Aug 6, 2021

পলাশ পাল

ঘর দখল

সময়ের স্রোতে ভেসে চলেছে মুহূর্ত...
আমার গভীরে আজগুবি প্রেম
আজ বিভেদের দেওয়াল ভেঙেছে।
তবুও সমাজ বলে আমায়
আমি নাকি এক বন্য পাগল
চেতনা দিয়ে দেওয়াল গড়েছি বলে।
একটু এগোলেই আমার স্বপ্নের ক্ষুদিরাম
বিদায়ের কথা বলে।
আকাশের জীবনে সন্ধ্যা নামলেই
সহসা ঝরে পড়ে নির্দোষ চোখগুলো দিয়ে।
উন্মাদের মত খুঁজে বেড়াই শত শত সুভাষ...
বয়স্ক কাঁটাতারে তর্জনী ছোঁয়ালেই
কোথা থেকে যেন ভেসে আসে বিপ্লবের গর্জন,
আমার বন্য সুখের নির্জনতায়
কফিন ভর্তি স্বদেশীদের যুদ্ধের সূত্র লুকিয়ে...
আর আমার মানচিত্রে ইতিহাস গড়তে
ঘর দখল করেছে আগামীর সুভাষ।

প্রিয়াঙ্কা সেন

আকাঙ্ক্ষা  

একবিংশের লুকিয়ে বেড়াজালে আবদ্ধ আজ স্বাধীনতা । একবিংশের পায়ে গুপ্ত লোহার শিকর।

ভবঘরে  ঘনঅন্ধকারে মুক্তি নেশায় কেটে গেছিল হাজারো গ্রীষ্মকাল

হাতে গনার পাথরের টুকরোটা ও আঁকতে আঁকতে ক্ষয়ের আকৃতি। 

চোখের পাতায়  এক চিলতে সাদা চুল 

মনে ছিল দৃঢ় বিশ্বাস হবে একদিন নেশার মুক্তি। 

পেতে ছিল না অন্ন শুধু ছিল বষার এক চিলতে জল। 

 লড়াই ছিল নিজের অস্তিত্ব সাথে  লোহার শিকর খুলে আন্তর্জাতিক স্তরে নাম   নথিভুক্তের মুক্তি নেশা।              ভোরের পাখির সারি সারি গান জীন শরীর  ছিল সতেজ।

হঠাৎ এক ছিদ্রের চকচকে আলো  তার মুখমণ্ডলের ফুটে উঠেছিল মুক্তি আহবান। হাজারো উৎঠান পতন মনে নেশায় মাঝে বথ্যাতা।

দিলীপ দাশ

স্বাধীনতার অন্য ভারত

এক ভারতের আকাশ জুড়ে সোনালি রোদ্দুর

অন্য ভারত অন্ধকারে স্বপ্ন বহু দূর।

এক ভারতে চেয়ে দেখি প্রাচুর্য সম্ভার

দরিদ্রতায় অন্য ভারত  বিচিত্র সংসার।


এক ভারতে গগনচুম্বি অট্টালিকার সারি

লনের মাঝে সাজিয়ে রাখা রকমারী গাড়ি।

অন্য ভারত ঠিকানা যার আস্তানা ফুটপাত

আকাশ গায়ে দিয়ে যারা কাটায় শীতের রাত।


এক ভারতে চিত্ত সুখে মন মাতানো হাসি

অন্য ভারত দেখে চাষির গলে দড়ির ফাঁসি।

এক ভারতে লাঞ্চ ডিনারে মটনকারি ভাত

বাতানুকুল  ঘরে  যাদের  সুখের  নিদ্রাপাত।


অন্য ভারত দিনের শেষে পান্থা ভাতেই খুশি

অভিশপ্ত জীবন যাপন  কপাল টা যে দোষী।

দেখতে  চাক চিক্য  ভারত  তর্ক  বহু দূর

অন্য ভারত দেখেনি  তো সোনালি রোদ্দুর।

Aug 5, 2021

পূনম দাস

হে বীর সেনা

 হে তুমি বীর,তুমি দেশরক্ষাকর্তা

দিয়েছো প্রান, ঝড়িয়েছো রক্ত,

 যুগ যুগ তুমি বেঁচে থাকো হয়ে জীবন্ত।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ দাঙ্গায় তোমাদের ভূমিকা অফুরন্ত।

