
কান পেতে শুনতে ও মন পেতে অনুভব করতে।
ভীষণ অসহায় তারা - হে স্নেহের মূর্তমান।
তাদের স্পর্শে যে নতুন জীবন জাগে।
সৃষ্টি কালের এক প্রাচীন ভাষায় তারা বলে -
"টিপ্ - টিপ্ - টিপিক্" 
অনেক দূর থেকে আসি তোমার কাছে।
"টুপ্ - টুপ্ - টুপুস্"
দিওনা মাটিতে আছড়ে পড়তে।
"ছপাশ্ - ছপাশ্ -ছম্ ছম্"
আমার ভীষণ ব্যাথা হয়।
"ঝনাত্ - ঝনাত্ - ঝন্ ঝন্"
আমায় আগলে নাও তোমার হাতে।
তাই এই বৃষ্টি বিন্দু তালুবন্দি করে,
করলাম আমার মুখমন্ডলে স্থাপন।
ঐ বৃষ্টির জল তাই আমার মধ্যে জীবিত।
অার আমি তাদের মতই  আজ দূর্বল
ভঙ্গুর, নশ্বর ও ভীত।
তাই তুমি আমায় আজ কাছে টেনে নাও,
যত্ন সহকারে।
ভেসে যেতে দিও না রাতের অন্ধকারে।

নীরেশ দেবনাথ

সুখ

হাজার লোকের ভিড়ে ছিলে তুমি মিশে।
তোমারে প্রথম চিনি কিসে -
সে কথাটি নেই তো মোর জানা,
শুধু জানি এই - স্বপ্ন মাঝে মেলে দিয়ে ডানা 
এসেছো গিয়েছো বহুবার।
মনে হল, এই বুঝি সেই মুখ আমার প্রিয়ার।
ভালোবাসা জানি বা না জানি
প্রথম মজেছিনু দেখি তব মুখখানি;
আজ তুমি নও স্বপ্ন সমা,
আমি আজ তোমারি মাঝে সমা।
তুমি কত সুন্দর, কত সুন্দর তব মুখ
জন্ম-জন্মান্তর যা চেয়েছি - মিলেছে সেই সুখ।

ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তী

প্রিয়

আমার হিয়ার মাঝে 
তব পরশখানি ফুটিয়ে তোল
আমার আঁধারে তোমার আলো খানি দীপ্ত কর
আমার তন্দ্রা তোমার আখি ভোরে সাজায়ে লহ
তোমার রজনী আমার কিরনে ভরিয়ে লহ
দিন শেষে আজ কহ হে সখা ছাড়িয়া যাইবে না কভু
সকল দূঃখ সুখ লইব ভাগ করি
করি এ প্রতিজ্ঞা 
নববর্ষে নব অঙ্গীকার করি 
চলিব মোরা হাতে হাত ধরি।

পুলক রায়

গোবরে পদ্মফুল

প্রবাদ বাক্য বাস্তবের রূপান্তর প্রকট সত্য। নবেন্দু দিব্যেন্দু সুখেন্দু পূর্ণেন্দু ইত্যাদির যৌথ সংসার ।প্রত্যেকেরই দুটি বা তিনটি করে ছেলে মেয়ে ।পৃথা দিব্যেন্দুর প্রথম কন্যা ,মামার বাড়ি থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর গ্রামে গ্রামে রটে গেল পৃথা এখন বিবাহযোগ্য কন্যা ।যদিও বংশের অন্যান্য ছেলে মেয়ে কেউ ইস্কুলে যায় বা স্কুল পালানোর মত মাঠে ডাংগুলি, মার্বেল ,দাপাদাপি ছুটোছুটি করে বিকেলে বাড়ি ফিরে আসে স্বরস্বতীর পিন্ডি চটকে।

   হঠাৎ একদিন মেঘ না চাইতে জলের মতো এক ঘটকউপযুক্তছেলে(পাত্র )সহযোগে সম্বন্ধ নিয়ে অগ্রহায়ণের শীতের বিকালে উপস্থিত। কথাবার্তা দেখাশোনা সব নিমেষের মধ্যে

