Sep 7, 2021

ভগবতী ভৌমিক

আপন হল পর

যখন কোনও ব্যক্তির 

থাকে না ধনসম্পত্তি,

তখন সকলের কাছে 

সে একজন ভিখারি।

মাথার উপর নির্মল আকাশ 

পায়ের নীচে মাটি,

তবুও তার ব্যথাভরা জীবনে

মেলেনি একটু শান্তি।

একদিন যখন সব ছিল তাঁর 

মানুষও ছিল পাশে তাঁর।

যখন সে সব হারালো

ভিখারি বলে তাড়িয়ে দিল।

বিপদে পরে আত্মীয়স্বজন 

বলতো তাকে আপনজন,

একটু সুখে পরে গেলেই, 

ভুলে যায় কে আপন কে পর।

অংকিতা বর্মণ

অকুন্ঠ

মহালয়া হতে বিজয়া দশমী শূন্য।

বিজয়া দশমী হতে মহালয়া পূর্ণ॥

সুখ হতে দুঃখ শূন্য।

দুঃখ হতে সুখ পূর্ণ॥

দিন হতে রাত শূন্য।

রাত হতে দিন পূর্ণ॥

পূর্ণিমা হতে অমাবস্যা শূন্য।

অমাবস্যা হতে পূর্ণিমা পূর্ণ॥

জন্ম হতে মৃত্যু শূন্য।

মৃত্যু হতে জন্ম পূর্ণ॥

মেঘ হতে রৌদ্র শূন্য।

রৌদ্র হতে মেঘ পূর্ণ॥

চোখ হতে অন্ধত্ব শূন্য।

অন্ধত্ব হতে চোখ পূর্ণ॥

সুশ্রী হতে বিশ্রী শূন্য।

বিশ্রী হতে সুশ্রী পূর্ণ॥

সৎ হতে অসৎ শূন্য।

অসৎ হতে সৎ পূর্ণ॥

জ্ঞানী হতে অজ্ঞানী শূন্য।

অজ্ঞানী হতে জ্ঞানী পূর্ণ॥

ষষ্ঠী পুজা হতে দশমী পুজা শূন্য।

দশমী পুজা হতে ষষ্ঠী পুজা পূর্ণ॥

আগমন হতে গমন শূন্য।

গমন হতে আগমন পূর্ণ॥

Sep 6, 2021

প্রীতম চক্রবর্তী

কুঁড়েঘরে উমা

আকাশে সাদা মেঘের শোভা বাতাস পেল প্রাণ;

ধরায় এসেছে উমা নিয়ে নব গান।

পরনে জামদানি শাড়ি আর উজ্বল গয়না;

সুন্দর মুকুট উমার চোখ ফেরানো যায় না।

সঙ্গে আছে দুটি মেয়ে অপূর্ব সুন্দরী;

দেখতে অদ্ভুত দুই পুত্র চোখ ফেরাতে নারি।

মাটির উমা ধরায় এল নব সাঁজ ধরে;

ধরার উমা কান্না করে মাটির কুঁড়েঘরে।

নতুন পোশাক দেয়নি বলে করছে উমা কান্না;

ছেঁড়া জামা পরনে তার করছে শুধু বায়না।

মাটির উমার হচ্ছে পূজা মন্ডপে মন্ডপে;

ধরার উমা খাবার পায়নি কাঁদছে ফুঁপে ফুঁপে।

বড়লোকের ঘরের উমা পূজোয় সেজে ঘুরে;

গরীব ঘরের উমা পূজোর পথে ভিক্ষা করে।

দশমীতে মায়ের কাছে সবাই কতো বর চায়;

কুঁড়েঘরের উমা শুধু দুবেলা খাবার চায়।

রাজা দেবরায়

তবুও

দুঃখের উৎস খুঁজতে গিয়ে

জড়িয়েছি আরো কষ্টকে।

স্পর্ধাহীনভাবে নিজেকে

নিয়ে উল্লাসে মেতেছি!