নিজ মাকে ছেড়ে করছো দেশ মাকে রক্ষা 

সকল বীর  ভারতমাতার নিয়েছে এ দীক্ষা। 

দেশমাতাকে কেউ করলে কোনো অপবাদ

অস্ত্র নিয়ে জাগো সবে করো প্রতিবাদ।

শান্তিতে নিদ্রায় মোরা  এদের কৃতিত্ব সর্ব

বীরসেনাদের পেয়ে ভারতবাসী আজ গর্ব।

বাংলা মায়ের কোলের বীর প্রান করেনা ভয়

 অমর থাকবে সর্বক্ষণ করবে জয় জয়।

তোমরা দেশের প্রান, তোমরা দেশের মান

 তোমাদের জানাই শতকোটি প্রণাম।

পায়েল দে

জননী তোমারে প্রণাম 

হে ভারতমাতা তুমি সত্যিই ভাগ্যবতী.....

কেনো জানো   তুমি যে তোমার  সন্তানদের বীর বানিয়েছো 

হে তোমার সন্তান 

আজ যদি তুমি তাদের কে বীরযোদ্ধা না বানাতে তাহলে ভারতবর্ষ আজও....পরাধীনতা থেকে মুক্তি  পেত না


তোমার  সন্তান রা কেও করেছে আন্দোলন আবার কেও করেছে যুদ্ধ 

কেউ আবার নিজের লেখার মাধ্যমে বিদ্রোহ করেছে

সেই কুটিল ইংরেজদের বিরুদ্ধে


আবার কেউ ভারতের মহিমা কে প্রচার করেছে ভিনদেশে

স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ক্ষুদিরাম, মঙ্গল পান্ডে, কনক লতা বড়ুয়া 

এই তো তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাদের জন্য আজ আমরা মুক্ত আমরা স্বাধীন 

কিন্ত আমাদের স্বাধীনতা দিতে গিয়ে  ওরা পেলো না মুক্তির আনন্দ তবুও ওরা প্রাণপণে লড়াই করেছে এই ভারত এই ভারতবাসীর জন্য

তুমি মহিষী মা  তুমি ওদের কে যেমন জন্ম দিয়েছো তেমন আমৃত্যু তুমি নিজের মধ্যে মিশিয়ে নিয়েছো