শেষ হলে আনন্দ উৎসবের সন্ধান খুঁজে পেল সকলে। "ওঠ মেয়ে তোর বিয়ে"। বাড়ি শুদ্ধু সকলের আনন্দে উচ্ছ্বাসের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস বাতাসে বাড়ি বাড়ি গ্রাম শুদ্ধু ছড়িয়ে পড়ল। কারো কারো মুখে প্রকাশ পেল আমাদের  পৃথা সাক্ষাৎ লক্ষী এক কথায় বিয়ে, ভাবা যায়। তাছাড়া বড় ঘরের উচ্চ শিক্ষিত ছেলে, এসব কোন ঘরের কন্যাগ্রস্থ পিতা মাতা ,কাকু কাকিমা ছাড়ে? রাতারাতি বিসমিল্লাহ সানাই এর সুরে অঘ্রানের তৃতীয় সপ্তাহে পতিগৃহে যাত্রা সমারোহে সম্পন্ন হয়ে যায়।


         অষ্টমঙ্গলা, দ্বিরাগমন, হানিমুন ,প্রথম জামাই ষষ্ঠী ইত্যাদিঅনুষ্ঠানেআসা-যাওয়ায় যখন বোঝা গেল জামাই মিলুকে মিশুকে দিলখোলা দরদী পরোপকারী সহানুভূতি প্রবণ ইত্যাদি, তখন সব শ্বশুর-শাশুড়ির হৃদয় গর্বে 56 ইঞ্চি হয়ে দাঁড়ায় ।গর্বে চঞ্চল চক্ষু ও মনের কথা কয় ,মেয়ের মুক্তমনের স্বাধীনতা যদি বাপের বাড়ির জলে মিশে জল বাড়ায় তবে মেয়ে-জামাইয়ের সব আসা-যাওয়া উৎসবের রূপ নেয়।

পতির বেহিসেবি পয়সায় বিলাসিতা সোনার গয়না পোশাকি আড়ম্বরের পর মন কান্দে গ্রাম্য বাবা-মা ভাই ও আত্মীয়দের অসচ্ছলতার জন্য। স্বামীর অর্থ খরচ করা বেড়ে যায় স্বহস্তে কিন্তু স্বামীকে না বলে বাপের বাড়িতে অর্থ দিলে অন্য অর্থে চুরি করা হয়, অন্যায়। এই দূরদর্শিতা মাধ্যমিক বিদ্যাগুনে। এমন স্বজ্ঞান কর্তব্য পরায়না প্রাজ্ঞ স্ত্রীর জন্য জামাইবাবাজীবন স্ত্রীর কথায় অন্ধ। পৃথার চোখেই জামাই শ্বশুরবাড়ির সবাইকে চেনেন জানেন এবং বিশ্বাস করেন।

পৃথা প্রিয়দর্শনী কর্তব্য পরায়না বাক ও কর্ম চতুর আহ্লাদিনী হৃদয়হরনী , কুহকিনী ও বটে ।পৃথার বিয়ে হয়েছে ব্যবসায়ী বিলাসের  সাথে। বর্তমানে পৃথা একমাত্র কন্যা সন্তানের মা। পুত্র সন্তানের কামনায় জামাই বিলাস তিরুপতির মানত করে এবং হাতের নাগালেই সিদ্ধি লাভ হয় কিন্তু নারী কালনাগিনী অন্ধবিশ্বাসে।পৃথার গর্ভে দ্বিতীয় সন্তান এলে পৃথা পুত্র সন্তানের সুখা পেক্ষা পিতা ও সহোদরের সুখান্বেষণে স্বামীর কাছে গল্প করে তোমার এই বিস্তৃত ব্যবসায় যদি আমাদের সুমন টা কে সংসারে ঠাঁই দাও কিছুটা তো স্বস্তি পেতে পারো। 

বর্তমান এই দুর্মূল্যের বাজারে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সদিচ্ছায় দ্বিতীয় ইস্যুর প্রয়োজন আছে কি? সুমনকে পুত্র-স্নেহের সংসারে ঠাঁই দিয়ে মানুষ করলে ওই ভবিষ্যতে আমাদের পুত্র সন্তানের কাজ করে দিতে পারবে। বয়সে তোমার থেকে কত ছোট দেখেছ।তাছাড়া আমাদের মেয়েটাকে আরো ভালো করে মানুষ করতে হবে ।সে বিরাট বড় হবে, ভবিষ্যতে প্লেন চালাবে ,সে দেশ বিদেশ ঘুরবে তার সাথে আমরাও ঘুরবো ভবিষ্যৎ ভালো হবে ।সুমন তখন আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য দেখবে জমি জায়গা লক্ষ্য করবে।