তবুও

ডাঃ শ্যামোৎপল বিশ্বাস

সুধাশব্দ

মন  যেন  ব্যাকুলতার  আকাশ  রাশি,

কাব্যিক  মৃগয়াক্ষেত্রেও  থেকে  অনন্ত পর্যন্ত  তার  সীমান্তপুরে,

শব্দশিকারী  হৃদয় জমা  করে  চলছে  আমার  পংক্তিরসনা,

তৃপ্ততায়  হাতছানি ভারী  হয়ে ওঠে  ব্রহ্মান্ড জুড়ে।

দেবাদৃতা ভৌমিক

পথের শেষে দেখা

হঠাৎ করেই মেঘ ঘনিয়ে আঁধার

নিপাট ভালো রোদমাখা এক দিনে,

মনের ভেতর হুহু করে ঝড় বয়

বিচ্ছেদ কেন বৃষ্টি ডেকে আনে?


প্রকৃতিও বুঝি মনের গোপন বোঝে,

ঝড় তুলে দেয় যেন মনের সমতুল্যাঙ্কে!

তবু দু'চোখ বেয়ে অকাল তুমুল বারিধারা,

বৃষ্টি কি সামঞ্জস্য রাখতে পারে সেই সঙ্গে?


তুমি চলে গেলে যেন মৃত সব বাগানবিলাস,

তুমি না থাকলে সাধের কাঠগোলাপ ম্লান,

তোমায় ছাড়া মুখের হাসি সাজবে না কখনো,

তোমায় না পেলে বিরহ জ্বরে ভোগে মন-প্রাণ।


দীর্ঘশ্বাসে আশ্বাস বাঁধি বুক ভরে,

শিয়রে এসে ঠিক দাঁড়াবে তুমি আমার...।

বালিঘড়ির প্রহর শেষ পথে পৌঁছয়,

তবু ফিরে আসা বোধহয় মানা তোমার!


আলোর চেয়েও তীব্র যে গতি আছে,

মন তোমার পানে সদা ছোটে সেই নির্নিমেষে;

তোমার খোঁজে পথহারা হবো এবার,

তোমার-আমার আবার দেখা যদি হয় পথের শেষে!

মনীষা দেবনাথ

মা আবার এসো

কাঁশফুলের ছোঁয়ায়,শিউলির গন্ধ,

মেতে উঠেছে ভুবন।


আকাশ তুলোর মতন ভেসে থাকা মেঘ,

হালকা শীতল বাতাস,

জানান দেয় শরৎ আসছে।


আগমনী গান আর চারিদিকের আলোকসজ্জায়,

বাঙালির মন প্রস্ফুটিত হয়েছে ।

মেতে উঠেছে আনন্দে।


মহালয়ার প্রভাতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের,

"আশ্বিনের শারদ প্রাতে 

বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জির",

শুনে মনে হয় দেবী দূর্গা পদার্পণ করল।


সপ্তমীতে মার অকালবোধন,

অষ্টমীর অঞ্জলি,

নবমীর ভোগ প্রসাদ,

বাঙালির আনন্দ জমজমাট ।


দেখতে দেখতে দশমী

মা আর থাকবে না ।

ভারাক্রান্ত মনে চোখে জল নিয়ে,

মাকে বলতে হয়, মা আবার এসো।

Sep 5, 2021

হর্ষময় মণ্ডল

না বলা কথা

বিকেলে লোকাল ট্রেনে

হাই স্কুলের দিদিমণি ফিরত 

দু-তিনটি ব্যাগ কোলে, পাশে

কখনো গোল করা খাতার বান্ডিল

তবুও উল বুনে যেত একমনে।

বুঝতে পারতাম অভ্যাসে বুনছে উল।

চাকরির সুবাদে গম্ভীর থাকলেও

দৃষ্টিতে বুঝতে পারতাম 

তার হৃদয়ের মেঘটা

কোথায় যেন বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে।


বদলে গেছে অভ্যাস 

এখন উল বোনেন না

মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন,

মানে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন।

আরো মনোযোগে গম্ভীর হন।

কিন্তু মেঘটা আরও জমাট দেখি।


অবসরের দোরগোড়ায়

তবুও ফাঁকা সিঁথিতে আজোও।

জানা হলো না কিছুই 

মেঘ সরাতে আজকে কি কিছু বলবো!