তোমায় প্রণাম

হে জননী তোমায় প্রণাম।

Aug 4, 2021

প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ

স্বাধীনতা তুমি

নীল দিগন্তে মুক্ত দুখানি

ডানা ছড়িয়ে সুখে,

স্বাধীনতা তুমি ভেসে উঠেছিলে

ভারতবর্ষের বুকে।


গেরুয়া, সাদা ফুলের বাহারে

সাজানো বিজয়রথে,

মহা কলরবে রেখেছিলে পা

শস্য শ্যামলা পথে।


দিনগুলো আমি চোখে দেখিনি

শুনেছি কেবলই কথা।

লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীর

সোনালী বিজয় গাথা।।


স্বাধীনতা তুমি থেকো চিরকাল

অক্ষয়, অম্লান।

ভারতবাসী গেয়ে যাবে সদা

এই মুক্তির জয়গান।।

গোপী নাথ ঘোষ

কাশ্মীর, পাহাড় চুমে পেখম মেলে

আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম প্রজাপতির কাছে,

তাই উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে 

ফিরি বারবার তোমার কাছে। 


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম সূর্যোদয়ের বহু পুর্বে

অগণিত তারকাদের কাছে।

তাই সুর্য উঠে আড়াল হয়েও

হারিয়ে যাই না চিরতরে। 


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম আপন মনে

সিন্ধু নদের তুমুল বেগে,

জমে জমে হিম হয়েও 

ধেয়ে চলি তোমার কাছে।


অবাধ্য নদের পাথর খাঁজে

ভাঁজে ভাঁজে স্রোতের তালে 

ব্যাথা পেয়েও অসীম তালে

ভালবাসার নিবিড় তাণে।


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম ডাললেকের জলে,

যেথায় উদাস করা ভোর 

পেখম মেলে পাহাড় চুমে।


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম গুলমার্গের

গোলাপ বনে,

যেথায় যত্ন ছাড়াই গোলাপ ফোটে

মুগ্ধ ভোরে শীতল কোণে,

অযত্নই যার যত্ন রত্ন আঁধার। 


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম পেহেলগামের

রত্নে খচিত বাইসরনের দূর্বাঘাসে,

যেথায় অসীম নীলিমা পাহাড় চুমে

ঘুম ভাংগায় কোকিলের শিস।

বাতাসের তীব্র বহনে ঘোড়ার চি হি চি হি ডাক 

হাক দিয়ে যায়

অদ্ভুত ছন্দে 

নতুন বাঁচার গন্ধে

বন্দে তোমার সুর।


আমি সেথা হতেই এসেছিলাম

সেচেছিলাম সুর

বেঁচে আছি সেই সুরেতেই

বেচে সব দুখ।


আমি ভালবাসতে শিখেছিলাম ঘুমরির হুমড়িতে

হোয়াইট ডেভিলসের পথে,

যেথায় ধুলি উড়ে তোমার নামে

আধার করে সব।


ছুটে চলে তীব্রভাবে অসীম রেখার আলোক স্রোতে

জজিলা মজিলার আঁধার ভেদে

উদ্ভাসিত রথ।


বলো এবার ছোট্ট করে

মিষ্টি হেসে দুষ্টু করে,

"বাসি কী ভালো

আপন আলোয়

তোমার দেখানো পথ?"

এভাবেই যেন শেষ হয় 

আমার বিজয় রথ।

Aug 3, 2021

শান্তনু গুড়িয়া

শুনুন ধর্মাবতার

দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার একথা বলেছিলেন শেষমেষ --
"সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!"
বিশ্বমাঝে ভারতবর্ষ  বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ
বহু ভাষাভাষী ভারতবাসীর গর্বের নাই শেষ ।
রবিকবি থেকে রবিশংকর এবং বিবেকানন্দ স্বামী,
এমনই অনেক ভারতীয় জগৎসভায় হয়েছেন নামী|
সার্বভৌম স্বাধীন ভারতে তবু অসহিষ্ণুতা বাড়ছে
মন্দির-মসজিদ হানাহানিতে কত শত প্রাণ কাড়ছে 
গীতাঞ্জলির দেশে, এই কথামৃতের দেশে
ভণ্ডরা সব ঘুরে বেড়ায় সাধুপুরুষের বেশে|
'মেরা ভারত মহান!' ধর্ষক খুনী মাফিয়ারা বলে,
ক্ষীরভোজী যত অলিতে-গলিতে ক্ষীর-সর্দারের কথায় চলে !
স্বাধীনতার স্বাদহীনতায় বীতশ্রদ্ধ আসমুদ্র হিমাচল
গডউইন অস্টিন সাক্ষী, কাকে কাঠগড়ায় তুলি বল ?