পৃথার কথা বিলাসের পছন্দ হয়নি তাই গম্ভীর মুখে রাত্রে বিছানায় পাশ ফিরে শোয় অশান্তি গোপন করে এবং মনে মনে ভাবে নিজের ছেলে মেয়ে  বাপ-মাকে দেখে না, সম্বন্ধী দেখবে ?আকাশ কুসুম স্বপ্ন !এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে।

দিন গড়ায় সুমনের ঠাঁই হয়ে যায় বোনের বাড়িতে বোনের সদিচ্ছায় ।অন্যদিকে পৃথার উল্টি  উদগীরণ বাড়ির সবার চোখে পড়ে ।সকলেই চাপা আনন্দে উৎফুল্ল হয়। এসব অগ্রাহ্য করে মাতৃত্ব বিসর্জন দিয়ে, স্বামীকে ভুল বুঝিয়ে, শাশুড়িকে হেয় প্রতিপন্ন করে ওষুধ সেবনে ভ্রুন নষ্ট করে  বৃষবিক্ষের বীজ রোপন করে। এই কৃতকর্মের জন্য সমগ্র পরিবার ও বিলাসের হতাশা যন্ত্রণা ব্যাকুল কান্না লোকচক্ষুর দৃষ্টি এড়ানো গেলোনা, অথচ আত্মসুখে পৃথার সহোদর সব জেনেও ভগ্নির বাড়িতে কর্মব্যস্ত। বাবা-মাকে শেয়ার পর্যন্ত করলো না। ভ্রুন প্রাণ পেল না,বংশ প্রদীপ ঠাঁই পেল না, বিলাস কন্যা ভাই বোনের সম্পর্ক বুঝলো না, হিন্দু শাস্ত্র মতে বিলাস মুখাগ্নি রক্ষাকর্তা পেল না । জামাইয়ের বে-হিসাবি অর্থে পৃথা ও সহোদর সুমন ছিনে জোঁকের মত বসে স্বার্থসিদ্ধির স্বপ্ন পূরণ করতে থাকে।


কথায় বলে "ধর্মের কল বাতাসে নড়ে "ভ্রুন নষ্ট করে মরনরোগ সঙ্গী করে পরপারের খাতায় নাম লেখায়। পৃথা যাওয়ার পূর্বে জীবন সাথীর হাত ধরে বলে- ক্ষমা করো আমায় ,তোমার স্বপ্ন সত্যি করতে পারিনি, তোমার কথা রক্ষা করতে পারিনি ,তাই চললাম। যেকোনো মৃত্যুই দুঃখের কারণ ।দিদির মৃত্যু ভাই অনুভব করলে ও ষোল কলা ইচ্ছা পূরণের লক্ষ্যে পিতা-মাতাকে চিন্তার অকূল সমুদ্রে রেখে চুপ থাকে। সন্তান হারানোর জ্বালা সব পিতা-মাতার বুকে শেল বিদ্ধ করে ,তাই আজ ও অশ্রু সম্বরন করতে পারেন না ।দিন যায়, ক্ষন যায়, সময় বদলায়। স্মৃতি জলে ঢিল পড়া  ঢেউয়ের মত মিলিয়ে যায়। আজ মেয়ে পৃথার দৌলতে বাপের বাড়ি পরিচয় যোগ্য শহুরে অট্টালিকায় খয়ের খাঁ। ক অক্ষর গোমাংস মামা চাঁদের হাটের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাই মেয়ের প্রশংসায় আজ  সন্তান হারা পিতা নির্দ্বিধায় উচ্চারণ করে আমার মেয়েপৃথা যদি আর দু'টো বছর বাঁচতো তবে আমি শিলাইদহের জমিদারিত্ব সহ কোটিপতি হয়ে যেতাম। এখানে স্বস্তি এবং অনুশোচনা কি একে অপরের পরিপূরক জানি না!