রণজিৎ রায়

সন্ত্রস্ত আগমনি পথ 

অমর প্রেমের অকাল মৃত্যুর স্মৃতিসৌধ এ নয়

শিল্প কলায় সমৃদ্ধ এক ইমারত

স্থপতির মনের খেয়ালে অদ্ভুত ঝলকানি

হয়তো আগুনে পোড়াতে সামান্য বাকি

রাজা-বাদশার প্রেম কাঁচকঙ্কনের মতো ভঙ্গুর।


খাঁটি দুধ-কলা দিয়ে মসৃণ লিঙ্গকে কত সাধনা

ভাং খেয়ে পেত্নিকে জড়িয়ে থাকা বর

তিন প্রহর  টিকে থাকা আধুনিকার দুঃসাধ্য

তথাপি তেমন বরেরই আরাধনা

সংস্কারের পথে হাঁটলেও মনের কামনা অন্য।


প্রথম প্রেমের বিরহ বেদনায় হৃদয় ভেঙে দুরমুস হলে

দুচোখে দৃষ্টি নিয়ে অন্ধের মতো হাতড়ায়

এমন মানসিক অসাম্যের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা--

সমকামী, বৃহন্নলা না রূপান্তরকামী ?


পৃথিবীর যুক্তিবাদী চোখ ধ্রুবতারার মতো

অতন্দ্র প্রহরী

অলৌকিকতার ঝুলি নিয়ে

মহাপুরুষের আগমনি পথ আজ সন্ত্রস্ত !

সুমন ব্যানার্জী

ঢেউ মেলানোর ছবি 


ঝুপ তাল আর চুপ তাল

তাতেও নড়ছে না গো শহর,

আসছে বছর আবার হবে

মন খরচের বহর।


জানলা খোলা পরী,বার

আরের বেলায় রবি,

পাহাড় তুলে রাখে

এক ঢেউ মেলানোর ছবি।


কবির কথায় জল

শোনা ছোট্ট নদী ফুল,

হঠাত রবার দিয়ে

সবাই মুছতে যাব ভুল।


শুরুর কথা হয়

জীবন, আবার শুরু যেন,

বার বার ভালোবাসি

তাই উড়ছি যে এখনো... ।

নীলমাধব প্রামাণিক

অভিমুখ 

আমাদের কি সেভাবে কোথাও 

যাবার আছে !