অদিতি তুলি

একুশ

▪️

গত হয়েছে এক রক্তিম শতাব্দী

দুর্ভাগ্য সেই রক্তিম দিনের সাক্ষী ছিলাম না

অনুসন্ধিৎসু মন,  ইতিহাসের পাতা উল্টে গেছি অবিরাম

৫২'র তাগড়া যুবক অস্বাভাবিক বেড়ে ওঠা

শরীরে উষ্ণ রক্ত অমিত শক্তি

এই শতকে এসে অবলম্বন যার একটা লাঠি

মস্তিষ্কের বিশাল একটা অংশ জুড়ে বিচ্ছিন্ন স্মৃতি

▪️

নিষ্প্রান চোখের গভীরতা আর দূরত্ব মেপে

কপালের সংকুচিত বলিরেখার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে

শুনেছি এক উষ্ণ তাজা রক্তের গল্প

যে গল্পে আনন্দোৎসব নেই,  আছে শোকের মাতম

মর্মান্তিক এক রক্তাক্ত দিনের স্মারক

দীর্ঘকাল আন্দোলনের রক্তপাতের নিরস্ত্র সংগ্রামের

বঞ্চনার নির্যাতনের অধিকার হননের ইতিহাস।

▪️

মাতা,  মাতৃভূমি,  মাতৃভাষা এই তিন

বড় পবিত্র,  পরম শ্রদ্ধার বস্তু

মাইকেলও হয়ত অনুধাবন করতে পেরেছিলেন

দ্যা ক্যাপটিভ লেডির ব্যর্থতার দিনে

আটই ফাল্গুনের প্রতিটি সকাল

ভারাক্রান্ত হৃদয়ের ব্যাকুল আবেগ

কি জলন্ত কি বিষন্ন নাম!

বরকত সালাম রফিক জব্বার

আহা! কতমায়ের ছেলে হারানো মর্মান্তিক বেদনায় দীর্ণ বুক।

▪️

'একুশ' এ একটি জাগ্রত চেতনা প্রদীপ্ত ইতিহাস

অতৃপ্তির হা-হুতাশ নিয়ে ভাষার দাবীতে অবহেলে হারা প্রান।

ফাল্গুনের প্রতিটি সকাল ঝরে পড়ে শিশির শহীদের অশ্রু হয়ে স্মৃতির মিনারে_

একগুচ্ছ কৃষ্ণচূড়া হাতে প্রতীক্ষায় থাকি আরেকটি ফাল্গুনের।

Aug 2, 2021

গোপাল বনিক

বীর শহীদ

আকাশ বাতাস জুড়ে এখন শুধুই উৎসবের আবির।

চরিদিকে সুসজ্জিত তিনটি রঙের সামিয়ানা,

সূর্যের রক্তিম আলোয় সূর্যমুখী আজ ভালোবাসার রঙে দীপ্ত।

সভ্য নাগরিক ফিরে পায় আপন অধিকার ।

সময়ের নদীতে বয়ে যায় কত শহীদের রক্ত স্রোত ।

শতাব্দীর জনরোলে নন্দিত হয় বীর শহীদের আত্মা,

বেজে উঠে নম্র শপথ, তোমাদের রক্তঋণ ভুলার নয় ।

আমাদের প্রতিটি রোমকূপে ভালোবাসার পরশ

সূর্যস্নাত ভোরের পুন্য আলোয় বেঁচে থাকুক শহীদরা!!..

হর্ষময় মণ্ডল

ফিরে এসো

কাল থেকে কালান্তরে মানুষ চলেছে

ক্রমান্বয়ে বংশ পরম্পরায়

কেউ ধরেছে হাল, কেউ বুনেছে বীজ

ছন্দ পতন সেখানেই

সেই ফসল গ্রাস করে অন্য কেউ

 নিরন্ন মানুষ নিরন্নই থাকে।

নতশিরে যে অন্ন তুলে দেয়

অর্থবানদের হাতে,অনর্থ বাধায় তারা 

সেই অন্ন ভিক্ষা দেয় তাদের 

ভিক্ষার দানে বেঁচে থাকে তারা।

এটাই স্বাধীনতা!

এর জন্য রক্ত দিতে হয়েছিল!

 অনশন,ডান্ডি অভিযান,সত্যাগ্রহ,

 এই সততা রক্ষা করার জন্য!

 হায় ভারত ! হায় অসহায় মানুষ!

 #

কেড়ে নাও তাদের 

যাদের গরীবের রক্তে গড়া উঠেছে সম্পদের ভাণ্ডার 

ফিরিয়ে দাও মেহনতী মানুষের মর্যাদা

আমরা আবার রক্ত দেব 

ফিরে এসো নেতাজী,গান্ধিজী।

সুজান মিঠি

স্বাধীনতার ইচ্ছে!