তাই বলি--

যদি কুরুক্ষেত্র হয় শকুনি বিধান ,

তবে সংসারে সম্পর্কিতকে দিও না স্থান।


পৃথা ইহলোক ত্যাগ করেছে 5 বছর আগে। বিপত্নীক বিলাস তাই শ্বশুরবাড়ীর অভিমুখী খুব একটা হয় না ,তবু সম্পর্কটা অস্বীকার করে না কারণ নাবালিকা কন্যার জন্য।মামার বাড়ি প্রীতি সব সন্তানের কাছে অন্যরকম, যতদিন যায় সম্পর্ক ততটাই বিপরীত পথে হাঁটতে থাকে। যেটুকু সম্পর্ক টিকে আছে তা জামাইয়ের বিলাস বৈভব সম্পত্তির জোরে। দাদু দিদা দু-একবার নাতনিকে হারিয়ে যাওয়া মেয়ের স্মৃতিটুকু হিসেবে আদরে আবদারে নিয়ে গেছে ,হয়তো বা জামাইকে ও। মামা বাড়িতে গোপনে কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করেছে -"বাবা তোকে  ভালোবাসে তো ?মারধর করে নাকি? যা চাস এনে দেয় তো?" ইত্যাদি ইত্যাদি। নাতনি চুপ করে সব শুনে বাড়ি ফিরে বাবাকে সব শেয়ার করেছে, বাবা শুধু জিজ্ঞাসা করে কে কে জিজ্ঞাসা করেছিল? সঙ্গে আর কে কে ছিল?সব শোনার পর বাবা মেয়েকে বোঝায়--মা তুমি এত অল্প বয়সে মাতৃহীন হয়েছে, তাই সবার মনে একটা সংশয় তৈরি হয়েছে। তাছাড়া স্বরস্বতীর পিন্ডি চটকানো অকালকুষ্মাণ্ডের বিদ্যা বুদ্ধি সংকীর্ণ মনের কাছে বেশি কি আশা করা যায়?

দেখতে দেখতে আরও কয়েক বছর কেটে গেছে, নাতনি এখন গ্রাজুয়েট ।বাড়িতে থাকে সময় অতিবাহিত করার জন্য ছবি আঁকে ,দু-চারটি মেয়েকে টিউশনি পড়ায়, মাঝে মাঝে খুড়তুতো ভাইদের সঙ্গে খেলে গল্প করে ।যখন  দেখে তারা মামা বাড়ি যায়, পিসতুতো ভাই বোনেরা তার মামাবাড়ি আসে, তখন একাকীত্বটা নিরবে ঢাকে মায়ের ছবি তে, মনস্থির করে। বাবার চোখে পড়লে বাবা মনে শক্তি যোগায়-- মায়ের প্রতি ভক্তি থাকলে তুইও বড় হবি প্রতিষ্ঠা পাবি। বিদ্যাসাগর মাইকেল বিবেকানন্দকে দেখেছিস তো ,তোকে ধরে রাখবে কে ? তুই ও আমার মা আমার শক্তি।

এবার মামার দেশের বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণ পত্র এসেছে মায়ের খুড়তুতো বোন তথা মাসির বিয়ে ।বাবার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু রক্তের সম্পর্ক মেয়ের ইচ্ছেটা বাবা অবহেলা করতে পারল না। বিয়ের দিন দুজনে উপস্থিত হল ।দিদিমার অভ্যর্থনায় রাত্রিটা কোনমতে কাটলো, "কোনমতে" বলার কারণ নিজের দিদা দাদু ছাড়া কেউই তেমন আর আগের মতো চেনে না ,মায়ের অবর্তমানে। মায়ের কাকু-কাকিমার ও অন্যান্য মামা মাসিরা সকলেই যেন অপরিচিত অনুষ্ঠানে। রাত্রের খাওয়া টা বুফে সিস্টেম ছিল তাই অসুবিধে হলো না ।পরের দিন সকালে সদ্যবিবাহিতা মাসির পতিগৃহে যাত্রা সমাপন হওয়ায় গুটিকয়েক আত্মীয় নিয়ে বিয়ে বাড়ির পাত্র,বরকর্তা অন্যান্য সকল কাজকর্ম এবং ক্যাটারারের পরিবেশন, প্যান্ডেল ইত্যাদির আলোচনায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে।তারই মাঝে সুখেন্দু দিব্যেন্দু পূর্ণেন্দু ইত্যাদির বউ ছেলে মেয়েরা যে যার নিজের নিজের ভাই ভাঁজ মেয়ে জামাইকে নিয়ে ব্যস্ত। মেয়ের দিদা যৌথ সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকায় বিপত্নীক বিলাস বাবু  এবং মেয়ে ঠক বাছতে মনের গাঁ উজার করে ফেললেন। সকালের চা জলখাবার ,দুপুরে স্নানেরতেল গামছা জুটলো অবহেলায় অসময়। দ্বিপ্রাহরিক আহার ও  তথৈবচ। ঘড়ির কাঁটা দুটো ছাড়িয়ে গেলে বিলাস বাবু নিজেদের অবহেলা গোপন করে বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন দেখে হন্তদন্ত হয়ে শাশুড়িমা হাজির ।নিজের বউমাকে ডেকে বললেন--বৌমা তোমাদের নন্দাই ভাগ্নি গার্হস্থ্য অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ভরদুপুরে না খেয়ে চলে যাবেন তোমরা দেখবে না? ছোট বৌমা উত্তর করলো-- বাড়ির অন্যান্য কাকিমারা কাকুরা তাদের মেয়ে জামাই ভাই ভাঁজেদের নিয়ে এক একটা টেবিলে বসে আছেন কোথায় দেব ?টেবিল-চেয়ার ফাঁকা নেই !