যেখানে খুশি যে যার মতো চলে যাচ্ছে ।


এখন মুশকিল হলো যেটা 

মোটেও ঠিক ঠাক বোঝা যাচ্ছে না

কে কোন দিকে যেতে চাইছে ।


চলার পথে কেউ কেউ ভুল করে 

একাধিক দিক বেছে নেয় ।

খানিক এদিক খানিক ওদিক ঘুরে 

ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে দিকহারা হয় ।


কারো চলা মনমতো নয় আদৌ 

এক দিকে মুখ করে দাঁড়ালে 

বাবা মা ঘুরিয়ে দিচ্ছে অন্য দিকে ।

মায়া রানী মজুমদার

বট বৃক্ষ  

সুবিশাল এক বটবৃক্ষের,শস্য হেন বিচি।

পক্ষীরা সব বৃক্ষ ডালে করে কিচমিচি।। 

আত্মরক্ষায় বৃক্ষডালে পক্ষী করে বাসা। 

ছোট বড় বাসা বাঁধে,করে অতীব খাসা।।

ঝড় বাদলের ঝাপটায় কভু বাসা'ই নষ্ট।

তাই'না দেখে  পক্ষীদের হয়  খুবই কষ্ট।।

ছোট্ট পক্ষীছানা ওরা,উড়তে নাহি পারে।

আচমকা ঝড়'ঝাপটায় নিচে যায় পড়ে।। 

কারো যায় পা ভেঙ্গে, ও কেউ যায় মরে।

অসহায় মা'পাখী তখন কি'ই আর করে।।

বোবা পক্ষীরা তখন শুধু অদৃ্ষ্টেরে দোষে।

দিন রাত নীরবে শুধু, চক্ষু নীরে ভাসে।।

পথিকেরা নেয় বিশ্রাম বট-বৃক্ষ ছায়ায়।

শীতল পবনে জুরায় দেহ স্নিগ্ধ'মায়ায়।।

রাখালেরা বাজায় বাঁশি, তরুতলে বসে।

স্নিগ্ধ ছায়ায় মুগ্ধ মায়ায় বৃক্ষপত্র খসে।।

দারুণ আবেগে বাজায় রাখালিয়া সুর।

করুণ বাঁশির সুর, ভেসে যায় বহুদূর।। 

সহ্য করে রৌদ্রতাপ,বটবৃক্ষ দানে ছায়া।

ছায়া দানে মাতৃহেন স্নেহ, মমতা, মায়া।।

সৌমেন ভট্টাচার্য্য

দূর্গা দুর্গতি নাশিনী  মা 


মাগো  মা দূর্গা  দশভূজা  মা

লহ  আমাদের অর্ঘ্য  প্রণাম,

এই  ধরাধামে  অর্বাচীন  ঘেরা

জানাই  তোমায় স্বাগত  অভিবাদন ।

তোমার  গুণগানে  অভিভূত  আমরা

তুমি  কখনো  কালী -  কখনো  দূর্গা

কখনো আবার  জগদ্ধাত্রী মা 

কখনো  দেখি  তোমার  সংহাররূপিনী  রণাস্ত্র - সজ্জা।

 তুমি কি  শুধুই  মা  মাটির  প্রতিমা !

নরলোকে  কি  নেই  চেতনা  - নেই  কি  আত্মা।

দেবলোকে  তুমি  করোনি  অসুরদের  ক্ষমা

 কেন  স্তব্ধ বলো  রণাস্ত্র  তোমার  আজ  ধরেছে  কি  মরিচীকা।

এতো  অন্যায় - অত্যাচার -  অবিচার

জগতে  গেছে  ছেয়ে

তুমি  কি  গো  দুর্গতি  নাশিনী  মা

শুধু  নীরবে  দেখবে  চেয়ে  চেয়ে?

নীরবে  যাইবে  সয়ে ?

মাতৃ  রূপে -  শক্তি  রূপে   তুমি  থাকো  সদা  মা  সর্বভূতে।

রত্মা মজুমদার

আক্ষেপ

সরে গেল বাঁধন হারা প্রেম,

অভিমান তপ্তে ভুল ।

নীরস সৌমাল্য অঙ্ক কষার মত,

ছুঁড়ে দিল দুটি শব্দ কৌশল করে।

বুঝেও নিরুওর চিরদৃতা,

সৌমাল্যের আগ্রহে জল ঢেলে দিল ।

পরে আক্ষেপ  হাতুড়ে পেটানো তপ্ত লৌহদন্ড, 

আক্ষেপ চোখের জলের গণিতবিদ সৌমাল্য ।

কাঙ্খিত শাওন রাতের বুকের বন্ধু, 

বর্তমানে রুমালীর শয্যায় খেলাঘল বেঁধেছে ।

মুঠো ফুল ছড়িয়ে দিয়েছে বিছানা,

দিনে দিনে চোখের জলের বাদলা রাত ।

বিষাদ বিরাগে কথা বলে নিজের সাথে,

ভিজে যায় বিরহ বিছানার একাকী শয্যা।

হৃদয় শীল

জাগো মানব  

হে মহামানব  জাতি জেগে উঠো, 

এই শ্রেষ্ঠ প্রাণী জেগে উঠো।

লড়তে হবে তোমায় প্রস্তুত হয়ে ওঠো, 

আর নয় লোভ হিংসা যুদ্ধ মহামারী। 

ভুলে গেছো তোমার ধর্ম ভুলে গেছো তোমার কর্ম । 

জেগে  তুলো তোমার মনের শক্তি জাগো জাগোও জেগে উঠো। 

মহা মানব ধর্ম কে জাগিয়ে তুলো হে মহা মানব জাতি জেগে ওঠো । 

অতীতকে স্মরণ করে ভবিষ্যতে পা বাড়াও। 

উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় কেই ভালোবাসো। 

শ্রদ্ধাশীল হুও ভক্তি শীল হুও।

লোভ অহংকার ত্যাগ করে সৎ পথে এগিয়ে যাও সৎপথ‌ই পরম ধর্ম

শকুন্তলা সান্যাল

গমক

চক্রবৎএ ঘুরে চলা আমার কাজ নয়।
তাবলে মেঘ জমে না, তা নয়
তাবলে বিরহ শেষে প্রেম চাইবনা,তেমনও নয়।

চাকা ঘোরো চাকা ঘোরো।
এগিয়ে চলো চাকা!
চাইনা চাইনা চাকার ঘোরা বন্ধ হোক ।
সে আমার ইচ্ছে কথার দেশকাল, 
সে আমার ভালোবাসার খড়কুটো।
সে আমার  চোখের  ঘুম...