স্বাধীনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো মাইক্রোফোন

বলা হলো, 

...বড় হয়েছো যথেষ্ট, এবার বলো তো

জন্মের পর থেকে তুমি কেমন কাটালে এ দেশে?

বলা হলো, 

...ঠিকঠাক বলতে পারলে বিরাট পতাকায়

মুড়ে ফেলা হবে তোমায়।

কুচকাওয়াজ করতে করতে তোমায় এগিয়ে নিয়ে

যাওয়া হবে মানচিত্রের ছায়ায়।


স্বাধীনতা মাইক্রোফোন হাতে খানিক চুপ রইল।

তারপর বললো, 

আমার মৃত্যুর পরে আবার যদি ফিরে আসে 

শৃঙ্খলিত মনুষ্যত্ব,

তবে আমার মৃত্যু ভালো।


মুহূর্তে স্তব্ধ চারিদিক। এ কী বললো স্বাধীনতা!

তাকে এমন সম্মান জানিয়ে মঞ্চে তোলা হলো

অথচ সে খুলে বলে দিলো তার দগদগে ঘা!

সমবেত অনুষ্ঠানের আয়োজকগণ স্থির করলেন

ওর শাস্তি চাই। 


অন্ধকার গুহায় স্বাধীনতার বুকের উপর চেপে বসলো

একজন। 

অন্যজন পা টিপে হাত টিপে থাকলো।

ছুরি দিয়ে ফালাফালা করতে লাগলো আর একজন।


ছুটতে ছুটতে কতকগুলো আলো এগিয়ে আসতে লাগলো।

কান্না আর উৎকণ্ঠার আওয়াজ এগিয়ে আসতে লাগলো।

তাড়াতাড়ি চলো। স্বাধীনতা নইলে মরে যাবে!


পালিয়ে গেল অত্যাচারীরা। 

আলোগুলো এসে জড়িয়ে ধরলো স্বাধীনতা।

ফালাফালা শরীরটাকে তুলে ধরলো আকাশের দিকে

বললো, বন্দেমাতরম!

বললো, এখনো প্রাণ আছে!

স্বাধীনতার প্রাণ আছে!


স্বাধীনতার রক্তাক্ত শরীরটা পতাকায় উড়তে লাগলো

পতপত করে।

মাইকে বাজলো গান। দেশপ্রেমের গান।

কেউ তার ক্ষত দেখতে পেলো না।


কেবল মানচিত্র আঁকা বইয়ের গণতন্ত্রের অধ্যায়ে

কালশিটে বেড়ে চললো সবার অগোচরে!


বাতাসের কানে কানে স্বাধীনতা তার পতাকার

পোশাক থেকে মুখ বাড়িয়ে বললো,

আমার মৃত্যুর পর যদি মানুষের এই কর্কট সারে...

তবে আমার মৃত্যু ভালো!

তবে আমার মৃত্যু ভালো!

মায়া রানী মজুমদার

 বীর শহীদ  

ভারত মাতাকে জানাই শত সহস্র প্রণতি, 

স্বাধীন মোরা অদ্য, পূর্ণ করেছো মিনতি।

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দিলাম পুষ্পার্ঘ্য

বীর শহীদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য।

ব্রিটিশদের লেলিহান আক্রোশ,অসম্মান। 

পরাধীনতার গ্লানিতে যবে বিধ্বস্ত সম্মান।।

বহু মা হারিয়েছেন আদরের বুকের সন্তান। 

অত্যাচারে হারিয়েছে নারীরা আত্মসম্মান।। 

বোনেরা হারিয়েছেন আদরের প্রিয় ভাই, 

দেখলো যখন হাতে কোন স্বাধীনতা নাই। 

ব্রিটিশের বিরুদ্ধে মোদেরই বীর সন্তান, 

ঝাঁপিয়ে পড়ে কেড়ে আনে স্বাধীনতার মান।

বহু ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গালো মোদের মাতৃভূমি, 

দেশমাতৃকার বীর সন্তানদের কাছে মোরা ঋণী।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হারালো সহস্র প্রাণ, 

