Oct 28, 2022

গোপেশ চক্রবর্তী

নিঝুম রাতের কাব্য 

শেকড় পর্ব -১

তুমি জানতে,এগোতে পারিনি আমি
যা ছিলো হাতে উজাড় করে দিয়েছো
তখনতো বুঝিনি  তা

ওরা বুঝে না শেকড়ের টান 
মাটি ফুঁড়ে বের হওয়া নতুনের আহ্বান 
পাতা,ডাল-পালা,পাখি, মানুষ, নদী, সমুদ্র, আকাশ, ফুল-শিশু-গান-সবাইকে কোলেপিঠে করে গড়ে তুলে শেকড়

বাবা মৃত্যু মুহূর্তে সবাইকে দেখে,সবশেষে মাথার উপরে থাকা আমার দিকে চেয়েছিলেন। কত কথা ছিল এই চাওয়াতে!তার মর্মকথা অল্প বুঝতে পেরেই মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠি!শেকড় কেঁপে ওঠার শব্দ পাই!

বাবা স্রোতে ভাসেনি
তাই স্রোতের মানুষ ভুলে গেছে
বাবার ছায়ার সঙ্গে লড়াই করছে আজও কিছু কেউটে
অফুরাণ কান্না জমা ছিল বুকে তাই কিছু বলে যেতে পারেনি
অতলে জমা ছিল জল নিঃশব্দে বেঁচেছিলেন একা

ভেতর মানেই বাবার কথা লিখা থাকে
ভেতর মানেই শেকড়ের সন্ধান করা
ভেতর মানেই তোমার নীরবতার হারানো মুহূর্ত 
ফেলে আসা জীবন্ত ছবি ভেসে ওঠে হঠাৎ! 
ভেতর মানেই অন্ধকার 
ভেতর মানেই এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় 
ভেতর মানেই স্বপ্ন হারানোর ভয়
ভেতর মানেই ইচ্ছের ঝরা পালক 
ভেতর মানেই শেষ না হওয়া কথা
ভেতর মানেই রহস্যঘেরা জীবন 
ভেতর মানেই প্রেমের আঁকা আলপনা
ভেতর মানেই সীমাহীন ভালোবাসা 
ভেতর মানেই দেওয়াল ভেদ করা পাতার ছবি

শেকড় চিনে গেলেই রিপুগুলো ধেয়ে আসে দ্রুত
মনে হয় চোখে কাপড়ের পট্টি পড়া
গা লাগোয়া সবাইকে বলে দিই মূল ইতিহাস 
যার যা প্রাপ্য দিয়ে দিই
বদ্ধ দরজাগুলো খুলে দেখিয়ে দিই বাইরে কী আছে
চোখে আঙুল দিয়ে সরাসরি দেখিয়ে দিই দর্পণে কেমন লাগে সে

শেকড় বড় কাঁপন ধরায় বুকে
মাঝে মাঝে অজ্ঞাতজনেরা এসে পরিযায়ী পাখির মতো শেকড়ের কথা বলে হারিয়ে যায়! 

মা বলতেন 'চুপ থাক' ওরা বুঝে যাবে একদিন
নিজের জন্য না রেখে যে যা চাইতেন দিয়ে দিতেন নির্দ্বিধায়! 

হায়রে পাতার জীবন 
হায়রে পরিযায়ী মন
হায়রে শেকড়ের টান