চক্রবৎ এ  ঘুরে চলা আমার কাজ নয়।

আকস্মিক প্রেম এসো,আমায় হত্যা করো,তোমায় বরণ করি

শাশ্বতী দেব

হৃদি কথা

তুমি নেই- আছে অনুভূতি,

দেখা নেই হৃদয়ে শুধু স্মৃতি।

মনভ্রমরা চায় যেতে শুধু তোমার কাছে,

মন যে শুধুই আনন্দে নাচে।

আপনা থেকেই কেন আজ লজ্জা পাচ্ছি?

নিজেকে আজ দূর-দূরান্তে উড়িয়ে দিচ্ছি ।

আস্কারায় আজ মন করছে দুরন্তপনা,

হৃদয়ের কোণে আজ ফুটল হাস্নোহানা।

রাহুল দেবনাথ

আনন্দম 

কন্ঠে কন্ঠে মঙ্গল সুর,

দশভূজা মা নয়তো দূর।

ভোরের শিশির ভেজা ঘাস,

ভোরের শিউলি অপরূপ সুভাষ।

ঢাকে কাঠি পরল এবার,

ত্রিনয়নী এসেছে আবার।

আলতো মাখা দেবী চরন,

দশোভূজা সাজে সিংহবাহন। 

অশুভ শক্তির বিনাশ করে,

তুমি যে আসো মা বাপের ঘরে।

বীরেন্দ্র কন্ঠে আগমনী সুর,

চারিদিকে শুধু খুশির জোর।

শারদ প্রাতের নবজাগরণে,

মা এসেছেন মর্ত্যধামে।

দিলীপ দাশ

ভালবাসা

(অক্ষরবৃত্ত ছন্দে পর্যায়সম পয়ার)

ভালবাসা  নয় শুধু  সুখের  সঞ্চার,

কত ভালবাসা কাঁদে নির্জন প্রহরে।

দেখেছি আমি যে তার নিঃশব্দ প্রহার

দফন দেখেছি তার  কত  বালুচরে।


হাসতে শেখায়  বলে  লোকে ভালবাসা

আমি তো দেখেছি তারে নীরবেতে কাঁদে।

দহনে  দহনে  পুড়ে   অবিরাম  আশা

অজস্র প্রেমিক তার পরেছে যে ফাঁদে।


জ্বলে পুড়ে খাঁক তার সহস্র প্রত্যাশা

স্থবির  শৈবাল  সম   দুরন্ত  যৌবন।

ভালবাসা কখনো বা শকুনির পাশা

কত ভালবাসা গেলো ভঙ্গ  দিয়ে রণ।


পথহারা ভ্রান্ত  যত   প্রেমিক  পথিক

অজস্র যাতনা যত বক্ষে ধরে রাখে।

পায় না জীবনে খোঁজে ঠিকানা সঠিক

মরণের পথ পানে  শুধু চেয়ে  থাকে।

আব্দুল হান্নান

যখন যাবে

মাতাল নদী বরষা যদি পায় একবার দেখে

ঢেয়ের ওপর ঢেয়ের চাপড় কুলে ভেঙে থাকে।


মাছের পনা চলেই টানা নেই কোনো তার দিক

চরের দিকে ঠেকে গিয়ে ভাসে থিক থিক থিক।


গরম কালে হাওয়া চলে মন মজে যায় তাতে

শীতের সময় নীরবে ঘুমায় ভয় থাকে না স্রোতে।


চাঁদনি রাতে রূপালী পাতে কত যে রঙে সাজে

কুলে গেলে ভরায় ফুলে সময় ভালো কাজে।


শুভ্র হাসি ভরায় রাশি..জুড়ায় ক্লান্ত দেহ

যখন যাবে নতুন লাগে নিরাশ হয়না কেহ।।