মাতৃভূমির সম্মান রক্ষার্থে করছিলো প্রাণ দান।

বুক পেতে নিয়েছিলো তাজা বুলেটের গুলি, 

তবুও "স্বাধীনতা চাই", বলেছিল ভাইয়েরা মুখ খুলি।

আনলো যাঁরা স্বাধীনতা, নিজ প্রাণ ভয় তুচ্ছ করে। 

বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই ভক্তি ভরে।।

অশোক মণ্ডল

 স্বাধীনতা 

ছোট্ট ছেলেটা ছুটছে ছেঁড়া প্যান্টটা হাতে ধরে 

পাছে ডাবি মারা প্যান্টটা যায় নিচে খুলে পড়ে

আনন্দ আজ মনে ডান হাতে তেরঙ্গা পতাকা

খালি গায়ে পাঁজর যেন কঙ্কাল ছবি আঁকা।

আজ নাকি স্বাধীনতায় ভরপুর স্বাধীন দিন

দারিদ্র্যতার শিকলে নিষ্পাপ শিশু আনন্দ অনাবিল।

অভাব যেন উঁকি মারে হাজারোর চোখে মুখে

হাতে পতাকা হয়তো এরা একদিন দেবে রুখে।

এ পতাকার পতপত শব্দে দূর হোক সব অভাব 

বিবর্ণ মুখে ফুটুক হাসি আনুক স্বাধীনতার স্বাদ।

মনচলি চক্রবর্তী

মাতৃভূমি

হে মোর মাতৃভূমি

হৃদয়ের ছন্দ তুমি

প্রনমি তোমায় জননী

শস্যশ্যামলা এই ধরনী

মোর গর্ব, মোর প্রানের ঝংকার

মাতৃভূমি তুমি মোর অহংকার

জননী জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও প্রিয়

তব সুখ সমৃদ্ধি মোদের শ্রেয়।

দেশমাতৃকা তোমার চরনে সঁপিনু দেহমন

মোর মাতৃভূমি তোমায় করি সতত পূজন।

জয় দাস

১.ভারত

এক দুই তিন 
ভারত স্বাধীন
তিন তিন ছয়
নেতাজীর জয়
ছয় ছয় বারো
ব্রিটিশকে মারো
বারো বারো চব্বিশ নেতাজিকে দেখেছিস?
               
২. ভারত জয়

এক দুই তিন 
যুদ্ধের ঘনিয়ে এলো দিন
চার পাঁচ ছয় 
কাশ্মীর যেতে হয়
সাত আট নয় 
ভারত মাতার জয়
দশ এগাব়ো বাব়ো 
যুদ্ধ শুরু করো
তেরো চৌদ্দ পোনেরো
পাকিস্তান তুমি কাশ্মীর ছাড়ো.....

তরুণ কবির কবিতা প্রকাশ করে আমরা গর্ব বোধ করছি। কবির প্রতি শুভবার্তা রইলো,তুমি ছড়িয়ে পড় সাহিত্যের আকাশে।।


Aug 1, 2021

আব্দুল কাদের

 ওরা বিপ্লবী

আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা

পেয়েছি স্বাধীনভাবে বাঁচতে

সেই সব মানুষদের অকাল প্রাণে।

ওরা ভারত মাতার সন্তান

নিজেদের বুকের রক্তকে বিলিয়ে দিয়ে

নিজের দেশকে স্বাধীন করেছে।

ওরা তো সেই বিপ্লবী।

পরিবার পরিজন ছেড়ে

দেশকে স্বাধীন করেছে

হয়েছে শহীদ দেশের মাতৃভূমিতে

 ওরা যে ভারত মাতার বীর সন্তান

 নিজেদের মাতৃভূমিতে।

মোঃ ইজাজ আহামেদ

ভারত

ভারত! তোমায় আমি সালাম জ্ঞাপন করি,

তুমি আমার জন্মভূমি।

তোমার তিনদিকে সমুদ্র আর একদিকে হিমালয় পর্বত;

তারই মাঝে তোমার উপস্থিতি।

তুমি পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার এক অন্যতম ভূমি।

যুগ যুগ ধরে তোমার কাছে এসেছে ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন জাতির ভিন্ন মানুষজন;