জামাই:-মা, ব্যস্ত হবেন না। আমি এইমাত্র পাশের বাড়ির রাজুদা জোর করে ধরে নিয়ে গেছিল অনেক খাইয়েছে আর খাব না ।আপনি বরং মেয়েটা কে খাইয়ে দিন ।

শাশুড়ি :-সে কি করে হয়?

দুই শালা ভাজ শহুরে হাওয়ায় গ্রাম্য রীতিতে  অনভ্যস্ত। সব বাধা কাটিয়ে বিলাস বাবু সব অবহেলা করে গোপন করে মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন ।পথে মেয়েকে বললেন মা আমি কেন আসতে চাইছিলাম না বুঝলি? এই বংশে তোর মা ছিল গোবরে পদ্মফুল মামার বাড়ির শিক্ষাদিক্ষায়, আর সব মামারা ক অক্ষর পলাশ ফুল, আর অন্যান্য মামামাসিরা অন্তঃসারশূন্য এখন। তাই কথায় বলে "ঝিউড়ি ছাড়া শশুরঘর মিছে প্রত্যাশা জামাই আদর!"মা ছাড়া মামাবাড়ি ---দিনগুনে পাপ ক্ষয়করি।

তপনকান্তি মুখার্জি

অফুরান 

সকলের মাঝে একা হতে হতে খুচরো কথাগুলো ঘুমিয়ে পড়ে । নিজের মতো ফিরে যাই চেনা জমিতে । জীবন মোড় নেয় চুমুর মতো । চুপ হয়ে যায় পাড়াপড়শির খেউড় , নেংটি ইঁদুর আশ্রয় নেয় চালের ড্রামে । আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি , তির - ধনুক হাতে তখনও পাহারায় কালপুরুষ । ভয়ে সুড়সুড় করে মূর্তিমান অহং পালায় । আমি আমার দিকে চেয়ে থাকি , ডুবে যাই গভীরে । পায়েসের বাটিহাতে সুজাতা আসে । প্রতি গ্রাসেই ভূমানন্দ । 

কল্যাণ দাস

আমি তো এমন চাইনি!
              

জীবনটা হোক সবুজ স্বপন
জোছনা মাখা চাঁদের মতন,
তাতেই বুঝি লেগেছে গ্রহণ
আমি তো এমন চাইনি!

চেয়েছি জীবনে খুশির রেখা,
আঁকাবাঁকা পথে পাই যেন দেখা,
হাজারের ভিরে তবুও একা
আমি তো এমন চাইনি!

আমার প্রিয় তারা সকল,
আমি বন্ধু তাদের নই যে নকল,
নকলেরা সব করছে দখল
আমি তো এমন চাইনি!

আপনার চেয়ে আপন যে জন
দিয়েছি যে আমি মনের আসন,
সেথায় বুঝি ধরবে ভাঙন
আমি তো এমন চাইনি!

মনেতে জমেছে কালো মেঘ তায়
বিদ্যুৎ শুধু আজ চমকায়,
অশ্রু গড়িয়ে ঝরে কবিতায়
আমি তো এমন চাইনি!