সকলেই তোমাকে ভালোবেসে করেছে আপন।

হুন, কুষান, মোঙ্গল, পাঠান,

জৈন, বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম,খ্রিস্টান-

সকলেই তোমাকে করেছে সমৃদ্ধি সন্মান।

তোমার সন্তানেরা বিশ্বে করেছে বিচরণ,

বিশ্ব দরবারে তোমাকে এনে দিয়েছে খ্যাতি।

তোমার বৈচিত্রেভরা উদ্ভিদরাশি, বৈচিত্রেভরা প্রাণী,

বৈচিত্র‍্যময় মানুষ, বৈচিত্র্যময় মাটি,

বৈচিত্র্যময় মানুষ, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি

বৈচিত্র্যের মাঝে সমন্বয়ই তোমার মূলনীতি;তাইতো তুমি পৃথিবীর সারাংশ ও বৈচিত্র্যের পটভূমি।তাইতো তোমায় এতো ভালোবাসি।

দীপু রায়

স্বাধীনতার স্বরূপ

আগষ্টের পনেরো দুহাজার একুশ,

স্বাধীনতা লাভের পঁচাত্তরটি বসন্ত অতিক্রান্ত হল বলে...

এখনও রাজ অতিথি এলে দেওয়াল গেঁথে পার্থক্যটা তুলে  ধরছি--একদিকে ইনক্রিডেবল ইন্ডিয়া আর অপরদিকে বুভুক্ষু ভারতবর্ষের...।

একদিকে মুষ্টিমেয় বিলিয়নেয়ার-ট্রিলিয়নেয়ার অপরদিকে ফুটপাতবাসী আমার হতদরিদ্র মিলিয়ন মিলিয়ন আর বিলিয়ন ক্ষুধাতুর ভারতবর্ষ...।

বুক ফেটে কান্না বের হয়, অন্তঃকরন হাহাকার করে ওঠে- " ইয়ে আজাদি ঝুঠা হ্যায়"।

প্রতিবেশিদের তুলনায় ক্ষুধা সূচক পিছিয়ে পড়ার লজ্জা মাথা নত করে দেয়।

তবুও শত দুঃখের মাঝেও এক চিলতে আশার আলো।

এই পোড়া দেশের অব্যাহত বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, খেলার জগৎে দাঁপট,সাহিত্য, শিল্প কলায় খ্যাতি-- বাধ্য করেছে সুটেড-বুটেড পশ্চিমা সাহেব-সুবোদের মাথা নত করতে।

এখন সময় হয়েছে 

সমতা-ন্যায়-স্বাধীনতা-সৌভ্রাতৃত্ব কে সংবিধানে লিপিবদ্ধ আক্ষরিক নীতি হিসেবে নয়, জীবনের সঙ্গে মিশিয়ে চলবার।

এসো হে বন্ধু, তুমি বহুতলের হুজুর,

তুমিও এসো হে বন্ধু ভূ-তলের মজুর,

আমরা হাতে হাত আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটা নতুন করে গড়ে তুলি, এসো সবে--

দেখবে "ভারত আবার জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে।"

অর্পণ চৌধুরী

বীর বাঘাযতীন

প্রাণ দিতে করোনি দ্বিধা
ভারত মায়ের গর্ব তুমি,
জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে তোমার নিজের জন্মভূমি,
সবাই জানে তোমার সেই বাঘ শিকারের গল্প,
ভোজলি দিয়ে ঘায়েল করেছো আহত হয়েছো অল্প,
ইংরেজদের সামনে কখনো করোনি মাথা নত,
তার বদলে বুকের মধ্যে বুলেট নিয়েছো শত,
রক্তাক্ত করেছে ইংরেজ বুড়িবালামের তীর,
ঝাঁপিয়ে পড়ে দেখিয়ে দিয়েছো কে আসল বীর,
দেশের জন্য করেছে তুমি প্রচুর সংগ্রাম,
করজোড়ে তোমারে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।